আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১২
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

“মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে”

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। চলছে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হচ্ছে রাজধানী লাগোয়া জেলা প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী মাঠ। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় ৫টি আসনে একই দলের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে থাকাসহ এক দল আরেক দলকে আসন ছাড় না দেয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে থাকায় আগামীতে নির্বাচনী উত্তাপ আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছে তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা। তবে নির্বাচনী উত্তাপ আর প্রার্থী সংখ্যা যতই বাড়–ক না কেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির বর্তমান ৫ এমপির পুনরায় নির্বাচিত হওয়া এবং তার পূর্বে বিশেষকরে আওয়ামীলীগের এমপিদের মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য ৩০ প্রার্থী বলে ধারনা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারন হিসেবে তারা বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি আসনে ইতিমধ্যেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। যার মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির বর্তমান দুই এমপি সদর-বন্দর আসনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম সেলিম ওসমান ও সোনারগাঁ আসনে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা।’ ‘আর আড়াইহাজার আসনের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটনের নাম ঘোষণা করে গেছেন দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তার মধ্যে, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসন থেকে লাঙ্গল প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা। যিনি দশম সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরবর্তীতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করেছিলেন।’ কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণ করা না করা নিয়ে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে ফের জোট গঠন হলে কিংবা একক ভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে কৌশলগত ভাবে দশম নির্বাচনের মত আসন গুলোতে এক দল আরেক দলকে ছাড় দিলে অথবা কেউ ছাড় না দিলেও প্রার্থীতায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারনা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর শেষতক বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে এবং কেউ কাউকে আসন ছাড় না দিয়ে আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করে তাহলে আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন প্রত্যাশী নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের এমপিদের মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা বলে অভিমত উভয় দলের তৃণমূলেরও। এক্ষেত্রে, জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকার মনোনয়ন প্রাপ্তি প্রায়ই নিশ্চিত হলেও শেষতক যদি আওয়ামীলীগও উক্ত আসন দু’টিতে দলীয় প্রার্থী দেয় আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে তাহলে জাতীয় পার্টির বর্তমান এই দুই এমপির বিজয়ের ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশী সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের পদত্যাগকৃত আহ্বায়ক এস এম আকরাম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা এবং সম্ভাব্য ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। আর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশী সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বীরু, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম এবং সম্ভাব্য ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী সাবেক এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিম, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ আজহারুল ইসলাম মান্নান। অপরদিকে, আওয়ামীলীগের বর্তমান এমপি রূপগঞ্জ আসনের গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতিক, (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান ও আড়াইহাজার আসনে আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু পুনরায় এমপি মনোনয়ন প্রাপ্তি ও বিজয় নিশ্চিতের  ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারেন, রূপগঞ্জে ‘নৌকা’ প্রত্যাশী কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম এবং সম্ভাব্য ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। আড়াইহাজারে সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিষ্টার ইকবাল পারভেজ ও ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী সাবেক এমপি আলহাজ¦ আতাউর রহমান আঙ্গুর, বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খসরু, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ এবং ‘লাঙ্গল’ প্রত্যাশী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন। আর আলোচিত ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ‘ফ্যাক্টর’, সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশী জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশ এবং ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশী সাবেক এমপি আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, ফতুল্লা  থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলমসহ ‘লাঙ্গল’ প্রত্যাশী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা।

মেয়ের বিচ্ছেদের খবর নিজেই জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

 

 

ডান্ডিবার্তা ডেক্স

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কন্যা নাদিয়া নন্দিতা ইসলামের বিবাহবিচ্ছেদ বিষয়টি মন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে শেষে মন্ত্রীদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রিসভায় উপস্থিত একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্র জানায়, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শাহবাগের ইমরান এইচ সরকার কোটা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছেন। এ সময় অধিকাংশ মন্ত্রীই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দিকে তাকান। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোটা নিয়ে কেউ যদি গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে থাকে, তবে তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী অন্যান্য মন্ত্রীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে আমার পরিবারের বর্তমানে কোনো সম্পর্ক নাই। আমার মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু গত তিনমাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে। ইমরান এইচ সরকার শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা সংগঠন ‘ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক’ (বোয়ান) এর মুখপাত্র। এদিকে ইমরান এইচ সরকারের ফেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে শুরু থেকেই তিনি তার নিজের মনোভাব প্রকাশ করে আসছেন। পাশাপাশি আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীর উপর ভয়াবহ হামলার একাধিক ছবিও প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমবার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘আমি এই ছেলেটির নাম দিলাম ‘সাহস’। সে এখন বাংলাদেশের সাহস। ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করার সাহস। ন্যায্যতার জন্য এভাবেই সাহসী হতে হয়। সাহসের ছবিটা আমার মতো সবাই নিজের ওয়ালে রেখে দিন। আমাদের সাহসেরা আরও সাহসী হয়ে উঠুক।’

আরেকটি স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘সাবাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়! কোটা সংস্কারের দাবিতে এভাবেই গর্জে উঠুক সারাদেশ। সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে উঠুক বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভাইয়েরা আজ রক্তাক্ত। ন্যায্য কথা বলতে এসে আজ তারা আক্রান্ত। এই ভয়াবহ নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে দিন সবখানে। প্রতিবাদ করুন, প্রতিরোধ গড়ুন।’ এর আগে গত রোববার এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘যারা আন্দোলন করছে তাদের আপনি রাজাকার বলেন, বিএনপি-জামায়াত বলেন আর যাই বলেন! আমার চোখে আন্দোলন মূলতঃ ন্যায় আর অন্যায়ের। আর আমি অবশ্যই ন্যায়ের পক্ষে; কোটা সংস্কারের পক্ষে। কে রাজাকার, কে মুক্তিযোদ্ধা সেটা সময়ই বলে দেবে।’ এর আগে তিনি বলেন, ‘একটা ভালো খবর হলো, একজন মারা যাবার যে গুজবটা ছড়িয়ে পড়েছিল এখনও সেটার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনেকের অবস্থা বেশ খারাপ। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেনো সবাইকে বাঁচিয়ে রাখেন।’

সর্বত্র মোবাইল টাওয়ার, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে যত্রতত্র মোবাইল টাওয়ারে ছেঁয়ে গেছে। বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানিগুলো জেলার বিভিন্ন থানা ওয়ার্ড কিংবা মহল্লার বাসার ছাদে এবং যত্রতত্র এসব টাওয়ার নির্মাণ করেই চলেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন বা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এসব টাওয়ার বসানোর জন্য নেওয়া হচ্ছে না কোনো ধরনের অনুমতি। শুধু ভবন মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেই টাওয়ারগুলো বসানো হচ্ছে। টাওয়ারের কারণে সংশ্লিষ্ট ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তারহীন মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর টাওয়ারের রেডিয়েশনের (ত্বরিৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ) কারণে নানা রকম ব্যাধির জন্ম নিচ্ছে। বিশেষ করে এ কারণে ভয়াবহ ক্যান্সার ঝুঁকিতে রয়েছে মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণের চেয়েও ভয়াবহ ত্বরিৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ। মোবাইল প্রতিষ্ঠানগুলোর কল্যাণে এ ভয়াবহ বিকিরণের কবলে এখন সারাদেশই। এটা গন্ধ, বর্ণ ও শব্দহীন এবং অদৃশ্য কিন্তু মানব দেহ ও জীব জগতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাদের মতে, শিশুদের থেকে কমপক্ষে ৫ ফুট দূরে মোবাইল রাখতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল কমপক্ষে ৭ ফুট দূরে রাখতে হবে। আবাসিক এলাকা থেকে দূরে লোকালয়ের বাইরে কমপক্ষে ৪০ তলা ভবন সমান উঁচুতে মোবাইলের টাওয়ার স্থাপন করতে হবে। কিন্ত এ নিয়মের কোন বালাই নেই এখানে। সড়েজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ভবনের ছাদে ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটরের এ ধরনের কয়েক শত টাওয়ার রয়েছে। এসব টাওয়ার থেকে কি পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা ছড়াচ্ছে তার কোনো হিসাব নেই। এসব টাওয়ারের মধ্যে গ্রামীণফোন,বাংলালিংক, রবি,এয়ারটেল টেলিটক, সিটিসেল কোম্পানী টাওয়ারগুলোর অধিকাংশই বিভিন্ন ভবনের ছাদে বসানো। অন্যদিকে টাওয়ার ব্যবস্থাপনার একটি নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। এই নীতিমালা বিটিআরসি থেকে মন্ত্রণালয়, আর মন্ত্রণালয় থেকে বিটিআরসির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। অথচ তা আলোর মুখ দেখছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাইডলাইনটা চূড়ান্ত হয়ে গেলে টাওয়ার ব্যবস্থাপনা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে দেওয়া যেত। তখন অনেক অযাচিত টাওয়ার খুলে ফেলাও সম্ভব হতো। সংশি¬ষ্টদের ভাষ্য, দেশের সব গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য বর্তমানে যত সংখ্যক টাওয়ার আছে এর এক তৃতীয়াংশ টাওয়ার হলেই যথেষ্ট। জানা গেছে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে আবাসিক এলাকা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে অনেক দূরে এবং অনেক উঁচুতে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা হয়। অথচ নারায়ণগঞ্জ শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল ফোনের ৯০ শতাংশ টাওয়ার লোকালয়, বাড়ি, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের মাত্রা মনিটরও আমাদের দেশে তেমন একটা করা হচ্ছে না। রেডিওলজিস্ট ও ক্যান্সার হাসপাতালের ক্যান্সার এপিডিমিয়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন সম্প্রতি বলেন, যে কোনো ধরনের রেডিয়েশনই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এটি দৃশ্যমান নয়। আজকে যে রেডিয়েশনের শিকার হচ্ছে, কয়েক বছর পর এর প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রেডিয়েশনের কারণে ব্রেন টিউমার হচ্ছে। যেটা অবশ্যই আশঙ্কার। এদিকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. গোলাম মোহাম্মদ ভুঞা তার গবেষণায় উল্লেখ করেন, মানব দেহের শত ট্রিলিয়ন কোষ নিন্ম শক্তির তড়িৎ চৌম্বকীয় সংকেত ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। নিরবচ্ছিন্ন বহিঃ তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণে অবস্থান করলে এই বিকিরণ ক্ষেত্র আন্তকোষীয় যোগাযোগ পথকে সাংঘাতিকভাবে বিকৃত করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। ফলে ভুল ও বিকৃত সংকেতের কারণে কোষের ভেতরে অস্বাভাবিক কর্মকান্ড শুরু হয় এবং কোষ পর্দা শক্ত হয়ে যায়। কোন পুষ্টি কোষের ভিতরে ঢুকতে পারে না এবং বিষাক্ত দ্রব্য বের হতে পারে না। ফলে কোষটি বিষাক্ত হয়ে যায়। তখন জেনেটিক পরিবর্তন, অল্প বয়সে বৃদ্ধ হওয়া, স্মরণশক্তি লোপ, অবসন্নতা, লিউকেমিয়া ও ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেয়। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের যোগাযোগের অন্যতম হাতিয়ার মোবাইল ও টেলিফোন সেক্টর অনেক বিস্তৃত ও আধুনিকায়ন হয়েছে। বিশাল এই সেক্টরটি মনিটর করার পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। তবে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সেক্টরটির উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করে বিটিআরসি মোবাইল টাওয়ার বসানোর অনুমতি দিচ্ছে। তবে একথাও ঠিক যে এগুলো যথাযথভাবে মনিটর করার মতো প্রযুক্তি ও জনবল আমাদের নেই।

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একের পর এক গ্রেফতার, আন্দোলন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা, মামলা ও আদালতে হাজিরায় কাবু নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজছে। দলের নেতাকর্মীদের কিভাবে সংগঠিত করে দলের কাজে লাগানো যায় এবং আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করা যায় সেটিও ভাবছেন নেতারা। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ দলের প্রায় সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতার বাইরে থেকে মামলা মোকাদ্দমা, গ্রেফতার, হাজিরা, আন্দোলন সহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে কিছুটা কাবু হয়ে পড়েছেন। অনেক নেতাকর্মীরা হারিয়েছেন মনোবল আবার অনেকেই আপাতত অবসর নিতে চাইছেন দল থেকে। তবে দলের নেতাকর্মীদের এমন অবস্থাকে কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য পথও খুঁজছেন নেতারা। দলের সিনিয়র নেতারা এখনো আন্তঃকোন্দলে থাকলেও এবং মনোনয়ন নিয়ে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব ধরে রাখলেও নেতাকর্মীরা চাইছেন সেই অবস্থার অবসান। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারাও চাইছেন এখন আর দূরত্ব নয় দল ও দেশের স্বার্থে নেতাকর্মীদের জন্য এক হয়ে কাজ করতে। তবে দলের একটি অংশই এতে প্রধান বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে। একতাবদ্ধ হওয়া ছাড়া আগামীতে নিজেদের অস্তিত্ত সংকটে পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন দলের নেতারা। এবার যদি আন্দোলন অথবা নির্বাচনে দল ব্যর্থ হয় তবে দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে দলের কর্মীদের জন্যও অপেক্ষা করছেন ভয়াবহ অবস্থা যা থেকে হয়তো কাটিয়ে উঠা কষ্টকর হয়ে পড়বে দলের জন্য। তাই অতদূর পর্যন্ত না যেয়ে তার আগেই দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে দ্রুত পথ খুঁজছেন নেতারা। দলের এই অবস্থা নিরসনে কেন্দ্র থেকেও দ্রুত সকল বিভেদ ভুলে সকলকে এক হতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দলের বিভিন্ন কর্মসূচী এবং এই মুহূর্তে সরকার পতনের আন্দোলনে গিয়ে নিজেদের শক্তি ক্ষয় করতে চাইছেন বিএনপি। এ জন্য দলের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীতেও দেখা মেলছেনা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাদের। তবে মাঠে নামতেও বর্তমান অবস্থা আরো কিছুটা পর্যবেক্ষন করে অপেক্ষা করছেন দলটির নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা। জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। তিনি কারাগারে যাবার আগে থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন একেবারেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচী পালিয়ে যেতে এবং কোনভাবেই সরকারের পাতা ফাঁদে পা না দিতে। নেতাকর্মীরাও তার কথা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দেয়া নেত্রীর মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীগুলো পালন করছেনা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতাদের রাজপথে দেখা যাচ্ছেনা। জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে তো নামছেই না তারা যোগাযোগও করছেন না দলের তৃণমূলে। অপরদিকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলোতে নিজেরা অলিগলিতে ছবি তুলে নিজেদের দায়িত্ব সম্পন্ন করছেন। দলের সিনিয়র নেতারা জানান, আপাতত কর্মসূচীগুলো পালন করে দলের নেতাকর্মীরা টিকে থাকবে এবং সামনের জন্য অপেক্ষা করবে। অবস্থা বুঝে শক্তি ক্ষয় না করে শক্তিকে সঞ্চয় করা হচ্ছে। আগামীতে সময় সুযোগমত মাঠে নেমে সরকারের অন্তিমসময়কে টেনে আনবে দলের নেতাকর্মীরা। তবে এখনই যদি মাঠে নেমে শক্তি ক্ষয় করে ফেলে দলের নেতাকর্মীরা তবে সেটি আগামীর জন্য ভালো হবেনা তাই আপাতত অপেক্ষাই করছে দলের নেতারা।

সদর-বন্দর আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সদর, সদর মডেল থানার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন এবং বন্দর থানা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন গঠিত। জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসন এটি। এ আসনের বতর্মান সংসদ সদস্য জেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার ওসমান পরিবারের সদস্য বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান। উপনির্বাচনে প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিমের প্রতি সম্মান জানিয়ে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। এমনকি তাঁর স্মরণসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা আসনটিকে সম্মানজনক ছাড় দিয়ে জাতীয় পার্টির আসন বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এবার একটাই দাবি, এই আসনে জাতীয় পার্টিকে যেন আর ছাড় দেওয়া না হয়। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ব্যস্ত নিজেদের ঘর গোছাতে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। জানা গেছে, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা চায়, আগামী নির্বাচনে সেলিম ওসমানই দলের প্রার্থী হবেন। তবে সংসদ সদস্য সেলিম বলেছেন, নির্বাচন করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি জুন নাগাদ সিদ্ধান্ত নেবেন। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে চান, এমন অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান দীপু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকার প্রথমেই রয়েছেন বিএনপির ক্লিনম্যান ইমেজধারী দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম। তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আলোচিত সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তালিকায় আরো রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার।

 

জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেব কি নেব না, তা আগামী ৩০ জুন ঠিক করব। কেননা আগামী ২৬ জুন আমার সংসদ সদস্য পদের চার বছর পূর্ণ হবে। এর আগে আমি কিছু বলব না। তবে ওই সময় পর্যন্ত আমি উন্নয়নকাজ অব্যাহত রাখব। এখনো নারায়ণগঞ্জ তথা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অনেক কাজ বাকি আছে। সেগুলো সম্পন্ন করার দিকেই আমি মনোযোগ রেখেছি। যদি জনগণ চায় তাহলেই আমি নির্বাচন করব।’ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহের বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নিজের পয়সা খরচ করে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এবং করছেন, যা নারায়ণগঞ্জে নজির সৃষ্টি করেছে। আগামী নির্বাচনেও সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করবেন – এটাই দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি।

 

আওয়ামী লীগ

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। গুরুত্বপূর্ণ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় ভেতরে ভেতরে ওই সময় মনঃক্ষুন্ন ছিল আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা। এই ধারা অব্যাহত ছিল ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। ছেড়ে দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনটি। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, রাজধানী ঢাকার খুব কাছের জেলা নারায়ণগঞ্জ। জোটভুক্ত রাজনীতির কারণে রাজধানীর কাছের জেলার আসন শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া হলে তা রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার প্রভাবও পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর উপজেলায় এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সমগ্র সোনারগাঁও উপজেলায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, ‘আমরা দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছি, যাতে আগামী নির্বাচনে কোনোভাবেই নারায়ণগঞ্জের কোনো আসন শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া না হয়। নারায়ণগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনেই দলীয় প্রার্থী চায়।’ আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চারজনের নাম বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন জাতীয় কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান দীপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের তিনবারের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকন সাহা এরই মধ্যে নিজেকে এই আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যদিও বিষয়টি নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের তথা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর। এই দুজনের মধ্যে আনিসুর রহমান দীপু ১৯৭৭ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তাঁর। এরপর শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকও হয়েছেন। এখন তিনি দলের জাতীয় কমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ বারের সাবেক সভাপতিও। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে আনিসুর রহমান দীপু বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। দলের এবং দলের নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দলীয় প্রধান আমার যোগ্যতা বিবেচনায় আমাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন দিলে চেষ্টা করব এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে।’ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দল যাঁকেই মনোনয়ন দেবে তিনি তাঁর পক্ষেই কাজ করবেন।  নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে খোকন সাহা বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। নেত্রীর ওপর আমার আস্থা আছে। তিনি প্রার্থী নির্বাচনে ভুল করবেন না।’ তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। যাতে এর সুফল যিনিই দলের প্রার্থী হন, তিনি পান।তবে নারায়ণগঞ্জ সদর আসনে বিএনপির সঙ্গে আতাঁতকারী নেতা জিএম আরাফাত প্রার্থী হওযার ঘোষনা দিয়েছেন। সুবিধাবাদি এই নেতা কখনো মেয়র আইভী আবার কখনো সাংসদ শামমি ওসমানের পক্ষ নিয়ে নিজের ফায়দা হাসিল করেছেন। বিএনপির ক্যাডার হাসানের সাথেও তার ব্যবসা রয়েছে।

বিএনপি

এ আসনে বিএনপির চার সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁদের একজন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম। তিনি এ আসন থেকে অতীতে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নাম শোনা যাচ্ছে। সাখাওয়াত হোসেন খান গত বছরের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে পরাজিত হন। আবুল কালাম আরো বলেন, ‘১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ছয়টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি পাঁচটিতে অংশগ্রহণ করেছিল। ওই পাঁচটি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আমিই বিএনপির প্রার্থী ছিলাম। এর মধ্যে তিনটিতে আমি জয়ী হয়েছিলাম। দল আবার মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেব।’ এছাড়া আলোচনায় আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারও। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে এই নেতা বেশ সক্রিয়। যদি নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে নির্বাচন না করেন তাহলে তিনি এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন-সেটা এক রকম নিশ্চিত। তৈমূর বলেন, ‘নির্বাচন কোন আসন থেকে করব, সেটা দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এই মুহূর্তে নির্বাচনের বিষয় মাথায় আনছি না। কেননা দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি এখন প্রধান ইস্যু।’ অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আমি দলের একজন মাঠপর্যায়ের কর্মী। দলের নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে আছি। যেখানেই যাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিশেষ আগ্রহ ও দাবি, আমাকে যেন আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়। আর বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে জনগণের কাছে যাওয়ার। সেই অভিজ্ঞতাকেও আমি কাজে লাগাতে চাই আগামী সংসদ নির্বাচনে।’

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১০টি স্পটে প্রয়োজন ফুটওভার ব্রীজ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, নয়াবাড়ী, মদনপুর, কেওঢালা, জাঙ্গাল, লাঙ্গলবন্দ, দড়িকান্দি, সোনাখালী, চৈতি গার্মেন্টস, টিপুরদী স্ট্যান্ডগুলোতে কোন ফুটওভার ব্রীজ না থাকায় নিত্যদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন যাত্রীসাধারণ। এতে করে দূর্ঘটনায় প্রায়ই প্রাণহানীর মত ঘটনা ঘটছে। রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতিতে আসা বাস ও ট্রাক সহ অন্যান্য যানের আঘাতে গত ৫ বছরে প্রায় শতাধিক মৃত্যুর মত ঘটনা ঘটলেও ফুটওভার ব্রীজ নির্মানে কোন কার্যকর ভূমিকা সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি কোন সতর্কতামূলক কার্যক্রম। বিশেষ করে বন্দর উপজেলাধীন মদনপুর বাস স্ট্যান্ডটি বর্তমানে দেশের যোগাযোগ মাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে মনে করা হয়, আর এ জন্য যানবাহনের চাপে প্রতিনিয়ত যানজট ও দূর্ঘটনা সহ জনদুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। সূত মতে, দেশের পূর্বাঞ্চল ও মদনপুর হয়ে গাজীপুর পর্যন্ত এশিয়ান হাইওয়ে ব্যবহার করে দেশের উত্তরবঙ্গ থেকে পূর্ববঙ্গে মালামাল পরিবহনে মদনপুর সর্বসময় ভারী যানের চলাচলে সরগরম থাকে। প্রয়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু, নারী, বৃদ্ধ সহ অনেককে পায়ে হেঁটে রাস্তা পারাপার হতে দেখা যায়। এতে করে রাস্তা পার হবার সময় প্রায়ই মদনপুরে দূর্ঘটনায় পথচারী আহত বা নিহত হবার মত ঘটনা ঘটেই চলেছে। ২০১৬ সালের আগস্টে মদনপুর আল-বারাকা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন ও তার সহযোগি রাস্তা পার হবার সময় ট্রাকের ধাক্কায় আহত হবার ১ দিন পর সালাউদ্দিন মারা যায়। বহুবার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের এমন নিরব ভূমিকা হতবাক করেছে সবাইকে। অচিরেই এই ১০টি পয়েন্টে ফুটওভারব্রীজ নির্মাণ করার মাধ্যমে জনগণের রাস্তা পারাপারের সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন ভূক্তভোগী সবাই।

কোটা সংস্কার দাবীতে বিক্ষোভ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কোটা সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবীতে বিক্ষোভ করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার বিকেশে প্রথমে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা নগরীর চাষাড়াস্থ কেন্দ্রীয় সিটি শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে সেখানে বিক্ষোভ করেন, সরকারি তোলারাম কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, বন্দর কদম রসুল কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। যদিও হঠাৎ করে বিক্ষোভে কিছু বাম ছাত্র নেতা উস্কানী মূলক বক্তব্য রাখেন। এসময় শিক্ষার্থীরা দাবী করে শ্লোগান দেন, ‘মুক্তিযোদ্ধের বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই, নাতি পুতির কোটা দরকার নাই।’  কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা, কোটার শূন্য পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, চাকরী পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একবারের বেশী নয়, কোটায় বিশেষ নিয়োগ বন্ধ এবং চাকরীতে প্রবেশের বয়সসীমা অভিন্ন করার দাবী জানান শিক্ষার্থীরা। ধর্মঘট কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন, কদম রসূল কলেজের শিক্ষার্থী অহিদুল ইসলাম, সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী রোমন, রুবেল, নাসিম, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা, ফয়সাল, সানি, শিখা, খবির, নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী তানবীর, হৃদয়, সাকিব ও শুভ্র।

ওয়ার্ড কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনে অনীহা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ওয়ার্ডে কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয়দের কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৩টি আসনের আওয়ামীলীগের এমপি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) গাজী গোলাম দস্তগীর ইতিমধ্যেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু জেলা বা মহানগরের দায়িত্বশীলদের পরিবর্তে এমপিদের উদ্যোগে নির্বাচনী কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, কোন আসনে নৌকার প্রার্থী পরিবর্তন ঘটলে সেক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা। গত বছরের জুলাই মাসে গণভবনে দলীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার পাশাপাশি কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। সূত্রে জানাগেছে, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নির্দেশনাক্রমে থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কেন্দ্র ভিত্তিক এই কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকলেও সংসদ সদস্যরা তাতে সহযোগিতা করবেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এ সম্পর্কিত একটি চিঠি তৃণমূলে পাঠায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। চিঠিতে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনমত গঠন, ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠন, পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ ও সদস্য সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। কেন্দ্রের পাঠানো চিঠির নির্দেশনা মোতাবেক ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের ৩ এমপি কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন শুরু করলেও জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি। এব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এমপিরা যেই কমিটি গঠন করছেন তাতে কোন পরিবর্তন আনা হবে না। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে শীঘ্রই পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ আর এব্যাপারে জানতে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

মাঠ ছাড়ছে মহানগর বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামের পিছুটানের কারনে ক্রমেই বেকায়দায় পরছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি- এমনটাই মনে করছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আবুল কালামের ভাই মহানগরের সহ সভাপতি মুকুলের সরকারী দলের সাথে আতাঁত, ছেলে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশার হঠাৎ নিস্ক্রিয়তা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুর উছৃঙ্খলতা আর সর্বশেষ মহানগর বিএনপি’র া সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের দেশত্যাগে রীতিমত কোনঠাসা অবস্থায় উপনীত হয়েছেন সদাই আন্দোলন বিমুখ আবুল কালাম। আর কলামের এই পিছুটানের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে মহানগর বিএনপিকে। সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামের সবচেয়ে বড় পিছুটান হলো তার ভাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিতর্কিত নেতা আতাউর রহমান মুকুল। দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সাজার রায় নির্ধারনের দিন থেকে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র প্রায় শতাধীক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয় ও প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মী মামলা হামলার শিকার হন। কিন্তু এই প্রায় দুই মাসে কোথাও দেখা মিলেনি মুকুলের। এমনকি অশি^াস্য হলেও সত্যি তার বিরুদ্ধে কোন মামলা পর্যন্ত হয়নি। মুকুলের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে এখন কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে মহানগর বিএনপি’র কর্ণধার এড. আবুল কালাম। দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে মুকুলের মতো সুযোগসন্ধানী নেতাকে কমিটিতে স্থান দেওয়ার ফল ভোগ করতে হচ্ছে বলে মনে করে তৃণমূল।  অপরদিকে এড. আবুল কালাম পুত্র নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা এক সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আন্দোলন সংগ্রামে। কিন্তু হঠাৎই পিতার মতো তিনিও গৃহবন্দি হয়ে পরেন। দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার প্রতিবাদে এবং নেত্রীর মুক্তির দাবীতে আশার নেতৃত্বে জোড়ালো কোন অবস্থান কারো চোখে পরেনি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড এড. আবুল কালামের আরেক পিছুটান হিসেবে দেখা দিয়েছে। টিপুর এই উছৃঙ্খলার জন্য সবাই আবুল কালামকেই দোষারোপ করছে। আর সর্বশেষ রানিং মেটের এসব পিছুটানের বালাই সহ্য করতে না পেরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সবচেয়ে সংগ্রামী মুখ সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়েছেন। তাই তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, এড. আবুল কালামের এসব পিছুটানের কারনে ক্রমেই বেকায়দায় পরতে যাচ্ছে মহানগর বিএনপি। এবং অচিরেই এর চরম মাশুল গুনতে হবে পুরো সংগঠনকে।

 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা চূড়ান্ত নিয়ে আওয়ামীলীগের চেয়ে এগিয়ে জাপা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর পাশ^বর্তী জেলা হিসেবে অতি গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি আসনেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ অন্য কোন দলকে আসন ছাড় না দেয়ার দাবীতে অনড় অবস্থানে থাকলেও খোদ তারাই প্রার্থীতা নিয়ে রয়েছেন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিক্ষায়। বিপরীতে যাদের নিয়ে মাথাব্যাথা আওয়ামীলীগের, সেই জাতীয়পার্টি ইতিমধ্যেই তিনটি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পাশাপাশি ৫টি আসনেই প্রার্থী দেয়ার লক্ষ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রয়াস। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করায় নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি আসনের মধ্যে জাতীয়পার্টিকে দু’টি আসন ছাড় দেয় আওয়ামীলীগ। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান ইন্তেকাল করার পর তার শূণ্য আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে এমপি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান। তবে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর কোন আসনেই জাতীয়পার্টিকে ছাড় দিতে চাইছেন না আওয়ামীলীগ। ইতিমধ্যেই তারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়েছেন। তারা প্রতিনিয়তই দাবী তুলছেন, যদি জাতীয় পার্টিকে কোন আসন ছাড় দিতে হয়, তবে তা যেন অন্য জেলায় দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের কোন আসন জাতীয়পার্টিকে ছাড় দেয়া হবেনা। আর তাই আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশ গ্রহণ করে তাহলে সেক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের দু’টি আসন (৩ ও ৫) আবারও আওয়ামীলীগ যে ছাড় দিবে, তা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ নাও করে, আর এক্ষেত্রে যদি নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী দিতে হয়, তাহলে সেই লক্ষ্যেও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন দলটির শীর্ষন্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। কারন ইতিমধ্যেই গত বছর জেলায় সফরে এসে দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গলের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা এবং নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিমার সদস্য ও জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটনের নাম করে গেছেন ঘোষণা। আর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মোল্লা খোকা লাঙ্গল প্রত্যাশী হলেও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে এখনো কোন প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি। কিন্তু আসন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান এমপি নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতিক, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু পুনরায় এমপি মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে রইলেও উক্ত আসন গুলোতে নৌকা প্রত্যাশী কয়েক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় এখন নির্বাচনের আগমুহুর্ত পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রতিক্ষায় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।