মাঠে নেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের সম্ভাব্য আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রচারণায় তৃণমূল পর্যায়ে ছড়াচ্ছে না। বরং মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শুধুমাত্র বিবৃতি আর বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সমাবেশ করে প্রার্থীতা ঘোষণা দিচ্ছেন। কিন্তু তাদেরকে ওইসব নির্বাচনী এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে না। আর এতে করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও রয়েছে দোটানাতে। আর সাধারণ মানুষও চিন্তা করতে পারছে না কারা হচ্ছেন প্রকৃত প্রার্থী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা উঠান বৈঠক সহ নানা ধরনের কর্মসূচীতে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেটা কমে আসছে। বেশ কয়েকজন প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সে কারণেই মাঠে নামেনি। রূপগঞ্জ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক), রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে এমপি গাজী ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্থানে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করেছেন। তবে নির্বাচন নিয়ে বেশী কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেনের নাম আছে। সেখানেও সবাই ব্যক্তিকেন্দ্রীক প্রচারণা চালাচ্ছে। সোনারগাঁ আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। আগামী নির্বাচনে এখানে মহাজোট থাকবে নাকি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করবে সেটাও নিশ্চিত হয়নি। তবে এখানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার নৌকা প্রতীকের জন্য এগিয়ে আছেন। ইতোমধ্যে এ দুইজন বাকযুদ্ধে জাড়াচ্ছেন। এ আসনে সবশেষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। তবে ঘোষণা অবধি শেষ। মাঠে তেমন কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এ আসনে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম থাকলেও নির্বাচন নিয়ে তাকে কোন ধরনের প্রচারণাতে দেখা যাচ্ছে না। বরং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কারণে তাকে দেখা গেছে রাস্তায় নামতে মিছিল সমাবেশ করতে। অপরদিকে ফতুল্লার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যে কর্মীসভা ও কেন্দ্র ভিত্তিক সভা শেষ করেছেন। এছাড়া কামাল মৃধা নিজের প্রচারণা করলেও তাকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর-বন্দর আসনে বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি ও মহাজোটের। আগামীতে নির্বাচনে মহাজোট থাকবে কী না সেটা এখনো নিশ্চিত না হলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে চলছে জোরালো লবিং। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে চান এমন অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান দীপু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *