আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১০
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

রহমত উল্লাহ স্যারের মতো শিক্ষক চাই..

 

 

অতিথি কলাম,

মো. ফারুক হাসান,

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার প্রাচীন বিদ্যাপিঠ কাইকারটেক নবাব হাবিবুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়। এই স্কুলের গুনী শিক্ষক মো. রহমত উল্লাহ। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে সুনামের সঙ্গে পাঠদান করে যাচ্ছেন।  প্রচারবিমুখ এ শিক্ষক নীরবে-নিভৃতে সোনারগাঁওয়ের পল্লীতে শিক্ষার অলো জ্বালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি বিষয়ে সমান পারদর্শী এ শিক্ষকের পাঠদান এতোই সাবলীল ্ও হৃদয়গ্রাহী যে ইংরেজী ও অংকের মতো বিষয়ও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ করে দিয়েছেন। ১৯৭৯ সালে অংক শিক্ষক হিসাবে ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের কাইকারটেক এলাকার শেখ সাহেবের বাড়ি এলাকায় অবস্থিত নবাব হাবিবুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তার শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠদান এতোটাই হৃদয়গ্রাহী করে উপস্থাপন করেন যে, এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা বরাবরই এ বিষয়গুলোতে ভাল করে আসছে। বর্তমানে তিনি ইংরেজী শিক্ষক হিসাবে স্কুলটিতে আছেন। তার সবচেয়ে গুণ শিক্ষার্থীদের আপন করে নেয়া। দুর্বল শিক্ষার্থীদের তিনি আলাদা করে সময় দেন। এমনকি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের তিনি বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়ান। তার এ পরোপকারী গুণের কারণে এলাকায় তিনি সবার শ্রদ্ধার পাত্র। তার অনেক ছাত্র এখন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কাজ করছে। অনেকে জাতীয় পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক হিসাবে কাজ করছে। কিন্তু কখনো তিনি নিজের জন্য বা ব্যাক্তিগত কোন কাজে তাদের কাছে যাওয়া দূরের কথা তাদেরকে তিনি তার পরিচয়ও দেন না। সদা হাস্যোজ্জল এ শিক্ষক এখনও কোন সাবেক শিক্ষার্থীকে পেলে পরম মমতায় তার খোঁজ-খবর নেন। তার জন্য মঙ্গল কামনা করেন। সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টির আদর্শ এ শিক্ষক নানা বৈষম্যের শিকার হল্ওে তিনি এ ব্যপারে কারো কাছে কখনো কোন অভিযোগ-অনুযোগ করেননি। বরং পরম মমতায় পাঠদান করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের।  এ বছর থেকে স্কুলটিতে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পিছনে তার অবদান অপরিসিম। তার জন্যই স্কুলটি এলাকায় ব্যপক পরিচিতি পেয়েছে।  এলাকাবাসী মনে করে প্রতিটি স্কুলেই তারমতো গুণী শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু এলাকাবাসীর আক্ষেপ তার মতো একজন গুণী শিক্ষক তিন যুগ পার করেও বিএডসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষিণ এবং প্রধান শিক্ষক হওয়ার সব ধরণের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এখনও তাকে সহকারী শিক্ষক করেই রাখা হয়েছে। গুণী এ শিক্ষকের কদর না হওয়ায় অনেকটা ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

নারায়ণগঞ্জে নারী শ্রমিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নাই…!

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নীট গার্মেন্টেসের প্রধান কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ। এই শিল্পের সাথে জড়িত বেশীর ভাগ শ্রমিকই রানী। কিন্তু তাদের জন্য নেই কোন আবাসন ব্যাবস্থা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসা অসংখ্য নারী গামেন্টর্স কর্মীরা এখনো আবাসন সমস্যায় রয়েছেন। গতকাল বুধবার শিল্পনগরী ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের কোনো কারখানারই শ্রমিকদের জন্য আবাসনব্যবস্থা নেই। ফলে শ্রমিকদের ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। কর্মস্থল থেকে কাছে হওয়ায় বেশির ভাগ শ্রমিক আশপাশের এলাকাকেই বেছে নেন। অন্যদিকে বাড়ির মালিকরা টিনের চাল দিয়ে কিংবা চারদিকে ইট উপরে টিন দিয়ে খুপরি ঘর করে ভাড়া হাঁকেন বেশী। ওই সমস্ত ভাড়া বাসায় মানুষ্য বাসের নূন্যতম পরিবেশ নেই বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী এই শ্রমিকদের জন্য সরকারি কোন আবাসন ব্যবস্থা নেই। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর সূত্র জানায়, ঢাকায় ৩টি এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও যশোরে একটি করে মোট ৭টি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল আছে। এতে ১ হাজার ৩৯৯ কর্মজীবী নারী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৩০ আসন বিশিষ্ট এবং মিরপুর ও খিলগাঁও হোস্টেলে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৫৫৮ আসনের কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। সাভারে বড় আশুলিয়ায় ৭৪৪, আশুলিয়ায় ৭৯৮, ঢাকার নীলক্ষেতে ২৪৫ আসনের হোস্টেল নির্মাণ হচ্ছে। পাশাপাশি মহিলা সংস্থা পরিচালিত ঢাকার প্রধান কার্যালয় বেইলি রোডে ৯তলা থেকে ১২তলা পর্যন্ত কর্মজীবী মহিলাদের নিরাপদ আবাসনের সুবিধা দেয়ার জন্য ২০৭ আসন বিশিষ্ট মহিলা হোস্টেল রয়েছে। অথচ শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ নীট সেক্টোরে এত অবদান রাখার পরেও এখন পর্যন্ত কর্মজীবী মহিলাদের জন্য কোন হোস্টেলই নির্মাণ করেনি সরকার। বাংলাদেশের ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে আমরা বহু দিন যাবত আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। অবশেষে সরকার প্রকল্পের অনুমোদন দিলেও সঠিক স্থান বেছে নেয়নি। ফলে যাদের জন্য প্রকল্প নির্মাণ হবে, তাদের কাজে আসবে কিনা তাই এখন প্রশ্ন। তিনি আরো বলেন, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে অসংখ্য গার্মেন্টস কারখানা চলছে। অথচ চলমান শিল্পাঞ্চলের আশপাশে মহিলা শ্রমজীবী হোস্টেল নির্মাণ না করে বন্দরে করার বিষয়টি সরকারের প্রকল্প এমপি মন্ত্রীদের ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার ছাড়া আর কিছু নয়। আমি মনে করি, বন্দরে শিল্পাঞ্চল যখন হবে, তখন করা যাবে। কিন্তু এখন চলমান শিল্পাঞ্চলের আশপাশে করা প্রয়োজন। সূত্র মতে, গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ বন্দর ও চট্টগ্রাম কালুরঘাটে মহিলা শ্রমজীবী হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পটিতে পাঁচ শয্যার হাসপাতাল সুবিধাসহ শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র থাকবে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। তবে এই প্রকল্প নারী শ্রমিকদের কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে নীট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ’র একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করেও কোন বক্তব্য নেয়া যায়নি। আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, মহিলা শ্রমজীবী হোস্টেল নির্মাণের বিষয়টি মাত্র সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে র্নিমাণের আগে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে। তাই বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানাবো। এছাড়া সংশ্লিষ্টরা লিখিত আবেদন আকারে জানালে বিষয়টি আরো গুরুত্ব পাবে।

 

শোকার্ত পরিবেশে মাইকে বক্তৃতাবাজি !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের পরিবার হিসেবে খ্যাত প্রয়াত গোলাম সারোয়ারে পরিবার। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর ছোট ভাই জাকিরুল আলম হেলাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আর অপর ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন সাজনু শহর যুবলীগের সভাপতি। তাদের একজন ভাগ্নে জুয়েল হোসেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। গতকাল বুধবার ইন্তেকাল করেন প্রয়াত গোলাম সারোয়ারের মাতা মনোয়ারা বেগম। এ নিয়ে সকাল থেকে শোকার্ত পরিবেশ ছিল শহরে। ঘোষণা ছিল বাদ আছর জানাযা হবে। এ উপলক্ষ্যে বিকেল ৩টার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জানাযার উদ্দেশ্যে আসতে থাকে। তবে একই সময়ে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের পক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ যেখানে প্রচুর মাইক লাগিয়ে চলে বক্তৃতাবাজী। ফলে জানাযাতে অনেক লোকজন এসে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সংশ্লিষ্টরা অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে একটি আওয়ামী লীগের পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হয়েছে ও নামাজের জানাযা হবে চাষাঢ়া এলাকাতে সেখানে একই স্থানে আলাদা করে সমাবেশের ডাক দেওয়াটা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া ওই সমাবেশ থেকেও পবিত্র শহীদ মিনারকে অবমাননা করা হয়। পলাশের পক্ষে থাকা লোকজন জুতা নিয়েই শহীদ মিনারের বেদিতে উঠেন। শহীদ মিনারের বেদিতে জুতা নিয়ে উঠায় শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে এমন মন্তব্য করে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

 

শহীদ মিনারে অনুসারিদের নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পলাশ : আগামীতে খোঁচা দিলে কেউ রেহাই পাবেননা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দৈনিক ডান্ডিবার্তা ও দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত চাঁদাবাজির সংবাদে পলাশতো দুরের কথা কোন শ্রমিক নেতার নাম উল্লেখ না করে প্রতিমাসে ফতুল্লা এলাকায় শ্রমিক নেতাদের নামে প্রায় ২ কোটি টাকার চাঁদা আদায় হচ্ছে এমন সংবাদ পরিবেশনের পর অন্য শ্রমিক নেতারা কেউ প্রতিবাদ না করলেও কাউসার আহাম্মেদ পলাশ তেলে বাগুনে জ¦লে উঠেছে। তিনি মামলায় প্রতিবাদ ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর কথা বললেও তা সত্য নয়। তারপরও চাঁদাবাজির প্রকাশিত সংবাদে কাউসার আহাম্মদ পলাশকে নাকি চাঁদাবাজ বলা হয়েছে এমন অভিযোগ করে প্রথমে এক সাংবাদিকের হাত-পা ভেঙ্গে চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দিলেন তার অনুসারিরা। পরদিন আদালতে মামলা দায়ের করার পর একের পর এক হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি গতকাল বুধবার তার অনুসারিদের নিয়ে শহীদ মিনারে সমাবেশ করে সাংবাদিকদের আয় ব্যায়ের হিসাবের তদন্ত করার জন্য ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। শুধুমাত্র চার সাংবাদিক কেন নারায়ণগঞ্জে সকল সাংবাদিকের আয় ব্যায়ের হিসাব তদন্তের পাশাপাশি আমরা চাই দুদকের স্বচ্ছতার জন্য নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা ও ক্ষমতাসীন দলের সকল নেতা পাতি নেতার আয়ে ব্যায়ের হিসাব এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত তদন্ত করা হোক। আমরা সাংবাদিকরা দুদককে আয় ব্যায়ের হিসাবের তদন্তসহ গত ৯ বছরের সুষ্ঠ তদন্ত চাই। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের চার সাংবাদিকদের নামে মামলার পর এবার তাদের নাম উচ্চারণ করে সাবধান করেছেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ যাঁর অনুসারীরা এর আগে সাংবাদিকদের চামড়া খুলে নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন। কাউসার আহাম্মেদ পলাশের এই হুশিয়ারি সুষ্ঠ ও স্বাধীন মত প্রকাশের পক্ষে অন্তরায় বলে মনে করেন নগরবাসী। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আবার হুমকির সুরে বক্তব্য দিয়ে কাউসার আহাম্মেদ পলাশ আদালত অবমাননা করেছেন বলে অনেকে মনে করেন। বিষয়টি আমাদের চাইতে আদালতেই সিদ্ধান্ত নিবেন। গতকাল বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পলাশ বক্তৃতায় ওই বক্তব্য রাখেন যেসব মামলার বাদী পলাশ নিজেই। তিনি এদিন এও বলেছেন, ‘আগামীতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে আরো মামলা দেওয়া হবে। কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমি ছাড় দেওয়ার মানুষ না।’ পলাশ চারজন সাংবাদিকের নাম উচ্চারণ করে বলেন, ‘তানভীর, আলামিন, বাদল ভাই ও জাবেদ জুয়েল আমার বিরুদ্ধে লিখে চলেছে। শুনেছি গোল টেবিল বৈঠক করে আরো কয়েকজন প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা নিউজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হবে। কোন ছাড় দিব না।’ পলাশ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার কোন ভিত্তি নাই। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু আকাশ থেকে সিদ্ধান্ত আসে নাই। আগামীতে আমি মনোনয়ন চাইবো। যদি আকাশ থেকে সিদ্ধান্ত আসে আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করবো। তখন কেউ মনোনয়ন ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’ বাংলাদেশ ট্রাক কভার্ড ভ্যান আন্তজেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ওই সমাবেশে ট্রাক কাভার্ডভ্যান ইউনিয়নের সভাপতি মনির তালুকদার বলেন, ‘এই দেশের ছোট বড় সকল সাংবাদিকেরা আমাদের সামনে দেশের তথ্য তুলে ধরেন। তার মাধ্যমে সারা দেশে কি হয়েছে তা জানতে পারি। পলাশ ভাইয়ের বিরুদ্ধে কিছু অপপ্রচার করেছেন কিছু সংবাদ মাধ্যমে। কিন্তু সাংবাদিক ভাইয়ের আপনেরা জানেন না-এমন জায়গায় খোঁচা দিছেন, বল্লার বাসা, বল্লার বাসায় খোঁচা দিছেন। আগামীতে খোঁচা দিলে কেউ রেহাই পাবেননা। এই শ্রমিকেরা একত্রিত হলে বাংলাদেশের কোন প্রান্তেই থাকতে পারবেনা। আপনারা ভুল স্বীকার করেন, অন্যথায় আমরা আমাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। ট্রাক চালক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ বলেন, ‘আপনারা যদি ভাল করে তদন্ত করে এই নিউজটা করেন তাহলে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। আপনাদের নিউজের মাধ্যমে কাউসার আহম্মেদ পলাশকে খেপিয়ে দিয়ে ট্রাক ড্রাইভারদের খেপায়া দিবেননা। তাহলে কিন্তু আমরা সারা বাংলাদেশ অচল করে দেয়ার চেষ্টা করবো। কারণ পলাশ সকল শ্রমিকের নয়ন মনি।’ ট্রাক ভ্যান ইউনিয়নের সভাপতি তাইজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিতি ছিলেন শ্রমিক নেতা বাবুল আহম্মেদ সহ প্রমুখ। জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ৫ এপ্রিল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ যুগান্তর প্রতিনিধির বিরুদ্ধে একটি মানহানি ও অপরটি ৫৭ ধারায় মামলার আর্জি করেন। আদালত মানহানি মামলা গ্রহণ করেন ও ৫৭ ধারার মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। একই দিন ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান বাদল ও সময়ের নারায়ণগঞ্জ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দুটি মামলা করেন। এছাড়া সবশেষ গত ৯ এপ্রিল নিউজ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় একটি মামলা করেন। এর মধ্যে ৪ এপ্রিল পলাশের অনুসারীরা ফতুল্লার পঞ্চবটি থেকে পুলিশ লাইন পর্যন্ত মিছিল করে সাংবাদিকদের চামড়া খুলে নেওয়ার হুমকি দেন।

নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের বৈশাখী উৎসব

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ৩৭তম প্রতিষ্ঠবার্ষিকী উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব ও সংস্কৃতি সপ্তাহর আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ থেকে সাত দিন পর্যন্ত আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে গ্রন্থমেলা, চিত্রকলা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও নারায়ণগঞ্জ চারুকলা মাঠে বৈশাখী মেলা চলবে। এছাড়া অন্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, আগামী শনিবার ভোরে প্রভাতী অনুষ্ঠান, সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনিস্টিটিউট সংলগ্ন মুক্তমঞ্চ এবং চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী রোববার নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনিস্টিটিউট সংলগ্ন মুক্তমঞ্চে বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে প্রাচ্যনাটের পরিবেশনায় নাটক কিনু কাহারের থেটার পরিবেশিত হবে। আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যা আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে আরণ্যক নাট্যদলের পরিবেশনায় নাটক দি জুবলী হোটেল পরিবেশিত হবে। আগামী বুধবার সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে মণিপুরী থিয়েটারের পরিবেশনায় নাটক কহে বীরাঙ্গনা পরিবেশিত হবে। ১৯ এপ্রিল ৬ বৈশাখ বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনাতনে জোটভুক্ত সংগঠনসমূহের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গনে বাউল গান পরিবেশিত হবে। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লি: ২ দিন ব্যাপী বৈশাখী বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এছাড়া নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার সকালে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ব থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পরে বর্ষ বরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। এছাড়া দেওভোগ লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়া প্রাঙ্গণে মাস ব্যাপী বৈশাখী মেলা চলবে।

 

 

সোনারগাঁয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চার ডাকাত গ্রেপ্তার

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দেশীয় অগ্নেয়াস্ত্রসহ মহাসড়ক ডাকাত চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে তাদের উপজেলার টিপরদী এলাকা থেকে আটক করা হয়। এর মধ্যে রূপগঞ্জ উপজেলার ছনপাড়া গ্রামের হাবু সিকদারের ছেলে খোকন (৩৫) কে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে পুলিশ। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎক ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। বাকি তিন ডাকাত সদস্যরা হল, রুবেল (১৯) রূপগঞ্জ উপজেলার ছনপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে, সাদ্দাম ওরফে টোকাইক সাদ্দাম (২৫) মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার বিভানদি গ্রামের জব্বার মিয়ার ছেলে ও জনি (২২) বসুরবাগ পৌরসভার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। সোনারগাঁ থানার এসআই আব্দুর হক সিকদার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত কয়েকটি ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন প্রাইভেটকার ও পন্যবাহি ট্রাকে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা ত্রিবদী এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের খোকন, জনি, রুবেল ও সাদ্দাম নামের চার সদস্যকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি দেশী পিস্তল, একটি চাপাতি, একটি বটি, দুটি রামদা ও চারটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ডাকাতদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মদনপুরে দিন ব্যাপী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

আসছে ঈদে যানজট এড়াতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মদনপুরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে মহাসড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া জায়গায় ২০ ফুট রাস্তা প্রসস্থ করণ করা হবে। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই সড়ক প্রসস্থ করণের কাজ শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ সওজ কর্তৃপক্ষ। এসময় উচ্ছেদ অভিযান কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আমানউল্লাহ, হাইওয়ের পুলিশের ডিআইজি আতিকউল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আলীউল হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়ার আলম ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী মতিয়ার রহমানসহ পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আমানউল্লাহ উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আসছে ঈদে যানজট এড়াতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এ জাতীয় মহাসড়কটি মদনপুরের আরো ২০ ফুট বাড়ানো হবে। উচ্ছেদের পরপরই সড়ক প্রসস্থ করণের কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী রমজানের পূর্বেই সড়কটি প্রসস্থ করণের কাজ সমাপ্ত হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশে দখলকারিরা এসব দোকানপাট গড়ে তুলে জনচলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করছিল। তাই অবৈধ ভাবে সরকারি জমি দখল করে গড়ে তুলা সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর মোড় দু’পাশে সরকারি জমি দখল করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ চক্র বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে তুলে ভাড়া বাণিজ্য করে আসছিল। এসব দোকানপাট থেকে দৈনিক ভাড়া ২‘শ থেকে ৩’শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। তাছাড়া ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহন করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন

 

 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের প্রবীন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদল, তানভীর আহমেদ, আলামিন প্রধান ও জাবেদ আহমেদ জুয়েলসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানী মূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জেলা কমিটি ও বিভিন্ন সংগঠনসহ স্থানীয় লোকজন। গতকার বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অবস্থান নিয়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জেলা কমিটি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ও পূর্নবাসন সোসাইটি, যুব কমান্ড মহানগর এবং শ্রমীক লীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন মিছিল ও মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, আলীগঞ্জের শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ। সে প্রকাশ্যে তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজী করে। পলাশের বিরুদ্ধে ৩ এপ্রিল যুগান্তরে যে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে তা শতভাগ সত্য। এরআগে ইত্তেফাক, দৈনিক ডান্ডিবার্তা, অনলাইন পোর্টাল নিউজনারায়ণগঞ্জ২৪ ডটনেট, দৈনিক সময়নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন পত্রিকায় পলাশের বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সবই বস্তুনিষ্ঠু। প্রকাশিত সংবাদ পড়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে পলাশ তার লোকজন দিয়ে যুগান্তরের প্রতিনিধি আলামিন প্রধানের চামড়া তুলে নেয়ার শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করিয়েছে। তার ওই মিছিলে অংশ নেয় স্থানীয় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীসহ সন্ত্রাসীরা। এতে নিরাপত্তা চেয়ে পলাশের বিরুদ্ধে ৪ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি করেছে আলামিন প্রধান। এরপর ৫ এপ্রিল পলাশ তার অপকর্ম ডাকতে এবং সত্যকে আড়াল করে পেশাদার সাংবাদিক আলামিন প্রধান, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদল, তানভীর আহমেদ, জাবেদ আহমেদ জুয়েলকে হয়রানী করতে তাদের বিরুদ্ধে মানহানী মামলা করেছে পলাশ। মিথ্যা মামলা দায়ের করেও পলাশ ক্ষান্ত হয়নি। ৪ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দৈনিক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ন শ্লোগান দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করাচ্ছে। বক্তারা এর তিব্রনিন্দা জানিয়ে দ্রুত সন্ত্রাসী পলাশকে গ্রেফতার দাবী জানান।

 

বন্দরে ড্রেনের বর্জ্য সড়কে ফেলায় পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি

 

 

 

বন্দর প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ড্রেনের বর্জ্য রাস্তার উপরে ফেলে স্তুপ করে রাখার পলে জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিনেও সিটির গাড়ী ময়লাগুলি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় এ করুন দশা। কয়েকদিন যাবত এমনি চিত্র দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের দেউলী চৌরাপাড়ার এলাকার সড়কে। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে সিটিতে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ওই এলাকায় সংস্কারবিহীন একটি মাত্র চলাচলের পথ এবং রাস্তাটিতে ড্রেন করায় চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমতবস্তায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ড্রেনের সমস্ত ময়লা ফেলে পুরো রাস্তাব্যপি কবাদাময় আবর্জনার স্তূপ করে রাখায় ময়লার কালো পানি রাস্তা সয়লাব হওয়ার সকালে স্কুল মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী কর্মজীবী পথচারী চলাচল করতে পারছেনা। আবার কেউ বাসায় ফিরে যাচ্ছে। এছাড়া কেউ কেউ জীবীকার তাগিদে কাপড়ে ময়লা কাদা লাগিয়ে চলে যাচ্ছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। স্থানীয় জনসাধারণ এ বিষয়টি নাসিক কর্মকর্তাদের প্রতিহিংসামূলক কর্মকান্ড বলে ধারণা করছেন। ভুক্তভোগী দোকানদার এবং সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ আলী বাচ্চু, দারুল হক ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারি হাফেজ মাওলানা আবু জাফর, হোটেল মালিক মোঃ লিটন সহ অনেকেই বিষয়টির ব্যপারে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এলাকাবাসী বলছে উক্ত সমস্যার অনতিবিলম্বে সমাধান না দিলে সর্বস্তরের জনগন একত্র হয়ে কঠিন কর্মসূচি দিবে।

উপহারের সুফল পাচ্ছেনা নগরবাসী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ছোট্ট নগরী নারায়ণগঞ্জে যানজট যেন মানুষের চিরচেনা জনদূর্ভোগে পরিনত হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের ইংরেজী নববর্ষ থেকেই সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সেলিম ওসমান যানজট মুক্ত নগরী উপহার দেয়ার ঘোষণার পর নগরীর দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকলেও বর্তমানে অসহনীয় যানজট মোকাবেলা করেই পথচারী ও যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। তবে সেলিম ওসমান যানজট মুক্ত নগরী উপহার দেয়ার প্রয়াস চালিয়ে গেলেও এই উপহারের সুফল ভোগ করতে পারছেনা বলে দাবী করেছেন সাধারন যাত্রী ও পথচারীরা। গত বছরের জুলাইয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর অনুরোধে নগরীর নিতাইগঞ্জ থেকে সেলিম ওসমান ট্রাক স্ট্যান্ড উঠানোর পর নগরীর যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও প্রধান সড়ক জুড়ে দু’ধারেই অবৈধ ভাবে গাড়ী পার্কিং করে রাখায় এখন নিত্য যানজটে সাধারন যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুধু সড়কই নয়, সাধারন মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত নগরীর ফুটপাত গুলোও এখন ব্যবহৃত হচ্ছে মোটর সাইকেল ও গাড়ীর পার্কিং স্থান হিসেবে। জানাগেছে, গত ১২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম আইনশৃংখা কমিটির মাসিক সভায় উপদেষ্টা ও সাংসদ সেলিম ওসমান এবং সংরক্ষিত আসনের সাংসদ এড. হোসনে আরা বাবলী নগরীর যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনকে জোড়ালো তাগিদ দিয়েছিলেন। এছাড়াও প্রত্যেক মাসেই জেলা আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগকে জোর তাগিদ দেয়া হলেও প্রয়োজনী লোকবল সংকটের কারনে যানজট নিরসনে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা। গতকাল বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাঢ়া থেকে দুই নং রেল গেইট ও ফলপট্টী থেকে কালীরবাজার চারারগোপ পর্যন্ত সড়কের দু’ধারেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালবাহী গাড়ী, ব্যাক্তিগত প্রাইভেট কার, মোটর সাইকেল, সিএনজি অটো রিক্সাসহ রিকশা অবৈধ ভাবে পার্কি করে রাখার কারনে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। নগরীর ২নং রেলগেট থেকে চাষাঢা পর্যন্ত চারটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও সড়কের উপর অবৈধ পার্কিং বন্ধে প্রশাসেন কঠোর অভিযান নিয়মিত পরিচালিত না হওয়ার কারনে এই দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে দাবী করেছেন সচেতন যাত্রী পথচারীরা। আর এই ছোট্ট নগরীকে সত্যিকার অর্থেই যানজট মুক্ত করতে জনপ্রতিনিধিদের মৌখিক পদক্ষেপের পরিবর্তে বাস্তবিক সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানিয়েছেন সাধারন যাত্রীরা।