নাড়ির টানে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কয়েকদিন বাদেই ঈদ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই এখন বাড়ির মুখি। ট্রেন এবং বাস অথবা লঞ্চ যে বাহনেই ব্যবহার করা লাগবে তাতে এখন প্রতিযোগীতা। কার আগে কে সেই হবে ভাগ্যবান। আর এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে অনেকেই ঈদের ছুটির সঙ্গে নিয়েছেন বাড়তি ছুটি। বাড়তি ছুটির সংখ্যা একেবারে কম নয়। অনেক অফিসে এই ছুটি নেয়ার সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। বাকী যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা হাজিরা দিয়েই জরুরী না হলে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। এ অবস্থা দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জের সরকারী অফিসগুলোতে। নারায়ণগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অফিস এলজিইডি, গণপূর্ত, ডিসি অফিস, এসপি অফিস, জেলা পরিষদ, নির্বাচন অফিস, সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, বিআইডব্লিউটিএ, ড্রেজার, বিদ্যুৎ অফিস, সিটি কর্পোরেশন, প্রাণী সম্পদ, কলকারখানা পরিদর্শক, সিভিল সার্জন, টিঅ্যান্ডটি, ডাকঘর, ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল, মাদক নিয়ন্ত্রণ, উপজেলা অফিস গুলোতে ঘুরে এমন অবস্থা দেখাগেছে। বলতে গেলে অনেক অফিস সম্পূর্ণ ফাঁকা দেখা গেছে। কোথাও এমন আয়োজন যে, মনে হবে আজই ঈদের আগে শেষ অফিস। এসব অফিসের সেবা প্রার্থীদের ঈদের পরে দেখা করার সময় দিয়ে বিদায় দেয়া হয়। এর বাইরে আদালত প্রাঙ্গনেও একই সুর লক্ষ করা গেছে। বিচার প্রার্থীদের আইজীবীর সহকারীরা ঈদের পর আসতে বলে দিচ্ছেন। এই অল্প সময়ে ফাইলিং করার থেকে ঈদের পর ফাইলিং করার কথা বলছেন আইনজীবীর সহকারীরা। চাকরিজীবী তপন শিকদার বলেন, ঈদ মানে অনেক ঝামেলা। কেনাকাটা, দীর্ঘ পথ যাতায়াতের ঝক্কি সামলানো চাট্টিখানি কথা নয়। তার উপর রয়েছে পরিবেশ পরিস্থিতির খর্গ। সব মিলিয়ে ঈদের ৩ দিনের ছুটির সঙ্গে আরো কয়েক দিনের ছুটি নেয়ার আগ্রহ থাকে সবার। তবে যাদের হাতে কাজে কম তারাই এই ছুটি পেয়ে থাকেন। ছুটি না দেয়ার সুযোগ নাই। তার প্রাপ্য ছুটি থেকেই ছুটি পেয়ে থাকেন। আনন্দ ঘন ঈদ, আনন্দ নিয়ে কাটিয়ে যথা সময়ে অফিসে ফিরে আসুক এই প্রত্যাশা থাকে কর্তা ব্যাক্তিদের। আরেক চাকরিজীবী আল আমিন বলেন, সবার বাড়ি নারায়ণঞ্জে নয়। চাকরির প্রয়োজনে অনেকে দূর দূরান্ত থেকে এসেছেন। যারা নারায়ণগঞ্জে স্থায়ী তারা ঈদের সময় বাড়তি ছুটি নেন না। অন্য সময় তারা বাড়তি ছুটি কাটিয়ে থাকেন। যাদের ঈদ গ্রামের বাড়ি গিয়ে করতে হবে, তারা দূরত্ব ভেদে ছুটি নিয়ে থাকেন। যাতায়াতে অনেক সময় তাদের চলে যায়। তাই ঈদের আগে বাড়ি পৌছে আবার সঠিক সময়ে অফিসে ফিরতে পারেন সেইজন্য তাদের একটু সুযোগ দেয়া হয়। সর্বপরি ঈদ আনন্দ পরিবারের সকলের সঙ্গে যাতে করা যায় সেই দিকটি বিবেচনা রেখে অফিস করে থাকেন কর্তা ব্যাক্তিরা। কর্তা ব্যাক্তিদের এই আনন্দ কোন ভাবেই যেন ফিকে না হয়ে যায় সেই চেষ্টায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহযোগীতা করে থাকেন মাত্র।  এদিকে প্রিয়জনের সাথে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর উদযাপন করতে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘরমুখো মানুষ। ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল ও দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টারগুলোতে। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ থেকে দূরদূরান্তে যাতায়াত করা পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সেই সঙ্গে লঞ্চ দিয়ে যাতায়াতে যাত্রীদের বোঝাই করে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর-মুন্সীগঞ্জ নৌরুটে এখন বেড়েছে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ। পাশাপাশি এ জেলায় বসবাস করা দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের চাপ বেড়েছে দুরপাল্লার আন্ত:জেলা পরিবহনগুলোতে। তবে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। যদিও এসব নৌ যান ও সড়ক পথে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *