শীর্ষনেতারা খালেদার মুক্তির আন্দোলনে মাঠে নেই

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা। এ জেলায় ইতিমধ্যে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠিত হলেও পদ পেয়ে নেতাকর্মীরা বসে আছেন ঘরে। আর যার পদ প্রত্যাশি তারা দৌড়াচ্ছেন ঢাকায়। পদের রাজনীতিতে উত্তাল নারায়ণগঞ্জ। তারা এ জেলার ভাইদের রাজনীতি করেন। দলীয় প্রধান গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে থাকলেও তাদের মাথা ব্যথা নেই। যেমনটা দেখা গেল গত ১০ জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে। জানাগেছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ও তার সু-চিকিৎসার দাবিতে গত ১০ জুন রবিবার কেন্দ্রীয় বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশ সারাদেশে ঘোষণা করে। ওই দিন নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচিটি পালনের নামে ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ  জেলা বিএনপির ব্যানারে শহরের চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। যেখানে গত ৬ জুন জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ পাওয়া একজন ছাত্রদল নেতাও উপস্থিত ছিলেন না!অথচ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি ও সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম সজীব সহ ১২ সদস্যের কমিটি হয়। পদ পেয়েই তারা ঘরে বসে পড়লেন। এখন আর তাদের কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। নেত্রীর মুক্তিও তাদের দরকার নেই! এমনটাই দেখালেন নতুন কমিটির নেতারা। কিন্তু নতুন কমিটি হলে যেখানে জোড়ালো ভুমিকা রাখার কথা সেখানে জেলা ছাত্রদলের করুণ অবস্থা। একইভাবে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির ২৬ জনের কমিটি হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪ জন নেতা। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ আকবর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার উপস্থিত ছিলেন মাত্র। তবে মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলেও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির কর্মসুচিতে। এর মধ্যে সামনে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের পদ প্রত্যাশি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সেক্রেটারি আশরাফুল আলম রিপন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব রহমান। গুটিকয়েকজন কর্মী সমর্থকদের নিয়ে তারা ওই দিন সমাবেশটি করেন। কিন্তু যারা কমিটিতে এসেছেন তারাও আসেননি এবং যারা পদ প্রত্যাশি তারাও আসেননি। তাদের গন্তব্য এখন ঢাকায়। আরও করুণ পরিস্থিতি দেখা গেল মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে। নেতা কর্মী সমর্থকদের সব মিলিয়ে মাত্র উপস্থিত ছিলেন ১৫ জন! মহানগর বিএনপির ব্যানারে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, ফখরুউদ্দীন মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি সাখাওয়াত ইসলাম রানা উপস্থিত থাকলেও পদ প্রত্যাশি কিংবা পদ পাওয়া ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি রয়েছেন আমেরিকায়। গত ৬ জুন মহানগর ছাত্রদলের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। যেখানে সাহেদ আহমেদ সভাপতি, মমিনুর রহমান বাবু সেক্রেটারি ও শেখ মাগফুর ইসলাম পাপনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হয়। যার একজনও মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে এসে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করলেন না। এছাড়াও গত ৭ জুন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। যাদের মধ্যে গত শনিবার নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলাও হয়। ওই মামলায় ৪জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের একদিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি আবুল কাউসার আশা সহ কমিটির বাকি ৪ জনই মামলায় আসামি হয়েছেন। মামলার পরেও স্বেচ্ছাসেবকদলের সেক্রেটারি সাখাওয়াত ইসলাম রানা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মহানগর ছাত্রদলের কেউ ছিলেন না। নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী মাদার সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করেই বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো পরিচালিত হবে এবং মাদার সংগঠনের যে কোন কর্মসূচিতে জনবল নিয়োগ সহ সকল প্রকাশ সহযোগীতা করার বিধান রয়েছে। এছাড়াও যাদের দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া রয়েছে কারাগারে সেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচিতে পদ পেয়ে নেতাকর্মীরা এখন ঘরে বসে পড়েছেন। আর যারা পদ প্রত্যাশি তারাও নেত্রীর মুক্তির চেয়ে তাদের ভাগে পদ ভাগিয়ে আনাটাই প্রধান কাজ হয়ে দাড়িয়েছে। এমনটাই দেখা গেল গত ১০ জুন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি কর্মসূচিতে। এখানে উল্লেখ্যযে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হয়। ওইদিন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন- বেগম খালেদা জিয়া বেশ অসুস্থ্য। তার সু-চিকিৎসার দরকার। একই সঙ্গে তার মুক্তিও দাবি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *