আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১২
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

আবারো উত্তপ্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ….

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যুতে শান্ত নারায়ণগঞ্জ অশান্ত হয়ে উঠে। কখনো রাজনীতি, কখনো সামাজিক আবার কখনো ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে নারায়ণগঞ্জ অশান্ত হয়েছে। আবারো নারায়ণগঞ্জ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন এখানকার অধিবাসীরা। নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতা মাওলানা আবদুল আউয়ালের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আহলে সুন্নত ওয়াল জমিয়তের মাঝে পাল্টাপাল্টি সভা সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ যাবত অমান্ত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। আর এর সাথে যোগ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ত্বকী মঞ্চের অহবায়ক রফিউর রাব্বীর দেয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্য ও এ বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী ওসমানের সমর্থকদের মশাল মিছিল। সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ডিআইটি মসজিদের খতিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল নাকি বন্দরের একটি সভায় মুসলমানদের ঈদে মিলাদুন্নবি ও হিন্দুদের জন্মাষ্টমীকে একই অনুষ্ঠান হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। আর মাওলানা আবদুল আউয়ালের সে বক্তব্যের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের উদ্যোগে ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন করে আব্দুল আউয়ালকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের মদদ দাতা উল্লেখ করে তার গ্রেফতার দাবী করা হয়। তামিম বিল্লাহ’র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সেই মানববন্ধন শেষে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যেখানে আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে নানা প্রকার কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরদিন ৫ এপ্রিল একই স্থানে নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের নেতৃত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে তামিম বিল্লাহসহ বাহাদার শাহ ও এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীদের গ্রেফতার করার দাবী জানানো হয়। সেই বিক্ষোভ সমাবেশে মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জকে কারবালায় পরিনত করা হবে, হাজার হাজার লাশ পরবে। ধর্মীয় নেতাদের মুখে এ ধরনের হুমকির কথা শুনে শংকিত হয়ে পরে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপ্রিয় জনগন। গত ৫ এপ্রিলের পর ৬ এপ্রিল শুক্রবার বাদ জুমা ডিআইটি মসজিদের সামনে থেকে দুই পক্ষই পাল্পাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের শংকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় বৃহস্পতিবার রাত কাটে নারায়ণগঞ্জের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের। যদিও প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর দুই পক্ষ আলাদা অবস্থানে কর্মসূচি পালন করায় সে যাত্রায় সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। অপরদিকে, ৮ এপ্রিল রোববার সন্ধ্যায় ৫নং ঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যার পাড়ে নারায়ণগঞ্জ সাংষ্কৃতিক জোটের আয়োজনে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারে দ্রুত অভিযোগপত্র দেয়ার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বী বলেছিলেন, ত্বকী হত্যাকারী আজমেরী ওসমানকে গ্রেফতার করে তার জবানবন্দী নিলেই বেড়িয়ে আসবে হত্যাকান্ডের রহস্য এবং এই হত্যার নির্দেশদাতা কে। ত্বকী হত্যাকারী কে এটা সারাদেশের মানুষেই জানে। তারপরেও কেন অভিযোগপত্র দেয়া হচ্ছে না। তাহলে বুঝা যায়, সরকারের মদদ ছাড়া কোন অপরাধ সংগঠিত হয় না। দেশের সাধারণ মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিতের আন্দোলন। রফিউর রাব্বীর এ বক্তব্যের প্রতিবাদে শহরে বিশাল মশাল মিছিল বের করেছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান সমর্থকরা। সোমবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় মিছিলটি শহরের চাষাঢ়া থেকে শুরু হয়। মিছিলটি ২নং রেল গেট ঘুরে পুণরায় চাষাড়ায় এসে শেষ হয়। তবে মিছিলে আজমেরী ওসমান উপস্থিত ছিলেন না। মিছিলে অংশ নেয়া একাধিক যুবক জানায়, রোববার (৮ এপ্রিল) রফিউর রাব্বি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা আজমেরী ওসমানের নামে নানা অপবাদ দিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। শুধু এবারই নয় বিভিন্ন সভা সমাবেশে নানা উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয় রফিউর রাব্বি। সে নারায়ণগঞ্জের ভালো চায়না। আজমেরী ওসমান ভাই বর্তমানে বিভিন্ন সমাজ সেবায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে এ ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে কিছু কুচক্রি মহল পিছু নিয়েছে। আমরা যুব সমাজ তাকে ভালবাসি তাই এ ধরণের অপপ্রচারের প্রতিবাদে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিল করেছি।

স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আতœহত্যা যে কারণে

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আতœহত্যার নেপথ্যে এক বখাটে যুবক ও তিন বিএনপি নেতার প্রহসন মূলক বিচার। স্ত্রীর প্রতি কূ-দৃষ্টিকারী এক বখাটে যুবককে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটানোর অপরাতে বিএনপি নেতা আক্কাস, মনির ও সেলিম মাহমুদ রেজাউল করিমকে মারধর ও ৮ হাজার টাকা জরিমানা করার পর দিনই রেজাউল তার স্ত্রীকে হত্যা করে নিজেও বিষ পানে আতœহত্যা করার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা গেছে, প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করে রেজাউল করিম ও মীম আক্তার। এই প্রেমিক দম্পত্তি নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড শিমরাইল এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। রেজাউল পিক-আপ ভ্যান গাড়ি চালিয়ে সংসারের খরচ চালাতো। প্রেম করে পালিয়ে এসে বিয়ে করার বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় এক বখাটে যুবক রেজাউলের স্ত্রী মীম আক্তারের প্রতি কূ-দৃষ্টি দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ দেখা দেয় রেজাউলের। এতে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সৃষ্টি হয় বিরোধ। এ অবস্থায় কয়েকদিন আগে ওই যুবক রেজাউলের ভাড়া বাসায় গিয়ে স্ত্রী মীমের সাথে কথা বলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে যুবকের মাথা ফাটিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় এলাকার বিএনপি নেতা আক্কাস, মনির ও সেলিম মাহমুদ মিলে বখাটে যুবকের পক্ষ নিয়ে গত ৬ এপ্রিল গ্রাম্য বিচার সালিশ বসে। বিচারে স্ত্রীর প্রতি কূ-দৃষ্টির বিষয়টি পাশ কাটিয়ে মাথা ফাটানোর অপরাধে রেজাউলকে মারধর ও ৮ হাজার টাকা জরিমানা করে বিচারকরা। এই প্রহসনমূলক বিচার আর ওই যুবকের সাথে পরকীয়া সন্দেহে রেজাউল গত ৮ এপ্রিল রোববার দিবাগত রাতে স্ত্রী মীমের সাথে ঝগড়া করে। এক পর্যায় স্ত্রী মীমকে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করার পর নিজেও আতœহত্যা করার জন্য বিষপান করে। বিষপানে গুরুতর অসুস্ত রেজাউলকে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে পুলিশ আটক করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গত সোমবার বিকেলে রেজাউল করিম মারা যায়। স্বামী-স্ত্রীর এই অকাল মৃত্যুকে প্রহসন মূলক বিচার আর ওই বখাটে যুবককেই দায়ি করছে স্থানীয়রা। তাই সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর আসল কারণকে প্রাধান্য দিয়ে হত্যা বা আতœহত্যার প্ররচনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মেয়র আইভীর সাথে আলোচনায় বসতে চান সাংসদ সেলিম ওসমান

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে ইতোমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ময়দান সরগরম হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে সদর-বন্দর ও সোনারগাঁ আসনে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। বর্তমান সাংসদদের মধ্যে আওয়ামীলীগ দলীয় সকলের আবারো নির্বাচনে প্রার্থীতা করতে যাচ্ছেন এ বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত। তারপরেও আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি থেকে প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সদর-বন্দর আসনের প্রার্থীতা নিয়ে। আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি থেকে একাধিক নেতা তাদের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান এখনো পর্যন্ত আগামী নির্বাচনে নিজের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে পরিস্কার করে কিছুই বলেননি। তবে এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এখন পর্যন্ত একক প্রার্থী বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমানের নামই উচ্চারিত হচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জে কোন আসনে জোটের শরীকদল জাতীয় পার্র্টিতে কোন আসনে ছাড় দিবেস সা বলে ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দেওয়ার জন্য দাবী তুলে আসছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে একটি অনলাইনের সাথে আলাপকালে সাংসদ সেলিম ওসমান জানান, আমার প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আমি আগে যা বলেছি এখনো তাই বলবো। আগামী ৩০ জুনের আগে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোন মন্তব্য করবো না। এখনো অনেক সময় বাকি। এই সময়টুকু আমি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই। আমি আশাবাদী আগামী ঈদের পূর্বেই নারায়ণগঞ্জে অনেক উন্নয়ন কাজ আসবে যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এগুলোর বেশির ভাগই ২০১৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ড নিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকা। যেমনটি আমি ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছ থেকে সহযোগীতা পাচ্ছি এলাকার উন্নয়নের জন্য তেমনটা আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং কাউন্সিলরদের কাছ থেকে পাচ্ছি না। যদি আমি তাদের সবার সহযোগীতা পাই তাহলে ২০১৮ সালের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে একটা পরিবর্তন আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আপনাকে সহযোগীতা করতে রাজি হবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সেলিম ওসমান বলেন, জনগনের স্বার্থে যেকোন জনপ্রতিনিধির উচিত ব্যক্তি সম্পর্ক বাদ দিয়ে উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করা। প্রয়োজনে আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভীর সাথে যেকোন আলোচনায় বসতে দ্বিধাবোধ করবো না। এমনিতেই বেশ কিছু সময় আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। আমরা সকল জনপ্রতিনিধি যদি একত্রে সম্মিলিত হয়ে কাজ করি তাহলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য যেটুকু সময় নষ্ট হয়েছে তা ২০১৮ সালের বাকি সাড়ে ৮ মাসের মধ্যেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে আমরা যে যেই দলের রাজনীতি করিনা কেন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন এবং নারায়ণগঞ্জবাসীকে স্বস্তির জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দেওয়া। সবকিছুর পরে সংসদ সদস্য ব্যতিত একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় অবদান রাখা আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

অলিম্পিক গেমসে নীটপণ্য যাবে বাংলাদেশ থেকে : সেলিম ওসমান

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সম্প্রতি বিকেএমইএ এর নেতৃত্বে জাপানে ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন টোকিও-২০১৮ অংশ নিয়ে দেশে ফিরেছে নীট ব্যবসায়ীরা। গত সোমবার বাংলাদেশে ফিরেছেন বিকেএমইএ সভাপতি ও সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। নীটপণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশী নীটপণ্য জাপানে মেলায় বিদেশী বায়ারদের আকৃষ্ট করা সহ কতটুকু প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে আগামীতে বাংলাদেশী নীটপণ্য রপ্তানিতে জাপান বাজার কতটুকু সহায়ক হবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন টোকিও-২০১৮ মেলা আমরা অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছি। মেলায় আসা বায়ারদের কাছ থেকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার পেয়েছে বাংলাদেশী নীট ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে জাপানের জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিআই) ইন জাপান, জাপান মিনিস্ট্রি অব ইকোনমি, ট্রেড এবং ইন্ডাস্ট্রি (এমইটিআই), জাপান টেক্সটাইল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সাথে বিকেএমইএ এর আলোচনা হয়েছে।  যেহেতু জাপানে আগামী ২০২০ সালে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেহেতু বাংলাদেশের নীটপণ্যের জাপানী বাজারে অনেক উজ্জল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া আমাদের ৩০ স্টলের প্রত্যেকেই বায়ার আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে এবং বায়ারদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলারের নীটপণ্যের অর্ডার পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো অর্ডার আসবে বলে বায়াররা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। ভবিষ্যতে জাপানে নীটপণ্য আমদানীর ২৫ শতাংশ বাংলাদেশে থেকেই রপ্তানি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সেলিম ওসমান বলেন, জাপান প্রতি বছর সারাবিশ্ব থেকে ১২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের নীটপণ্য আমদানী করে থাকে যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র ৪ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলারের নীটওয়্যার পণ্য আমদানী করে যা মোট আমদানীর মাত্র ৩ শতাংশ। অলিম্পিক গেমসের অর্ডার আগামী জুলাই ২০১৮ থেকেই রপ্তানি শুরু হবে। এ রপ্তানির মাধ্যমে জাপানের সাথে বাংলাদেশের নীট রপ্তানিকারকদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে যার ফলে জাপানের সাথে যে বাণিজ্যক ঘাটতি রয়েছে তা ঘুচবে। সব মিলিয়ে বলতে পারি আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে বাংলাদেশ থেকে জাপানের নীটপণ্য আমদানীর মোট পরিমান ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে জাপানে নীটপণ্য আমদানীর মোট ২৫ শতাংশ আমাদের দেশ থেকেই রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এখানে উল্লেখ্য ২০১২ সালে বিকেএমইএ প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা অনুযায়ী জাপানে একটি মেলার আয়োজন করে এবং ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী জাপানে গিয়ে আলোচনার করে জিএসটি সুবিধা আনেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই এ মেলার আয়োজনে আমরা অংশ গ্রহণ করি। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ এর নির্দেশনায় ইপিভি সহযোগীতা ও জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাবা ফাতেমা, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কমাশির্য়াল কাউন্সিলর হাসান আরিফ এর সার্বিক তত্ত্ববধানে আমরা সফল ভাবে মেলা সম্পন্ন করতে পেরেছি। এ জন্য বিকেএমইএ এর পক্ষ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ সহ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

 

 

অস্তিত্ব সংকটে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

অকেজো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র দু’টি কমিটিই এখন অনেকটা নির্জব। গত এক বছরের বেশি সময়েও কমিটি দু’টি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন থেকে শুরু করে কোনো একটি আন্দোলনেও নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। বরং এই এক বছর ধরে এই দুই কমিটির কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে বিভাজন আরও বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সাধারণ নেতাকর্মী। তৃণমূলের দাবি, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অস্তিত্ব শেষ করার জন্য পরিকল্পনা করেই জেলা ও মহানগর বিএনপি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ইনঅ্যাক্টিভদের মাধ্যমে। যার খেসারত এখন এই দলটিকে দিতে হচ্ছে। এর জন্য কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির সহসভাপতি মো. শাজাহানকেই দায়ি করা হচ্ছে। অভিযোগ ওঠেছে বিপুল পরিমাণের অর্থের বিনিময়ে এ কমিটিগুলো দিয়েছেন। তবে এর জন্য সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করেছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহআন্তর্জাতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। মূলত এই আজাদের নেতৃত্বে ৩সদস্যের একটি সিন্ডিকেট গঠন হয়। এই সিন্ডিকেটের একজন কাজী মনিরুজ্জামান। পরবর্তিতে তাঁদের সিন্ডিকেট বর্ধিত করা হয়। এতে যোগ দেন আবুল কালাম, এটিএম কামাল, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, অ্যাড. সাখাওয়াত প্রমূখ। তাঁদের মূল টার্গেট ছিলো পুরো নারায়ণগঞ্জটাকে নিজেদের তালুবন্দি করার। এজন্য বেশ কজনকে মাইনাস করতে হবে। এরা হচ্ছেন তৈমূর আলম খন্দকার, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, আতাউর রহমান আঙ্গুর, আজহারুল ইসলাম মান্নান ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। শুরুটা প্রথমে ভালোই ছলছিলো। কিন্তু পরবর্তিতে এই সিন্ডিকেট থেকে পিছটান নেন অ্যাড. আবুল কালাম। কথা ছিলো তাঁর ছেলে আবুল কাউসার আশাকে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি করা হবে। কিন্তু একটা সময় এসে এই পদে আজাদ তাঁর নিজস্ব লোক মনিরুল ইসলাম সজলকে আনতে চাওয়ার কারণে তাঁদের মধ্যে মৃদ দ্বন্দে¦র শুরু। যা মিশনপাড়া এলাকায় আশা গ্রুপের সাথে আজাদ গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এদিকে অপর একটি সূত্র বলছে, নজরুল ইসলাম আজাদ, কাজী মনিরুজ্জামান, এটিএম কামাল সরকারি পক্ষের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলেছেন। সর্বশেষ আন্দোলন থেকে দূরে থাকার জন্য নাটকের মাধ্যমে গ্রেফতার হন আজাদ। কারাগার থেকে বের হয়ে রহস্যজনক ভাবে সে গা ঢাকা দেন। এটিএম কামালও গোপনিয় ভাবে দেশত্যাগ করেন। মনির রহস্যজনক ভাবে রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। কর্মীদের সাথে কোনো রকম যোগাযোগও রক্ষা করছেন না তাঁরা। অন্যদিকে অধ্যাপক মামুন মাহমুদও কারাগার থেকে বের হওয়ার পরও কিছুটা নীরব রয়েছেন। এছাড়াও এই সিন্ডিকেটের অন্য আরও যাঁরা আছেন তাঁরাও কারাগার থেকে বের হয়ে রহস্যজনক ভাবে নীরবতা পালন করছেন। যা স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে ভাবিয়ে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন কিতাবে আছে গোয়ালে নেই অবস্থায় অবস্থান করছে বলে মন্তব্য কেরেছন অনেকে। বলা হচ্ছে এখানে বিএনপির অস্তিত্ব শেষ করার লক্ষ্যে যে মিশন নিয়ে তাঁরা নেমেছিলেন সেটি সফল হয়েছে। আগামীতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবে না বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মূলত আগামী নির্বাচনে বিশেষ একটা গোষ্ঠীকে সুবিধা করে দেয়ার জন্যই বর্তমান কমিটি কাজ করে চলেছে বলে মন্তব্য অনেকের। বর্তমান বিএনপির এমন অবস্থা দেখে তৃণমূল বলছে, আগামীতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আরও চড়া মূল্য দিতে হবে। কেবল মাত্র গঠিত হওয়া এই দুই কমিটির জন্য। তাই তাঁরা মনে করেন, নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই দুই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে যোগ্য কোনো ব্যক্তি বা একাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে চাঙ্গা করার সুযোগ দেয়া হোক। তা না হলে নারায়ণগঞ্জে আগামীতে বিএনপির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুস্কর হয়ে যাবে।

 

রূপগঞ্জে ৪২টি স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

রূপগঞ্জে ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। এরমধ্যে ২১টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণের তালিকা  রয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন। নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ অবস্থায়ই চলছে এসব স্কুলে পাঠদান। এসব ভবনের কোনো কোনোটিতে চলছে বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে ক্লাস নিচ্ছেন। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে যে কোনো সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাছাড়া আকাশে মেঘ দেখলেই আঁতকে উঠেন ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা। শঙ্কা আর ভয়ে প্রহর গুনেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১টি বিদ্যালয়ের ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার লিখিত পত্র পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৪২টি। দড়িকান্দি, বরপা, পাইস্কা বাসুন্দা, চারিতালুক, নোয়াগাঁও দিঘলীয়া, উত্তর খৈসাইর, আগলা, দাউদপুর পুটিনা, হানকুর, পূর্বদাউদপুর, বইলদা, ছাতিয়ান, পশ্চিমগাঁও দক্ষিণ, নাওড়া সেলিমনগর, দক্ষিণপাড়া, ব্রাক্ষ্মনগাঁও, ডহরগাঁও, গাবতলী, আউখাব ও গোলাকান্দাইল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,  ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্কুল ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। বেরিয়ে এসেছে ছাদ ও বীমের মরীচিকা ধরা রড। সামান্য বৃষ্টিতে অনেক স্কুলের ছাদ  চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও পাকা মেঝে দেবে গেছে। আবার অনেক স্কুলের টিনের ঘরের টিন ফুটো, বেড়া ভাঙ্গা। বৃষ্টি হলেই ভিজে যায় বই-খাতা। ঝুঁকিপূর্ণ এমন স্কুল ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ না করায় বিপাকে রয়েছে শিশু শিক্ষার্থীরা। জরাজীর্ণ ভবনগুলোতে প্রতিনিয়তই ঝুঁকি বাড়ছে। দক্ষিণপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড খরতাপে টিনের বেড়ার কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের ঘাম ঝড়ছে। মাথার উপড়ে পাখা চললেও গরম যেনো তাদের পিছু ছাড়ছেনা। আর ঝড়-বৃষ্টি হলেতো কথাই নেই। চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া শারমীন, অহিদুল ইসলাম বলে, ঝড় আইলে ডরাই (ভয়)। আর মেঘ আইলে পানি পড়ে। পাশের পাকা ভবনটিও ঝূঁকিপূর্ণ। বীমের পলেস্তারা থসে পড়েছে। লোহার রডে মরীচিকা ধরেছে। এটি গত ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কক্ষ না থাকায় জীবনের ঝূঁকি নিয়ে অফিসের কার্যক্রম চলছে। কথা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাজী হাবিবুল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ঝূঁকির কথা চিন্তা করেই কোনমতে টিনের ঘরে বাচ্চাদের পড়ানো হচ্ছে। বরাদ্দ পেয়েছি, তবে কবে নাগাদ হবে জানিনা। বরপা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনসেড ভবনটি অনেক বছরের পুরনো। টিনে মরিচা পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ফুটা দিয়ে পানি ঝড়ে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক তানিয়া শারমীন বলেন, স্কুল ভবনটি অনেক পুরনো। বেশ কয়েকবার আবেদনও করা হয়েছে।  উত্তর খৈসাইর, হিরনাল ও বৈলদা স্কুলে গিয়ে মিলেছে একই চিত্র। উপজেলা শিক্ষা অফিসার খালেদা আক্তার বলেন, ২১টি স্কুল অধিক ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। চেষ্টা চলছে এগুলো মেরামতের। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা অফিস এ ধরণের কোন রিপোর্ট আমাদের দেয়নি। আমরা তিনটা স্কুল ঝুঁকিতে আছে জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে সেগুলোর ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের তালিকা পেলে চেষ্টা করবো যেনো দ্রুত মেরামত করা যায়।

 

রূপগঞ্জে অগ্নিকান্ডে কোটি টাকার ক্ষতি

 

 

 

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

রূপগঞ্জে ভয়াবহ আগুনে ৭০টি বসতঘর ও ৫টি দোকানের মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ভস্মিভূত হয়ে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো দাবী করেছে। আগুনের ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গত সোমবার গভীর রাতে তারাব পৌরসভার দিঘীবরাব এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, দিঘীবরাব এলাকার মনির হোসেন বেপারির টিন ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা ৭০টি কক্ষ রয়েছে। এছাড়া ওষুধ ও মুদিমনোহরীর ৫টি দোকান রয়েছে। গত সোমবার রাতে বজ্রপাতের সময় একটি রুমে আগুন লেগে যায়। এসময় বাড়ির সকলে ঘর থেকে বের হয়ে গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে আগুনের লেলিহান শিখা উপড়ে উঠে যায়। এসময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ও আদমজি ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। ততক্ষনে ৭০টি বসতঘর, ৫টি দোকানঘরসহ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাড়ির মালিক মনির হোসেনের দাবী করেছেন, সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার মোহাম্মদ বজলুর রশিদ বলেন, কিভাবে আগুনের সুত্রপাত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে স্থবিরতা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চলছে লবিং

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে নেতারা আগ্রহ না দেখালেও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশি নেতারা মরিয়া হয়ে পড়েছে নিজের টিকেট ভাগিয়ে আনার জন্য। এ নিয়ে যে যার মত করে চালিয়ে যাচ্ছে লবিং, সেই সাথে নানা কুটকৌশলতো আছেই। এই সকল মনোনয়ণ প্রত্যাশিদের এখন একটাই চাওয়া দলের টিকেট। আর সেটাকে আনতে প্রয়োজনে অনেকেই নিজ দলের সিনিয়রদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে পিছ পা হচ্ছে না। কেউ বা প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে অনেকেই মিডিয়ার উপর ভর করে নানা কৌশলে পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন নিজের রাস্তা। তবে সেটা দেশ ও দলের জন্য কতটুকু ক্ষতির কারণ তা দেখার সময় তাদের হাতে নেই। এ বিষয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, আমাদের মতে নির্বাচন মানেই তিন ধরনের মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থীদের দেখা মিলে। এরা হলেন ব্যবসায়ী, সুবিধাবাদী বা সুযোগ সন্ধানী অপরটি হলো জনসেবা। অনেক নেতাই আছেন যারা নির্বাচন আসলেই কচ্ছপের ন্যায় মাথা চাড়া দিয়ে উঠে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য। সাধারণত এরা দু’ই ধরনের মন-মানষিকতা নিয়ে নির্বাচনে ঝুকে পড়েন। একটি হলো মনোনয়ন ক্রয় করে সঠিক সময় মোটা অংকের অর্থের বিনিময় লাভবান হয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়ানো। অপরটি হলো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কাছ থেকে অদৃশ্য ক্ষমতা নানা বিষয় বণ্টন করা। আর যারা সুবিধাবাদী সুযোগ সন্ধানী তারা বেশীর ভাগ সময়ই নানা ভাবে নিজেকে বড় জাহির করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। এই সকল মনোনয়ন প্রত্যাশিরা নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার বক্তব্যে দলের কতটা ক্ষতি হচ্ছে সেটার বিষয় কোন তোয়াক্কা না করেই চালিয়ে যান তার প্রপাকান্ড। এরা নিজের স্বার্থের জন্য প্রয়োজনে নির্বাচনের সময় দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজেকে দাড় করায়। যতক্ষন পর্যন্ত নিজের স্বার্থ হাসিল না হবে ততক্ষন পর্যন্ত সে তার কাজ চালিয়ে যাবে। এ কথায় বলা চলে দল ও দেশের জন্য তারা বিষফোরার সামিল। অপরদিকে যারা সব সময় জনসেবা করার জন্য নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি হন তারা কখনই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলে না। নির্বাচন মানেই নিজের স্বার্থ হাসিল করা এই ধরনের কোন মনোভাব তাদের ভিতরে দেখা যায় না। তারা কখনই নিজেকে বড় বলে জাহির করার চেষ্টা করেন না। আর এই সকল নেতাদের সংক্ষ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে অপ-রাজনীতির কারনেই। তবে এসব কিছুই পরিস্কার হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব মূর্হুতে জনতার সামনে।

 

 

শামীম ওসমানের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তাই তার প্রতিপক্ষের জন্য টার্গেট

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট:

আওয়ামী রাজনীতিতে দেশের যেকোন রাজনৈতিক নেতার কাছে ঈর্ষনীয় নাম হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান। যিনি এক দিনের নোটিশেই জড়ো করতে পারেন লাখো জনতা। যেখানেই শামীম ওসমান সমাবেশ ডেকেছেন, সেখানেই হয়েছে জনসমুদ্র। আর একারণেই শামীম ওসমান তার প্রতিপক্ষদের কাছে এখন ঈর্ষনীয় রাজনীতিক হিসাবে পরিনত হয়েছে। তার ঘনিষ্টজনরাও তাকে ঘায়েল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বলে তারই ঘনিষ্টজনরা অভিযোগ করেন। তাদের মতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বিভিন্ন ভাবে শামীম ওসমানকে পরাস্ত করতে না পরলেও রাজনৈতিক ঈর্ষায় একটি মহল এখন শামীম ওসমানকে টার্গেট করেছে। ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ মানেই শামীম ওসমান’ একথাটি দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতেও প্রচারিত। সেই শামীম ওসমানকে রাজনৈতিকভাবে চার্গেট করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে প্রতিপক্ষ মহল এমনটাই দাবি তার অনুসারিদের। শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে চলছে বিভিন্ন মহল থেকে অপপ্রচার। যদিও শামীম ওসমান রাজনীতির প্রতি অনীহা প্রকাশ করে বক্তব্যও দিয়েছেন বিভিন্ন সভা সমাবেশে। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আলেম-ওলামাদের সামনে বর্তমান রাজনীতি নিয়ে অনীহা প্রকাশ করে বক্তব্য রেখেছেন। প্রচলিত রাজনীতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে নিজের নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জে তৃনমুলের সাথে কর্মী সভা করে প্রতিটি কেন্দ্রে কমিটি গঠনের কাজও শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত থাকারও আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমি এমপি হই বা না হই তাতে কিছু যায় আসেনা, শেখ হাসিনা দেশের প্রধাণমন্ত্রী না হলে দেশের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে। নির্বাচনের আগে অনেক খেলাই হবে, তাই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এলাকার উন্নয়ণ ও নির্বাচনী প্রস্তুতি দুটোই একসাথে শুরু করার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শামীম ওসমানকে কোনঠাসা করার নতুন খেলা শুরু হয়েছে। বিশেষকরে এক সময় যারা শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন আওয়ামীলীগের শীর্ষপদে অবস্থান করে তারাই এখন প্রকাশ্যে ও গোপনে শামীম ওসমানকে ঘায়েল করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পুরানো শক্রদের পাশাপাশি এখন নতুন শক্রদের দ্বারাও বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের একটি অংশের টার্গেট এখন শামীম ওসমান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সেই বিরোধ ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বিভিন্নভাবে। আগামী নির্বাচনে ওসমান পরিবারকে ঠেকাতে ছক আঁকছেন অনেকেই। কেন্দ্রে এবং স্থানীয়ভাবে চলছে নানা সমিকরন। দলের শীর্ষ নেতার অধিকাংশই ওসমান পরিবারকে ঠেকাতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে তারা। সম্ভাব্য সময় অনুসারে চলতি বছরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে শামীম ওসমানকে ঘায়েল করতে চলছে নানা তৎপরতা। এ তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন অনেক খেলোয়ার। কিন্তু আওয়ামীলীগের একাধিক সূত্র থেকে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের অবদান কখনোই ভুলে যাবার নয়। আর শামীম ওসমান দল এবং নেত্রীর (শেখ হাসিনা) প্রশ্নে আপোষহীন। একারনেই তার এতো শক্র এটা নেত্রী খুব ভালো করেই জানেন। তাছাড়া ব্যাপক উন্নয়ন এবং তৃনমুলে জনপ্রিয়তায় শামীম ওসমানের বিকল্প এখনো তৈরী হয়নি। সূত্রমতে শামীম ওসমানের বিভিন্ন পদক্ষেপ রাজধানীতে গ্রহণ করার আগেই নারায়ণগঞ্জে তার কার্যকর হয়েছে। জাহানারা ইমামের নামে তোলারাম কলেজের কলাভবনের নামকরণ ও যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচারসহ গোলাম আযম-নিজামীকে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানই প্রথম অবাঞ্চিত ঘোষণা করে। যার খেসারত হিসাবে বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় আসারপর শামীম ওসমানকে দেশ ত্যাগ করতে হয়। কর্মীবান্ধব হিসাবে পরিচিত শামীম ওসমানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বি এখন তারই এক সময়ের ঘনিষ্টজনরা।

 

আবারো উত্তপ্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যুতে শান্ত নারায়ণগঞ্জ অশান্ত হয়ে উঠে। কখনো রাজনীতি, কখনো সামাজিক আবার কখনো ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে নারায়ণগঞ্জ অশান্ত হয়েছে। আবারো নারায়ণগঞ্জ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন এখানকার অধিবাসীরা। নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতা মাওলানা আবদুল আউয়ালের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আহলে সুন্নত ওয়াল জমিয়তের মাঝে পাল্টাপাল্টি সভা সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ যাবত অমান্ত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। আর এর সাথে যোগ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ত্বকী মঞ্চের অহবায়ক রফিউর রাব্বীর দেয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্য ও এ বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী ওসমানের সমর্থকদের মশাল মিছিল। সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ডিআইটি মসজিদের খতিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল নাকি বন্দরের একটি সভায় মুসলমানদের ঈদে মিলাদুন্নবি ও হিন্দুদের জন্মাষ্টমীকে একই অনুষ্ঠান হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। আর মাওলানা আবদুল আউয়ালের সে বক্তব্যের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের উদ্যোগে ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন করে আব্দুল আউয়ালকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের মদদ দাতা উল্লেখ করে তার গ্রেফতার দাবী করা হয়। তামিম বিল্লাহ’র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সেই মানববন্ধন শেষে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যেখানে আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে নানা প্রকার কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরদিন ৫ এপ্রিল একই স্থানে নারায়ণগঞ্জের হেফাজত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের নেতৃত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে তামিম বিল্লাহসহ বাহাদার শাহ ও এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীদের গ্রেফতার করার দাবী জানানো হয়। সেই বিক্ষোভ সমাবেশে মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জকে কারবালায় পরিনত করা হবে, হাজার হাজার লাশ পরবে। ধর্মীয় নেতাদের মুখে এ ধরনের হুমকির কথা শুনে শংকিত হয়ে পরে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপ্রিয় জনগন। গত ৫ এপ্রিলের পর ৬ এপ্রিল শুক্রবার বাদ জুমা ডিআইটি মসজিদের সামনে থেকে দুই পক্ষই পাল্পাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের শংকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় বৃহস্পতিবার রাত কাটে নারায়ণগঞ্জের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের। যদিও প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর দুই পক্ষ আলাদা অবস্থানে কর্মসূচি পালন করায় সে যাত্রায় সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। অপরদিকে, ৮ এপ্রিল রোববার সন্ধ্যায় ৫নং ঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষ্যার পাড়ে নারায়ণগঞ্জ সাংষ্কৃতিক জোটের আয়োজনে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারে দ্রুত অভিযোগপত্র দেয়ার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বী বলেছিলেন, ত্বকী হত্যাকারী আজমেরী ওসমানকে গ্রেফতার করে তার জবানবন্দী নিলেই বেড়িয়ে আসবে হত্যাকান্ডের রহস্য এবং এই হত্যার নির্দেশদাতা কে। ত্বকী হত্যাকারী কে এটা সারাদেশের মানুষেই জানে। তারপরেও কেন অভিযোগপত্র দেয়া হচ্ছে না। তাহলে বুঝা যায়, সরকারের মদদ ছাড়া কোন অপরাধ সংগঠিত হয় না। দেশের সাধারণ মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিতের আন্দোলন। রফিউর রাব্বীর এ বক্তব্যের প্রতিবাদে শহরে বিশাল মশাল মিছিল বের করেছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান সমর্থকরা। সোমবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় মিছিলটি শহরের চাষাঢ়া থেকে শুরু হয়। মিছিলটি ২নং রেল গেট ঘুরে পুণরায় চাষাড়ায় এসে শেষ হয়। তবে মিছিলে আজমেরী ওসমান উপস্থিত ছিলেন না। মিছিলে অংশ নেয়া একাধিক যুবক জানায়, রোববার (৮ এপ্রিল) রফিউর রাব্বি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা আজমেরী ওসমানের নামে নানা অপবাদ দিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। শুধু এবারই নয় বিভিন্ন সভা সমাবেশে নানা উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয় রফিউর রাব্বি। সে নারায়ণগঞ্জের ভালো চায়না। আজমেরী ওসমান ভাই বর্তমানে বিভিন্ন সমাজ সেবায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে এ ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে কিছু কুচক্রি মহল পিছু নিয়েছে। আমরা যুব সমাজ তাকে ভালবাসি তাই এ ধরণের অপপ্রচারের প্রতিবাদে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিল করেছি।