নারায়ণগঞ্জ শহরে হঠাৎ এতো খালি ট্রাক কেন নগরবাসী জানতে চায়… যানজট নিরসনে ট্রাফিকের ভূমিকায় ছাত্রলীগ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে যানজটের কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে।নগরকে যানজট মুক্ত রাখতে প্রশাসন দিনের বেলা ট্রাক চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়। এমনকি সদর-বন্দর আসনের এমপি সেলিম ওসমান সিটি কর্পোরেশনকে সহায়তা করতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ট্রাক মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক করে দিনের বেলা শহরে সীমিত আকারে ট্রাক প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যখন যানজট কমছিল না তখন ছাত্রলীগ যানজট নিরসনে গতকাল মঙ্গলবার শহরে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় মাঠে নামলে দুপুরের দিকে ফতুল্লা ও লিংকরোড দিয়ে হঠাৎ করে খালি ট্রাক নিয়ে একের পর এক গাড়িসহ চালকরা শহরে প্রবেশ করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এসময় সাংসদ শামীম ওসমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাউকে দেখা যায়নি। সন্ধ্যায় এব্যাপারে জানার জন্য পুলিশ সুপার মঈনুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশ মোতাবেক রাজধানীকে যানজটমুক্ত রাখার জন্য মাওয়াগামী ট্রাকগুলি যাওয়ার অনুমতি ছিল। হঠাৎ করে এতগুলি খালি ট্রাক কেনো আসল এর উত্তরে তিনি জানান, কতগুলি ট্রাক এসেছে জানিনা, তবে এই ধরনের নির্দেশ অনেক আগেই পুলিশ হেডকোর্য়াটার দিয়েছে। যদিও সম্প্রতি সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত মত বিনিময় সভায় পুলিশ সুপার দিনের বেলা ট্রাক প্রবেশের ব্যপারে কড়াকড়ি আরোপের সুপারিশ করেছিলেন। সাধারণ মানুষের ধারণা ছাত্রলীগের কর্মসূচী বানচাল করার জন্য একটি মহল এই কাজ করেছে। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নগরবাসী। কারণ তীব্র যানজটের কারনে চরম দূর্ভোগের শিকার নগরবাসীর পাশে ট্রাফিকের ভুমিকায় রাস্তায় নেমেছে ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নব গঠিত কমিটির কয়েকশ নেতাকর্মীরা গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর মোট ৮টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনের কাজ করছেন। এজন্য ছাত্রলীগের প্রতি নগরবাসী স্বাধুবাদ জানালেও ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হননি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কেউই। এনিয়ে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, এই উদ্যোগকে ভন্ডুল করতে গতকাল দুপুরের পর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শত শত খালি ট্রাক প্রবেশ করানো হয়েছে নগরীতে। আর ট্রাক শ্রমিকদের দাবী, খোদ পুলিশের অনুমতি নিয়েই তারা অনেক দিন পর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রবেশ করেছে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতারা। পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পার পাননি স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানও। দুপুরের পর কয়েকশত নেতাকর্মী শামীম ওসমানের গাড়ী আটকে তাকে জানিয়েছেন এসব অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নব গঠিত কমিটির কয়েকশ নেতাকর্মী মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর মোট ৮টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ শুরু করেছেন। তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, সকাল থেকে পুরো শহরের যানজট শৃঙ্খলায় নিয়ে আসলেও দুপুরের পর থেকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কয়েকশত খালি ট্রাক প্রবেশ করানো হয়েছে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে। তারা জানান, শহরের প্রধান রাস্তা বঙ্গবন্ধু সড়কের উপর দিয়ে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ট্রাক চলাচল করার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আজ হঠাৎ করেই দুপুরের পর শত শত খালি ট্রাক শহরে প্রবেশ করানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের গাড়ী যাওয়ার সময় তার গতিরোধ করে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী বিষয়টি তাকে জানান। এসময় উপস্থিত গণমাধ্যমের কর্মীদের নিয়ে শামীম ওসমান রাস্তায় দাড়িঁয়ে থাকা ট্রাক শ্রমিকদের কাছে শহরে প্রবেশের অনুমতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন,“ এই রাস্তায় ট্রাক ঢুকানো নিষেধ থাকলেও আমাগো পুলিশই ঢুকতে দিছে। তবে আজকা পুলিশরে কোন টাকা দিতে হয় নাই”। কেন তারা শহরে প্রবেশ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবও ট্রাক শ্রমিকরা দিতে ব্যর্থ হয়। এসময় শামীম ওসমান গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন,“ছাত্রলীগের