আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১৪
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

ফিটনেস বিহীন গাড়িই শহরে যানজটের কারণ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ শহর এখন ফিটনেস বিহীন বাস ও লেগুনার নগরীতে পরিনত হয়েছে। অবৈধ বাসষ্ট্যান্ড, যত্রতত্র পার্কিং ও বেপরোয়াভাবে যানবাহন চলাচলের কারনে প্রতিদিনই যানজটের সমক্ষীন হচ্ছে শহরবাসীর। আর ওই সকল অবৈধ ষ্ট্যান্ডকে ঘিরে জমে উঠেছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। জানা গেছে, নগরীতে ফিটনেস বিহীন বাস, ট্রাক ও অবৈধ লেগুনার ছড়াছড়ি। এছাড়া অবৈধভাবে নতুন ৩০টি (শীতল) এসি বাস নামানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ শহরবাসীর। নগরীতে যানজটের জন্য বঙ্গবন্ধু সড়কের নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড, ১নং রেলগেট বাসষ্ট্যান্ড, মেট্রো হলের মোড়ে বাসষ্ট্যান্ড, খানপুর ও চাষাড়ার মোড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাসষ্ট্যান্ড। অবৈধ বাসষ্ট্যান্ডগুলোতে ইচ্চেমত গাড়ি পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করা হয়। বেশীরভাগ সময় দেখা যায় পুরো রাস্তা বন্ধ করেও যাত্রী উঠানো হয়। প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রনে থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। যত্রতত্র গড়ে ওঠা ওই সকল অবৈধ ষ্ট্যান্ড থেকে কোটি-কোটি টাকার চাঁদাবাজি মহোৎসবে মেতে উঠেছে নারায়ণগঞ্জে’র প্রভাবশালী একটি মহল। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে ট্রাফিক ও চাষাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা আদায় করছে মোটা অংকের টাকা। চাঁদাবাজ ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজেস অসহায় হয়ে পরেছে সাধারন নাগরিক। নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন কর্মঘন্টা, ভুগতে হচ্ছে যানজট নামক যন্ত্রনায়। আরো জানা যায়, গুরুত্বপূর্ন এ জেলা শহরটিতে বৈধ-অবৈধ প্রায় ২০-২৫টি বাস কোম্পনী রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শীতল এসি বাস সার্ভিস, সিটি বন্ধন (পুরাতন বন্ধন), উৎসব পরিবহন, আনন্দ পরিবহন, বোরাক, হিমাচল, আল্লাহ ভরাসা  লোকাল সার্ভিস), দূরন্ত, শীতলক্ষ্যা, বন্ধু পরিবহন, বাঁধন পরিবহনসহ আন্ত:জেলার বেস কয়েকটি বাস সার্ভিস। নেই বৈধ রুট পার্মিট, নেই ড্রাইভারদের লাইসেন্স। এর পাশাপাশি যানজট যন্ত্রনার যুক্ত হয়েছে লেগুনা সার্ভিস। এদের নেই বৈধ কোন কাগজপত্র। লেগুনার ড্রাইভারদে মধ্যে বেশীর ভাগই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। যাদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্সও। চাষাড়ার মোড় থেকে সাইনবোর্ড ও মোক্তার পর্যন্ত বীর দর্পে চলে এসব লেগুনা। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, এসব ট্রাকস্ট্যান্ড, বাসষ্ট্যান্ড ও লেগুনা থেকে পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ট্রাক রাখার জন্য নগরীর পঞ্চবটিতে সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাক চালকেরা সেখানে যাচ্ছেন না। কিন্তু এখন সড়কের ট্রাক পার্ক করে মালামাল লোড-আনলোড করা হচ্ছে। যদি সিটি গর্ভনেন্স করা হয় তাহলে মেয়রের ক্ষমতা বারবে। তখন সিটি কর্পোরেশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। যানজট সম্পর্কে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবদুর রশীদকে ব্যবহৃত সরকারি (০১৭৬-৯০৫৮১১৭) সেল নাম্বারে কল করা হলে তিনি ডিসি অফিসে মিটিং-এ রয়েছেন পরে ফোন করেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

 

রাজনীতিতে ছাগল দিয়ে হালচাষ হয়না !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নাক ঢেকে ঘুমালেও পাড়েন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে একমাত্র শামীম ওসমানের আসনেই আওয়ামীলীগের বিকল্প কোন শক্ত প্রার্থী নেই। এছাড়াও এখানকার আওয়ামীলীগের প্রায় ৯৯ ভাগ নেতাকর্মী শামীম ওসমানের পক্ষে শ্লোগান তুলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে গঠিন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ সংসদীয় আসন। এ আসনে ১৯৯৬ সালেও প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শামীম ওসমান। বর্তমান সেই আসনেই এমপি হিসেবে রয়েছেন শামীম ওসমান। যদিও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাবি যেমন ছাগল দিয়ে হালচাষ হয়না। এ আসনে বিড়াল দিয়ে বাঘ ঠেকানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে শামীম ওসমান বিরোধী একটি পক্ষ। যদিও শামীম ওসমানের বিকল্প হিসেবে এমন বিড়াল টাইপের প্রার্থী শামীম ওসমানের জনপ্রিয়তার গর্জনের সামনে ধুপেই টিকবে না বলেও কর্মীদের দাবি। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যান্য সংসদীয় আসনের মতই শুরু হয়ে গেছে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি নেতাদের আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি। এখানে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিদের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন স্থানীয় এমপি একেএম শামীম ওসমান। যদিও এ আসনে একজন শ্রমিক নেতা আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। গুঞ্জন রয়েছে মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা একজন শিল্পপতির নামও। কিন্তু এ আসনে যে শামীম ওসমান এমপি। এ আসনে বেশ জনপ্রিয় বর্তমান আওয়ামীলীগের এমপি একেএম শামীম ওসমান। ইতোমধ্যে ডিএনডির মেগা প্রকল্পের ৫৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তয়ানের পথে। যার অবদান শামীম ওসমানের-দাবি করেছেন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার আওয়ামীলীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন শামীম ওসমান। ওই সময় তিনি এ আসনে রেকর্ড সংখ্যক ২৬’শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছিলেন। এ আসনটি ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানে সিদ্ধিরগঞ্জকে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক ও ফতুল্লা থানা এলাকাকে বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে দাবি করেছেন উভয় দলের নেতাকর্মীরা। যদিও ফতুল্লা থানা এলাকাটি বিএনপির ভোট ব্যাংক হলেও এখানকার থানা বিএনপির সেক্রেটারি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও সিনিয়র সহ-সভাপতি বৃহৎ কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু কাজ করছেন শামীম ওসমানের পক্ষে। আজাদ বিশ্বাস একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রয়েছেন এবং সেন্টু থানা বিএনপির আগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদেও ছিলেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় ডিএনপি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আজাদ বিশ্বাস ও মনিরুল আলম সেন্টু। বিএনপির এ দু নেতা শেখ হাসিনা ও শামীম ওসমানের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। আজাদ বিশ্বাস বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার নেতা শামীম ওসমান। আমি বিএনপি নেতা হয়ে শামীম ওসমানকে স্যালুট জানাই।’ যদিও এর আগে অপর একটি অনুষ্ঠানে আজাদ বিশ্বাস বলেছিলেন, ‘শামীম ওসমানের মত সাংগঠনিক নেতা নারায়ণগঞ্জে আর কেউ নাই।’ সেন্টু ওই অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘শামীম ওসমান ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।’ এর আগে আরেকটি অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা সেন্টু বলেছিলেন, ‘শামীম ওসমান উন্নয়ন করে জনগনের পীর হয়ে গেছেন। তাকে আবারো জনগন নির্বাচিত করবেন।’ এর আগে একই বিষয়ে ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জে সমাবেশে এমপি শামীম ওসমানের হাত ধরে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মতিন প্রধান। ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারি সহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো রয়েছে শামীম ওসমানের পক্ষে। ফলে শুধু আওয়ামীলীগ নয় বিএনপির নেতারাও শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনটিতে গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন একেএম শামীম ওসমান। এর আগে যখন শুধুমাত্র ফতুল্লা এলাকাটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ছিল তখন এ আসনের এমপি ছিলেন চলচিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। শামীম ওসমান নির্বাচিত হওয়ার পর এ এলাকায় কবরীকে আর দেখা যায়নি।  আওয়ামীলীগ থেকে এ আসনে শক্তিশালী তেমন মনোনয়ন প্রত্যাশি না থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন একজন নেতা। এ আসনের ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল ও সেক্রেটারি শওকত আলী চেয়ারম্যান থানা আওয়ামীলীগ সহ এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করছেন। একইভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান ও সেক্রেটারি ইয়াসিন মিয়া সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শামীম ওসমানের সঙ্গে রাজনীতি করেন। এখানে বিকল্প কোন মনোনয়ন প্রত্যাশি আওয়ামীলীগের দু চারজন নেতাকর্মী নিয়ে একটি কর্মী সভা করারও সামর্থ দেখাতে পারেননি এখনও। ফলে এখানে একচেটিয়া শামীম ওসমানের অনুসারি আওয়ামীলীগের ৯৯ভাগ নেতাকর্মী। এছাড়াও ফতুল্লা থানা যুবলীগ সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলীও শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে শামীম  ওসমান বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মী সভা করে যাচ্ছেন।

 

ই-৩০ পি-৪ কলাম-৩ (ছবি-১৮ কলাম-৩)

মিনি ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি

করাচ্ছে ব্যবসায়ী নেতারা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ে বসানো মিনি ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজীর নেপথ্য মদদ দাতা হিসেবে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিনি ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কাউন্সিলর ও তার অনুগামীরা কোন বিবৃতি না দিলেও ওই অবৈধ মিনি ট্রাকস্ট্যান্ড বসানোর নেপথ্যে যে কয়েকজন ব্যবসায়ী সমিতির নেতা রয়েছে সেটা তাদের বিবৃতিতেই প্রকাশ পেয়েছে। এদিকে বিবৃতিতে আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সেক্রেটারী শীতলক্ষ্যা পুলে লোড আনলোড এবং চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করলেও সমিতির সভাপতি দাবি করেছেন কাউন্সিলের অনুমতিক্রমে তারা শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ে লোড আনলোডের অনুমতি পেয়েছেন। অপরদিকে নাসিকের কাউন্সিলর ও ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি শফিউদ্দিন প্রধান জানিয়েছেন এটা মিল মালিক সমিতির কারসাজি। জানা গেছে, ৯ মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নিতাইগঞ্জে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার পরে যানজটের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত নিতাইগঞ্জ এলাকায় ফিরে এসেছিল শৃঙ্খলা। তবে গত কিছুদিন ধরে নিতাইগঞ্জের ট্রাকে পণ্য লোড আনলোডের ক্ষেত্রে কোন নিয়মই মানছেনা। নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের বিষয়ে সোচ্চার থাকলেও তার অনুগামী হিসেবে পরিচিত ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসাইনের লোকজন শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ে বসিয়েছেন মিনি ট্রাকস্ট্যান্ড। যেখানে পার্কিংয়ের জন্য ট্রাক প্রতি ৩০০ টাকা এবং লোড আনলোড বাবদ ২০০ টাকা করে আদায় করছেন কাউন্সিলরের লোকজন। এছাড়া শহীদ বাপ্পী স্মরনীতেও চলছে ট্রাক থামিয়ে লোড আনলোড। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ট্রাক পার্কিং করে চলছে লোড আনলোড। যেখানে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর মেয়র অনুগামীরা ট্রাকস্ট্যান্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় নিতাইগঞ্জ এলাকাতেও ভেঙ্গে পড়েছে নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা। এখন দিনের বেলাতেই শুধু নিতাইগঞ্জেই নয় পূর্বের ন্যায় নিমতলীতেও রাস্তার দুই পাশে গাড়ি পার্কিং করে লোড আনলোডের কার্যক্রম চলছে। গত মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, নিতাইগঞ্জের মূল সড়কতো বটেই নিমতলী এলাকাকেও ট্রাকস্ট্যান্ড বানিয়ে ফেলা হয়েছে। নিতাইগঞ্জের মূল সড়কে অবাধেই চলছে লোড আনলোড। নিমতলী ও নিতাইগঞ্জ এলাকায় এখন যানজট যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাড়াচ্ছে। তবে সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ডটি গত বছরের ১ আগষ্ট থেকে উচ্ছেদের আগেও শীতলক্ষ্যা পুল মোড় ও বাপ্পী স্মরণী এলাকাতে ট্রাক দ্বারা লোড আনলোড কার্যক্রম হতো না। তবে সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন সড়কটি (এসজি রোড) এখন মিনি ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই সড়কটিতে অন্তত ১৪-১৫টি ট্রাক পার্কিং করে রাখা হয়েছে। লোড আনলোড নিয়ন্ত্রন ও চাঁদা আদায়ের জন্য ৪ জন যুবক নিয়োজিত রয়েছেন যাদেরকে সকলেই কাউন্সিলরের অনুগামী হিসেবেই চেনে। এছাড়া শীতলক্ষ্যার বাপ্পী স্মরণীতেও কমপক্ষে ১৫টি ট্রাক পার্কিং করে রাখা হয়েছিল। দু’একটি থেকে লোড আনলোড কার্যক্রমও চলছিল। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, কাউন্সিলরের অনুগামী হিসেবে পরিচিত স্বপন, রাজু, শফিকুল ও রতন প্রধান দিনের শিফটে কাজ করেন। রাতের শিফটে কাজ করেন আরো ৪ জন। দিনে ডিউটির জন্য তাদেরকে দৈনিক ১ হাজার টাকা এবং রাতে যারা ডিউটি করেন তারা পান এক হাজার ২০০ টাকা করে। তারা ট্রাক প্রতি ৩০০ টাকা এবং লোড আনলোড বাবদ ব্যবসায়ীদের থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০-৭০টি ট্রাক থেকে শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন সড়কে লোড আনলোড করা হচ্ছে। যা থেকে প্রতিদিন তাদের চাঁদা আদায় হচ্ছে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া বিকে রোডেও ট্রাক থামিয়ে চলছে লোড আনলোড কার্যক্রম।  এ বিষয়ে জানতে কাউন্সিলর কবির হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এদিকে ওই মিনি ট্রাকস্ট্যান্ড ও চাঁদাবাজির বিষয়ে কাউন্সিলর কবির হোসাইন নিরব থাকলেও কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করেছেন, শীতলক্ষ্যা মোড়ে মিনি ট্রাকস্ট্যান্ড শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের ব্যবসায়ী সমিতি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান যানজটের ব্যাপারে যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে লোড আনলোড কার্যক্রম চলছে। এর কোন প্রকার ব্যতিক্রম হচ্ছে না এবং এখানে কোন প্রকার চাঁদাবাজি হচ্ছেনা। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অত্র নিতাইগঞ্জ এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য ধ্বংস করার লক্ষ্যে এই বানোয়াট খবর ছাপিয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শীতলক্ষ্যা মোড়ে মিনি ট্রাকস্ট্যান্ড বসছে না এবং কোন প্রকার চাঁদাবাজি হচ্ছেনা বলে দাবি করলেও সরেজমিনে মিনি ট্রাকস্ট্যান্ড দেখা গেছে যা সচিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশনা অনুযায়ী লোড আনলোড হচ্ছে বলেও তার কিছুই মানা হচ্ছেনা। বরং দিনের বেলাতেই শুধু নিতাইগঞ্জ ও শীতলক্ষ্যা মোড়েই নয় পূর্বের ন্যায় নিমতলীতেও রাস্তার দুই পাশে গাড়ি পার্কিং করে লোড আনলোডের কার্যক্রম চলছে। জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এমপি সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শহরের নিতাইগঞ্জে ট্রাক স্ট্যান্ড উঠানো ও ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার দাবী করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, এমপি সেলিম ওসমান চাইলেই নিতাইগঞ্জ এলাকাটি স্ট্যান্ডমুক্ত রাখতে পারে। কারণ এসব ট্রাকের কারণে প্রচন্ড যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া সিটি করপোরেশনের নগর ভবনও অবরুদ্ধ হয়ে যায় যানজটের কারণে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেলিম ওসমান ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে দিনের বেলায় ট্রাক না রাখার নির্দেশনা দেন। দিনের বেলায় ট্রাক রাখতে না পারলে প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ছেড়ে দেয়ারও কথা বলেন সেলিম ওসমান। পরে গত ৩১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে নিতাইগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ড নিয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যাতে সিদ্ধান্ত হয় ১ আগষ্ট থেকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে পাইকারী মোকামে লোক আনলোড রাতের বেলায় চলবে। দিনের বেলায় কোন ট্রাক থাকতে পারবেনা এমনকি তাদেরকে শহরের বঙ্গবন্ধু ও সিরাজদ্দৌলা সড়ক দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা। রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নিতাইগঞ্জের বোটখালের উপরে লোড আনলোড করবে ব্যবসায়ীরা। একটি ট্রাক লোড আনলোডে সর্বোচ্চ সময় পাবে সর্বোচ্চ ৩ ঘন্টা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের কতগুলো ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে সেটাও নির্ধারণ করা দেয়া হয়। যদি কেউ নির্দেশনা অমান্য করে দিনের বেলায় ট্রাক নিয়ে অবস্থান করে তাহলে তাকে জরিমানা ছাড়াও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল দেয়া হবে। ২ মাস পুলিশের পাশাপাশি ৪০ জন আনসার সদস্য কাজ করার জন্য আনসার কমান্ডারের হাতে ১৫ লক্ষাধিক টাকার চেক তুলে দেন এমপি সেলিম ওসমান। ওই সভায় সেলিম ওসমান ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মানুষের শান্তির জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে সহযোগিতা করতে হবে। তবে এখানেই শেষ নয় আমরা এরপর বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাতসহ নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করবো। আপনারা কোন ধু¤্রজালের সৃষ্টি করবেন না। দেশের অনেক স্থানেই রাতের বেলায় লোড আনলোড হচ্ছে। চেঞ্জ অর ডাই অর্থাৎ পরিবর্তন করো নয়তো মর। কারো ব্যাক্তিগত স্বার্থের জন্য আমরা রাস্তা ব্যবহারের অনুমতি দিব না। রাতের বেলায় লোড আনলোডের জন্য ট্রাক ভাড়া বাড়ানো যাবেনা। দরকার হলে সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দিবে। কোন ধরনের সুপারিশ মানবো না।’নিতাইগঞ্জে মিনি ট্রাকস্ট্যান্ড বসানোর বিষয়টি আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তার বিবৃতিতে অস্বীকার করলেও আটা ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ে লোড আনলোডের বিষয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে মৌখিকভাবে আবেদন জানালে মেয়র আইভী তাদেরকে বলেছেন যদি কাউন্সিলর কবির হোসাইন সম্মতি দেন এবং কোন ধরনের যান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি না ঘটে তাহলে শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ে তারা লোড আনলোড করতে পারবেন। নাসিকের কাউন্সিলর ও ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি শফিউদ্দিন প্রধানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি জানান, নিতাইগঞ্জে শুধু খালঘাটে (বোটখাল) লোড আনলোড করার বিষয়ে এমপি সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। আমরা সকাল ৯টার পর থেকে পঞ্চবটি ট্রাক টার্মিনাল থেকে ৩০টি করে ট্রাক ছেড়ে থাকি। তবে কে বা কারা বিভিন্ন সড়ক দিয়ে ট্রাক প্রবেশ করিয়ে শীতলক্ষ্যা পুল মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে লোড আনলোড করাচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীসহ গণমান্য ব্যক্তিবর্গরা মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু ব্যাক্তিগত ব্যস্ততার কারণে আমি সরেজমিনে নিতাইগঞ্জে যেতে পারিনি। তিনি আরো বলেন, মিল মালিক সমিতির কারসাজিতেই নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ড নিয়ে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। তাদের কারণে নিতাইগঞ্জ শীতলক্ষ্যাবাসী অস্বস্তিতে রয়েছে। তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে এই অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গে কে বা কারা জড়িত। তবে এই চাঁদাবাজির সঙ্গে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক কেউ জড়িত নয়। আমি এ বিষয়টি নিয়ে নাসিকের মেয়র, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে শীঘ্রই কথা বলবো।

ভিন্নবেশে মাদক ব্যবসায়ীরা

 

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে ভিন্নবেশে মাদক বিক্রেতারা আছেন। বিভিন্ন পাড়া মহল্লাতে ভিন্ন ভিন্ন বেশ ধরে তারা মাদক বিক্রি করে যাচ্ছেন। তাদের কাউকে কাউকে আবার দেখা যাচ্ছে সরকার দলীয় লোকজন নানাভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। আবার কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে প্রভাবশালীদের মদদ নিতে। ফলে প্রশাসনও অনেক সময়ে এসব বিতর্কিত লোকজনদের ছাড় দিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লার সস্তাপুর গাবতলা এলাকার জামাই মতিনের ছেলে মাহবুবুর রহমান মামুন ওরফে মোল্লা মামুন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে উত্থান ঘটে মোল্লা মামুনের। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সারাহ বেগম কবরী ও তার পিএস সেন্টুর হাত ধরে উত্থান ঘটে মামুনের। এমপির প্রভাব খাটিয়ে সে শুরু করে দেয় মাদক ব্যবসা। তবে কবরীর আমলের শেষ সময়ে অর্থাৎ ২০১৩ সালে তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে ট্রাক ভর্তি ৫শ বোতল ফেনসিডিলসহ মোল্লা মামুন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে তৎকালীন জেলা ডিবি’র এসআই মিজানুর রহমান। ওইসময় বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়েছিল। কারণ মোল্লা মামুনের সহযোগীরা ওইসময় ডিবি পুলিশের উপর হামলাও চালিয়েছিল। পরে দীর্ঘদিন জেল খেটে বেরিয়ে আসে মামুন। এরপর কবরীর আমল শেষ হলে সে শেল্টার নেয় শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহাম্মেদ পলাশের। সস্তাপুর এলাকাবাসী জানান, মোল্লা মামুন আলীগঞ্জের শ্রমিকলীগ নেতা পলাশের ছত্রছায়ায় থেকে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। মোল্লা মামুন সস্তাপুর, কুত্আুইল, কোতালেরবাগ, লামাপাড়া, রামারবাগ, নয়ামাটি, ইসদাইর, মাসদাইর, তল্লা, খানপুর, হাজীগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা করছে। তাদের মাদকের ছোবলে প্রতিটি এলাকার উঠতি বয়সের ছেলে থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ছেলে মেয়েরা ইয়াবা ও ফেনসিডিলে আশক্ত হয়েছে পড়েছে। সস্তাপুর কুতুবআইলে মোল্লা মামুনের অন্তত ২০ থেকে ২৫জনের একটি বাহিনী রয়েছে। যারা প্রত্যেকেই মোল্লা মামুনের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসায় উৎসাহীত হয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে। বে গত বছরের ১১ জানুয়ারী সে পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়। ফতুল্লা মডেল থানার এসআই কামরুল হাসান তাকে গ্রেফতার করে মোবাইল কোর্টে হাজির করে। এরপর ভ্রাম্যমান আদালতে দোষ স্বীকারের পর মোল্লা মামুনকে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেয়। মোল্লা মামুনের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পলাশের সঙ্গে ঘুরছে আর মোবাইলে সেলফি তুলছে। একটি সেলফি মোল্লা মামুন ফেসবুকে পোস্টও করেছে। এছাড়া গত মার্চ মাসে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার সময় নৌপরিবহন মন্ত্রী ও কাউসার আহাম্মেদ পলাশের ঠিক পেছনেই দাড়ানো ছিল মামুন। এদিকে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে গেল বছরের মার্চ মাসে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। যাকে বিগত দিনে কাউসার আহাম্মেদ পলাশের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। জসিম উদ্দিনের সাথে মাদক ব্যবসায়ী আলী মাষ্টার, মুরগী কামাল, ট্রাক জাকিরের সাথে গোপন বৈঠকের ২৯ মিনিট ২০ সেকেন্ডের অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর আগেও জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন ইউপি চেয়ারম্যানও।

সূত্র: নিউজ নারায়ণগঞ্জ ২৪

 

 

দলীয় কর্মকান্ডে পিছিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দেশের বর্তমান সময়ে একেবারেই নীরব অবস্থানে দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগকে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচারেও নেই তেমন কোন জোরালো প্রচারণা। তবে কয়েকজন নেতা বিভিন্ন স্থানে এ ব্যাপারে পোস্টারিং আর ফেস্টুন সাটিয়েছে। এর আগেও নানা ইস্যুতে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রমে গতি আসলেও একেবারেই চুপ থাকতেও দেখা যায় দুটি সংগঠনকে। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের কেন্দ্র থেকে সাধারন মানুষের সাথে সংযুক্ত হতে বললেও জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের তেমন কোন কার্যক্রম এখন পর্যন্ত চোখে পড়ছেনা। জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা এখন দলের সংসদ মনোনয়ন প্রত্যাশী, দলের মনোভাব ও সাধারন মানুষের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করছেন বলে দল থেকে জানানো হলেও কার্যত নিজেদেরকে কিছুটা নীরবই রাখছেন দলের নেতারা। এদিকে বিগত প্রায় বছরখানেক ধরে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা চাই নৌকা চাই বলে সরগোল করলেও নৌকার প্রার্থী বাছাই ও উক্ত প্রার্থীকে নিয়ে মাঠে কাজ শুরু করেনি দলের জেলা কিংবা মহানগর। দলের শীর্ষ নেতারাও মূলত আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাথে জোট হবে কিনা তা নিয়ে ভাবছেন। যদি নির্বাচনে জোট থেকেই যায় তাহলে তাদের দাবি হয়তো অন্তত একটি আসনে হলেও না মানা হতে পারে। এমনটা ধারনা করতে পেরেই একেবারে নীরব থাকবেন দলের নেতারা। ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তৎকালীন শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ২৬ নভেম্বর ওই কমিটি অনুমোদনের খবর জানায় জেলা আওয়ামীলীগ। যদিও কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় এটি ১০ আগস্ট অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

 

 

খালেদাকে কারাগারে বন্দি রেখে তৈমূর-মনিরের বৈশাখী মেজবান

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

খালেদা জিয়াকে ‘মা’ বলেই সম্বোধন করেছেন তৈমূর আলম খন্দকার। শ্লোগানও তুলেছেন ‘আমার নেত্রী আমার মা, জেলে থাকতে দেবো না’ বলে। অথচ সেই মা কারাগারে অন্তরিন আর তিনি মহা ধুমধামে মেজাবানির আয়োজন করছেন! এ নিয়ে চলছে রিতীমতো নানা সমালোচনা। শুধু যে তৈমূর আলম তা নয়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে একই আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁরা একে অপরের সাথে পাল্টাপাল্টি করে এই মেজবানির মাধ্যমে একরকম প্রতিযোগিতায় নেমেছেন কে কার আয়োজনে লোক সমাগম ঘটাতে পারেন বেশি। আর এ নিয়ে তৃণমূল হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করে করে বলেন, এরা প্রকৃত বিএনপি মোটেও না। যদি হতেন তাহলে দলের এই দুঃসময়ে ঢাকঢোল পেটানো কোনো আয়োজন করতে পারতেন না। তৃণমূলের মতে, তৈমূর আলম পরিবার এই আয়োজন দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছে সে ঠিক আছে। কিন্তু এ বছর এই আয়োজন না করলেও পারতেন। কেননা, আমাদের নেত্রী কারাগারে আছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতাদের হৈ হুল্লোড় মানায় না। কাজী মনিরের ক্ষেত্রেও একই কথা বলেন তৃণমূল। তৃণমূলের মতে এ বছর এই আয়োজন না করলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো না। অথচ তৈমূর আলম খন্দকার ও কাজী মনিরুজ্জামান দু’জনই এক রকম প্রতিযোগিতায় নেমেছেন নিজেদের এই আয়োজনে লোক সমাগম ঘটাতে। এতে করেই বোঝা যায় তাঁরা দু’জনই বিএনপিতে সুবিধাভোগি দুধের মাছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখে মেজবানির আয়োজন করা হয়েছে রূপগঞ্জের খন্দকার বাড়ি ও কাজী বাড়িতে। এর একটির নেতৃত্বে আছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার অপরটিতে আছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। আগামী নির্বাচনে দল থেকে এই দুইজনই মনোনয়ন প্রত্যাশী। ফলে তাঁরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী অনেকদিন থেকেই। যাঁর ফলশ্রুতিতে এবারের জেলা কমিটির কোথায় রাখা হয়নি তৈমূর আলমকে। বরং তৈমূরের কাছ থেকে একরকম ছিনতাই করেই কমিটি কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এরপর থেকে তাঁদের দু’জন একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে পূর্বের থাকে এখন আরও বেশি মুখোমুখি অবস্থান করছেন। বিগত দিনগুলোতেও তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে গিয়ে এই বৈশাখী অনুষ্ঠান পালন করেছেন। এসব নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যেই প্রতি বছর মৃদ উত্তেজনা দেখা দিয়েছিলো। এবারও এর ব্যাতিক্রম হচ্ছে না।

 

সিদ্ধিরগঞ্জে এক সন্তানের জনকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যা

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

সিদ্ধিরগঞ্জে সোহেল ওরফে বাবু (২৪) নামে এক সন্তানের জনকের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে, মৃতের পরিবারের দাবী খুন করে তাদের একমাত্র ছেলেকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন প্রকার কলহ না থাকলেও গত সোমবার বিকালে ঘটে যাওয়া সন্তানের রহস্যজনক মৃত্য নিয়ে বাবুর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী দ্বিধা দ্বন্ধে রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে সন্তানহারা অসহায় হতদরিদ্র পিতা তৈয়ব আলী। মৃত সোহেল ওরফে বাবু মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার লপ্ত সড়কেরচর গ্রামের বাসিন্দা ও নাসিক ২নং ওয়ার্ডের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার মৃত সুলতান মাহমুদের বাড়ীর ভাড়াটিয়া তৈয়ব আলী। সে একই ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া হিন্দুপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ীর একটি বারান্দায় স্ত্রী আকলিমা ও আড়াই বছরের একটি কন্যা শিশু খুশিকে নিয়ে ৬/৭ মাস যাবৎ ভাড়ায় বসবাস করছিল। বাবু চার বছর আগে পারিবারিক ভাবে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ভোলা জেলা সদরের শ্যামপুর গ্রামের শহিদুল্লাহ মুন্সির মেয়ে আকলিমাকে বিয়ে করে। তার স্ত্রী একটি স্থানীয় গার্মেন্টসে এবং সে সাইনবোর্ড এলাকায় ডালাই কাজের ক্রেন মেশিন অপারেটর ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী অথবা পরিবারের সাথে কখনোই কোন ঝগড়া বিবাদ ছিলনা বলেও তার পরিবারে লোকজন জানিয়েছে। জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নাসিক ২নং ওয়ার্ডের মিজমিজি চৌধুরীপাড়া হিন্দুপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ী থেকে রহস্যজনক ফাঁসিতে মৃত বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ পূর্বক সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত ও ফাঁসির আলামত জব্দ করে। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টায় বাবুর স্ত্রী আকলিমা ফ্যাক্টরী থেকে ছুটি হওয়ার পর বাসায় এসে দেখে তার ঘরের দরজা খোলা এবং উঠানে বাড়ীওযালার স্ত্রী দাড়ানো। ঘরের সামনে গিয়ে দরজা ধাক্কা দেওয়ার পরই চোখের সামনে ভেসে উঠে স্বামী বাবুর ফাঁসিতে লটকানো এবং চৌকির সাথে হাটুগাড়া নিথর দেহ। এসময় আকলিমা চিৎকার শুরু করলে বাড়ীওয়ালা জাহাঙ্গীর হোসেন,তার স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বৌ এবং একই বাড়ীর এক ভাড়াটিয়া এসে তড়িগড়ি করে ফাঁস থেকে বাবুকে নামিয়ে সাইনবোর্ড এলাকাস্থ প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করলে তাকে আবারো সেই বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। পরে থানা পুলিশকে জানালে এসআই জসিম মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। নিহতের বাবা তৈয়ব আলী জানায়, আমার ছেলে কখনো করো সাথে জগড়া বিবাদ করতো না এমনি সংসারেও কোন কলহ ছিলনা। আত্মহত্যা করার মতো কোন ঘটনাই ঘটেনি। কেউ হয়তো শত্রুতা করে মেরে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে। শুনেছি ঘটনার পর থেকে পাশের এক অজ্ঞাত ভাড়াটিয়া স্বপরিবারে পলাতক রয়েছে। প্রতিবেশী মমিন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমি বাবুকে চিনি। তাদের বাসার পাশেই আমার কারখানা। সে কখনো কারো সাথে খারাপ আচরন করতা না, খুব শান্ত স্বভাবের ছিলো। যেভাবে তার লাশ ঝুলে থাকতে দেখেছি তা ফাঁসির লাশ মনে হয়নি। ঘরের দরজা খোলা এবং ঘরের আড়ার সাথে ফাঁসির গামছার বাঁধা অংশটি ফ্লোরে দাড়ালে বুকের মধ্যে পরে। আবার ফ্লোরে চৌকির সাথে হাটু গাড়া। তার মৃত্যুটি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। বাড়ীওয়ালা জাহাঙ্গীর হোসেন জানায়, বাবুর স্ত্রীর কান্নাকাটি শুনে আমরা সবাই এসে তাকে ফাঁসি থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জসিম উদ্দিন জানায়, বাবু ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ফাঁসি থেকে তারাই লাশ নামিয়েছে। সবার উপস্থিতিতে আমি সুরতহাল করেছি। তার দেহে কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশের ময়না তদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে আসলে কি ভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে বাবুর পরিবারের দাবী তাদের ছেলেকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

 

ফতুল্লার ওসিসহ ছয়জন শ্রেষ্ঠ অফিসারের পুরস্কার লাভ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনস জেলা পুলিশ সুপারের আয়োজিত মাসিক কল্যান সভায় ফতুল্লা মডেল থানায় সদ্যযোগদানকারী অফিসার ইনচার্জ হাজী শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের পিপিএম ও এসআই কাজী এনামুলহক এবং তিন এএসআই জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানাযায়, ফতুল্লা মডেল থানা থেকে গত ১৮ মার্চ সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে একাধিক পুরস্কার প্রাপ্ত সুদক্ষ অফিসার ইনচার্জ মো.কামাল উদ্দিন বদলী হলে যোগদান করেন হাজী শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের। তিনি তার কর্ম দক্ষতার আত্মপ্রকাশ করতে পারলেন ফতুল্লা মডেল থানায়। তিনিও যোগদানের পরে  থানার ওয়ারেন্ট তামিল মাদক উদ্ধার সহ নানা বিষয়দি নিয়ে আইনশৃঙ্খলার অবকাঠামোতে দক্ষতা দেখাতে পারায়, সে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সম্মাননার পুরস্কার লাভ করেছে। ফতুল্লা মডেল থানার এস,আই কাজী এনামুলহক মাদক উদ্ধার ওয়ারেন্টসহ নানা বিষয়দিতে ভালো সফল পারফমের জন্য শ্রেষ্ঠ এস,আই হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছে। এ,এস আই তারেক আজিজ ও তাজুল ইসলাম ওয়ারেন্ট তামিলে জেলার শ্রেষ্ঠ এ,এস,আই হিসেবে সম্মাননার পুরস্কার পেয়েছেন। এ,এস,আই সোহেল রানা চেকপোষ্টে সাড়ে সাত হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আসামী চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করায় সে পুরস্কার পেয়েছেন। ফতুল্লা মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জসহ ৫ অফিসার জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ অফিসারের সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জে মশার কয়েল কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

তিতাসগ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড নারায়ণগঞ্জ এর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার সিদ্ধিরগঞ্জে দুটি এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরনে অভিযান চালিয়েছে। নারায়নগঞ্জ সদর উপঝেরার দায়িত্বে থাকা তিতাসগ্যাসের ম্যানেজার প্রকৌশলী জাফরুল আলম, ডেপুটি ম্যানেজার কবির আহমেদ ও সহকারী প্রকৌশলী হাসান শাহরিয়ার এর নেতৃত্বে তিতাসগ্যাসের কর্মকর্তারা এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান চালিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্দিরগঞ্জের পাইনাদি নতুনমহল¬ার শাপলা চত্বরে লাভলু নামে এক ব্যক্তির ২ টি মশার কয়েল কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পৃথক দুটি অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। ম্যানেজার প্রকৌশলী জাফরুল আলম, ডেপুটি ম্যানেজার প্রকৌশলী কবির আহমে ও সহকারী প্রকৌশলী হাসান শাহরিয়ার জানায়লাভলু তার মালিকানাধীন দুটি কয়েল কারখানায় পৃথক দুটি অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ নিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে কয়েকল তৈরি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। অভিযানে গ্যাস সংযোগ দুটি বিচ্ছিন্ন করে পাইপ, রেগুলেটরসহ গ্যাস সংযোগের অন্যান্যসরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।অবৈধ গ্যাস সংযোগ এর কারণে সরকার বিপুল অংকের রাজ্ব হারাচ্ছে বলে সহকারী প্রকৌশলী হাসান শাহরিয়ার জানান। এর পরে বেলা ২ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আলআমিননগরে অবৈধ ২ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের প্রধান গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করে পাইপ জব্দ করেন। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অবেধ গ্যাস সংযোগকারী কয়েল কারখানার মালিক লাভলুর নামে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে ম্যানেজার প্রকৌশলী জাফরুল আলম জানান।

কাঁধে ক্যামেরা ঝুলাতে পারলেই সাংবাদিক বনে যায় : মাসুম

 

 

ডান্ডিবার্তা ডেক্স

বাংলাদেশ প্রেস ইনষ্টিটিউট এর মহাপরিচালক শাহ আলমগীর বলেছেন, সাংবাদিকতা প্রতিদিন শেখার বিষয়, সাংবাদিককে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির সাথে, তথ্যের সাথে আপডেট থাকতে হয়। যদি কেউ আপডেট না হন তাহলে আপনি সিনিয়র সাংবাদিক হলেও এখনকার সাংবাদিকতায় টিকতে পারবেন না। আপনি সাংবাদিক হিসেবে পিছিয়ে পড়তে থাকবেন। আর একবার পিছিয়ে পড়লে সাংবাদিকতায় ফিরে আসা কঠিন। তিনি বলেন, কোনো খবর এখনকার দিনে লুকিয়ে রাখার অবস্থা নেই। কোনো না কোনোভাবে খবর চলে আসবেই। তবে প্রতিদিন কি ঘটছে সে সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিককে প্রতিষ্ঠিত করেনা, বিশেষ কি রিপোর্ট আপনি করলেন, কয়টি অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেছেন, কেমন রিপোর্ট করেছেন এসব আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবে আলোচিত করবে। বিশেষ রিপোর্ট আর অনুসন্ধানী রিপোর্ট এক না। আমরা অনেকে বিশেষ রিপোর্টকেই অনুসন্ধানী রিপোর্ট হিসেবে মনে করি এটা ঠিক না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের শহীদ সাংবাদিক হানিফ খান মিলনায়তনে ‘অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতা’ বিষয়ে তিনদিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ ২৪ ডট কম জানায়, অনুষ্ঠানের সভাপতি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আমাদের সাংবাদিকতা শিল্প মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। বিভিন্ন বড় বড় শিল্প মালিক পত্রিকা বের করায় অনেক বড় বড় সাংবাদিক তাদের সামর্থের ষোলআনা সাংবাদিকতা দেখাতে পারছেন না। নারায়ণগঞ্জে কিছু হলেই দেখা যায় একজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি তার নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় যে কারো বিরুদ্ধে নিউজ করিয়ে দিচ্ছে। একই ঘটনা সাড়াদেশে ঘটছে। শিল্প মালিকদের পত্রিকাগুলি সাড়াদেশে যেখানেই তাদের বা তাদের অনুগত লোকদের স্বার্থ বিঘিœত হচ্ছে সেখানেই নিউজ করে আক্রমন করছে। নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকদের সমালোচনা করেন বলেন, নারায়ণগঞ্জে দেখা যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক ফটো সাংবাদিক। একটা ক্যামেরা কাঁধে ঝোলাতে পারলেই দেখা যাচ্ছে কেউ সাংবাদিক হয়ে যাচ্ছে। নাপিত হয়ে ডাক্তারি করার গল্পের মতো নারায়ণগঞ্জে ফটোজার্নার্লিষ্টদের যেন অনেকগুলি সেলুন খোলা হয়েছে। কিন্তু তাদের এ ভূমিকার জন্য পেশায় আসা এসব নতুন ছেলেরা দায়ি না। দায়ি আমার মতো সম্পাদকরা। দিন শেষে সন্ধায় আমরা অনেক সম্পাদক তাদের ডেকে বলি সাড়া দিনে কত ইনকাম হলো ? যা হলো তার অর্ধেক নিয়ে তাকে বাজারে ছেড়ে দেই। এসব সম্পাদকদের সংশোধন করতে হবে। আর ফটোজার্নালিষ্টদের প্রশিক্ষন দিয়ে দক্ষ করে বোঝাতে হবে প্রকৃত সাংবাদিকতা কি। দক্ষ হলে তাদের অসৎ হতে হবেনা সৎভাবে তারা আয় করতে পারবে। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিএসএস এর সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি প্রমুখ। সূত্র: নারায়ণগঞ্জ ২৪

 

 

 

ছোট হয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ !

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ দিন দিন দূর্বল হয়ে পড়ছে। দলের শীর্ষ নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে চিন্তিত না থেকে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ। এজন্য ক্ষমতায় থাকার পরও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় আওয়ামীলীগের সদস্য সংগ্রহ অভিযান দেখে। ক্ষমতার বাহিরে থাকার পাশাপাশি পুলিশের চাপ উপেক্ষা করেও বিএনপিকে সদস্য সংগ্রহ অভিযান যেভাবে করতে দেখা গেছে তার অর্ধেকও করতে দেখা যাচ্ছেনা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগকে। জানাগেছে, দলীয় কোন্দল ও সুবিধাবাদি নেতাদের জন্য দিন দিন ছোট হয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। নির্বাচনকে সামনে রেখে যেখানে দেশের অন্যান্য জেলা গুলোতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে সেখানে নারায়ণগঞ্জে এর উল্টো হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দিন দিন বিভাজন বেড়েই চলেছে। যদিও কেউ কেউ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। তাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ বিগত দিনের তুলনায় সাংগঠনিক ভাবে এখনো গতি ফিরে আসেনি। উত্তর-দক্ষিণ মেরু হিসেবে পরিচিত নেতাদের কোন্দলে দলের সাধারণ কর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এ সুযোগে নেতা বনে গেছে অনেক বিতর্কীতরা। রাজনীতির মাঠের বাইরে রয়েছে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। বিতর্কিত নেতাদের জন্য অনেকে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছে। দলীয় কোন্দলের কারণে রাজপথে আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের আর দেখা যায় না। দলীয় কার্যালয়ে গুটি কয়েকশত নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ। যদিও সাংসদ শামীম ওসমানের ডাকে হাজার নয় লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী রাজপথে মেনে যায়। তবে জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে নেই মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী। তার হাজার হাজার কর্মী না থাকলেও উন্নয়ণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে। সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে অনেকেই নিজেদের ফায়দা হাসিল করেছে। সুবিধাভোগীরা কখনো চায়না শামমি-আইভী একত্রে রাজনীতি করুক। কেননা  এই দুইজনের মধ্যে ঐক্য হলেই সুবিধাভোগীরা বিপাকে পড়ে যাবেন। রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছে দুই মেরুর দ্বন্দ্ব অবসান হলেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সু সংগঠিত ভাবে সংগঠনের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে সক্ষম হতো। সাংগঠনিক ভাবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ হতো আরো শত গুণ শক্তিশালী। সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর দ্বন্দ্বের কারণে অনেক অযোগ্যরা জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রেখেছে। কর্মীবিহীন ও নামধারীরা বড় বড় পদ আকড়ে থাকায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ছোট হয়ে আসছে।