মর্গ্যান স্কুলই গুরু-শিষ্যকে এক করেছে!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মাঝে বৈরি সম্পর্ক এখন আবার ভাব, এ নিয়ে নগরবাসী অনেকটাই অবাক! প্রশ্ন ওঠেছে, কি এমন কারণ হঠাৎ করে সেলিম ওসমানের সাথে আনোয়ার হোসেনের এমন গলায় গলায় পিরিত? অনেকেই বলছেন, এর নেপথ্যে ‘স্বার্থ’ সম্পর্কিত কোনো ব্যাপার রয়েছে। তাহলে কি সেই স্বার্থ কিংবা এই স্বার্থটি একক না উভয়ের? এমন প্রশ্ন যখন সর্বত্র ডালপালা মেলতে শুরু করেছে তখন এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এখানে একক স্বার্থ কারো নয়। উভয়ের স্বার্থের জন্যই গুরু ও শিষ্যের এই মিলন। তথা সেলিম ওসমানের স্বার্থ আনোয়ার হোসেনকে তিনি পাশে চান এবং আনোয়ার হোসেনের এই মুহূর্তে প্রয়োজন সেলিম ওসমানকে। অর্থাৎ দুজনই দুজনকে দিয়ে নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টায় মত্ত। সূত্র বলছে, আগামী আগষ্টের মধ্যেই মর্গ্যান স্কুলের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরপর সেপ্টেম্বরের দিকে নির্বাচন। নির্বাচনের পরই সিলেক্ট করা হবে নতুন কমিটির সভাপতি। আর এই সভাপতি পদটি তিনিই পাবেন স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান যাঁকে চাইবেন। কেননা, এমপিও ভূক্ত স্কুলগুলোর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপির নির্ধারণ করা ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ হতে পারে না। এক্ষেত্রে সেলিম ওসমানের সাথে যদি বৈরি সম্পর্ক থাকে তাহলে স্কুল কমিটির সভাপতি পদটি হাতছাড়া হবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের। মূলত, তা যেন না হয়; এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে সম্পর্কটা আগেভাগেই ঝালিয়ে নিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘গুরু’ খ্যাত আনোয়ার হোসেন। কেননা, এবারও মর্গ্যান স্কুলের ‘সভাপতি’ পদটি ধরে রাখার প্রত্যাশা করছেন আনোয়ার হোসেন। অপরদিকে সামনেই নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে সেলিম ওসমান বিরোধী শিবিরের সদস্য হিসেবে আনোয়ার হোসেনও একজন। বিশেষ করে নেতৃত্বস্থানীয়দের মধ্যে তিনি রয়েছেন। এর বাইরেও ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা। এরমধ্যে ইতোমধ্যে আব্দুল হাইকে বাগিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছেন ওসমান পরিবারের ক্ষমতাধর এই সাংসদ।  অন্যদিকে মর্গ্যান স্কুলকে কেন্দ্র করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকেও বাগে নিয়ে এসেছেন সেলিম ওসমান। সম্প্রতি নাসিক কর্তৃক এই স্কুল ভবন ভাঙার মধ্য দিয়েই গুরু-শিষ্য হিসেবে খ্যাত আনোয়ার হোসেন ও সেলিম ওসমানের মধ্যে পুনরায় মিলন ঘটেছে। এ কারণে সেলিম ওসমানের প্রতি আনোয়ার হোসেন সদয় এবং আনোয়ার হোসনকে ডিফেন্স করছেন সেলিম ওসমান। এদিকে একটি সূত্র বলছে, মর্গ্যান স্কুলের সভাপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সেলিম ওসমানের সাথে ভালো সম্পর্কই বজায় রাখবেন আনোয়ার হোসেন। এরপর সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গেলে এই সম্পর্কে আবারও চির ধরবে। কেননা, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার আগ পর্যন্ত আনোয়ার হোসেনের সুসম্পর্ক ছিলো শামীম ওসমানের সাথে। এই দুই পদ পেয়ে যাওয়ার পর থেকে আনোয়ার হোসেনের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে আনোয়ার হোসেনের। এবারও যে এর ব্যাতিক্রম হবে না, তা এখন অনেকের কাছেই স্পষ্ট। তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আনোয়ার হোসেন তাঁর স্বার্থ তথা মর্গ্যান স্কুলের সভাপতি পদটি সেলিম ওসমানের কল্যাণে পুনরায় পেয়ে গেলেও আনোয়ার হোসেনের সাথে যে লক্ষ্য নিয়ে এই সাংসদ সম্পর্কের দূরত্ব ঘুচিয়ে এনেছে সে স্বার্থ কি শেষতক রক্ষা হবে? কেননা, সংসদ নির্বাচনের আগেই মর্গ্যান স্কুলের নির্বাচন। প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জে তথা সদর-বন্দর আসনে লাঙ্গল ঠেকাও দাবিদারদের একজন হিসেবে আনোয়ার হোসেনের অবস্থান অন্যতম। বেশ কিছু সভা-সমাবেশেও তিনি লাঙ্গল চাই না নৌকা চাই শ্লোগান তুলে জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *