সোনারগাঁয়ে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল বাড়ছে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে সোনারগাঁ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা। সেই সাথে অভ্যন্তরীন কোন্দলও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কোন্দলের জের ধরে গত ৬  মে অত্র উপজেলায় আওয়ামীলীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনের দিন কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ একে অপরের প্রতি বিষোদগার করেন। এসময় তাদের কর্মী-সমর্থকদেরকেও হট্টগোল করতে দেখা গেছে। এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরেই গত বৃহস্পতিবার রাতে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে জামপুরের আমবাগ চৌরাস্তাস্থিত উপজেলা যুবলীগের শাখা কার্যালয়। এসময় ওই কার্যালয়ে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি দুটিও পুড়ে যায়। এ ঘটনায় উপজেলার প্রকৃত নৌকা প্রেমিকদের হৃদয়ে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।  জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেতে চাইছেন সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এএইচ এম মাসুদ দুলাল, অর্থনীতিবিদ আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া, শিল্পপতি বজলুর রহমান ও লন্ডন প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম। এই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন জাতীয় ও দলীয় প্রোগ্রামগুলো নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে পালন করে আসছেন। তবে এসব প্রোগ্রামে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করায় তাদের কর্মী-সমর্থকরা কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ৬ মে সোনারগাঁ পৌরসভার জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত উপজেলায় আওয়ামীলীগের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলসহ জেলা আওয়ামীলীগের অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে সোনারগাঁয়ের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। এসময় তাদের কর্মী-সমর্থকদেরকে হট্টগোল করতে দেখা যায়। পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ও প্রধান বক্তা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাদের বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদেরকে কোন্দল ভুলে গোটা উপজেলায় নৌকার গণজোয়ার তৈরীর আহ্বান জানান। এসময় তারা উপজেলার নতুন ভোটারদেরকে নৌকার পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতে এবং জনগণের কাছে আওয়ামী সরকারের সকল ভালো দিকগুলো তুলে ধরার নির্দেশ দেন। এছাড়া তারা আরো বলেন, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এ উপজেলায় নৌকার প্রার্থী দেয়ার যে দাবি তুলেছে তা তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানাবেন। এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে তিনি যেই সিদ্ধান্তই নেন তা সবাইকে মেনে নিতে হবে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সেদিন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সোনারগাঁয়ে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবিটি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌছে দেয়ার অঙ্গিকার করে পরে বলেছেন ‘জননেত্রী শেখ হাসিনাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন’। এতেই বুঝা যায় যে সোনারগাঁয়ে কাকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হবে বা মহাজোট হলে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হবে কিনা- তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে তাদের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সোনারগাঁয়ে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অভ্যন্তরীন কোন্দল দেখে তারা সন্তুষ্ট হননি। তাই তারা তাদেরকে কোন্দল ভুলে জনগণের কাছে গিয়ে আওয়ামী সরকারের ভালো দিকগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানান। এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণেই গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের আমবাগ চৌরাস্তা এলাকায় উপজেলা যুবলীগের শাখা কার্যালয়টি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ কার্যালয়টি সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সারের অনুসারীদের হওয়ায় জামপুরের অধিবাসী অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর অনুসারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তা পুড়িয়ে দিয়েছে বলে এলাকায় চাউর রয়েছে। তাছাড়া তা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে পুড়ে যাওয়া কার্যালয়ের সামনে আব্দুল্লাহ আল কায়সারের নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ সভা করা হয়। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলাম ভূঁইয়া ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম শুক্রবার বিকেলে কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন এবং এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *