আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:১০
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

অস্বাভাবিক লাশের বোঝাঁ আর কতকাল বইবে নারায়ণগঞ্জবাসী ?

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে দিন দিন পৈশাচিকতা বাড়ছে। তবে এর মাত্রা আগে থেকেই বেশি থাকলেও বর্তমানে তা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। প্রতিদিন জেলার কোথাও না কোথাও পৈশাচিকতার খবর পাওয়া যায়। হত্যা, ধর্ষণ, মারা-মারির বাইরেও শাসন, দখল, আধিপত্য, প্রতিহিংসার আঘাতের পৈশাচিকতায় মানবিকতা হার মানছে। এ থেকে বাদ যাচ্ছে না বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। তবে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে নারীদের উপর। শিশুদের উপর পৈশাচিকতা কম হচ্ছে না। এর বাইরে রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৈশাচিকতার গুজব। তবে এসব ঘটনার বেশিরভাগই ধামাচাপা পড়ে যায় ভুক্তভোগী নিরীহ হওয়ার কারণে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১৩৪ টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। জানুয়ারী এবং ফেব্রুয়ারী মাসে ৪২টি করে ৮৪টি লাশ উদ্ধার হয়, মার্চ মাসে ৫০টি লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে ৩ জন নিহতের ঘটনা রয়েছে। এতে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি জমাট বেঁধেছে ক্ষোভ। আইনশৃঙ্খলার ঢেলেমির সুযোগে এমন ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

২০১৩ সালে স্কুল ছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী গুম হওয়ার দুইদিন পর শীতলক্ষ্যার কাদাপানিতে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়।

২০১৬ সালে রূপগঞ্জে জোবেদা টেক্সটাইল মিলে শিশুশ্রমিক সাগর বর্মণকে (৯) পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একই ঘটনা ঘটেছে সোনারগাঁয়ে। ১৩ বছরের কিশোর ইয়ামিনের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। ২২ নভেম্বর ২০১৫ সালে ফতুল্লায় আবুল কাশেম (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে পায়ের নখ তুলে ও পিটিয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। অক্টো অফিস সংলগ্ন পৌর স্টেডিয়ামের সামনে বালুর মাঠ থেকে কাশেমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও এডভোকেট চন্দন সরকারসহ ৫ জনকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করতে প্রতিটি লাশের পায়ে ২৪টি করে ইট সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে বেঁধে নদীতে ডোবানো হয়। পা ছিল দড়ি দিয়ে বাঁধা। হাতও পেছনে দড়ি দিয়ে বাঁধা। পেট ফুলে যাতে লাশ ভেসে না ওঠে, সেই আশঙ্কায় পেট সোজাসুজি কেটে ফেলা হয়।

২ আগস্ট ২০১৭ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের পানির কল এলাকায় পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক থেকে ১৫ বছরের কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। তাকে গাড়ির চালক ও হেলপার তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে।

শহরের বাবুরাইলের একটি বাসগৃহে দুই শিশু এবং নারীসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। কাউকে পাটা-পুতা দিয়ে থেতলে, কাউকে দেয়ালের সঙ্গে আছড়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। দিন দিন তার মাত্র বাড়লেও কোন তৎপড়তা বাড়ছে না প্রশাসনের। এমন অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জের মেহদী হাসানের। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে খুবই আতঙ্কে ভাড়া বাসায় দিনাতিপাত করছি। বাচ্চাকে স্কুলে দিচ্ছি, অফিসে যাচ্ছি, রাত করে ফিরছি। জানিনা কখন কোন নির্মমতায় আমি বা আমার পরিবার স্বীকার হই।

এমন আতঙ্ক মেহদী হাসানের নয়। যারা সচেতন তাদের মধ্যে খুব বেশি দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। ভর করছে না না শঙ্কা। মোবাইলটা বেজে উঠলে অনেকেই আতকে উঠেন। না জানি কোন দু:সংবাদ শুনতে হয়।

নারায়ণগঞ্জে গত কয়েক মাসে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে হত্যাকা-ের ঘটনা বেড়ে গেছে। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে পরকীয়া আসক্তের ঘটনা যেমনি বাড়ছে তেমনি এর জের ধরে পারিবারিক কলহের কারণে ঘটছে প্রাণহানি। আর এতে নির্মম হত্যাকা-ের নির্মম বলির শিকার হচ্ছেন সন্তান, স্বামী, স্ত্রী সবাই। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে ঘটেছে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

সন্তানকে হত্যা

আড়াইহাজার উপজেলায় পরকীয়ার জের ধরে কম্বল মুড়িয়ে দুই সন্তানের গায়ে দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু ও অপরজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই দুই সন্তানের মা শেফালি আক্তারকে (২৮) গ্রেফতার করেছে। ১৩ এপ্রিল শুক্রবার ভোরে উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈইপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম হৃদয় হোসেন (৯)। সে ৩৫নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। দগ্ধ তার ছোট ভাই জিহাদ হোসেন শিহাব (৭) একই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। সে দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া প্রবাসী। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে বাড়ৈপাড়ার বিল্লাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সুন্দর আলীর মেয়ে শেফালীর বিয়ে হয়। পরে তাদের দুই ছেলের জন্ম হয়। আনোয়ার বিদেশে থাকার সময় পার্শ্ববর্তী মোমেনের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন শেফালী।  আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেফালি একেক সময়ে একে কথা বলেন। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়িরে লোকজনের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার পরকীয়া প্রেমিক মোমেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেফালী তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয়। ঘটনার পর থেকে মোমেন পলাতক আছে।

দেড় বছরের শিশুর সামনে স্ত্রীকে হত্যা

গত ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় পরকীয়া প্রেমের জের ধরে দেড় বছরের শিশু নাহিদের সামনে স্ত্রী রীমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে ও পিটিয়ে হত্যা করে স্বামী আল আমিন। হত্যার পরেই আল আমিন দ্রুত বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ৩ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে আল আমিন স্বীকার করেছে স্ত্রী রীমা পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। এর জের ধরেই তাকে সে হত্যা করেছে। হত্যার পর সে পালিয়ে যায়। তখন শিশু নাহিদ পাশেই বসা ছিল।

স্বামী খুন

গত ৫ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বক্তাবলী লক্ষ্মীনগর গ্রামে ইটভাটা পরকীয়া প্রেমের জেরে শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন খুন হয়। দেলোয়ারের সঙ্গে সেখানকার পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত আলমগীর হোসেনের স্ত্রীর ওই পরকীয়া প্রেমের জের ধরেই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। আলমগীর সহ তিনজন মিলে পরিকল্পিতভাবে দেলোয়ারকে হত্যা করে। ৭ এপ্রিল আদালতে দেওয়া কিলিং মিশনে থাকা দুই আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উঠে পরকীয়ার তথ্য। ওই দুইজন হলেন হৃদয় হোসেন বাবু (২৪) ও সাদ্দাম হোসেন (২৬)।

লিংক রোড নিয়ে তালবাহানা কতকাল !

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সংস্কার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। মোট কাজের ৫ ভাগের এক ভাগ ইতমধ্যে সম্পন্ন হয় নাই। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সংস্কার করা সড়ক বেহাল অবস্থায় পতিত হয়েছে। ব্যবহারের আগেই মুখ থুবড়ে পড়ছে কোটি টাকার সংস্কার প্রকল্প। দীর্ঘ দিন ধরে এই সড়কে খানা খন্দকে ভরা অবস্থায় দুর্ভোগে চলাচল করে আসছে লাখ লাখ মানুষ। এ অবস্থায় কারো কোন মাথা ব্যাথা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পথচারীরা। তাদের অভিযোগ জনগণের টাকা এভাবেই গচ্চা দিচ্ছে কর্মকর্তারা। ভাঙ্গলেই তাদের পোয়াবারো। আবার টেন্ডার, আবার টাকা হরিলুটের ব্যবস্থা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় লিংক রোডের পশ্চিম দিকের লেনে পিচ ঢালার কাজ চলছে পুরোদমে। এ কাজের জন্য বাতাস যন্ত্রের মাধ্যমে ধূলা পরিষ্কার করা হচ্ছে। অথচ সড়ক দ্বীপের পাশে থাকা বালু বিপরীত লেনে ফেলা হচ্ছে। ফুটপাতের যে মাটি পিচের উপরে চলে এসেছে তা পরিষ্কার করে আবার ফুটপাতে উপরেই রাখা হচ্ছে। ফুটপাতের উপরে রাখায় এমন উচু হয়ে গেছে যে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে উঠে এসেছে। অথচ এই পানি হচ্ছে পিচের শত্রু। পনি জমলে সেখানে পিচ উঠবে এবং সড়ক দুর্বল হয়ে যায়। কোথাও কোথাও দেখা গেছে সড়কের উপরেই ময়লা আর মাটির স্তুূপ। এ অবস্থা দেখাগেছে চানমারি, সিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম, জালকুড়ি এলাকায়। এলাকাবাসী রতন বলেন, কদিন পর পরেই সংস্কার কাজ হয় যা কোন উপকারে আসে না। একদিকে সংস্কার হয় অন্য দিকে আবার যেই সেই। এজন্য দরকার রক্ষণাবেক্ষণ করা। বিটুমিনের সড়ক পানি জমলেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই পানি সরানোর জন্য ফুটপাত ড্রেন করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে ফুটপাত নিচু করতে হবে যাতে সড়কে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যায়। অথচ রাস্তার পাশে থাকা দোকানিরা মাটি উচু কর এমন অবস্থা করে যে আস্তে আস্তে সেই মাটি রাস্তা ঢেকে ফেলে। এমন অবস্থার কারনে সিবু মার্কেটের সামনে রাস্তা ভেঙ্গে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আরো তৎপর দেখানো উচিত সড়ক কতৃপক্ষকে। উল্লেখ্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সংস্কারে ৫ বছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ কোটি টাকার বেশি। ক’দিন আগে এ সড়কে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সংস্কার কাজ করা হয়। সড়কে যাতে পানি না জমে সেজন্য দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার ড্রেনও নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। তবে সেই ড্রেন সড়কের পানি নিষ্কাশনের কোনো কাজেই আসেনি। এ সংস্কার নিয়ে চলছে তালবাহানা। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলার বিষয়ে ফুটে উঠে সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ঢাকা সড়ক সার্কেল) মো. সবুজ উদ্দিন খানের সই করা এক প্রতিবেদনে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ৫ সেপ্টেম্বর আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই আঞ্চলিক সড়কটির ডাবল বিটুমিন সারফেসিং পদ্ধতিতে আস্তরণ কাজ সম্পন্ন করে। ঠিকাদারের কাজের দায়বদ্ধতার মেয়াদ এক বছরের মধ্যেই সড়কটির ছয় কিলোমিটার অংশে গর্ত ও সরু ফাটলের সৃষ্টি হয়। এরপর সওজের নির্দেশে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির ১ হাজার ৪১০ বর্গমিটার অংশ আবার মেরামত করে দেয়। কিন্তু তাতেও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

 

 

যানজট নিরসনে সেলিম ওসমানের পরামর্শ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জে তীব্র যানজট লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের আগের কয়েকদিন শহরের যানজট ছিল অসহনীয় মাত্রায়। এদিকে শহরের পুরনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে শহরের নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড এবং নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। দীর্ঘ বছরের ভোগান্তির পর স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপে নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ড এবং কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ডটি গত কয়েক মাস ধরে শৃঙ্খলার মধ্য থাকায় যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারনে সেই শৃঙ্খলা অনেকটাই নষ্ট হওয়া যানজট সেই পুরনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে। আগামী মে মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। তাই বর্তমান সৃষ্ট সমস্যা এবং আসন্ন রমজান মাসের কর্মব্যস্ততা নগরীতে যানজট আরো তীব্র আকার ধারন করতে পারে আশংকা করা হচ্ছে। যদি গত কয়েক বছর রমজান মাসে নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে জেলা পুলিশকে আর্থিক সহযোগীতা দিয়ে আনসার এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে রমজান মাসে নগরীকে যানজট মুক্ত রাখার চেষ্টা করে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। বর্তমান যানজট পরিস্থিতি এবং রমজান মাসে নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান কোন পরিকল্পনা করছেন কিনা এ বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি জানান, নগরীকে যানজট মুক্ত রাখার বিষয়টি সম্পূর্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে মধ্যে পড়ে। আমাকে যে কেউ আহবান করলে যে কোন সহযোগীতা করতে আমি প্রস্তুত। তবে প্রথমেই বলবো সামনে রমজান মাসকে সামনে রেখে অনেকেই চেষ্টা করবে পুনরায় ফুটপাত দলখ করতে। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাশের এলাকাগুলো আসা রিকশা এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশার চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। বৃষ্টির কারণে রাস্তার অবনতি ঘটবে ফলে মানুষের কষ্ট বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতির কারণে যদি কোন রোজাদার ব্যক্তি কষ্ট পান তাহলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এর জন্য গুনাগার হবেন। সুতরাং আমি মনে করি সমস্ত বিষয়টি কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সেই কারণে শবে-বরাত এর পূর্বেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের আলোচনায় বসার প্রয়োজন রয়েছে। পূর্বের ব্যবস্থাপনা গুলো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কয়েকমাস নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ডটি শৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালিত হলেও পরে কিছু সংখ্য চাঁদাবাজের চাঁদাবাজির কারনে নিতাইগঞ্জে পুনরায় একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমি বলবো সেই সময়টিতে পুলিশ এবং আনসার সদস্য দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ট্রাকে পণ্য লোডিং আনলোডিং ব্যবস্থা করা হয়ে ছিলো। বর্তমানে সে ব্যবস্থা না থাকায় এ যানজটের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসের মালিক এবং শ্রমিক কর্মচারীবৃন্দর আন্তরিকতা দেখালো সেখানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব এবং অবহেলায় পুনরায় একই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। আরো উল্লেখ করেন, শহরে অবৈধ অতিরিক্ত রিকশা প্রবেশ যানজটের একটি বড় কারণ। সাধারণ নিয়মানুযায়ী স্কুল কলেজগুলো রমজান মাসে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে সময়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এগিয়ে নেওয়া বা পিছিয়ে দেওয়া উভয় দিকেই সমস্যা।  এ সময়টাতে স্কুল কলেজের কোচিংয়ের চাপ বেশি থাকবে। তাই এ রমজান মাসে যানজট বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করছি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা সভা আয়োজনের অনুরোধ রেখে সেলিম ওসমান বলেন, প্রয়োজনে দিনের বেলায় নগরীতে কোন প্রকার ট্রাক চলাচল বন্ধ করতে হবে। পণ্য লোডিং-আনলোডিং সম্পূর্ন রাতের বেলায় করতে হবে। তারাবি নামাজের পর পর সকাল ৮টা পর্যন্ত লোডি আনলোডিং করতে হবে। অবৈধ রিকশা যাতে শহরে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য নগরীতে প্রবেশের অত্যন্ত মূল ৪টি পয়েন্টে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে চেক পোর্ট বসানো যেতে পারে। যার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত বৈধ লাইসেন্স এবং অবৈধ রিকশা শর্ণাক্ত করা যেতে পারে এবং শুধুমাত্র বৈধ লাইসেন্স থাকা রিকশা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলতে পারবে এমন ব্যবস্থা করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ-ফতুল্লা-ঢাকা পুরাতন সড়কটি দিয়ে সহজে বাস চলাচল করতে পারে তার জন্য পঞ্চবটি-পাগলা- পোস্তখোলা সড়কটি যানজট মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শহরের বেশ কিছু স্থানে নতুন করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, টেম্পু ও ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সেলিম ওসমান বলেন, সুতরাং আলোচনা ছাড়া কোন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব বলে আমি মনে করি না। উক্ত আলোচনায় ট্রাক মালিক সমিতি, বাস মালিক সমিতি, নারায়ণগঞ্জ জেলা দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধির উপস্থিত থাকাটা একান্ত জরুরি বলে আমি মনে করি। তবেই নারায়ণগঞ্জ নগরীকে একটি যানজট মুক্ত পরিকল্পিত নগরীর রূপ দেওয়া সম্ভব।

না’গঞ্জের অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা প্রশাসন

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় হকারদের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারিদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছাত্রলীগের দুই নেতা অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন। অনুরূপভাবে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নগরীতে হকার উচ্ছেদের ঘটনায় মেয়র আইভীসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারিদের উপর হামলা চালায় হকারসহ শামীম ওসমান পন্থী নেতাকর্মীরা। এসময় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নিয়াজুল, আবু সুফিয়ান। এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় মেয়র আইভীর উপরও হামলা চালানো হয়। এদিকে এ ঘটনার চার মাস অতিবাহিত হলেও অস্ত্রধারিদের বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে ক্ষোভসহ নানা প্রশ্নেরই উদ্রেক করেছে। বলা হচ্ছে এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করা অস্ত্রধারীদের ছাড় দিলে আগামীতে অপরাধ আরও বেশি সংঘটিত হবে। তাই সুষ্ঠুতদন্ত সাপেক্ষ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ কামরুল ইসলাম বলেন, “এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত এখনও চলমান। চেষ্টা করছি যতটা দ্রুত সম্ভব আমরা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে।” গত ১৬ জানুয়ারি হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সদর মডেল থানা পুলিশ বাদী হয়ে আইভী ও শামীম ওসমান গ্রুপের ৫‘শ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছিলো। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে ওই মামলা করা হয়। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের হকার উচ্ছেদের ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসিমউদ্দিন হায়দারকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিলো। কমিটির অন্য দু’জন হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এবং র‌্যাবের সহকারী পরিচালক বাবুল আক্তার। তবে এতদিন পরও এই কমিটি এখনও পর্যন্ত তাদের তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “যাঁরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করেছে তাঁদের ছবি পত্রিকাতে এসেছে। সেটি স্পষ্ট, দিবালোকের মতো সত্য। তাহলে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এতো সময় লাগবে কেন? আর তদন্ত কমিটিই এতটা কালক্ষেপন কেন করছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে?”  আব্দুর রহমান বলেন, “সেদিন যাঁরাই অস্ত্র প্রদর্শন করে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করেছে তাঁরা যাঁরাই হোক না কেন তাঁদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানাই। আমরা চাই নারায়ণগঞ্জে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিরাজ করুক। অপরাধীদের ছাড় দেয়া না হোক।”

শহরে তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে নগরবাসী

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দুইদিন সরকারি ছুটির পর সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে নারায়ণগঞ্জ শহরের মূল সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি শাখা সড়ক গুলোতেও যানজট ছড়িয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পরেছে পুরো নগরী। গতকাল রবিবার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে যানবাহনের চাপ বাড়ায় পুরো শহর জুয়ে দেখা দেয় তীব্র যানজট। এর পূর্বে, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল দুই দিন সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে দু’দিন নগরী ছিল অনেকটাই ফাঁকা। চাকুরীজীবী অনেকেই ছুটি পেয়ে গত বৃহস্পতিবার ফিরে গেছেন নিজ নিজ গ্রামে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলও ছিল বন্ধ। সরজমিনে দেখা যায়, চাষাঢ়া রাইফেলস ক্লাব হতে বি.বি রোড ধরে দুই নাম্বার গেট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। যানবাহন চলছে ধীরে ধীরে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যানজট চলে প্রায় পুরো দিন ব্যপি। তবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। চাষাঢ়া মোড়ে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ জানান, দুইদিন পর সবাই কাজে বের হয়েছে। মানুষের ব্যস্ততা ফিরছে শহরে। তাই হঠাৎ এই যানজট। তবে শহরে যানজট এমনিতেই নিত্যদিনের ঘটনা। অবৈধ পার্কিং, রিকশা, সিএনজি এবং হিউম্যান হলারের অবৈধ স্ট্যান্ডের দৌড়াত্য চাষাঢ়া মোড়ে যানজট লেগেই থাকে। আর নতুন করে রাস্তার খোড়াখুড়ি যানজটকে আরো তীব্রতর করে তুলছে দিন দিন। সন্ধ্যার পরে এর পরিধি আরো ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এ নিয়ে কথা হয় জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবদুর রশিদ পিপিএমের সাথে। তিনি জানান, গতকালের বৃষ্টির ফলে রাস্তায় পানি জমে থাকা, গর্ত সৃষ্টি হওয়া এবং দুইদিন ছুটির পরে মানুষের চাপ বাড়ার ফলে এই যানজট। অবৈধ হিউম্যন হলার ও সিএনজি স্ট্যান্ডের ব্যপারে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানতে চাইলে বলেন, অবৈধ গাড়ি পার্কিং এর বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদের জন্যেও আমরা কাজ করছি। তবে পুরো শহর জুড়ে অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং রাস্তার সাথের ভবন ও মার্কেট গুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকাও শহরে নিত্যদিনের যানজট ভোগান্তির অন্যতম একটি কারণ।

 

 

 

 

জমকালো আয়োজনে নারায়ণগঞ্জবাসী নতুন বছরকে স্বাগত জানালো

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙলা নতুন বছরকে স্বাগত জানালো নারায়ণগঞ্জবাসী। বাঙালীদের প্রাণের উৎসব নববর্ষের দিনটিকে উদযাপন করতে আয়োজনে কোনদিক থেকেই পিছিয়ে ছিলো না নারায়ণগঞ্জবাসী। বৈশাখের আগে থেকেই চলছে বৈশাখী ঝড়ের দাপট তার ধারাবাহিকতা নিয়েই গত শনিবার বিকেলেও দেখা গেছে তার আগমন। শুধু ঝড় নয় এ যেনো বৈশাখেরই আগমনী বার্তা। এর পূর্বে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি চাষাড়া বিজয় স্তম্ভের সামনে থেকে শুরু করে নগরীর প্রধান প্রদক্ষিণ করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার ও মো. হামিদ মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, উপ-পরিচালক মো. মুখলেছুর রহমান, প্রফেসর শিরীন বেগম ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনসহ সরকারী পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তারা। শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ও নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রাটি চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু করে টানবাজার হয়ে চারুকলা ইন্সটিটিউটে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে ভোর ৬টায় এসো হে বৈশাখ এসো এসো গানের মধ্যে দিয়ে সূর্যদ্বয়ের সঙ্গে সঙ্গে নববর্ষ বরণ করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বিকেলে সরকারী জিমখানা লেক এলাকায় ও চাষাড়া শহীদ মিনারে ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিলো। এদিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ক্লাব সদস্যদের নিয়ে জমকালো বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করে। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

 

 

স্বামীকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে ফেলেছে ময়না

 

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব এলাকার আব্দুল মজিদ সৌদী আরবের রিয়াদে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে নিহত হয়েছেন। এ সংবাদে নিহতের বাড়িতে কান্নার শব্দে আকাশের বাতাস যেনো ভারী হয়ে ওঠেছে। নিজ সন্তানকে হারিয়ে মা জৈবুন্নেছা বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। বাবা আওলাদ হোসেন নির্বাক হয়ে লোকজনের দিকে চেয়ে থাকেন। কিছুই বলতে পারছেন না। স্ত্রী ময়না বেগম স্বামীকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে ফেলেছে। এখন আর তার চোখ থেকে পানি বের হয়না। ৬ বছরের একমাত্র মেয়ে আমেনাকে নিয়ে এখন কিভাবে তার সংসার চলবে? ধার দেনা ও সুদের উপর টাকা নিয়ে আব্দুল মজিদ পরিবারের সুখের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিল। সেই টাকা কিভাবে শোধ করবে সেই চিন্তায় স্তব্দ হয়ে গেছে স্ত্রী ময়না। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব লালটেক গ্রামের আওলাদ হোসেনের মেজো ছেলে আব্দুল মজিদ খান ৭ বছর আগে পার্শ্ববর্তী শিমুলিয়া এলাকার গোলজার ভূইয়া মেয়ে ময়না বেগমকে বিয়ে করেন। বর্তমানে আমেনা আক্তার নামে ৬ বছরের একটি মেয়ে আছে। সে স্থানীয় বিরাব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। নিজের ভিটে মাটি ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। একটি ছোট টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে অভাব অনটনের মধ্যে বসবাস করতো আব্দুল মজিদ। হঠাৎ পরিবার ও নিজেকে সমাজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি সৌদী আরব কাজের জন্য পারি জমাবেন সিদ্ধান্ত নেন। আতœীয় স্বজন, এনজিও ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুদের উপর ৪ লাখ টাকা নিয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারী পার্শ¦বর্তী পলাশ থানাধীন ডাঙ্গা কেন্দুয়াবো এলাকার নাজিমউদ্দিনের মাধ্যমে কাজের জন্য পাড়ি জমান সৌদী আরবের রিয়াদে। সেখানে প্রায় ৩ তিন কোন কাজ পাননি আব্দুল মজিদ। রিয়াদের আল নুরা ইউনির্ভাসিটি আবাসিক এলাকায় একটি ভবনে ৭/৮ জনের সাথে থাকতো সে। নিজ বাড়ী থেকে টাকা পাঠালে পেটে খাবার জুটতো তার। ১২ দিন আগে সেখানকার ইউনিভার্সিটিতে ক্লিনারে কাজ পায় সে। প্রতিদিনের মত রাতের কাজ শেষ করে গত শুক্রবার সকালে অন্যদের মত রুমে ঘুমে পড়েন সে। সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে হঠাৎ একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরন ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু বরণ করেন আব্দুল মজিদ খানসহ রুমের সবাই। দুপুরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একই ভবনে থাকা রাশেদ খান নামে এক যুবক আব্দুল মজিদের বড় ভাই বাছেদ আলীকে আব্দুল মজিদের মৃত্যুর খবর জানায়। এরপর থেকে নিহতের পরিবারের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে নিহত আব্দুল মজিদের লাশ রিয়াদের সিমুচি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লাশ দেশে আনার ব্যাপারে পরিবারের লোকজন দালালের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে নিহত আব্দুল মজিদের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, আমার স্বামীর স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে টাকা উপার্জন করে একমাত্র আদরের মেয়ে আমেনাকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলবে। বাড়ীঘর একটু ভাল করবো। সংসারে সব কষ্ট দূর হইবো। এখন সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। একদিকে স্বামীকে হারিয়ে ও অন্যদিকে স্বামীর ধার করা টাকা কিভাবে পরিশোধ করবে সেই চিন্তায় হতাশা ছায়া এখন তার চোখে। এদিকে পিতা আওলাদ হোসেন ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে থাকে। নিজের ছেলের লাশ কাদে নিবেন সেই কথা মনে পড়লে কেদে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, সৌদী আরবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে নিহত আব্দুল মজিদের পরিবারের খোজ খবর নিচ্ছি। লাশ দেশে আনাসহ যেকোন ব্যাপারে তার পরিবারের লোকজন কোন প্রকার সহায়তার প্রয়োজন মনে করলে অবশ্যই সহায়তা করবো।

উন্নয়ণশীল দেশ রেখে যাওয়ার প্রত্যয় ডিসি এসপির

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুখী সমৃদ্ধ উন্নয়ণশীল দেশ রেখে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়া ও পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হক। গত শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বাংলা নববর্ষ-১৪২৮ বরণ উদযাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যকালে নববর্ষে এমনই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জেলার প্রশাসনিক শীর্ষ এই দুই কর্মকর্তা। নারায়ণগঞ্জবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেছেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০২১ এবং ২০৪২ সালের যে ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের আজকের প্রত্যয় হউক সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা। আমরা যাতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নয়নশীল দেশ রেখে যেতে পারি, সেটিই হউক আমাদের প্রত্যয়।’  এসময় তিনি ভবিষ্যতে গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের সকল কর্মকান্ডে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ‘আজকে বাঙালী জাতির আনন্দের দিন। এই দিনটিকে বাঙালী জাতি শত-সহ¯্র বছর ধরে স্মরণ করে আসছে। বাঙালীর ঐতিহ্য ও মুক্তিযোদ্ধের চেতনা অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একাত্বতার যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সেটি যেন চিরকাল অটুট থাকে, আজকের দিনে এটিই হবে আমাদের চাওয়া পাওয়া। বাংলাদেশ আজ উন্নয়ণশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাঙালীর সেই অগ্রযাত্রা যেন দীপ্ত পায়ে এগিয়ে যায়, সেই কামনাই করি।’ এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: জসীম উদ্দিন হায়দার, (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: রেজাউল বারী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো: আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, (অপরাধ) মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান, (ডিএসবি) মো: ফারুক হোসেন, (ডিবি) মো: মনিরুল ইসলাম, (ক-সার্কেল) মো: শরফুদ্দীন, সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো: আব্দুর রশিদ পিপিএম, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আরএমও ডা: আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ কর্মাস কলেজের অধ্যক্ষ ড. শিরিন শারমিন, কল্যাাণী সেবা সংস্থান চেয়ারম্যান ডা. জব্বার চিশতীসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

ঐতিহ্যবাহী দেওভোগ আখড়ায় বৈশাখী মেলার উদ্বোধনীতে সানী বৈষম্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাফায়েত আলম সানী বলেছেন, একমাত্র বাংলা নববর্ষ সকল ধর্মের মানুষ এক হয়ে উদযাপন করে। এই উৎসব বাঙ্গালী জাতি ধর্ম বৈষম্য ভুলে সম্মিলিত ভাবে পালন করে। গতকাল রবিবার দুপুরে দেওভোগে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ আখড়ায় মাস ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বক্তব্যের পূর্বে শিশু-কিশোরদের নিয়ে ফিতা কেটে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা উদ্বোধন করেন তিনি। সানী আরো বলেন, বাংলা ১১৭৩ সাল থেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এই মেলা নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের ঐতিহ্য। দেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিকসহ সকল ক্ষেত্রেই নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকলকে ঐক্য থাকার আহ্বান জানান সানী। তিনি আরো বলেন, বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে বিভিন্ন ভাবে গ্রাস করতে চাইছে কিছু মৌলবাদীরা। তারা আমাদের দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। তাই আমাদের বিভেদ ও বৈষম্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মেলার পরিচালক আলতাফ হোসেন, সহকারী পরিচালক রন্টি, মানিক চাঁন, ১৬নং ওয়ার্ডের সমাজ সেবক পল্টু, জেলা ছাত্রলীগের কর্ম বাস্তবায়ন বিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সায়েম রেজা প্রমুখ।

 

 

 

আ’লীগের মনোনয়নে থাকবে চমক

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

রাজনীতিতে শেষ বলে কোন শব্দ নেই। শেষ হওয়ার পূর্বেই আসতে থাকে চমকের পর চমক। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামীলীগের প্রার্থী তালিকায় চমক থাকবে বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের নেতারাই দলীয় মনোনয়ন পাবে এটা অনেকটা নিশ্চিত। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ভোটের সদস্যরা। গোয়েন্দা সংস্থা গুলোও প্রার্থীদের রাজনৈতিক, সামাজিক অবস্থান ও কে কতটুকু জনপ্রিয়তায় রয়েছে তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিচ্ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের তথ্য নিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থান টিম নারায়ণগঞ্জে কাজ করেছে। বিভিন্ন পরিচয়ে ঐ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। জানাগেছে, বিএনপির নির্বাচন নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত না নিলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক ভাবে মাঠে নেমে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেও আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। কোন কোন মনোনয়ন প্রত্যাশী বিগত দিনে রাজনীতির মাঠে না থাকলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাৎ রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। কর্মীসভাসহ ভোটার দ্বারে দ্বারে গিয়ে দোয়া চাইছেন। আবার কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন পাবে না, এটা যেনেও নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছে নিজস্ব ফায়দা হাসিল করার জন্য। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসন আওয়ামীলীগের দখলে থাকলেও আগামী নির্বাচনে পাঁচটি আসনেই প্রার্থী দাবী করেছেন স্থানীয় নেতারা। এদিকে বর্তমান তিনজন সাংসদের মধ্যে একজনের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি, টেন্ডারবাজি, এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে নারায়ণগঞ্জে বর্তমানরাসহ পাঁচটি আসনে প্রায় ৩০জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষনা দিয়েছে। এদের মধ্যে সকলেই দাবী করেছেন, আমিই মনোনয়ন পাবো। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, পাঁচটি আসনে তো আর ৩০জন কে মনোনয়ন দেবে না। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে এই ৩০জনের তালিকার বাহিরেও কেউ মনোনয়ন পেতে পারে। আর এটাই হবে- প্রার্থী তালিকা নিয়ে আওয়ামীলীগের চমক। আবার কোন প্রার্থী নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত মনে করলেও শেষ মূহূর্তে তাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। কেননা ভিশন-২০৪১-এর আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আগামী ইশতেহারে জাতিকে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাবে দলটি। সেই সঙ্গে থাকবে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার। অর্জন ও ব্যর্থতার পাশাপাশি শুধরে নেওয়ার লক্ষ্যে তুলে ধরা হবে ভুলগুলোও। শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তবায়নের রূপরেখাও থাকবে নির্বাচনী ইশতেহারে। আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।  তাই আগামী নির্বাচনে যোগ্য ও জনবান্ধব ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিবে আওয়ামীলীগ। তাই নারায়ণগঞ্জেও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন তালিকায় চমক থাকবে।