আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১২
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়না! যা গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে প্রমানিত হলো। গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রায় ৮০ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। ওইসব নেতাকর্মীরা কারাভোগ করেছেন। এখনও অনেক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া নিজেও। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলেন না। মুক্তি চাইলেন এখানে যেসব নেতারা গ্রেপ্তার হয়েছেন সে সব নেতাদের। জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন বেগম খালেদা জিয়া। ওইদিন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। যদিও এর আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান চালায় পুলিশ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। একইভাবে ওইদিন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন মোল্লা ও আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল হোসেন। এসব নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে তাদের মুক্তি চেয়ে পোস্টারে ছেয়ে যায়। এছাড়াও একইদিন গ্রেপ্তার হওয়া মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এইচএম আনোয়ার প্রধান ও আইনজীবী নেতা  মাইনুদ্দীন রেজার মুক্তির চেয়েও নারায়ণগঞ্জে পোস্টারে ছেয়ে যায়। গত ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহামুদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগারে রয়েছেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। একইদিন মুক্তি পেয়েছেন সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম টিটু। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব গত ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে ২২ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এসব নেতাদের মধ্যে একমাত্র খোরশেদ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পোস্টারে ছেয়ে যায়। সঙ্গে খোরশেদের ছবিও। কিন্তু বাকি নেতাদের ছবি দিয়ে নারায়ণগঞ্জে নেতাদের মুক্তির দাবি করেন নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা বলছেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওইসব মামলায় অন্তত ৭শতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ্য সহ আরো হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করাহয়। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রেপ্তার অভিযান চলে পুলিশের। আরও জানাগেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মিশনপাড়া থেকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও একইদিন সোনারগাঁও থেকে পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন, কাউন্সিলর নাসিম পাশা সহ ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি আড়াইহাজার থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন মোল্লা, আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল হোসেন সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রূপগঞ্জ থেকে মেয়র আবুল বাশার বাদশা সহ ৬জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও ৫ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ সানারপাড় থেকে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান ও আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দীন রেজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁ থেকে অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইদিন নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা থেকে কাজী নজরুল ইসলাম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব নেতাকর্মীদের অনেকেই জামিন পেয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে বলয় ভিত্তিক ও ব্যক্তি রাজনীতি হয় সেটা আবারও প্রমানিত হলো। নারায়ণগঞ্জে ব্যক্তি রাজনীতির কারনে স্থানীয় নেতাদের পোস্টারে জেলা জুড়ে ছড়িয়ে গেলেও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পোস্টার চোখে পড়েনি। দু একটি স্থানে বেগম খালেদা জিয়ার পোস্টার দেখা গেলেও বেশির ভাগ পোস্টার বিএনপির স্থানীয় নেতাদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পোস্টার লাগানোর মত লোক নেই। কেন্দ্র থেকে পোস্টার তৈরি করে পাঠানো হয়। ওইসব পোস্টার জেলার একজন ছাত্র নেতার মাধ্যমে মাত্র দুই’শ পোস্টার করে প্রতিটি থানা এলাকায় পাঠানো হয়। দলের চেয়ারপাসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির চেয়ে একটি থানায় মাত্র দুই’শ পোস্টার লাগাতেও লোক পাওয়া যাচ্ছেনা। কিন্তু জেলা ও মহানগরের স্থানীয় নেতাদের পোস্টারে জেলা পুুরো রঙ্গিন হয়ে ওঠেছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে পোস্টারই দেখা যাচ্ছেনা নারায়ণগঞ্জে। এখানকার যেসব নেতারা কারাগারে গিয়েছেন তার অনুসারি অনুগত নেতাকর্মীরা কেবল তাদের ব্যক্তিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে পোস্টার করেছেন। যা দেয়ালে দেয়ালে, গাড়িতে গাড়িতে কারো বাড়িতে বাড়িতে এমনকি মসজিদ মাদ্রাসার দেয়ালেও ঠাই পেয়েছে স্থানীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে পোস্টার। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার পোস্টার লাগানোরও কর্মী পাওয়া গেল না। এতে প্রমানিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়না বিএনপির নেতারা।

আওয়ামীলীগের ছয় মাসেও পদ পূরণ হয়নি

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দীর্ঘ ১০ বছর ধরেই ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামীলীগ। এত বছর ক্ষমতায় থেকেও সুসংগঠিত হতে পারছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। কেন্দ্র থেকে বার বার সুসংগঠিত করার নির্দেশ থাকলেও নতুন করে একের পর এক দ্বন্দ্বে উপেক্ষিত হচ্ছে কেন্দ্রেীয় নির্দেশ। যদিও বরাবরই জেলা কমিটির শীর্ষ নেতারা দাবী করে আসছেন তাদের মাঝে কোন দ্বন্দ্ব নেই। জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পরে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়। এতে আবদুল হাইকে সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে সহ-সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই ঘোষণার এক বছর পর সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ২৫ নভেম্বর ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেয়া এই কমিটিতে বাদ থেকে যায় ৫টি পদ। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণার আগেই একজনের মৃত্যু ঘটে। ফলে বর্তমানে খালি রয়ে গেছে মোট ৬ টি পদ। এর মধ্যে সহ সভাপতি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ১ জন করে ও  ২ জন সদস্য পদ খালি রয়েছে। তবে কমিটি ঘোষণার করার আগে সহ সভাপতি পদে আসীন হওয়া হকি তারকা খাজা রহমতউল্লাহর মৃত্যুতে আরো একটি পদ শূন্য হয়। এ ৬ টি পদ ছাড়াও শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক কাওসার আহমেদ পলাশ জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, জেলা আওয়ামীলীগের ৬টি পদ পূরণের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বহুল পরিচিত উত্তর-দক্ষিণ মেরু। এই দুই মেরুই চাচ্ছে নিজেদের পছন্দের লোককে পদে বসাতে। ফলে কমিটি গঠনের পাঁচ মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখন পর্যন্ত খালি পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে নারায়ণগঞ্জ আওয়মীলীগে। মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা দৌড়াচ্ছেন নিজেদের পক্ষে সমর্থন যোগাতে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, নির্বাচনকে উপলক্ষ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকা খুবই জরুরি। এতে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে সমর্থন যোগাতে সহায়ক হবে। সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আগামীতে আমাদেরকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে পারে। যা আমাদের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান প্রায় সময় বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলে থাকেন। জেলা আওয়ামীলীগের প্রথম সভায় বাকী ৬টি পদের নাম ঘোষণা করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত নাম ঘোষণা হয়নি। তবে সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনকারী আবদুল হাই সবসময় বলে আসছেন আমাদের মাঝে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আগামী সভায় বাকী ৬টি পদের নাম ঘোষণা করা হবে। কিন্তু তার আর হচ্ছে না। আর এভাবেই কেটে যাচ্ছে মাসের পর মাস। এদিকে ৬টি পদ খালি রেখেই গত ৬ মার্চ টুঙ্গিপাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করে আসছেন।

প্রথম আলো’র সেই আলোচিত রিপোর্ট

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

“ফতুল্লায় চাঁদাবাজির সাথে কে বা কারা জড়িত সে কথা আমরা প্রকাশ না করলেও প্রশত আলো আমাদের প্রকাশ করার আগেই চাঁদাবাজির এই সংবাদটি প্রকাশ করে। বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলো প্রকাশ করে। প্রথম আলো যে সংবাদটি প্রকাশ করেছিল আমরা পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু উক্ত সংবাদটি প্রকাশ করলাম।” চাঁদাবাজির কারণে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী সোয়েটার কারখানা পাইওনিয়ার সোয়েটারস লিমিটেড অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানাটিতে ২৫৫০ শ্রমিক কাজ করতেন। শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কসের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি কাউসার আহমেদ ওরফে পলাশের ভয়ে কারখানাটি বন্ধ করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন কারখানার মালিক, শ্রমিক ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। কাউসার আওয়ামী লীগের স্থানীয় একজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় চলেন। কারখানার মালিক পরিস্থিতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শ্রম, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দুই দফা চিঠি দিয়েছেন। কারখানার কর্মকর্তাদের টেলিফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেএমইএর সভাপতিকে চিঠি দিয়ে পরিস্থিতি জানানো হয়। গত ৫ এপ্রিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে ফতুল্লায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের মালিকানাধীন হামিদ ফ্যাশনও কাউসার আহমেদের চাপে বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। সূত্রগুলো বলছে, ফতুল্লার রপ্তানিমুখী টাইম সোয়েটারস, র‌্যাডিকেল, মেট্রো, মাইক্রোফাইবার, পলমল, লিবার্টি, মিশওয়্যারের মতো বৃহৎ কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। র‌্যাডিকেল ছাড়া বাকি কারখানাগুলো গত নভেম্বর থেকে আবার চালু করা হয়েছে। কাউসার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এগুলো চালু করা হয়।’ ফতুল্লার বন্ধ হওয়া চারটি কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সব ঘটনার সঙ্গে কাউসার আহমেদের সংশ্লিষ্টতা আছে। প্রতিটি কারখানা বন্ধ ও চালুর ঘটনাও প্রায় একই রকম। প্রথমে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেলে শ্রমিকদের উসকে দেওয়া হয়। বহিরাগত শ্রমিকদের কারখানায় ঢুকিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়। কারখানার নিয়মিত শ্রমিকদের পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরিচয়পত্র ছাড়া শ্রমিকেরা বেতন তুলতে পারেন না। শুরু হয় ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও দরকষাকষি। সমঝোতা না হলে একপর্যায়ে মালিক কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। জানতে চাইলে হামিদ ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইন্তেখাবুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু যদি চাঁদা চাইতো, তবে তো রক্ষা পেতাম। আমাদের বলেছিল একেবারেই হামিদ ফ্যাশনস কারখানাটি কাউসার আহমেদের তত্ত্বাবধানে দিয়ে দিতে। এ না করায় শুরু হয় উৎপাত, কারখানার ভেতরে গিয়ে নৈরাজ্য। বহিরাগতদের কারখানার ভেতরে ঢুকিয়ে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়। পরে আমরা কারখানাটি আবু বকর সিদ্দিকের কাছে হস্তান্তর করি।’ এ বিষয়ে কাউছার আহমেদ বলেন, ‘হামিদ ফ্যাশনসের কর্মকর্তারা আমাদের দলীয় লোক হিসেবে তাঁদের অনুরোধ করেছিলাম। বলেছি, লোক দিয়ে নয়, নিজেদের কারখানা নিজেরা এসে পরিচালনা করেন। তাঁদের কারখানা আমি কেন চালাতে চাইব? বরং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করেছিলাম। তাই তাঁরা আমার উপর খ্যাপা।’ পলমলের পরিচালক (প্রশাসন) মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘নানা বিষয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। এ কারণে এখানকার অনেক কারখানার মতো এটাও বন্ধ করতে হয়েছিল। পরে আবার চালু করেছি।’ তিনি এর বেশি সুনির্দিষ্ট করে আর কিছু বলতে রাজি হননি।

পাইওনিয়ারও বন্ধ

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কারখানামালিকের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের কাছে কারখানার সব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকেরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তাই আইন মেনে কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, বহিরাগত ও কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক সাধারণ শ্রমিকদের বেতন নিতে বাধা দেন এবং তাঁদের পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাঁদের জিম্মি করেন। এ কারণে সব প্রস্তুতি থাকলেও মার্চের বেতন এখনো শ্রমিকদের দেওয়া সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পেলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করার উদ্যোগ নেবে মালিকপক্ষ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বাদশা মিয়া জানান, ‘এক বছর ধরে স্থানীয় বহিরাগত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা বেআইনিভাবে অস্ত্র নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে কারখানার কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিককে দিয়ে বেআইনি দাবিদাওয়া তুলে কারখানার ভেতরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এ সময় তারা মেশিন ভাঙচুর, মারধর, উৎপাদন বন্ধ করার মতো কর্মকান্ড করে। এতে প্রতিষ্ঠানের ৬০ কোটি টাকা আর্থিকভাবে ক্ষতি হয়েছে। …ইতিমধ্যে বিপুল অঙ্কের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে।’ বাদশা মিয়া প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘আমার কারখানায় কোনো শ্রমিকের কোনো রকম পাওনা বকেয়া থাকে না। বরং সরকারের ধার্য করা নিম্নতম মজুরির চেয়ে বেশি বেতন-ভাতা দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে এবং শ্রমসহ সব আইন মেনে দীর্ঘদিন ধরে ২৫৫০ জন শ্রমিক নিয়ে এ কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু চাঁদাবাজদের অত্যাচারে আর টেকা যাচ্ছে না। কারা চাঁদা চাইছে জানতে চাইলে বলেন, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় যাঁরা প্রভাবশালী, তাঁদের ভয় দেখিয়ে অনেক সন্ত্রাসী এমন নৈরাজ্য করছে। তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলতে রাজি হননি। বাদশা মিয়া বলেন, ‘আজ নাম বললে কাল আমার ওপর আরও অত্যাচার নেমে আসবে।’ তিনি এদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা চাঁদাবাজির জন্য শ্রমিক লীগের নেতা কাউসার আহমেদের দিকে আঙুল তুলেছেন। জানতে চাইলে কাউসার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রমিকদের পক্ষে কথা বললেই আমি চাঁদাবাজ হয়ে যাই। আমাকে কারখানার মালিক ৫০ লাখ টাকা উৎকোচের প্রস্তাব দিয়েছেন, নেইনি। সবাই শ্রমিক অসন্তোষ বন্ধে টাকাপয়সা দিতে চায়। নেই না বলেই আমার এত বদনাম।’ তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের কম মজুরি দেওয়ার কারণেই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাউসার আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যে প্রভাবশালীর নেতার সঙ্গে আমার সখ্য রয়েছে বলা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তাঁর সাথে আমার বৈরী সম্পর্ক। আমি এখানে ২৫টি ট্রেড ইউনিয়ন চালাই।’ কাউসার স্বীকার করেন, পাইওনিয়ারের রপ্তানি আদেশ বাতিলের জন্য তিনি বিদেশি ক্রেতাদের চিঠিও দিয়েছিলেন। উৎকোচের বিষয়ে জানতে চাইলে বাদশা মিয়া বলেন, ‘যদি টাকা দিতে চাইতাম, তবে কি আর কারখানা বন্ধ করতে হতো? সরকারের সহায়তাও চাইতে হতো না।’ জানতে চাইলে নিট পোশাকমালিক সমিতি বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি শ্রম, বাণিজ্য সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিবদের সাথে কথা বলেছি। আমি বলেছি, আপনারা তদন্ত করুন, যদি মালিকের সামান্যতম অপরাধ পান, তবে তাঁকে যে শাস্তি দেন, আমরা একমত পোষণ করব। কিন্তু যদি তাঁর কোনো অপরাধ না পান বা এ ঘটনায় অন্য কারও ইন্ধন থাকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন, তা-ও আমাদের জানাতে হবে।’ তিনি বলেন, এ পোশাক কারখানাটি সম্পর্কে সবাই জানে। তাঁরা সরকার-নির্ধারিত মজুরির চেয়ে বেশি মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। পাইওনিয়ার কর্তৃপক্ষের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারখানাটির সুনাম রয়েছে। কারা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে, তা জানতে আমরা একটি তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে।’ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

’ প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০১৪।

বর্ষবরণে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বাঙালীদের প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জ। আজ শনিবার সেই কাংখিত পহেলা বৈশাখ। বৈশাখের মঙল শোভাযাত্রার জন্য যাবতীয় কাজ শেষ করেছে নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউট। পহেলা বৈশাখ থেকে সাত দিন পর্যন্ত আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে গ্রন্থমেলা, চিত্রকলা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও নারায়ণগঞ্জ চারুকলা মাঠে বৈশাখী মেলা চলবে। এছাড়া অন্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় প্রভাতী অনুষ্ঠান, সকাল ৯ টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনিস্টিটিউট সংলগ্ন মুক্তমঞ্চ এবং চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকাল ৩ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক ছাত্র প্রতিনিধি চারুকলা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের (গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ) ছাত্রী মুসলিমা আনোয়ার তৃষা জানান, কাগজ কেটে নানান প্রক্রিয়ায় নির্মিত মুখোশ, কাগজের ম্যাশের মুখোশ ও শোভাযাত্রার মূল অনুষঙ্গ কাঠামো নির্মাণ এ তিনটি ভাগে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সম্পৃক্ত রয়েছে। বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের আহবায়ক নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. সামছুল আলম বলেন, ‘আমাদের লোকশিল্পে আমাদের জীবনের সঙ্গে যা কিছু অতপ্রোত ভাবে জড়িত সেইগুলো শিল্পের উপকরণ হিসেবে মানুষ তৈরি করে। কৃষি ভিত্তিক অঞ্চলের মানুষের কাছে গরু গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিকাজের সিংহ ভাগ দায়িত্ব গরু পালন করে। লোকশিল্পের মোটিভ গুলোর মধ্যে গরু আছে। মূলত কৃষিকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের প্রধান আকর্ষণ ‘গরু’। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে আছে ও থাকে সেই জিনিসগুলো আমরা শোভাযাত্রায় প্রাধান্য দেই এবং উপস্থাপন করি। আমরা বোঝাতে চেষ্টা করি আমরা বাঙালিরা আলাদা একটি জাতি স্বত্তা। তিনি আরো বলেন, আজ শনিবার সকাল ৬টায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে বর্ষবরণে শিশু কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরে সাড়ে ৮টায় চাষাঢ়া গোলচত্ত্বর থেকে জেলা প্রশাসন, সাংস্কৃতিক জোট ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী সকলের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, বর্ষবরণে সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল সকাল চাষাঢ়া শহীদ মিনারে সূর্যোদ্বয়ের সাথে বাদ্যযন্ত্র, গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে বরণ করা হবে। পরে ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে। সাতদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে রয়েছে, চিত্রকলা প্রদর্শনী, আলোচিত্র প্রদর্শনী, নাটক, বাউল সঙ্গীত সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল হামিদ জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে এবং পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বর্ষবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

 

 

বৈশাখের নেপথ্য কথা

 

 

অতিথি কলাম,

তারাপদ আচার্য্য

বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে পহেলা বৈশাখ উদযাপন প্রাচীন ঐতিহ্যগুলোর একটি। এই দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রবাহকে বাঁচিয়ে রাখে। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হিসেবে বিবেচিত। এদিন সবাই পেছনে ফেলে আসা শোক, দুঃখ, হতাশা সবকিছু ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে প্রত্যাশা করে আসন্ন বছর যেন হয় সুখের হয়, সবকিছু হয় যেন মঙ্গলময়।

মাঠ-ঘাট চৌচির, চারদিকে ঝড়ের তা-ব নিয়ে দুয়ারে হাজির হয় বৈশাখ। বুঝতে বাকি থাকে না কালবৈশাখীর প্রলয় নৃত্যের কথা। এভাবেই আসে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এ দিনে গ্রামে গ্রামে, শহরে-বন্দরে দেশের সব জায়গাতে চলে আনন্দ উৎসবের জোয়ার। রাজধানীর রমনার বটমূলে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দিনটিকে বরণ করে নেওয়ার জন্য শুরু হয় নানা আয়োজন। বর্তমানে ইলিশ-পানতা খাওয়া যেন এ উৎসবের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা যোগ করেছে তার সঙ্গে নতুন মাত্রা। আনন্দের কথা হলোÑ পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।

পহেলা বৈশাখকে উদযাপন করতে সকাল থেকে বেরিয়ে পড়ে মানুষ। পুরুষেরা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা শাড়িতে প্রাণের সঞ্চার করে মেলাঙ্গনে। নতুন সাজে, নতুন বেশে পহেলা বৈশাখ যেন মিশে গেছে বাঙালির সত্তার সঙ্গে। গ্রামের মানুষও কম যায় না। প্রাচীন বট কিংবা অশত্থ গাছের ছায়ায়, নদীর পাড় কিংবা বিলের ধারে হয় বৈশাখী মেলার আয়োজন। ঢাক বাজে। শঙ্খ বাজে। বাঁশি বাজে। কাশি বাজে। চক্কর খায় নাগরদোলা। জমে ওঠে পুতুলনাচ, লাঠিখেলা, সার্কাস, ঘোড়দৌড়, মোরগ ও ষাঁড়ের লড়াই। রাতে বসে কোনো পুরানো বট কিংবা অশ্বত্থগাছের নিচেয় বাউল গানের আসর। পাশাপাশি হয় পালা গান, জারি গান, পুঁথিপাঠ, কীর্তন কিংবা কবির লড়াই। পহেলা বৈশাখ যেন বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় উৎসব-আনন্দে অবগাহন করার দিন।

মূলত প্রাচীন বাংলার রাজা শশাঙ্কের আমল থেকেই বাংলা সন গণনার কাজ শুরু হলেও পূর্ণতা পায় স¤্রাট আকবরের শাসনামলে। ইতিহাস থেকে জানা যায়Ñ মোঘল স¤্রাট আকবরের শাসনামলে ইসলামিক হিজরি অনুসারে কৃষি ও ভূমির খাজনা আদায় করা হতো। সৌরনির্ভর হওয়ায় হিজরি পঞ্জিকা কৃষিবছর ও অর্থ-বছর একই সময়ে হতো না। অসময়ে খাজনা পরিশোধ করতে হতো বলে কৃষকদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো। সহজে খাজনা আদায়ের জন্য স¤্রাট আকবর আমীর ফাতেউল্লাহ সিরাজিকে বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি করার আদেশ দেন। তিনি সৌর-হিন্দু ও চান্দ্র-হিজরি পর্ষপঞ্জির উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি করেন হিজরি ৯৬৩ সন যা ছিল ইংরেজি ১৫৫৬ সালের ১১ এপ্রিল। আর মোঘল আমলেই বাংলা বর্ষপঞ্জিকে রাজ্যব্যাপী সরকারি মর্যাদা দেয়া হয়। সেই থেকে পালিত হয় বাংলা সন আর পহেলা বৈশাখে নববর্ষ।

অনুমান করা হয়, শক রাজবংশকে স্মরণীয় করে রাখতেই ৭৮ খিস্টাব্দে প্রবর্তিত শকাব্দ (শক বর্ষপঞ্জির) থেকে বাংলা সনের নামগুলো এসেছে। বিভিন্ন তারকারাজির নামে বাংলা মাসগুলোর নামকরণ করা হয়েছেÑ বিশাখা থেকে বৈশাখ, জ্যেষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবণা থেকে শ্রাবণ, ভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র, কৃত্তিকা থেকে কার্তিক, অগ্রাইহনী থেকে অগ্রহায়ণ, পুষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফল্গুনি থেকে ফাল্পুন এবং চিত্রা থেকে চৈত্র। অগ্রহায়ণ মাসের নামের আরেকটি ব্যাখ্যা হলোÑ অগ্র অর্থ প্রথম, হায়ণ অর্থ বর্ষ বা ধান। আগে এই মাস থেকেই বছর গণনা শুরু হতো কিংবা এই সময়ে প্রধান ফসল ধান কাটা হতো। তাই এই মাসের নাম হয় অগ্রহায়ণ।

এখন তো মাত্র সাতটি দিনের নাম দিয়ে পুরো বছরের হিসাব রাখা হয়। স¤্রাট আকবরের সময় মাসের প্রত্যেকটি দিনের জন্য পৃথক নাম ছিল। তখনকার লোকদের অনেক কষ্ট করতে হতো প্রতিদিনের নাম মনে রাখতে। পরবর্তীতে একজন বিদেশি প-িতের সাহায্য নিয়ে সাপ্তাহিক পদ্ধতিতে দিনের নামকরণ পদ্ধতি চালু করা হয়। ইংরেজি দিনের নামের সঙ্গে বাংলা নামের মিল রাখা হয়েছে। যেমনÑ সানডে (ঝঁহফধু) হলো রবিবার। ইংরেজি ঝঁহ (সান) অর্থ সুর্য বা রবি।

বাংলা বর্ষপঞ্জি বা বঙ্গাব্দ বাঙালির নিজস্ব সন হলেও সারা বিশ্বের সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে বাংলাদেশের সব জায়গাতেই খ্রিস্টিয় সন ব্যবহার করা হয়। খ্রিস্টিয় সনে প্রতি চার বছর পর ফেব্রুয়ারি মাসে অতিরিক্ত এক দিন যোগ করা হয়। একে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ বলে। খ্রিস্টিয় সনের সঙ্গে বঙ্গাব্দের দিন তারিখের গরমিলের কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে উভয় সন গণনায় সমস্যা হতো। এ সমস্যা দূর করতে ১৯৬৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমীর তত্ত্বাবধানে মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি বঙ্গাব্দ সংষ্কার কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি চার বছর পর পর চৈত্র মাস ৩০ দিনের পরিবর্তে ৩১ দিনে গণনা করার পরামর্শ দেয়। আর এভাবেই আধুনিক বঙ্গাব্দ বিশ্বের বিজ্ঞানসম্মত সনগুলোর সমমর্যাদা পায়।

আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকা-ের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সনের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় ছিল না।

নতুন মানেই আনন্দ। নতুন মানেই খুশি। তাই নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দেশে দেশে এতো আয়োজন। অনেক আগে থেকেই বাঙালির একান্ত নিজস্ব উৎসবের একটি হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দিনটির মাধ্যমে স্বাগত জানায় নতুন একটি বছরকে। এই দিনে একদিনের জন্য হলেও পানতা-ইলিশ খেয়ে আমরা বাঙালি হয়ে উঠি। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।

লেখক: তারাপদ আচার্য্য, কলাম লেখক

 

 

হকার ও দুরন্ত-লেগুনার দখলে চাষাঢ়া

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফুটপাতই নয়, এবার মূল সড়কও দখলে নিতে শুরু করেছে নগরীর হকাররা। একদিকে হকার অন্যদিকে লেগুনা আর দুরন্তের অবৈধ স্ট্যান্ড। এর ফলে চাষাড়ার নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে নিত্য যানজটে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, হকার উচ্ছেদের আগে এই সড়কের ফুটপাতে হকার বসতো। কিন্তু হকার উচ্ছেদের পর বর্তমানে হকাররা ফুটপাতে তো বসছেই পাশাপাশি মূল সড়কেও নেমে আসছে। এমন চিত্র প্রতিদিনকার হলেও প্রশাসন থেকে কেউ কিছু বলছে না।  এছাড়াও এই সড়কের অনেকটা জুড়েই গড়ে ওঠেছে অবৈধ দুরন্ত ও লেগুনা স্ট্যান্ড। হকার, লেগুনা আর দুরন্তের দখলে রাস্তার চারভাগের তিন ভাগই চলে যাচ্ছে। বাকী আরেক ভাগ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনসহ জনসাধাণকে। স্থায়ী একজন বলেন, এই সড়কে সর্বমোট দুটি লেগুনা ও একটি দুরন্তের স্ট্যান্ড। ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় এসব স্ট্যান্ড গড়ে ওঠেছে। এরমধ্যে খাজা সুপার মার্কেটের কাছে একটি লেগুনা স্ট্যান্ড রয়েছে। এই লেগুনাগুলো এখান থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত চলাচল করে। এসব লেগুনার গায়ে সাংসদ শামীম ওসমানের নাম লেখা দেখা যায়।  এছাড়া মাধবী প্লাজার কাছে আরেকটি লেগুনার স্ট্যান্ড রয়েছে। এখানকার লেগুনাগুলো চাষাড়া থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল করে। এ লেগুনাগুলোর উদ্বোধনও করেছিলেন সাংসদ শামীম ওসমান। তবে এই দুটি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রকর্তা হিসেবে রয়েছে দিদার নামে জনৈক ব্যক্তি। তিনিই মূলত পরিবাহন সেক্টরটি দেখভাল করেন। তাঁকে সকলেই আওয়ামী লীগ নেতা রবিউলের বন্ধু হিসেবেই চেনেন। এই রবিউল শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে একই স্থানে রয়েছে দুরন্ত বাসের স্ট্যান্ড। এখান থেকে এই বাসটি চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল করে। মূলত এই তিনটি স্ট্যান্ডের দখলেই রয়েছে নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের প্রায় অধিকাংশ রাস্তাই তারা দখল করে রেখেছে। এসব স্ট্যান্ডের কারণে এই পথে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এরমধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মূল সড়ক দখল করে হকারদের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করা। এই পথে চলাচলরত সাধারণ মানুষের বলছে, এখানে নিত্য ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এই দৃশ্য একদিন বা দু’দিনের নয়। বহুদিন ধরেই এই ভোগান্তি পোহাচ্ছি আমরা। অথচ কাছে ট্রাফিক পুলিশ বক্স। তারাও এসব দেখছে। কিন্তু কিছুই বলছে না। স্থায়ীরা বরছেন, ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) সরফুদ্দিন এসব লেগুনা ও দুরন্ত থেকে মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন। যার কারণে এসব দেখেও তিনি দেখেন না। আর যদি তিনি এখান থেকে কোনো রকম আর্থিক সুবিধা না-ই পাবেন তাহলে মূল রাস্তার উপর লেগুনা দুরন্ত কীভাবে অবৈধভাবে স্ট্যান্ড করতে পারে? এ প্রসঙ্গে এর আগে একবার ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) সরফুদ্দিন বলেছিলেন, “এখান থেকে তাদের একেবারে ওঠানোর দায়িত্ব আমার পর্যায়ে পড়ে না। এ জন্য উপরের লেভেল লাগবে। আমার একার দায়িত্ব না।”

ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের চার সদস্য আটক

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব-১১ সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরের একটি দল ঢাকার খিলগাঁও, বনশ্রী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসএসসি ও  এইচএসসি  ২০১৮ ও ২০১৭ সালের ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রচার  ও প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সাথে জড়িত চক্রের পেশাদার ৪ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ ইয়াসির আরাফাত ওরফে সাউদ (২৮), জুবায়ের আহমেদ ওরফে জাবের (২০), মোঃ রমজান আলী টিটু(১৮) থানা- দাউদকান্দি, জেলা কুমিল্লা ও মাহমুদ হাসান প্রচ্ছদ ও রফে পারফেক্ট(২২) থানা-আক্কেলপুর, জেলা জয়পুরহাট। আটককৃতদের কাছ থেকে ১৫ টি মোবাইল, ২৫ টি সিম কার্ড, ৩ টি মেমোরীকার্ড, ১ টি ট্যাব, ২ টি ল্যাপটপ, ১ টি কম্পিউটার, ১ টি হার্ডডিস্ক, ১ টি পেনড্রাইভ, একটি ব্লুট্রথ ডিভাইস উদ্ধার করে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪ টায় র‌্যাব আদমজীনগরের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানায় র‌্যাবের সিইও লেঃ কর্নেল কামরুল হাসান। র‌্যাব জানায়, ইয়াসির আরাফাত ওরফে সাউদ গত ২ বছর ধরে ভুয়ং প্রশ্ন সংগ্রহ , প্রচার ও ক্রিয় করে আসছে। সে কম্পিউটার ও ইংরেজিতে পারদর্শী। সে ৩ টি মেসেঞ্জার গ্রুপ এর এডমিন। আরাফাতসহ ২৪ জন এডমিন একটি বিশেষ গ্রুপের সদস্য। যেখানে সকল এডমিন সদস্যরা প্রশ্ন পাওয়ামাত্রইু পোষ্ট করে এবং যে ব্যক্তি আগে পোষ্ট করে শর্ত অনুসারে তাকে সকল এডমিন সদস্যরা ৫শ’ টাকা বিকাশ করে। তার পরে ইয়াসির ওই প্রম্নপত্র গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে প্রচার করে এবং বিক্রি করে। এ কাজে তার আপন ছোট ভাই জুবায়ের আহমে ওরফে জাবের ও দুঃসম্পর্কের চাচাতো ভাই রমজান আলী টিটুকে ব্যবহার করে। জুবায়ের আহমে জাবের  ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসআপের মাধ্যমে ভুয়া এইচএসসি ২০১৮ এর প্রশ্নপত্র  প্রচার ও বিক্রির সাথে সরাসরি জড়িত। রমজান আলী টিটু ইয়াসির আরাফাতের কাছ থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে বন্টন করে এবং ভুয়া প্রশ্নপ্রচারকারী ফেইসবুক ও ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের সদস্য। মাহমুদ হাসান ৪ টি গ্রুপের এডমিন। সে ভুয়া প্রশ্নফাঁসের কাজে এই গ্রুপ গুলো ব্যবহার করতো এবং পরীক্ষার সাবজ্কেট এর নাস অনুযায়ী তারা এডমিন গ্রুপের নাম পরিবর্তন করতো। এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে তারা তাদের এই গ্রুপে আপলোড করতো। মাহমুদ হাসান ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছে সে ১৫শ, টাকা করে চলতি এইচএসসি পরীরক্ষা ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্র করতো এবং ১৮ শ, টাকায় বিক্রি করতো বলে র‌্যাবের জিঞ্জাসাবাদে ধৃতরা জানায় র‌্যাবকে।

 

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে লন্ডনে বসে তারেক রহমানের উস্কানি ,প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপে বিএনপির পরিকল্পনা ব্যার্থ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে বসে উস্কানি দিলেও প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপে বিএনপির সকল পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে গেছে। মোবাইল ফোনালাপের উদ্ধতি দিয়ে তিনি বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক নেতা ও শিক্ষক মোঃ মামুনকে দিয়ে ছাত্রদের এই আন্দোলনকে পুঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করার চেষ্টা করেছিল তারেক রহমান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সময় উপযোগী পদক্ষেপ হিসাবেই তাদের দাবীকৃত আন্দোলনে কোটা সংস্কার তুলে দিয়ে আন্দোলনের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। লন্ডনে বসে তারেক রহমানের উস্কানি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপে বিএনপির সকল পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দিয়েছে। বিএনপির রাজনৈতি ভাবে এখন দেউলিয়া। দেউলিয়া হলেও বিএনপি নির্বাচনে আসবে আমি মনে করি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভ’লতা ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। এসময় প্রকল্পের পরিচালক ফ্লাইওভারের সার্বিক দিক তুলে ধরে বলেন ভ’লতা ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৬৫% ভাগে দাঁড়িয়েছে। বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে। এসময় মন্ত্রী বলেন এই ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হলে ঢাকা সিলেট রোডে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। দুর হবে মানুষের ভুগান্তি। দেশ এখন উন্নয়নের মহা সড়কে উঠেছে। আওয়ামীলীগ আগামীতে ক্ষমতায় আসলে ২০২১সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকা ভুক্ত হবে। এসময় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন আড়াইহাজর আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, রূপগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম নীলাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী।

 

 

 

আড়াইহাজারে ডাইনী মায়ের কান্ড , নিজ সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা !

 

আড়াইহাজার প্রতিনিধি

মায়ের কোল পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ হলেও পরকিয়া প্রেমে পড়ে সেই ডাইনী মায়ের হাতে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারালো শিশু সন্তান হৃদয় হোসেন (৯)। ঘটনাটি মর্মান্তিক ও বীভৎস। পরকীয়া প্রেমের জের ধরে গর্ভে ধারণ করা সন্তানের গায়ে আগুন ধরিয়ে করেছে পাষন্ড ডাইনী মা। একই সঙ্গে আগুনে দগ্ধ হয়ে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অপর সন্তান। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈইপাড়া গ্রামে ঘটেছে এ মর্মান্তিক ঘটনা। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ ওই দুই সন্তানের মা শেফালি আক্তারকে (২৮) গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। নিহতের নাম হৃদয় হোসেন (৯)। সে ৩৫নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। দগ্ধ তার ছোট ভাই জিহাদ হোসেন শিহাব (৭) একই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। সে দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া প্রবাসী। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে বাড়ৈপাড়ার বিল্লাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সুন্দর আলীর মেয়ে শেফালীর বিয়ে হয়। পরে তাদের দুই ছেলের জন্ম হয়। আনোয়ার বিদেশে থাকার সময় পার্শ্ববর্তী মোমেনের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন শেফালী। এ নিয়ে তিন মাস আগে এলাকাতে কয়েকবার শালিসী বৈঠকও হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয় শেফালি বাবার বাড়িতে চলে যাবেন। কিন্তু শেফালী বিষয়টি না মেনে শ্বশুর বাড়িতেই থাকছিলেন। এসব নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও স্বামীর সঙ্গে শেফালির মনোমালিন্য দেখা দেয়। পুলিশ জানান, শেফালীর সাথে পাশ্ববর্তী মোমেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছে। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সাথে মনমালিন্য হওয়ায় নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার প্রেমিক। শুক্রবার গভীর রাতে পাষন্ড মা শেফালী বেগম তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষপাপ দুই সন্তানের দেহ। আশপাশের লোকজন সন্তানদের আর্তচিৎকারে বেড়িয়ে আসে। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ হৃদয় (৯) এর মধ্যে মারা যায়। আশপাশের লোকজন আরেক সন্তান অগ্নিদগ্ধ শিহাবকে (৭) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, গতকাল শুক্রবার ভোরে মৃত দগ্ধ অবস্থায় হৃদয়ের লাশ ও আরেক সন্তান অগ্নিদগ্ধ শিহাবকে উদ্ধার করা হয়। শিহাবকে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। পরে মা শেফালীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন গ্রামবাসীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার উত্তম সাহা জানান, শিশু শিহাবের এক হাত ও দু পা ঝলসে গেছে। তাকে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেফালি একেক সময়ে একে কথা বলেন। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়িরে লোকজনের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার পরকীয়া প্রেমিক মোমেন। গত  বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেফালী তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয়। ঘটনার পর থেকে মোমেন পলাতক আছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে। পুলিশ হৃদয়ের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের মর্গে প্রেরণ করেছে।

 

পলাশের চ্যালেঞ্জ কি নিজেকে রক্ষার জন্য ?

 

মন্তব্য কলাম

হাবিবুর রহমান বাদল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন মিল-কারখানা, অবৈধ পরিবহনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সপ্তাহে কোটি টাকার চাঁদা উঠে। এ বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। দেশের বহুল প্রচারিত একটি দৈনিকে অনেক আগেই এ সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রকাশের পর আমি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরী করে দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ডান্ডিবার্তায় প্রকাশের পর গত ৫ এপ্রিল ফতুল্লা আঞ্চলিক শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ প্রকাশিত সংবাদটিতে তার মানহানী ঘটেছে এমন দাবী করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অবশ্য একই বিষয় নিয়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং একটি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর পলাশের অনুসারিরা ৪ এপ্রিল মিছিল সমাবেশ করে একটি জাতীয় দৈনিকের ফতুল্লা সংবাদদাতার হাত-পা ভেঙ্গে ফেলাসহ চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরের দিন চারটি পত্রিকার বিরুদ্ধে কাউছার আহম্মেদ পলাশ মামলা দায়ের করে। একই দিন যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, প্রকাশক ও ফতুল্লা সংবাদ দাতার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় একটি মামলা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি অনলাইনের নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমে মামলা দায়ের করে। প্রকাশিত সংবাদে কেউ ক্ষুব্ধ হলে আইনের আশ্রয় নিতেই পারে। কিন্তু আইনের আশ্রয় নেওয়ার আগে যে পদ্ধতি গুলো অনুসরন করা উচিত ছিল তার কোনটাই কাউছার আহম্মেদ পলাশ করেনি। বরং মামলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত বুধবার চাষাড়া শহীদ মিনারে তার অনুসারিদের নিয়ে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেও অন্যান্য পেশাদার সাংবাদিকদের এব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব থাকতে দেখা গেলো। চাষাড়া সমাবেশ থেকে পলাশ চারজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্তের দাবী জানিয়েছে। শ্রমিক নেতা পলাশ দীর্ঘদিন পর একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলেন বলে আমি মনে করি। আমি অন্যকোন সাংবাদিকের দায়িত্ব না নিয়ে নিজ দায়িত্বে বলছি পলাশ সাহেব আমি আপনার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করলাম। শুধু তাই নয় স্থানীয় প্রশাসন ও দূর্নীতি দমন কমিশনের নিকট আমার বিনীত অনুরোধ পলাশ সাহেবের দাবী অনুযায়ী বিগত ২০০০সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের ও শ্রমিক নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ এবং আয়ের উৎসসহ  অতীতে এই দুই সম্প্রদায় কি অবস্থায় ছিল আর বর্তমানে কি অবস্থায় আছে তা তদন্ত করে বের করা হোক। আমি শ্রমিক নেতা পলাশের স্মরণে আনতে চাই দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক ডান্ডিবার্তায় কোথাও একক কোন শ্রমিক নেতার কথা বলা হয়নি। চাঁদা আদায়ের সাথে জড়িত কারো নাম উল্লেখ করাতো তো দূরের কথা আকার ইঙ্গিতেও সংবাদে তা লেখা হয়নি। বরং বলা হয়েছে বিভিন্ন সেক্টর থেকে একটি প্রভাবশালী সেন্টিগেট প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক শ্রমিক নেতাই রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। অনেকেরই রয়েছে নিজস্ব গাড়ী ও একাধিক বাড়ি। এব্যাপারে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজীর এই টাকা কাদের পকেটে যায়। আমার সংবাদে শ্রমিকদের বক্তব্যও ছাপা হয়েছে। গার্মেন্টস সেক্টরে অব্যাহত চাঁদাবাজীর কথা সবাই জানে। ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজীর বিষয়টি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও অবহিত। এমতাবস্থায় দৈনিক ইত্তেফাক ও ডান্ডিবার্তায় প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে পলাশ যে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তা আমার বোধগম্য নয়। কারণ ডান্ডিবার্তায় নাম প্রকাশ না করেও ক্ষমতার বাহিরে থাকা একাধিক শ্রমিক নেতাকে ইঙ্গিত দেওয়ার পরও তারা কোন প্রতিবাদ করেননি। এমনকি কাউছার আহাম্মেদ পলাশ দৈনিক ইত্তেফাক ও ডান্ডিবার্তায় কোন প্রকার প্রতিবাদ কিংবা লিগ্যাল নোটিশ পর্যন্ত দেননি। তারপর তিনি মামলা করে আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই নিজেই বিচারকের ভূমিকায় নেমে গেছেন। তিনি আমাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব তদন্তের চ্যালেঞ্জ করেছেন। আমি বিশ্বস করি পেশাদার ও বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতায় যারা জড়িত তাদের মনোবল এতটা ঠুনকো নয় যে দুদকের তদন্তে আমরা সাংবাদিক সমাজ ঘাবড়ে যাবো। আমরা ন্যায়নীতির মধ্য থেকে জীবন যাপন করছি। সুতরাং আপনি পলাশ জন্মের পর থেকে গাড়ী দিয়ে চলেছেন না রিক্সায় চড়েছেন এটা সাংবাদিকদের বিবেচ্য বিষয় নয়। ৭৩ সালে মরিজ মডেলের গাড়ী দিয়ে যখন আপনি চড়তেন তখন আপনার বাসায় অনেক কুতুবরাই মুড়ির টিনে চড়তো। আমার রিপোর্টে কোথাও আপনার কারণে গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে কিংবা চাঁদাবাজির সাথে আপনি জড়িত এমন কোন তথ্য না থাকা সত্বেও বায়বিয় ভাবে আপনার মানহানী কিভাবে ঘটলো তাও আমার বোধগম্য নয়। আপনি সকল সাংবাদিককে একটা প্রশ্নবোধকের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের পেশার সততা এবং নিষ্ঠার উপর প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাই আপনার দেয়া চ্যালেঞ্জ আমি পেশাদার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে গ্রহন করে আপনার প্রতি আহবান জানাচ্ছি প্রমাণ করুন আমাদের অতীত বর্তমান। কারণ পলাশ সাহেব আমি আমার রিপোর্টের কোথায়ও প্রকৃত শ্রমিক নেতা ও রাজনীতিবিদদের হেয় করার চেষ্টা করিনি। বরং চাঁদাবাজি করে কাদের পকেটে এ টাকা যাচ্ছে এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি মাত্র। আপনার চ্যালেঞ্জের কারণে আমি বলতে চাই পেশাদার সাংবাদিকদের সম্পর্কে সংযত হউন, এবং কোন প্রকার অপবাদ দেয়ার আগে বিবেচনা করে নিবেন। আর তাই আমি নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকনেতা এমনকি আমার সহযোদ্ধাদেরও অতীত বর্তমান অবস্থার তদন্ত করার জন্য দাবী জানাচ্ছি। সাংবাদিক বান্ধব হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তব অর্থে নারায়ণগঞ্জের সকল অনিয়ম ও দূর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দিবেন নতুন বছরে, একজন নগন্য সংবাদকর্মী হিসেবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।