এই মহতী উদ্যোগকে বানচাল করতেই কারো ইশারায় হঠাৎ করেই শহরে শত শত ট্রাক প্রবেশ করানো হয়েছে। যারা এসব ট্রাক থেকে চাঁদা তুলে খায়, ছাত্রলীগের নয়া কমিটি নিয়ে যাদের গায়ে জ্বালা ধরেছে তারাই এই কাজটি করেছে”। শামীম ওসমান বলেন,“ শুনলাম ছাত্রলীগের ছেলেরা ডিসি ও এসপিকে দাওয়াত করেছিল । ছাত্রলীগের এই ভালো উদ্যোগের সাথে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কেউ আসেননি কেন ? কারো ইন্ধনে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ভোগান্তির শিকার বানিয়ে কেউ যদি আখের গোছাতে চাইলে সেই সুযোগ দেয়া হবে না”। অপরদিকে ছাত্রলীগের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের আহবান জানানো হলেও তাদের কেউ আসেননি বলে জানা গেছে। এনিয়ে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে খোদ অনীহা প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও। তবে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ দাবী করেছেন, এই উদ্যোগের সাথী হতে আমরা জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে আমন্ত্রন জানালেও তারা আসেননি। এমনকি তাদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধিও আসেননি। কারণ, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হয়তো নিজেদের “গায়ে ময়লা” লাগাতে চান না বলেই জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ছাত্রলীগের এই মহতী উদ্যোগের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চাননি। কিন্তু দুখ: হয় যখন দেখি এরাই বদ্ধ কামড়ায় বর্তমান সরকারের গুণকীর্তন করেন। হয়ত তাদের মুখের ভাষা এক , মনের ভাষা আরেক। হয়ত কেউ কেউ স্বপ্ন দেখছেন সামনে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হবে। তবে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, জননেত্রী শেখ হাসিনাই আবারও জনগনের রায় নিয়েই ক্ষমতায় আসবেন। এদেশের যুব ও ছাত্র সমাজই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আসীন করবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসময় অনেকটা ট্রাফিক পুলিশের ভুমিকায় অবতীর্ন হয়ে কাজ করেন। অনেককে দেখা গেছে অতিরিক্ত মালবাহী ভ্যান বা রিকশা ঠেলে দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসী প্রশংসার সুরে বলেছেন, সাম্প্রতিক কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের নানা কর্মকান্ডে যেখানে সংগঠনটি বারবার সমালোচিত হয়েছে ,সেখানে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। নগরী চরম যানজটের নেপথ্যে ট্রাফিক পুলিশের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতা। গত কয়েক মাস ধরে যানজটে নাকাল পুরো নগরবাসী। যেখানে পুলিশ,প্রশাসন ও স্থানীয় নগর প্রতিনিধিদের রাস্তায় নামা উচিত ছিল সেখানে ছাত্রলীগের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। শহরের ২নং রেইল গেট এলাকায় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, এর আগেও আমরা স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে রাস্তায় নেমেছিলাম যানজট মুক্ত করতে। ঐ সময় আমরা প্রায় ৭দিন স্বেচ্ছা শ্রম দিয়ে পুরো শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে স্বক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু এরপরের চিত্র সেই আগের মতই হয়েছে এবং এখন পরিস্থিতি আরো বেশী ভয়ানক। আমরা পারলে প্রশাসন কেন পারবে না। জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রাফেল বলেন, যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ অবৈধ গাড়ী পার্কিং। শহরের ৯৮% বহুতল ভবনে গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা নেই, এমনকি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব বহুতল ভবনেও গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা নেই। ফলে শহরের প্রধান সড়কের দুপাশে ভবনগুলোর সামনে গাড়ী পার্ক করে রাখায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। রাফেল বলেন, শহরে সিটি কর্পোরেশনের প্লেটধারী রিকশার সংখ্যা এতটাই বেশী যে যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি বলেন, আমরা ভোর থেকে রাস্তায় নেমে দেখলাম এই শহরের পুলিশের ট্রাফিক আইন শুরু হয় সকাল ১০টার পর। কারণ, শহরে ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ হলেও নগরীর উকিল পাড়া এলাকায় ভোর থেকে সকাল ১০টা অবধি কমপক্ষে ২শত অটো রিকশা সিটি কর্পোরেশনের কাচা বাজারের সামনে অবস্থান করে। এসময় সিটি কর্পোরেশনের ও পুলিশের লোকজন রহস্যজনক কারণে এসব নিষিদ্ধ অটো রিক্সার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে সকালে স্কুল, কলেজ ও অফিস গামী শত সহস্রাধিক নগরবাসীকে যানজটের কবলে পরতে হচ্ছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *