নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আর মাত্র কয়েকমাস বাকি একাদশ জাতঅয় সাংসদ নির্বাচন। গ্রেফতারের ভয়তে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা রয়েছে আতœগোপনে। অপরদিকে সিনিয়র নেতাদের আতœগোপনের কারনে দলটির তৃনমূল নেতৃত্বও পার করছে হতাশার মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে অবস্থা এখন অনেকটাই হ-য-ব-র-ল। জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা বহুমাত্রিক দ্বন্ধে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটি। দলের এমন অবস্থায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা রয়েছে আশা-নিরাশার দোলাচলে। দলীয় কার্যক্রমে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ একেবারেই তলানিতে। যা দলের দৈন্যদশাই ফুটে উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা ছাড়া রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এর মধ্যে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদাজিয়াও দুর্নিতী মামলায় সাজ ভোগ করছে। যার ফলে কেন্দ্রীয়ভাবেও দুর্বল হয়ে পড়ছে দলটি। সেই প্রভাব নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতেও পড়েছে। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে বির্তিত লোকদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করায়। যার ফলে ঠেলা-ধাক্কা দিয়েই ঢিমেতালে চলছে এখানকার বিএনপি। তাদের গতি অনেকটাই লক্কর-ঝক্কর ট্রেনের মতো। তবে এ দলটিতে প্রায় সবাই নেতা, কর্মী খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল। যার ফলে এখানে চেইন অব কমান্ড বলতে কিছুই নেই। নেই কোনো সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনাও। শুধু জেলা কিংবা মহানগর বিএনপিই নয়; প্রত্যেক থানা কমিটিসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। যার ফলে দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা চলে আসছে। মাঝে মধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব আসলেও পুলিশি গ্রেফতারের ভয়তে আবার ফুটো বেলুনের মতোই নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করে দিলেও এব্যাপারে বিএনপি একেবারেই অজ্ঞাত অবস্থায় রয়েছে। এদিকে আবার নতুন করে যোগ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে মামলায় হেরে গিয়ে কার্যালয়বিহীন হতে যাচ্ছে দলটি। দলের এই দুর্দিনে নেতাকর্মীদের একমাত্র ঠিকানা ছিল এই কার্যালয়টি। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অবহেলার কারণেই কার্যালটি হারাতে বসছে দলটির একাধিক নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে। ৯১ থেকে ৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে পৃথকভাবে দু’বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকেও কার্যালয়টি নিজেদের আয়ত্বে না আনতে পারায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এভাবে দলীয় কার্যক্রম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দলটির অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়াই দুস্কর হয়ে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব এই সকল সমস্যা থেকে উত্তরণ হওয়া জরুরি। সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার মাধ্যমেই দলের সক্রিয়তা নির্ভর করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *