সেই জয়নাল এখন জাতীয় পার্টিতে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নাশকতা মামলার অন্যতম আসামী হিসাবে পরিচিত মোঃ জয়নাল আবেদীন ওরফে আল জয়নাল এবার মামলা থেকে বাঁচতে ও ভ’মিদস্যুতার বদনাম গুচাতে জাতীয়পার্টিতে যোগ দিলেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তার নিজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয়পার্টিতে যোগদানের কথা ঘোষণা করে বলেন, ইদিমধ্যে তিনি জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ লাভ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে জামাত-শিবিরকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কখনো তাঁতীলীগ করিনি। সদর-বন্দর আসনে নির্বাচন করার খায়েশ ব্যক্ত করে বলেন, দল আমাকে এ আসন থেকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই আমি নির্বাচন করব। জয়নাল আবেদীন এরশাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয়পার্টি সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়ে দেশ পরিচালনা করবে। দলকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার জন্যই তিনি জাতীয়পার্টিতে যোগ দিয়েছেন মন্তব্য করে বলেন, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের জাতীয়পার্টি ও অঙ্গসংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মী আমার সংগে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা প্রথম সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় জামায়াত শিবির ও নাশকতাকারীদের পৃষ্ঠপোশক হিসেবে নাম ছিল কেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সঠিক নয়। যদিও তৎকালিন সদর থানার ওসি ও বর্তমানে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের একাধিকবার স্বীকার করেছেন, তার বিরুদ্ধে জামাত-শিবিরকে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগে সদর থানায় তদন্ত করে তিনি প্রতিবেদন রেখে গেছেন। বহুল আলোচিত জয়নালের বিরুদ্ধে আছে ভূমিদস্যুতার একাধিক অভিযোগ। বিতর্কিত এই জয়নাল এবার জাতীয়পার্টিকে যোগ দেয়ার পর নগরবাসী মনে করছে জয়নাল আবেদীনের অতীত কর্মকান্ড ঢাকতেই ক্ষমতাসীন দলের সহযোগি হিসাবে পরিচিত মহাজোটের প্রধান শরীকদল জাতীয়পার্টিতে যোগ দিয়েছে। ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে প্রথমবারের মত মামলা হয়। মামলায় ১১ জনকে আসামী করা হয়। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ২০০৯ এর ৬(২)/১০/১৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘঠন, গোপন ষড়যন্ত্র, অপরাধ সংঘঠেন পরস্পর সহযোগিতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আসামীরা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে অস্থিতিশীল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। আসামীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিরুদ্ধে গোপন সন্ত্রাসের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। আসামীদের বিভিন্ন সন্ত্রাসীমূলক কর্মকান্ডে পৃষ্ঠপোশকতা ও আর্থিক সহায়তাকরী হিসেবে খবিরউদ্দিন, জয়নাল, আলমাস ও ইব্রাহিম সহ অনেকেই সক্রিয়ভাবে সম্পৃকত রয়েছে বলে জানা গেছে। সবশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও জয়নালের ছিল ভিন্ন আচরণ। ভোটের আগে আওয়ামীলীগের এমপি শামীম ওসমান যখন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জুয়েল মোহসীন পরিষদকে জয়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান তখন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী আল জয়নাল এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরিষদকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছিলেন অভিযোগ তুলেছিলেন আইনজীবীদের মধ্যে থেকে। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ফতুল্লায় সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েলের বাবা তার জীবনের শেষ আয়ের টাকা দিয়ে ৪শতাংশ জমি কিনেন। কিন্তু আল জয়নাল সেই জমির চার দিকের জমিগুলো ক্রয় করে জুয়েলের এ জমি দখলের চেষ্টা করেন। প্রভাব খাটিয়ে জুয়েলের কাছ থেকে জমি ক্রয় করারও প্রস্তাব দেয় জয়নাল। জমিটি বিক্রি করতে সম্মত না হওয়ার কারণে জোর করে জয়নাল দেয়াল নির্মাণ করেন। ওই সময় জয়নালের সন্ত্রাসী বাহিনী জুয়েলের আপন ভাইকে মারধর করে চোখ উপড়ে ফেলেছিল। এ নিয়ে জুয়েল আদালতে মামলা করলে সেই মামলায় জয়নালের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিকে জয়নাল আবেদীন অনেকটা চুপিসারেই গতকাল তার বাস ভবনে মিডিয়া কর্মীদের ডেকে অনেকটা গোপনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *