নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ ইটভাটা বেআইনি !

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ইট তৈরির প্রধান উপকরণ, মাটির সহজপ্রাপ্যতা ও ইট ভাটার ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় দিন দিন নারায়ণগঞ্জে বেড়েই চলেছে ভাটার সংখ্যা। গত বছর এখানে ইটভাটার সংখ্যা ৩১২টি থাকলেও চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৮টিতে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ৩২৮টি ইটভাটার মধ্যে ১৮০টি জিগজাগ, ১৪২টি সনাতন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা রয়েছে মাত্র ৬টি। ২০১৩ সর্বশেষ সংশোধন হওয়া ইটের ভাটা স্থাপন আইন পাশ হলেও এখনো শত শত ইটের ভাটা বে-আইনিভাবেই কার্যক্রম চালানোয় পরিবেশ অধিদপ্তরের দিকে আঙ্গুল তুলছেন স্থানিয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদিরা। যদিও পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, উচ্চ আদালতে রিট থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা। সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৃষি জমির উপর এসব ইট ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। ভাটা নির্মাণের জন্য চিমনির উচ্চতা ও আনুষঙ্গিক যে নির্দেশনা রয়েছে অধিকাংশ ভাটা মালিক তা যথাযথভাবে মানছেন না। এছাড়া বেশ কয়েকটি ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে কাঠের খড়ি ও টায়ার ব্যবহার করা হয়। এলাকার বাসিন্দারা জানান, অধিক মুনাফার আশায় ভাটার মালিকরা কৃষি জমিতে ভাটা নির্মাণ করছেন। ফলে চরাঞ্চলের কৃষি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশও দুষিত হচ্ছে। এভাবে ভাটার সংখ্যা বাড়তে থাকলে কৃষি উৎপাদনের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে বলে মনে করেন সচেতন মহল। তাদের মতে, পরিবেশ অধিদপ্তর ইচ্ছা করলে অবৈধ ইট ভাটা সব বন্ধ করতে। পরিবেশ অধিদপ্তরের দৈনিক বায়ু মানবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের আটটি প্রধান জেলা শহরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বায়ুর মান ছিল সবচেয়ে খারাপ। ইপিএর প্রতিবদেনে একে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কেইস প্রকল্পের আওতায় বায়ুদূষণের উৎস ও ধরন নিয়ে একটি জরিপ হয়েছে। নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব এয়ার রিসার্চের মাধ্যমে করা ওই জরিপে দেখা গেছে, বায়ু দূষণের প্রধান উৎসই ছিল ইটভাটা। এসব ইটভাটা বায়ুদূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী। এদিকে জেলা সিভিল সার্জন এহসানুল হক বলেছেন, ১০ থেকে ১৫ বছর এই পেশায় থাকলে এমনিতেই ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেছেন, যে সব ইটভাটা অনেক দিন ধরে আছে তারা যাতে আইনের বিষয়গুলো মেনে চলেন তার ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *