নির্বাচনী আলোচনায় মহাজোটের দশ নেতা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় পারভীন ওসমান ও একেএম আবু সুফিয়ান। এই দুইজনই নির্বাচনের আগাম কোন ঘোষণা না দিলেও তাদের কর্মকান্ড ও রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী বক্তব্যই প্রমান করে তারা নির্বাচনের দিকেই যাচ্ছেন। এরি মধ্যে আবু সুফিয়ান নৌকা প্রতীকের ব্যানার ফ্যাস্টুন নিয়েই তিনি নৌকার পক্ষে গণসংযোগে নেমেছেন। এ দুজনের পক্ষেই নেতাকর্মীদের দাবি ওঠেছে নির্বাচনের। একজন আওয়ামীলীগ নেতা অপরজন প্রয়াত চার বারের এমপি নাসিম ওসমানের সহধর্মিনী। গত ৩০ এপ্রিল থেকে সদর-বন্দর আসনের নির্বাচনী আলোচনায় এসেছেন পারভীন ওসমান। প্রয়াত নাসিম ওসমানের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচিতে পারভীন ওসমানকে নিমন্ত্রণ করছেন স্থানীয় লোকজন ও জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা। যদিও পারভীন ওসমান এ পর্যন্ত নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেননি। এদিকে গত শুক্রবার নৌকা প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমেছেন একেএম আবু সুফিয়ান। নতুন করে এ আসনে তারা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, সদর-বন্দর আসনে গত শুক্রবার থেকে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনায় নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত। তার পক্ষে মেয়র আইভীর সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি নেতাকর্মীদের। তবে একেএম আবু সুফিয়ানের অনেক আগে থেকেই এ আসনে নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি সাত নেতা নৌকার পক্ষে কাজ করে আসছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভুইয়া ও আবদুল কাদির। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশি নেতারা গত এক বছর ধরেই নারায়ণগঞ্জের এ আসনে নৌকা প্রতীকের দাবি করে আসছেন। তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় তারা নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার চেয়ে লাঙ্গলের বিরুদ্ধেই বক্তব্য রেখে আসছিলেন বেশি। তাদের একটাই দাবি এ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চাই। আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ভুমিকা রয়েছে সেখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকবে না সেটা আর হতে দেয়া যায়না-এও তাদের দাবি। নেতাকর্মীরা বলছেন, এ আসনের নির্বাচনী আলোচনায় পারভীন ওসমান ও সুফিয়ানকে নিয়ে মোট আলোচনায় দশ নেতা। জাতীয়পার্টি বর্তমানে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোটের শরীক দল হওয়ার কারনে যেমন আলোচনায় ওঠেছে ঠিক তেমনি ওসমান পরিবারের দুই সদস্য এ আসনে এখন আলোচনার বড় বিষয়। কারন এ আসনে বর্তমান এমপি হিসেবে রয়েছেন একেএম সেলিম ওসমান। যদিও তাদের কেউই এখনও নির্বাচনের কোন আগাম ঘোষণা দেননি। আরও জানাগেছে, এ আসনের ৪ বার নির্বাচিত প্রয়াত এমপি ও জাতীয়পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত ৩০ এপ্রিল থেকে এ আসনের প্রতিটি এলাকায় যাচ্ছেন নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান। যেখানে তিনি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব কর্মসূচিতে তার পক্ষে নির্বাচনের দাবি তুলছেন জাতীয়পার্টির নেতারা। এখানে পারভীন ওসমানের দেবর সেলিম ওসমান বর্তমান এমপি। সেলিম ওসমান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলছেন, নির্বাচন মুখ্য বিষয় নয় এখানে উন্নয়ন মুখ্য বিষয়। এ আসনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগের পাশাপাশি লাঙ্গল বিরোধী শ্লোগান তুলেছেন আওয়ামীলীগের ৮ নেতা। তারা বিভিন্ন এলাকায় নিজ নিজ অনুসারি নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন। দাবি করছেন এ আসনে আর জাতীয়পার্টিকে ছাড় দেয়া যাবে না। বিএনপির বিরুদ্ধে না বললেও তারা লাঙ্গলের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন। যার পাল্টা জবাবও জাপার এমপি সেলিম ওসমান দিয়ে যাচ্ছেন। এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে বর্তমানে পারভীন ওসমানের মাঠে নামা। জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, সেলিম ওসমান এমপি হলেও জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা মুল্যায়িত হয়নি। তাই নাসিম ওসমানের স্ত্রী বেগম পারভীন ওসমানকে এ আসনে এমপি হিসেবে তারা দেখতে চান বলেও শ্লোগান তুলেছেন। তিনি নাসিম ওসমানের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসুচিতে এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত রাজনৈতিক ও নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। নেতাকর্মীদের দাবি-পারভীন ওসমান এমপি নির্বাচিত হলে এখানকার জাতীয়পার্টি চাঙ্গা হয়ে ওঠবে এবং নেতাকর্মীরাও মুল্যায়িত হবেন। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি ৮ নেতার সঙ্গে সুরে মিলিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেয়র ড. সেলিনা হায়াৎ আইভীও। তিনিও জোর দাবি তুলেছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে হবে। জাতীয়পার্টিকে এখান থেকে আর ছাড় দেওয়া যাবে না। সদর-বন্দর আসনটি জেলার সদর থানা ও বন্দর থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। যদিও সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন এ আসনের কিছু এলাকা এদিক সেদিক করে আসন বিন্যাস করেছে। তা হলো সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে থাকা এলাকা যা ফতুল্লা থানাধীন তা সদর-বন্দর আসনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এ আসনের মধ্যে বন্দর থানার ৫টি ইউনিয়ন ও সদর থানার দুটি ইউনিয়ন এলাকা বাদে পুরো এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত। এ সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রিয় মেয়র পদে রয়েছেন ড. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফলে এক সময় যারা আইভীর বিরোধীতা করেছিলেন এমন কিছু নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশিরা চাচ্ছেন এখন আইভীর সুদৃষ্টিতে আসতে। কারন গত সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে প্রায় দিগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন মেয়র আইভী। এ আসনে আইভীর ভোট ব্যাংক রয়েছে। এখানে যার দিকে আইভীর সমর্থন থাকবে তার মনোনয়ন পাওয়ার দাবি জোড়ালো হবে। এ আসনে বর্তমানে এমপি রয়েছেন মহাজোটের শরীক দল জাতীয়পার্টি থেকে একেএম সেলিম ওসমান। তিনি বিকেএমইএ-এর সভাপতির পদেও রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *