আবারও অবৈধ টেম্পু স্ট্যান্ড

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত চলাচলকারী টেম্পু স্ট্যান্ড গত এক মাস আগে উচ্ছেদ করা হয়। কারণ এই টেম্পু যানজটে ভুমিকা রাখে। তবুও ফাক-ফোকড়ে মাঝে মধ্যে চলাচল করতে দেখা যায় এই টেম্পুকে। ট্রাফিক পুলিশের নজর থেকে বাঁচার জন্য চাঁদমারি রেল লাইনেই যাত্রী নামিয়ে অপেক্ষা না করেই ফিরে যেত টেম্পু। গতকাল মঙ্গলবার  সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় পুনরায় সেই আগের জায়গায়ই তৈরি করা হয়েছে টেম্পু স্ট্যান্ড। সই আগের মতোই চাষাড়ায় যাত্রী নামাচ্ছে। চাষাড়ায় দাড়িয়ে থেকে যাত্রী নিয়ে আগের মতই চলাচল করছে লিংক রোডে। চাষাড়স্থ পেট্রোল পাম্পের সামনে টেম্পু সারিবদ্ধ ভাবে পার্কিং করা। এবং চাষাড়স্থ ফাস্টফুডের দোকান ফ্রেন্ডশীপের সামনে দুটি করে টেম্পু দাড়িয়ে থাকে। সেখান থেকে টেম্পু যাত্রী নিয়ে চলে যাওয়ার পর আরও দুটি টেম্পু এসে ফাস্টফুডের সামনে এসে দাড়ায়। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী শামীম বলেন, ‘আমরা এখানে এই টেম্পুগুলোর দায়িত্বে আছি। টেম্পুগুলো যাতে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি না করতে পারে তাই খেয়াল রাখছি। প্রায় ১৫-২০ দিন পর আবার এই টেম্পু চালু হয়েছে। এতদিন টেম্পু বন্ধ থাকায় ড্রাইভাররা ঘরে বসে ছিল। তাদের কোনো কর্মসংস্থান ছিল না। সামনে ঈদ, এই ঈদে যাতে তারা একটু সেমাই চিনির ব্যবস্থা করতে পারে মূলত তাই নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের এক শীর্ষ নেতা ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক এই ব্যবস্থা করেন।’ এখন পর্যন্ত কোনো বাধার সম্মুখিন হয়েছেন কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো বাধা পাইনি। তবে এমপি সাহেব এখনো কোনো বাধা দেননি, এমপি সাহেব কোনো বাধা দিলে আমরা আবারো টেম্পু বন্ধ করতে বাধ্য।’  টেম্পু ড্রাইভার নিপু বলেন, ‘ভাই আমরা গরিব মানুষ। এতোদিন কোনো কাজ আছিল না। এখন আবার গাড়ি চালাইতাছি।’ টেম্পু ড্রাইভার হৃদয়  বলেন, ‘সামনে ঈদ, কোনো কাম আছিল না। বাড়িতে খালি বইসা আছিলাম। মাঝে মধ্যে টেম্পু নিয়া বাহির হইতাম। তবে পুলিশের ভয়ে থাকতে হতো। এখন শুনছি তারা কয়দিনের জন্য ব্যবস্থা করছে। ভালো হইসে। ঈদটা অন্তত চিন্তা করতে হইবো না। জেলা আওয়ামী লীগের আরেকজন কর্মী রাজু বলেন, ‘এই টেম্পু স্ট্যান্ড আপাতত অস্থায়ী। এটা ১৫ দিনের জন্য এভাবেই চলবে তার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এটা করা হয়েছে টেম্পু ড্রাইভারদের কর্মসংস্থানের জন্য। ওরা গরিব লোক। অন্তত ঈদের জন্য যাতে একটু কামাই করতে পারে তাই এই ব্যবস্থা করেছেন জেলা কৃষকলীগের এক শীর্ষ নেতা ও মহানগর আওয়ামীলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক। আমরা সাংগঠনিক সম্পাদক ভাইয়ের লোক, মূলত তার আদেশেই আমরা এখানে কাজ করছি। টেম্পুর জন্য যানবাহনের যাতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয় বা যানজট না লাগে তা দেখাশোনা করার জন্যই আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমরা এখানে বেশিক্ষন টেম্পুগুলো দাঁড়াতে দেই না। যানজট ও সৃষ্টি হয় না।’ এদিকে এই রুটের নিয়মিত যাত্রীরা পুনরায় এই টেম্পু চলাচলে যেন খুশিই হয়েছেন। তাদের অনেক ক্ষেত্রেই যেন সুবিধাই হয়েছে। টেম্পু বন্ধ থাকায় তাদের বেশকিছুদিন বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়েছে। যে সমস্যাটা এখন আর নেই। এ প্রসঙ্গে তোলারাম কলেজের সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মিম বলেন, ‘প্রায় ৪ বছরের বেশি সময় ধরে এই রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াত করছি। টেম্পুতেই যাওয়া আসা করি। জালকুড়ি স্ট্যান্ডে দাড়ালেই টেম্পু পাওয়া যেত। তবে কিছুদিন ধরে রাস্তায় টেম্পু ছিল না। ঘন্টার পর ঘন্টা অন্য কোনো পরিবহনের জন্য দাড়িয়ে থাকতে হতো। আর তুলনা মূলক বেশি ভাড়া গুনতে হতো। অনেক সময় জালকুড়ি থেকে চাষাড়ায় যাওয়ার অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকলে অটো শিবু মার্কেটে গিয়ে সেখান থেকে সিএনজিতে উঠতে হয় । ১০ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে গুনতে হয় ১৫-২০ টাকা।  তবে এখন আবার টেম্পু রাস্তায় চলছে। হয়তো এখন আবার চলাচল স্বাভাবিক হবে।’ আমলাপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক স্কুল ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, ‘শিবু মার্কেট থেকে টেম্পুতে ভাড়া লাগে ৫ টাকা। আর অন্য যে কোনো গাড়িতে ভাড়া লাগে ১০ টাকা। যদিও বাসে ৫ টাকা লাগে তবে আমার মেয়ে খুব ছোট, তার তো আর এই ভীড়ের মধ্যে বাসে উঠা সম্ভব নয়। ভীড়ের মধ্যে প্রায়ই বাচ্চা মেয়েদের অনেকভাবে হয়রানি করা হয়। যানজটের কারনে নাকি টেম্পু তুলে দেয়া হয়েছে। তবে সেটা করেও তো যানজট বন্ধ হচ্ছে না। বরং তাতে সাধারন মানুষের ভোগান্তিটাই বেশি হয়েছে। তবে এখন টেম্পুর আবার স্বাভাবিক চলাচলে কিছুটা সমস্যা লাঘব হয়েছে বলা যায়।’ তবে কিছু যাত্রীর অভিযোগ ও রয়েছে। তারা বলছেন টেম্পু তুলে দেয়ার পর এই রাস্তায় যানজট কিছুটা হলেও কমেছিল যা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকাগামী বাস উৎসবের জন্য লাইনে দাড়িয়ে থাকা একজন যাত্রী আসিফ বলেন, ‘ঢাকায় যেতে হলে জ্যামের জন্য লিংক রোডেই বসে থাকতে হতো এক ঘন্টা। কখনো কখনো তারও বেশি। তবে টেম্পু তুলে দেয়ার পর তা অনেকটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু তা আবারও শুরু হচ্ছে। দেখা যায় রাস্তা থেকে যাত্রী নেয়া হয়, আবার অনেক জায়গায় রাস্তায় যাত্রী নামানো। ফলে পিছনের গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে হয় বা গতি ধীর করতে হয়। যার কারণে জ্যাম লাগে।’ নারায়ণগঞ্জে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তাসলিম হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘টেম্পু চলাচল করছে এটা আমি জানি না। ওই রাস্তায় আরো ৩ জন টিআই আছেন। আমি জেলার সব প্রসাশনিক কাজগুলো দেখি। টেম্পু তো ৩ চাকার গাড়ি। এটা এই রাস্তায় চলবে না। আমি বেপারটা দেখছি। এটা কার দায়িত্বে করা হচ্ছে, কারা করছেন, কেনো করা হচ্ছে এটা আমার দেখার বিষয় না। আমি শুধু জানি এটা এখানে চলবে না।’ পরবর্তীতে তিনি তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *