সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ইং, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৩:২৯

শিরোনাম

‘ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা        দুই ব্যবসায়ীকে যেভাবে সাত টুকরো করেছে পিন্টু        জগন্নাথ ঠাকুর বাড়ি ফিরলেন        আজাদ বিশ্বাসের উপর  পুলিশের অনেক বিশ্বাস!        যে নেতারা লাঙ্গলে ভোট দিয়েছে সামনে তারা কিসে ভোট দিবেন?        অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়াতে হবে : আইভী        আড়াইহাজার পৌর নির্বাচনে জেলা বিএনপির নেতাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন        স্বপন হত্যায় আদালতে ঘাতক পিন্টুর জবানবন্দী       

কোন্দল জিইয়ে রেখেছেন আইভী

Badal-nj | ০৩ জুলাই, ২০১৮ | ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বৃহত্তর কুমিল্লা, চট্টগ্রামের মত জেলাতে সিটি নির্বাচনের পূর্বে দলের স্বার্থে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে বাঘা বাঘা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতারা নিজেদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হলেও নেত্রীর সেই নির্দেশ কেবল উপেক্ষিতই রয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জে। স্বয়ং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দেড় বছর পূর্বে ক্ষমতাসীন দল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের দেশব্যাপী আলোচিত দুই জনপ্রতিনিধি, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে গণভবনে তলব করে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ ঘুঁচিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে এর কোন প্রতিফলনই পরিলক্ষিত হয়নি উভয়ের মাঝে। উপরন্তু, প্রভাবশালী এই দুই নেতার দ্বন্দের প্রভাবে আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যে কোন কমিটিতেই নিজেদের বলয়ের নেতাদের পদায়নে উভয়ের মধ্যে চলে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে ঘিরেও এই দ্বন্দের প্রভাব ছড়িয়েছে একাধিক নির্বাচনী আসনে। দলীয় সম্ভাব্য একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও নিজ অনুগামী প্রার্থীর মনোনয়ন প্রাপ্তিতে লবিংও চালিয়ে যাচ্ছেন আইভী ও শামীম ওসমান। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণের স্বার্থে কিংবা আওয়ামীলীগে ঐক্যের লক্ষ্যে শামীম ওসমান ও আইভীর কোন্দল নিরসনের চেষ্টা আর ‘আকাশ কুসম’ দেখা একই ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে বহু মহারথীও তাদের মধ্যকার কোন্দল নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে শেষতক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে মাতৃতুল্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর একাধিকবার শামীম ওসমান নিজেদের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ পরিহার করে ছোট বোন আইভীকে কাছে টানার চেষ্টা করলেও আইভী তাতে পাত্তা না দিয়ে উল্টো নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ জিইয়ে রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আনোয়ার হোসেন অনেকটা স্বপ্রণোদিত হয়েই শিষ্য শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার দ্বন্দ নিরসনের উদ্যোগ নেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন উভয়ের রাজনৈতিক ‘গুরু’ দাবীদার মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন। কিন্তু তিনি মুখে উদ্যোগ নেয়ার কথা বললেও কার্যত ‘লবডঙ্কা’ হওয়ার ফলে উন্নয়ণের স্বার্থে আপন ছোট ভাই শামীম ওসমান ও আদরের ছোট বোন আইভীর মধ্যকার দ্বন্দ নিরসনে একাধিক উদ্যোগ নেন, সদর-বন্দর আসনের জাতীয় পার্টির এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম সেলিম ওসমান। শুধু তিনি নিজেই নয়, সংরক্ষিত আসনের আওয়ামীলীগের এমপি এড. হোসনে আরা বাবলী, রাজনীতিতে ‘কিং মেকার’ হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ড ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীসহ জেলার প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদকেও শামীম ওসমান আর আইভীর দ্বন্দ নিরসনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির এই প্রভাবশালী এমপি।  সর্বশেষ, দ্বন্দ নিরসনের সকল প্রচেষ্টায় নিস্ফল হয়ে সেলিম ওসমানও নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেন। গত ২৬ জুন সদর-বন্দর আসনের এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নগরীতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি আয়োজিত নিজের গণসংবর্ধনায় অকপটে এই ব্যর্থতা স্বীকার করেন সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আমাকে যতই সংবর্ধনা দেন না কেন আমি ব্যর্থ। আমি ছোট ভাই ও বোনের (শামীম ওসমান ও আইভী) ঝগড়া থামাতে পারি নাই। কারা এসব ঝগড়া করায়, কারা এটা সৃষ্টি করায়। আমি দায়িত্ব দিয়েছিলাম মোহাম্মদ আলী, এমপি বাবলী, আমিনুর রহমানের কাছেও। কিন্তু তারাও ব্যর্থ।’ এছাড়াও এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ণের স্বার্থে সেলিম ওসমান বহুবার সিটি মেয়র আইভীকে একসাথে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে এসেছিলেন। এত ঘটনার পর বিব্রত আওয়ামীলীগ সরকারের নির্দেশে শামীম ওসমান ও আইভীকে ফের ঢাকায় তলব করে খোদ প্রধানমন্ত্রী দু’জনকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানালেও নেতা-কর্মীদের মতে শামীম ওসমান সাড়া দিলেও আইভী সাড়া না দিয়ে উল্টো বিভিন্ন মন্তব্য করায় শেষ পর্যন্ত সমজোতা ভেস্তে গেছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর শামীম ওসমান নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ নিরসনে একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও কোন্দল জিইয়ে রেখেছেন আইভী। তার প্রমাণ আইভীর আচরন ও তার ঘনিষ্টভাজন হিসাবে পরিচিত আবু সুফিয়ানের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Copyright © Dundeebarta.com. ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসির উদ্দিন, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ০১৭১২৫৭৪৯৯০