নারায়ণগঞ্জে মাদক বিরোধী তৎপরতা এখনও শুরু হয়নি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও শুরু হয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান। তালিকা করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে নারায়ণগঞ্জে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। আড়াইহাজারে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে  বাচ্চু নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সে ঢাকার উত্তরখান থানাধীন দক্ষিনখান এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, নিশান কোম্পানীর একটি জিপ গাড়ী ও ১০ হাজার পিস ইয়াবা (ট্যাবলেট) উদ্ধার করা হয়েছে র‌্যাব। তবে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তারা সাথে আলাপ করলে তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে দিয়েছি। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাও করা হয়ে গেছে। দুই একদিনের মধ্যেই সাড়াজাগানো অভিযান হবে নারায়ণগঞ্জে। আর কোন পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসায়ীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাদক নির্মূলে হার্ডলাইনে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন। এদিকে, পুলিশের তৎপরতা দেখে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। আবার কেউ কেউ মাদক ব্যবসা ছেড়েও দিয়েছে। তবে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে এমন সংখ্যা খুবই কম। অনুসন্ধানে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে মাদকের প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শত চেষ্টা করেও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। অভিনব কায়দায় নারায়ণগঞ্জে মাদক প্রবেশ করছে। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় দিন দিন মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বেশ কয়টি হত্যাকা-ের ঘটনাও ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে। পাশাপাশি কিছু পুলিশ সদস্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেল্টার দেওয়াসহ কোন কোন পুলিশ সদস্য নিজেই মাদক ব্যবসা করছে। এতে করে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও পুলিশের উপর আস্থা কমে যাচ্ছে। তবে এবার নির্দেশনা অনুযায়ী হার্ডলাইনে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের সাতটি থানায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ তেমন ভাবে তৎপরতা শুরু করেনি। বরাবরের মতই ছোটখাট ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হলেও গডফাদাররা এখনো অধরা রয়েছে। দেখা গেছে, গত সোমবার নারীর পেটের পর এবার পুরুষের পরিহিত লুঙ্গির মধ্যে থেকে ৩’শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)। এরআগে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীর পেট থেকে ৮শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছিলেন। অপরদিকে, রূপগঞ্জ উপজেলাধীন চনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১শ’ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার হয়েছে ডিবিতে। গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় বিপুল পরিমান মাদকসহ খোরশেদ নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে। এরআগে গত রবিবার রূপগঞ্জে ছয়জন ও সিদ্ধিরাগঞ্জে চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেয়তার হয়েছে। একই দিন ফতুল্লার ইদ্রাকপুর এলাকায়র শীর্ষ নারী মাদক ব্যবসায়ী নাইট পারভীনকে হেরোইনসহ গ্রেফতার হয়েছে। গত শনিবার সোনারগাঁয়ে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাজিব প্রধান বাবু ওরফে কিং বাবুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই দিন বন্দরে ছয় মাদক ব্যবসাযী গ্রেফতার হয়েছে। গত শুক্রবার কাঁচপুরে মাদক ব্যবসায়ী হাসান ও বন্দরে গাঁজা ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস গ্রেফতার হয়েছে। গত ১৬ মে দিবাগত রাতে শহরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে পাইকারী মাদক ব্যবসায়ী সজীবকে আটশ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। গত ১৫ মে সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে রিকন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই দিন বন্দরে পাঁচ মাদক ব্যবসাযী গ্রেফতার হয়। গত ১২ মে বন্দরে চারজন ও আড়াইহাজারে চারজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়। একই দিন সিদ্ধিরগঞ্জে দুইশ পিছ ইয়াবাসহ সোহরাব গ্রেফতার হয়। সোহরাব মাছ ব্যবসার অন্তরালে ইয়াবা ব্যবসা করতো। একই দিন আড়াইহাড়ারে ৩০ কেজি গাঁজাসহ একটি প্রেইভেট কার জব্দ করে পুলিশ। ৯ মে বন্দর থেকে পিতা-পুত্রকে মাদকসহ গ্রেফতার করে ডিবি। এইদিন রূপগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে পুলিশ। একই দিন ফতুল্লায় ছয়জন ও শহরের সুইপার কলনী থেকে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়। ৮ মে র‌্যাবের অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জে ১১০৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ আজরিম হোসেন ও জসিমকে গ্রেফতার করে। গত ১৪দিনের অনুসন্ধানে দেখাগেছে, যে সকল মাদক ব্যবসায়ী প্রেফতার হয়েছে এরা মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চুনপঁটি। রাঘবভোয়ালরা এখনো অধরা রয়েছে। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মাদক। এর সঙ্গে ধ্বংস করে দিচ্ছে সমাজের হাজারও পরিবারের সুখের সংসার। তরুণরা বেশি মাদকের দিকে আসক্ত হচ্ছে। প্রথম দিকে মানুষ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে কৌতূহলের বশে অথবা বন্ধু বান্ধবের প্ররোচনায়। একদিন দুদিন করতে করতে একসময় এই নেশার মানুষকে বশ করে ফেলে। একসময় নেশা ছাড়া সে কিছু চিন্তাই করতে পারে না। হেরোইন, মরফিন, কোকেইন, প্যাথিডিন, অ্যালকোহল, নিকোটিন সবচেয়ে ব্যবহৃত মাদক। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে ইয়াবা সেবন হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এখন তরুণদের পাশাপাশি তরুণীরাও ইয়াবা সেবন করছে। নারায়ণগঞ্জের শহর থেকে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। গত ৮মার্চ বন্দর থেকে সদর মডেল থানার এএসআই সোহরাওয়ার্দী  রুবেলকে ৫৪ হাজার পিছ ইয়ারা ট্যাবলেট গ্রেফতার করেছিল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আরো পাঁচহাজার পিছ ইয়াবাসহ ৫০ হাজার পিছ পাওয়া যায় এএসআই সোহরাওয়ার্দী  রুবেলের কাছ থেকে। প্রশ্নবিদ্ধ হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। তবে  কোন ব্যক্তির নিজস্ব দায় বাহিনী নিবে না বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মাদকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের বিশেষ অভিযান সম্পর্কে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের অভিযান শুরু হয়েগেছে। মাদকের সঙ্গে আমাদের জিরো টলারেন্স। এখনো নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি-এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করে দিয়েছি। দুই একদিনের মধ্যে আশা করি অভিযানের সুফল নারায়ণগঞ্জবাসী দেখবে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, আমাদের অভিযান চলছে। আজও বিপুল পরিমান মাদকসহ একজনকে গ্রেফতার করেছি। ইতিমধ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাও তৈরী করা সম্পূর্ণ হয়েছে। আর কোন মাদকের ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত থাকায় একাধিক পুলিশ সদস্যের পরিনতিও দেখেছেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, আমাদের অভিযান শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত সাড়াজাগানো কিছু করতে পারিনি। তবে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আশা করি ২-৩ তিন দিনের মধ্যেই সাড়াজাগানো কিছু দেখবেন। আমার দারোগারা মাঠে কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *