সাংসদ সেলিম ওসমানকে ঠেকাতে মাঠে নেমেছে আওয়ামীলীগের নয়জন নেতা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র প্রায় ৭ মাস বাকি। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় এলাকায় তোড়জোর শুরু করে দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল যেমন মাঠে নেমে প্রচারণা চালাচ্ছে তেমনি পিছিয়ে নেই বিএনপিও। তবে বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অনেকটা গোপনে গোপনে। কেননা তাদের নেত্রী কারাগারে। একদিকে নেত্রীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ চালাচ্ছে অন্যদিকে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচনের। এদিকে বিগত সময়ে দেখা গেছে মহাজোট সরকার সদর-বন্দর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু এবার নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের নেতাদের একটাই কথাÑ নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা চাই। এবং সদর-বন্দর আসনে নৌকার মনোনয়ন দিতে হবে। আর এ মনোনয়ন পাবার জন্য মাঠে নেমেছে একই দলের ৯ নেতা। এই ৯ নেতাই তাদের প্রচারণায় একটা কথাই টেনে আনছেন তা হলোÑ এবার কোন ছাড় নয়, সদর-বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী চাই। এক সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের নেতারা প্রচারণা চালাচ্ছে। সদর-বন্দর আসন থেকে চার বারের নির্বাচিত এমপি জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রয়াত নাসিম ওসমান ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। নাসিম ওসমানের অকাল মৃত্যুতে এ আসনে তাঁর ছোট ভাই সেলিম ওসমান লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। পূর্বের সময়গুলোকে বিবেচনা করলে দেখা যায়, সদর-বন্দর যেন লাঙ্গলেরই আসন। কিন্তু এবার তার ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে বলেই মনে করছেন সবাই। কেননা এবার আওয়ামীলীগ থেকে কোন প্রকারের ছাড় দেয়া হবে না জাপাকে এমনটাই দাবি করছে আওয়ামীলীগ নেতারা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সদর-বন্দর আসনে মনোনয়ণ প্রত্যাশী আওয়ামীলীগের ৯ নেতা। সকলেই চালাচ্ছেন তাদের প্রচারণা। সদর-বন্দর আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগের ৯ নেতা হচ্ছেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কর মাহমুদ, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল), সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। এই ৯ নেতা বিভিন্ন দলীয় সভায় মনোনয়ণ প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেছেন। এদিকে এদের মধ্যে কয়েকজন আবার প্রচারণায় মাঠেও নেমেছেন। আনোয়ার হোসেন দলীয় বিভিন্ন সবা সমাবেশে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা দাবি করে বক্তব্য দিচ্ছেন। এবং প্রধানমন্ত্রী চাইলে তিনি নিজেও সদর-বন্দর আসনে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইও জোর দিয়ে বলছেন লাঙ্গলের কাছে নৌকার লোক মার খাচ্ছে। নৌকার লোক না থাকায় বন্দরে আওয়ামীলীগের অবস্থান নড়বড়ে। দীর্ঘদিন ওই এলাকার নৌকার মানুষ নৌকায় ভোট দিতে পারছে না। মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা সরাসরি সদর-বন্দর আসনে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে প্রকাশ্য সভায় জানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীদের। পিছিয়ে নেই আনিসুর রহমান দিপুও। তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে তৎপর হয়েছেন। অন্যদিকে আরজু রহমান ভুইয়া অন্যদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে তার কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদও প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাকে মনোনয়ন দেবার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। পিছিয়ে নেই বাকি নেতারাও। তারাও চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচারণা। মোদ্দা কথা, সদর-বন্দর আসনে এবার লাঙ্গল চাই না, নৌকা চাই। এক সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে আওয়ামীলীগের ৯ নেতা। যদিও জিএম আরাফাত ও একেএম আবু সুফিয়ানও সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। এখনও পর্যন্ত বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান নির্বাচনে অংশ নিবেন কি না এ ব্যপারে মুখ খুলেননি। তিনি সদর-বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর গ্রীন সিগন্যালের পরই সেলিম ওসমান নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *