চমক দেখাতে চান বিএনপির পাঁচ তরুণ নেতা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে সেই নির্বাচনে নির্বাচনী মনোনয়ন লড়াইয়ে ঝলক দেখাতে পারেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আলোচিত ৫ তরুণ নেতা। এ ৫ জনের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ রয়েছে বেশকজনের। ৫জনই ৫টি আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাদের সেই যোগ্যতা থাকলেও এ সম্ভাবনা খুবই কম। এদের মধ্যে একজন বাদে বাকিরা সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিতে রয়েছেন বলেও মত প্রকাশ করেছেন তারা। তারা কাজও করছেন নির্বাচনী আমেজে। আগামী নির্বাচনে ৫ জন তরুণ আলোচিত নেতা জোড়ালো মনোনয়ন দাবিটা ধরে রাখলে এখানকার বিএনপির প্রবীণ নেতারা আটকে যেতে পারেন। অনেক প্রবীণ নেতা এমন নেতাদের লড়াইয়ে ঠেকে যেতে পারেন। যদিও এসব নেতারা বলছেন, এখন তাদের প্রথম টার্গেট কারাগারে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তারপর নির্বাচনের জন্য পুরোদমে ঝাপিয়ে পড়া। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তারা নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনের কর্মসুচি ছাড়া আপাতত ভোট প্রার্থনায় তাদের দেখা যাচ্ছেনা। তবে নেতাকর্মীরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি হলেই এ ৫ জন তরুণ নেতা নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়বেন। স্থানীয় পর্যায়েও এ ৫ নেতা বেশ জনপ্রিয়। এরা মনোনয়ন চাইলে তাদের ম্যানেজ করেই অন্যদের মনোনয়ন দিতে হবে বলেও মনে করেন নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে সবচেয়ে আলোচিত বিএনপি নেতাদের মধ্যে একজন নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদেও ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেই তিনি আড়াইহাজার আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামেও ভুমিকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। এখনও তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখেই আড়াইহাজারে কাজ করছেন। তিনি শুধু তার আড়াইহাজার নয় জেলার বিভিন্ন থানার নেতাদেরও নিয়ন্ত্রণ করছেন। আড়াইহাজারে তার পক্ষে কাজ করছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান আবদু, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবু, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন অনু, মহিলা দলের সভাপতি পারভীন আক্তার ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল হোসেনের মত নেতারা। যে কারনে এ আসনে আজাদকে রাজনীতিতে ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এএম বদরুজ্জামান খান খসরু ও সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে আলোচিত আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশি মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য পদেও রয়েছেন। কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-কোষাধ্যক্ষ পদেও ছিলেন তিনি। তিনিও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করে আসছিলেন। জেলা বিএনপির বেশকটি সংগঠন নিয়ন্ত্রন করেন তিনি। দেশের শীর্ষ ধনীদের একজন গুলবক্স ভুইয়া। সেই গুলবক্স ভুইয়ার নাতি দিপু ভুইয়া। বিশাল ভুমির মালিক দিপু ভুইয়া তার নির্বাচনী এলাকা রূপগঞ্জ এ বেশ জনপ্রিয়। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট  তৈমূর আলম খন্দকার ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির আরও এক আলোচিত তরুণ নেতা পারভেজ আহমেদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পদে রয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে আলোচনায় একজন। এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে  থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মাঠের আন্দোলন সংগ্রামে বেশ সক্রিয় ছিলেন তিনি। যে কারনে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের হাতে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত হন পারভেজ আহমেদ। এর আগেও তিনি রাজপথের আন্দোলনে এসে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়েছিলেন। এরি মধ্যে তিনি আইন পেশায় পুরোদমে নিয়োজিত হন। টিভি টকশোতে জোড়ালো ভুমিকা রাখেন দলের পক্ষে। সরকারের নানা কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি টকশোগুলোতে। এদিকে তিনি নারায়ণগঞ্জের মাঠও ছাড়েননি। এমন পরিস্থিতিতে বার কাউন্সিল আইন পেশা থেকে তাকে বরখাস্ত করে। তার নেতাকর্মীদের দাবি- টিভি টকশোগুলোতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি আইনি প্রক্রিয়াতেই তা মোকাবেলা করবেন। এদিকে ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভুমিকা রাখছেন পারভেজ আহমেদ। নেত্রীর মুক্তির দাবির আন্দোলনের পাশাপাশি মাঠ গুছানোর কাজটাও করছেন তিনি। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম সহ বেশকজন। এ দুজন মাঠের রাজনীতিতে সব সময়ই নিষ্ক্রিয়। এদিকে সদর-বন্দর আসনে ইতিমধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েই গণসংযোগে  নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের টানা দুবার ১৩নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এর আগে যখন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ছিল তখনও তিনি এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন। গত ১৯ মার্চ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার বড় ভাই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। খোরশেদ মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মী তৈরি করেছেন। রয়েছে কমিটিও। এ আসন এলাকায় তৈমূর আলম খন্দকারের অনুসারিরাও খোরশেদের পক্ষে কাজ করছেন। যুবদলের রাজনীতিতে বেশ জনপ্রিয় খোরশেদ। এর আগে কেন্দ্রীয় যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পদেও ছিলেন তিনি। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি আবুল কালাম ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে পরাজিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। উপরোক্ত আলোচিত ৪ তরুণ নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করে আসছেন। নির্বাচনের বিষয় নিয়ে অনেকটা চুপসে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব। তবে তার নেতাকর্মীরা জোড়ালো দাবি করছেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজীবের ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন। নারায়ণগঞ্জ জেলায় বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত এমন নেতাদের মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় মাসুকুল ইসলাম রাজীব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *