আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১১
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

শিমরাইল মোড়ে যত্রতত্র পার্কিংয়ে বিশাল যানজট…

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলমোড়ে মহাসড়কে যত্রতত্র বাস- বিনিবাস পার্কিং করার কারণে ব্যস্ততম এই মহাসড়কের শিমরাইলমোড়ে যানজটের প্রধান কারণ বলে প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান। শিমরাইলমোড়ের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ঠিক উল্টো দিকে ওভারব্রিজের নিচে কোমল, বেকার, ৭১, মনজিল, তারাব, ১২ নাম্বার, নীলাচলসহ একাধিক বাস- মিনিবাস এলোমেলোভাবে করে এবং মহাসড়ক দখল করে বাস- মিনিবাস গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে সড়ক বন্ধ করে পাল্লা দিয়ে যাত্রী উঠাতে থাকে। এর ফলে সিলেট- চট্রগ্রাম  ও আদমজী থেকে  আসা  ঢাকাগামী বিভিন্ন পরিবহন এই মোড়ে আসামাত্র সড়ক জুড়ে দন্ডায়মান থাকা গাড়ি বহরের পিছনে আটকা পড়ে যায়।সেসব বাস- মিনিবাস গুলো তাদের ইচ্ছেমতো দাঁড়ায় এবং ইচ্ছেমতেই চলাচল করে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও শ্রমিকলীগ এর পৃষ্ঠপোষকতায় এসব বাস-মিনিবাস চলাচল করার কারণে এদের বিরুদ্ধে কেউ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। এলোমেলোভাবে বাস-মিনিবাস দাঁড়িয়ে গাড়ি ভর্তি না করা পর্যন্ত ওইসকল যানবাহন সড়ক থেকে সরে না এবং পিছনের কোন গাড়িকেও ঢাকামুখী যেতে দেয়না। যার কারণে এই পয়েন্টে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। শিমরাইলমোড়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্ট পুলিশ সঠিকভাবে দাযিত্ব পালন না করায় এই সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করে। অপর দিকে শিমরাইল ইউটার্নে শিমরাইলমোড়-যাত্রাবাড়ী সড়কে চলাচলরত অর্ধশত লেগুনা ইউটার্নে উল্টোপথে ঘুরাতে গিয়ে এখানেও যানজটের সৃষ্টি করছে। অথচ এই লেগুনা যদি কাঁচপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে ওয়াপদা কলোনাী ঘুরে এসে ষ্ট্যান্ড করে তবে যানজট অনেকটাই লাঘব হবে। কিন্তু শিমরাইলমোড়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সার্জেন্ট ও ট্রাফিক পুলিশ সে দিকে নজর দিচ্ছেনা। যার  ভুক্তভোগী হচ্ছে মহাসড়কে চলাচলরত হাজার হাজার যানবাহনকে। উপরোক্ত বিষয় গুলো সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর হস্তক্ষেপ করলে বাস-মিনিবাস এর জটলা তথা কৃত্রিম যানজট ও ইউটার্নে লেগুনা বিড়ম্বনা দূর করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে গতকাল রোববার দুপুরে শিমরাইলমোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) জিয়াউল করিম এর দৃষ্টিগোচর করা হলে তিনি বলেন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন এই ব্যস্ততম মোড়ে যে কজন ট্রাফিক পুলিশ দরকার তা নেই, তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩০ টি পয়েন্টে  ট্রাফিক পুলিশ দিতে পারছিনা লোকবল সংকটের কারণে। টিআই জিয়াউল করিম আরো বলেন ইউটার্ন ও শিমরাইলমোড়ের উল্লেখিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবো।

শামীম ওসমানের বিরোধকারীরা তার কাছের মানুষ !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শামীম ওসমান বিরোধী শিবির দিনে দিনে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। একসময় যাঁরাই ছিলেন তাঁকে ঘিরে আজ তাঁদের অনেকের সাথেই এই সাংসদের দূরত্ব বেড়েছে। আবার কেউ কেউ এখনও কাছে থাকলেও তাঁদের অনেকেই গোপনে গোপনে শামীম বিরোধী শিবিরের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভেতরই সাংসদ শামীম ওসমানের শক্তিশালী একটা বিরোধী পক্ষ ছিলো বহুদিন ধরেই। যা শহর ও শহরতলীবাসীর সাছেও সেটি স্পষ্ট। ফলে এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারার নেতৃত্বে চলছে অনেকদিন ধরেই। এর একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অপরটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। এই দুই বলয়ের মধ্যে প্রায় সময় প্রকাশ্যে নানা দ্বন্দ্ব, একের প্রতি অপরের বিষোদগার প্রকাশ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছে নারায়ণগঞ্জবাসী। সর্বশেষ এই দুই শিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও প্রত্যক্ষ করেছে মানুষ। এই সংঘর্ষে শামীম ওসমান সমর্থকদের দ্বারা হামলার শিকারও হয়েছেন মেয়র আইভী। আইভী শিবিরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল কাদির, আরজু রহমান ভূঁইয়া, আবু সুফিয়ান, কামরুল ইসলাম মুন্না প্রমূখ ছিলেন। এরমধ্যে আনোয়ার হোসেন ও কামরুল ইসলাম মুন্না বলয় পরিবর্তন করে শামীম ওসমান বলয়ে যুক্ত হন। অপরদিকে শামীম ওসমান বলয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু, মহানগ আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক শাহ নিজাম, অ্যাড. মাহমুদা মালা, জাকিরুল আলম হেলাল, শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু প্রমূখ ছিলেন। এই বলয় থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহ,অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু, অ্যাড. মাহমুদা মালা বের হয়ে গেছেন। যদিও তাঁরা প্রকাশ্যে আইভী বলয়ে ভিড়েন নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই বলয়ের সাথেই সুসম্পর্ক রেখে চলছেন তাঁরা। আবার শামীম ওসমান বলয় থেকে বের হয়ে গেলেও মাহমুদা মালা ব্যতিত অন্যরা এখনও পর্যন্ত শামীম ওসমান বিরোধী জোরালো কোনো বক্তব্য দেননি। সূত্র বলছে, কৃষক লীগ ও যুব মহিলা লীগের কমিটিকে কেন্দ্র আনোয়ার হোসেন, খোকন সাহা ও মাহমুদা মালার সাথে শামীম ওসমানের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আনিসুর রহমান দিপুর সাথে বার কাউন্সিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দূরত্ব বেড়েছে। তবে তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। আর এরা যে শামীম ওসমান বিরোধী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে সে বলার অপেক্ষা আর রাখে না। আগামীতে তথা নির্বাচনকালীন সময়ে এই বিরোধের ব্যাপারটি আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে সেলিম ওসমান সদর-বন্দর আসনে বর্তমান সাংসদ। এই আসনে তিনি জাতীয় পার্টি পক্ষ থেকে নির্বাচন করে নির্বাচিত। আওয়ামী লীগই এ আসনটি জাপাকে ছাড় দেয়। যে কারণে এই আসনে বিগত তিনটি নির্বাচনে নৌকার কোনো প্রার্থী ছিলো না। তবে এবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ এই আসনটি ছাড় দিতে নারাজ। এখান থেকে এবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত অ্যাড. খোকন সাহা। এছাড়াও আইভী বলয় থেকে এই আসনে প্রার্থী হতে মুখিয়ে আছেন আরও চারজন। ধারণা করা হচ্ছে, সদর-বন্দর আসন নিয়ে ওসমান পরিবারের সাথে খোকন সাহাসহ অন্যদের দূরত্ব আরও বেশি করে বেড়ে যাবে। হয়তো প্রকাশ্যেই এ নিয়ে নানা ধরণের সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। কেননা, এ আসনে জাপাকে ছাড় না দেয়ার পক্ষে আওয়ামী লীগের বিশাল একটা অংশ সক্রিয় হলেও এ নিয়ে শামীম ওসমান এখনও কোনো মত ব্যক্ত করেনিনি। তাই অনেকে ধরেই নিয়েছেন শামীম ওসমান মুখে মুখে না বললেও এই আসনটি শামীম ওসমানেরই থাকুক এবং এখানে নৌকার কোনো প্রার্থী না থাকুক এটাই চাচ্ছেন। অন্যদিকে শামীম ওসমানের নিজের আসন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনেও তাঁর শক্ত প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। এখান থেকে এবার নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন কাউসার আহম্মেদ পলাশ। শামীম ওসমানের বিকল্প হিসেবে তাঁকেই ভাবতে শুরু করেছেন অনেকে। যদিও পলাশের সাথে শামীম ওসমানের সম্পর্ক বেশ ভালোই ছিলো। কিন্তু বর্তমানের এই মনোনয়নকে কেন্দ্র সম্পর্কটা আগের স্থানে নেই বলেই মনে করছেন অনেকে। সম্প্রতি পলাশও আটঘাট বেঁধে আইভী শিবিরে গিয়ে মিশেছেন। শুধু পলাশই নন, শামীম বিরোধী আরও যাঁরাই আছেন তাঁরা সকলেই আইভী বলয়ে গিয়েছেন এবং যাঁরা এখনও প্রকাশ্যে নয়, তাঁরা গোপনে গোপনে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। সময় মতো অনেকেই খোলশ ছেড়ে বের হয়ে আসবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে শামীম ওসমান বিরোধী শক্তি দিন দিন যতই শক্তিশালী হয়ে ওঠছে সিনিয়র নেতাদের সমন্বয় শামীম ওসমান শিবির ততই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে নেতাশূন্যতায়। কেননা, জেলা বা মহানগরের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল ছাড়া শামীম ওসমান বলয়ে উল্লেখ করার মতো তেমন আর কেউই নেই। যাঁরা রয়েছে তাঁরা প্রায় অনেকেই থানা ভিত্তিক রাজনীতিতে অভ্যস্ত।

এছাড়াও এখনও যাঁরা শামীম ওসমানের সাথে রয়ে গেছেন বা আছেন তাঁদের কেউ কেউ দু’দিক ব্যালেন্স করেই চলছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। বলা হচ্ছে এদের অনেকেই সময় হলেই শামীম ওসমান শিবির থেকে বের হয়ে আইভী শিবিরের সাথেই মিশে যাবেন। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, বিগত সময় নেতাকর্মীদের কথা না ভেবে রাতের আঁধারেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন শামীম ওসমান। এবারও তেমন কিছু হতে পারে অথবা যদি হয়? এমন চিন্তা থেকেই অনেকেই নিরাপদ অবস্থান হিসেবে আইভী বলয়কেই মনে করছেন। তাছাড়াও বয়ঃজ্যেষ্ঠ কোনো নেতাও শামীম ওসমান বলয়ে না থাকায় অনেকেই মনে করছেন শামীম ওসমান যদি এবারও পূর্বেকার মতো দেশ ছেড়ে যান তাহলে তাঁদের নেতৃত্ব কে দিবে? বিগত সময় আইভী, এসএম আকরাম, আনোয়ার হোসেন, খোকন সাহা তৃণমূলকে সাহস, ভরসা দিয়ে পাশে থেকেছিলেন। এবার তাঁরা নেই। এমনকি শামীম ওসমানের পক্ষ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধেও শামীম পন্থী অনেকেই প্রকাশ্যে বিষোদগার কেরেছন। যাঁর কারণে শামীম ওসমান বিহনীন আগামীতে এরা যে তাঁদের কাছে আশ্রয় পাবে না সে হিসেবও অনেকে কষতে শুরু করেছে। মূলত এমন হিসেব থেকে অনেকেই এখন গোপনে গোপনে শামীম ওসমান বিরোধী শিবিরের সাথে সম্পর্কটা ঝালিয়ে নিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় হকার-অবৈধ ষ্ট্যান্ড ও ওয়াসা নিয়ে আলোচনা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির মাসিক সভায় আলোচিত হয়েছে হকার, চাষাঢ়ার যানজট, ওয়াসার ময়লা পানি ও হাইস্কুল প্রসঙ্গ নিয়ে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গতকাল রোববার বেলা এগারোটায় শুরু হয়ে এ সভা চলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। সভায় জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা এমপি হোসনে আরা বাবলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ এহসানুল হক, এডিশনাল পিপি ফজলুল হক প্রমুখ।   সভায় সদস্যরা বলেন, নগরবাসির দাবী অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদ করেছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে প্রায়ই তারা ফুটপাথে বসে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সড়কে হকাররা যাতে কোনোভাবেই বসতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। ফুটপাথ থেকে একটি চাঁদাবাজ চক্র নিয়মিত চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে। আসাদ নামের এক চাঁদাবাজকে পুলিশ গ্রেফতারও করলো। পরে ঐ চাঁদাবাজকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। তাহলে কি প্রশাসন চাঁদাবাজদের কাছে অসহায় ? বক্তরা বলেন, চাষাঢ়ায় অবৈধ ষ্ট্যান্ডের কারনে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। একদিকে রাইফেল ক্লাবের উল্টোদিকে শীতল, টেম্পো, সিএনজি ষ্ট্যান্ড যানজট তৈরী করছে। আরেক দিকে পৌর মার্কেটের সামনে আর খাজা মার্কেটের সামনে লেগুনা, সিএনজি, টেম্পো যানজট তৈরী করছে। রেললাইনের সামনে আনন্দ বাস, স্কুটার যানজট তৈরী করছে। চাষাড়া মোড় থেকে এই ষ্ট্যান্ডগুলিকে গন্তব্যের দিকে আরো এগিয়ে দিলে যানজট থাকেনা। প্রতিবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জানিনা কেন এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়না। ভ্রাম্যমান আদালত কি তার কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে ? আরও বলেন, জাপানী অনুদানে নির্মিত নারায়ণগঞ্জে ওয়াসার শোধনাগার কি চালু আছে ? যদি বন্ধ থাকে তবে কেন এটি বন্ধ হলো, কবে বন্ধ হলো তা বলতে হবে। চালু থাকে তবে সেটাতে কি পরিমান রাসায়নিক দ্রব্য পানি শোধনে ব্যবহৃত হচ্ছে ? কয় ঘন্টা এটি চালু থাকছে ? পানি শোধনে যে পরিমান রাসায়নিক কেনা হচ্ছে তাতে কত টাকা ব্যায় হচ্ছে ? এসব কিছুর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি আগামী আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তার প্রতিবেদন তুলে ধরবে। তিনি বলেন,  নারায়ণগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি চরম অমানবিক ঘটনা ঘটলো। একজন শিক্ষক ক্লাসের সকল ছাত্র-ছাত্রীর সামনে একজন ছাত্রের চুল কেটে দিলো। অথচ ঐ শিক্ষকের নিজেরই চুল বড়। চুল বড় রেখে তারই ভাব অশিক্ষক সুলভ। কিন্তু আমরা এ ঘটনায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখলাম না। এটি আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য একটি অত্যন্ত খারাপ নজির।

 

খালেদার লংমার্চ আটকে দেয়ার কারণেই আমি ‘গডফাদার’ উপাধি পাই

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের আলোচিত, সমালোচিত ও একজন প্রভাবশালী এমপি হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সিংহ পুরুষ আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান। যিনি শুধু দেশেই নয়, বর্হিবিশে^ও বেশ আলোচিত একজন এমপি।  বিশেষ করে, ‘গডফাদার’ হিসেবে উপাধি পাওয়ার পর সবচেয়ে বেশী আলোচিত হয়ে উঠেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমান। কিন্তু কে বা কেন তাকে ‘গডফাদার’ আখ্যায়িত করা হলো, এবার সেই ব্যাখাই দিয়েছেন। গত ৬ এপ্রিল রাতে সিঙ্গাপুর আওয়ামী লীগের আয়োজনে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমানকে গণ-সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ব্যাখা দেন। সিঙ্গাপুর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন রানার সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন- সাধারণ সম্পাদক আল আমিন। উক্ত অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের আমির গোলাম আজমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দেয়া, খালেদা জিয়ার লংমার্চ আটকে দেয়ার কারণেই আমাকে ‘গডফাদার’ উপাধি দেয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘এসব কারণে আমি গডফাদার হলাম। জামায়াত, বিএনপি আর কিছু মিডিয়া আমাকে গডফাদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। তখনও আমাকে গডফাদার বলা হয়েছে, এখনও বলা হয়। আর টিকে থাকা গডফাদারদের মধ্যে কেবল আমিই টিকে আছি।’ শামীম ওসমান বলেন, ‘রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে হাইব্রীড বেড়ে যায়। সুবিধাবাদী লোক চলে আসে। তখন গিভ অ্যান্ড টেক বেড়ে যায়। কিন্তু রাজনীতি গিভ অ্যান্ড টেক না। এটা একটি ইবাদত।’ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি আরও বলেন, ‘যখন ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়ি ১৯৭৯ সালে, তখন একবার জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জে আসলেন। আমরা কয়েকজন মিলে সেই গাড়িবহর আটকে দিয়েছিলাম। আমাকে প্রচন্ড মারধর করা হলো। আমি সেদিন জিয়াউর রহমানের গাড়ি থেকে পতাকা ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। আমাদের বাধার কারণে সেদিন জিয়া প্রবেশ করতে পারেনি।’ শামীম ওসমান বলেন, ‘গোলাম আজমকে নারায়ণগঞ্জের মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলাম। সে কারণে গোলাম আজম আমিরগিরি ছেড়ে দেয়। আমি জামায়াত ও গোলাম আজমকে নিষিদ্ধ করেছিলাম। কারণ একাত্তরে জামায়াতের রাজাকাররা পাক-বাহিনীকে নারীদের চিনিয়ে দেয়। পরে তাদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। একটু চিন্তা করেন চোখ বন্ধ করে, আপনার চোখের সামনে গাছে বেঁধে রেখে আপনার মা বোনকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। বাবাকে জীবন্ত কবর দেয়া হচ্ছে। অনুভব করেন কেমন লাগে। এ কারণেই জামায়াতকে অপছন্দ করি।’ তবে খালেদা জিয়ার পর নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের চির প্রতিপক্ষ ছোট নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীও শামীম ওসমানকে গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করার পর এখন অনেকেই শামীম ওসমানকে গডফাদার বলে সম্বোধন করে থাকেন।

খালেদার মুক্তির আন্দোলনে  বিপর্যস্ত নারায়নগঞ্জ বিএনপি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যখন দেশের সকল রাজনৈতিক দল গুলো প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন, তখন দলীয় চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে আন্দোলনে নেমে মামলার বেড়াজালে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। আর তাই নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি ও ক্ষমতার মসনদের পরিবর্তে এখন নেত্রীর মুক্তিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বলে দাবী করেছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। জানাগেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা প্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে কারাবন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আর নেত্রীকে ‘মা’ সম্বোধন করে এখন সেই মায়ের মুক্তির দাবীতে পুলিশের চাপের মুখেও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়ার এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গত ৫ ফেব্রুয়ারী থেকে ১১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১৩টি নাশকতার মামলায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কয়েক হাজার নেতাকর্মী আসামী বনে যাওয়ার পাশাপাশি কারাভোগ করেন। যার মধ্যে এখনো অনেকে কারাবন্দি রয়েছেন। তন্মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ, জাতীয়পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেও ঝিমিয়ে পড়েছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। কারন হিসেবে দলটির শীর্ষস্থানীয়দের এখন একটাই লক্ষ্য, ‘মা’ খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে না। তাই এখন প্রস্তুতি নেয়ারও প্রশ্ন উঠেনা। এব্যাপারে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিব কিনা, সেটা এখন আমাদের কাছে মুখ্য নয়। নেত্রীর মুক্তিই হচ্ছে এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কারন, নেত্রীর মুক্তি মিললে এবং তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেই কেবল বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নিবে। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে আন্দোলন অব্যাহত রাখাটাই লক্ষ্য।’

 

 

মনোনয়ন নিয়ে নতুনরা চ্যালেঞ্জের মুখে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই তো উক্ত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি সংসদীয় আসনে এমপি প্রার্থী হওয়ার বাসনায় বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমে পড়েছেন বর্তমান এমপিগণ সহ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির কয়েক ডজন নেতা। কিন্তু নতুনদের সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে বর্তমান এমপিরা পুনরায় আগামীতেও এমপি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ায়, সম্ভাব্য নবীণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন বাগানোটা অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারন হিসেবে তারা বলেন, ‘বর্তমানে সদর-বন্দর আসনের এমপি হিসেবে আছেন জাতীয় পার্টির বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সেলিম ওসমান, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান, সোনারগাঁ আসনে জাতীয় পার্টির আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা, আড়াইহাজার আসনে আওয়ামীলীগের আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু ও রূপগঞ্জ আসনে আওয়ামীলীগের গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতিক। যাদের প্রত্যেক্যেই আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনেও রয়েছেন এমপি নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশায়।’ যার মধ্যে, আগামী নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সদর-বন্দর আসনে সেলিম ওসমান এবং সোনারগাঁ আসনে আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকার নাম ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। আর সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন বর্তমান এমপিরা। কেননা, আসন্ন নির্বাচনেও যে তারা নিজ নিজ দলের প্রার্থী হয়েই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন, তা জাতীয় পার্টির ২ এমপি অনেকটাই নিশ্চিত হলেও আওয়ামীলীগের এমপিদের মাঝে রয়েছে কিছুটা শংকা। তন্মধ্যেই, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ৩ এমপি এগিয়ে থাকার পাশাপাশি আগামীতেও এমপিত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে নির্বাচনী কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের পাশাপাশি জোর প্রয়াস চালানোয়, জেলার ৫টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য নবীণ এমপি প্রার্থীদের তৃণমূলের সমর্থণ আদায় থেকে শুরু করে মনোনয়ন নিশ্চিতকরন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে দাবী করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তি এবং এমপি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই আশাবাদী হয়ে নির্বাচনী মাঠ গুছানোয় নেমে পড়েছেন আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য নবীণ প্রার্থীরা। আর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নবীণ প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, সদর-বন্দর আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে আওয়ামীলীগের নবীণ প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য কামাল মৃধা ও জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহাম্মেদ পলাশ আলোচনায় থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সদ্য আলোচনায় এসেছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা। সোনারগাঁ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নবীণদের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বীরু ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম থাকলেও জাতীয় পার্টির কেউ আলোচনায় নাই। আড়াইহাজার আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ব্যারিষ্টার ইকবাল পারভেজ। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে একজনের নাম ঘোষণা করেছেন এরশাদ। রূপগঞ্জ আসনে আওয়ামীলীগের নবীণ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম। এখানে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য কেউ নাই। তবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপি আসন্ন একাদশ নির্বাচনে অংশ নিলে বর্তমান এমপিদের এমপিত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে যেমন কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে, তেমনি বিএনপি অংশ না নিলেও প্রার্থী তালিকায় রাজনৈতিক কৌশলগত কারনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

 

 

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে ফতুল্লা প্রেসক্লাবের বিক্ষোভে বক্তারা :পলাশ একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ

 

 

 

 

ফতুল্লা প্রতিনিধি

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের জেরে নারায়ণগঞ্জে তিনজন সাংবাদিকের নামে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। গতকাল রোববার সকাল সকালে ওই অবরোধের সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমএ সামাদ মতিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, মনির হোসেন, পম আজিজ, মাসুদ আলী, সোহেল আহমেদ, সেলিম মুন্সী, আব্দুল আলীম লিটন, নিয়াজ মোহাম্মদ মাসুম, জাহাঙ্গীর ডালিম, শাকিল আহমেদ ডিয়েল, মহসীন আলম, দুলাল হোসেন, শেখ মোহাম্মদ সেলিম, মুন্না প্রমুখ। সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ বলেন, আলীগঞ্জের শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ। সে প্রকাশ্যে তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজী করে। পলাশের বিরুদ্ধে ৩ এপ্রিল যুগান্তরে ‘না.গঞ্জে আরেক ‘নূর হোসেন’ ফতুল্লার ‘গডফাদার পলাশ’ ও তার চার খলিফা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ শতভাগ সত্য। সত্যকে আড়াল করতে এবং পেশাদার সাংবাদিকদের হয়রানী করতে মানহানী মামলা করেছে। পলাশ তার লোকজন দিয়ে ফতুল্লার প্রতিটি সড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজী করায় প্রকাশ্যে। তার ওই চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হাবিবুর রহমান বাদল এবং স্থানীয় সময় নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে। আমরা এ মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানাই। অন্যথায় সাংবাদিকরা এলাকাবাসীদের নিয়ে ফতুল্লার প্রতিটি সড়কে পলাশের লোকজনদের চাঁদাবাজী বন্ধ করা হবে। সভাপতি সামাদ মতিন বলেন, যুগান্তরে পলাশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পরের দিন ৪ এপ্রিল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় পলাশ অনুসারিরা আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে দলবল নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের আলীগঞ্জ হতে মাসদাইর পুলিশ লাইনস পর্যন্ত যান চলাচলে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সেই মিছিল থেকে শ্লোগান দিয়ে আলামিনকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। কুরুচিপূর্ন শ্লোগান দিয়ে চামড়া তুলে নেয়া ও দুই গালে জুতা মারো তালে তালে বলে কয়েক শ’ লোক হুমকি দেয়। সেই মিছিলের সামনের লোকজনদের মধ্যে মোল্লা মামুন নামে এক জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীয়ও ছিল। সে ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশের অনুসারী। মোল্লা মামুনের বিরুদ্ধে ফতুল্লায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। একজন পলাশ আর কি করলে গডফাদার হবেনা।

কায়েমপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসায় ওয়াজ মাহফিলে ফাইজুল বর্তমানে নারীরা কোন দিকে পিছিয়ে নেই

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লার পশ্চিম কায়েমপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসা খতমে বুখারী উপলক্ষ্যে ওয়াজ মাহফিল ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার মাদরাসা প্রঙ্গনে এই ওয়াজ মাহফিল ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সমাজ সেবক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ওয়াজ মাহফিল ও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব ফাইজুল ইসলাম। ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করেন আলহাজ্ব মাওলানা রশিদ আহম্মেদ, অধ্যাপক মাওলানা মোবারক আলী, মাওলানা অহীদুজ্জামান ওবাইদী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মাওলানা মুফতী ফয়জুল্লাহ, আলহাজ্ব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক আনসারী। আখেরী দরস পরিচালনা করেন আল্লামা মুফতী আবু ইউসুফ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফাইজুল ইসলাম বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই নারীরা একটু একটু করে আলোচনায় আসে। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বের কথাই ধরা যাক, যখন নারীদের নিয়ে ওহী আসা শুরু হলো, অর্থাৎ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মূল্যায়ন দেয়া শুরু করলেন, এরপর স্বয়ং রাসূল (সা.)-এর কাছে নারীরা বাইয়াত নেয়া শুরু করলো এবং কমবেশি ইসলামের খেদমত শুরু করলো, এভাবেই শুরু হলো তাদের পদচারণা। যদিও তখন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু নারীদের চেষ্টা এবং পেরেশানির কোনো কমতি ছিল না। তবে এর আগে কন্যা সন্তানকে হত্যা করা হতো। কন্যা সন্তান জন্মের খবর পিতার কাছে ছিল লজ্জাজনক। বর্তমানে নারীরা কোন দিকে পিছিয়ে নেই। ইসলাম নারীদের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছে মা হিসেবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত’। হাদিস শরিফে আছে, ‘যার তিনটি, দুটি বা একটি কন্যাসন্তান থাকবে; আর সে ব্যক্তি যদি তার কন্যাসন্তানকে সুশিক্ষিত ও সুপাত্রস্থ করে, তার জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়।’

 

 

অগ্নিকান্ডে নি:স্বদের পাশে জেলা ছাত্রলীগ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লার কায়েমপুরে অগ্নিকান্ডে নি:স্ব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা। রবিবার দুপুরে ফতুল্লার কায়েমপুসস্থ অগ্নিকান্ডের ক্ষতিগ্রস্থের জায়গা পরিদর্শন করেন তারা। এসময় অগ্নিকান্ডে নি:স্ব মানুষদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। এসময় শেখ সাফায়েত আলম সানি বলেন, ‘আমরা লিপি ওসমান শিশু নিকেতন স্কুল’র শিক্ষার্থীদের সবসময় সহযোগীতা করে আসছি। তাদের বই, পোশাক সহ বিভিন্ন খরচ আমরা বহন করি। অগ্নিকান্ডে স্কুল সহ এই এলাকার সব বাড়িঘর পুরে শেষ হয়ে গেছে। আমরা জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরা সবাই মিলে তাদের সহযোগীতা করবো। আমাদের জননেতা একেএম শামীম ওসমান বর্তমানে বিদেশে আছেন। তিনি দেশের আসার আগ পর্যন্ত আমরা নিজস্ব ফান্ড তৈরি করে তাদের সহযোগীতা করবো। আমি সেই সাথে নি:স্ব মানুষের সহযোগীতায় সবাইকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে করে অসগহায় শিশুগুলো তাদের পড়ালেখা চালিযে যেতে পারে এবং সেই সাথে নি:স্ব মানুষগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে জীবন ধারন করতে পারে। জননেতা শামীম ওসমান দেশ আসলে আমরা বৃহৎ আকারে তার নেতৃত্বে নি:স্ব মানুষের সহযোগীতা করবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মাননীয় নেত্রী শেথ হাসিনা যেই দেশে ৩০ লাখ রোহিঙ্গার পাশে দাড়িয়েছেন। আমরাও বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর আদর্শের সৈনিক। তাদের আদর্শ নিয়ে সেই দেশে আমরাও ষাট বাড়ীতে অগ্নিকান্ডে নি:স্ব ৩০০ মানুষের সহযোগীতা করতে সর্বাত্বক কাজ করবো।’এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাফায়াত আলম সানীর নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আরিফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান নান্নু, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সজীব, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ নেতা নেতা টিপু সুলতানসহ সায়েক শহীদ রেজা, সায়েম শহীদ রেজা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ফতুল্লার কায়েমপুরস্থ ষাটবাড়ীতে অগ্নিকান্ডে ঘর- বাড়ি, গুদাম, স্কুল সহ সব কিছু পুরে ছাই হয়ে যায়। এই অগ্নিকান্ডে তাদের আনুমানিক প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

 

 

পিছিয়ে পড়ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দিন দিন বেড়েই চলছে। কোন্দলে সাংগঠনিক ভাবে দল ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এনিয়ে চিন্তিত নন জেলার শীর্ষ নেতারা। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও সকল অঙ্গ-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কমিটিতে কোন্দল এখন সংগঠনের নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে। আর এই কোন্দলের প্রভাব পড়বে আগামী সংসদ নির্বাচনে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও কোন্দল নিরসনে এখনো কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে না। বরং নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে কোন্দল আরো বেশি ভয়ঙ্কর আকারে রূপ নিচ্ছে। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি সক্রিয় না থাকায় সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ব্যক্তিগত নানা সুযোগসুবিধা বাগিয়ে নিতে ব্যস্ত  দিন কাটাচ্ছে। আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠার স্থান নারায়ণগঞ্জের নেতার মধ্যে মতবিরোধ, অন্তর্কলহ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে এটা আওয়ামী লীগের মধ্যে এটা মাত্রাতিরিক্ত। কারণ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের এখন কোনো দলগত প্রতিপক্ষ নেই। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কোনো কোনো নেতার সময় ব্যয় হয় ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে। ফলে তাঁদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত। এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগীতার পরিবর্তে নতুন করে কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ এখন একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। অনুসন্ধানে জানাগেছে, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। একে অপরকে পছন্দ করেন না তার প্রমাণ সম্প্রতি বেশ কয়টি অনুষ্ঠানে পাওয়া গেছে। মুখে মুখে বন্ধু দাবী করলেও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদল ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রায় সময় প্রকাশ্যে দেখা যায়। জেলা যুবলীগের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু ও সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জলের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ বছর ধরেই প্রকাশ্যে। প্রতিষ্ঠা বাষির্কী থেকে শুরু করে দলীয় কোন কর্মসূচীতে একত্রে তাদের দুইজনকে দেখা যায় না। পৃথক ভাবে তারা দুইজনই কর্মসূচী পালন করে আসছেন। জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগ পাল্টাপাল্টি কমিটি রয়েছে। উভয় পক্ষ দাবী করছেন তাদের কমিটি বৈধ। তবে কেন্দ্র থেকে প্রথম কমিটিকে অবৈধ ঘোষনা করলেও তা মানতে নারাজ সেই কমিটিতে থাকা নেত্রীরা। জেলা ছাত্রলীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। একসময় জেলা ও মহানগর একত্রে  কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল কর্মসূচী পালন করলেও বর্তমানে তারা এখন পৃথক ভাবে কর্মসূচী পালন করেন। এমনকি কেন্দ্রীয় কর্মসূচী গুলোতেও তারা পৃথক ভাবে অংশ নেন। শ্রমিক লীগ সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও শ্রমিক লীগ নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। অপর দিকে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পাশাপাশি এখন নতুন করে যোগ হয়েছে নির্বাচনী কোন্দল। নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর দ্বন্দ্ব শুধু নারায়ণগঞ্জই নয় দেশবাসী জানলেও, এই দুই প্রভাবশালী নেতার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সর্বস্তরে এখন দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে। রূপগঞ্জ আসনে সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান ও রফিকুল ইসলাম রফিকের সাথে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যেই চলছে। আড়াইহাজার আসনে বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু ও ইকবাল পারভেজের দ্বন্দ্ব নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সোনারগাঁ আসনে কায়সার হাসনাত, ডা: বিরু ও মাহফুজুর রহমান কালাম মনোনয়ন প্রতিযোগীতার নামে দ্বন্দ্বে জরিয়ে পড়েছেন। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানের শক্ত প্রতিদ্বন্দি না থাকলেও সম্প্রতি শ্রমিক নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ দ্বন্দ্বে জরিয়ে পড়ছেন। শহর-বন্দর আসনে আওয়ামীলীগের প্রায় ডজনখানিক আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। এদের জিএম আরাফাতের মত অনেক অযোগ্য প্রার্থীও নির্বাচন প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন নিজস্ব ফায়দা হাসিল করতে। বিগত সময়েও তিনি কখনো আইভী আবার কখনো সাংসদ শামীম ওসমানের পক্ষ নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। এমনকি বিএনপির ক্যাডার হাসানের সাথেও রয়েছে তার ব্যবসা। এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা নিজেদের শক্তির জানান দিতে গিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাচ্ছেন। এইসব দ্বন্দ্বের কারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ রাজনীতির মাঠে পিছিয়ে পড়ছে বলে সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেন।