সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ইং, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৩:২৯

শিরোনাম

‘ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা        দুই ব্যবসায়ীকে যেভাবে সাত টুকরো করেছে পিন্টু        জগন্নাথ ঠাকুর বাড়ি ফিরলেন        আজাদ বিশ্বাসের উপর  পুলিশের অনেক বিশ্বাস!        যে নেতারা লাঙ্গলে ভোট দিয়েছে সামনে তারা কিসে ভোট দিবেন?        অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়াতে হবে : আইভী        আড়াইহাজার পৌর নির্বাচনে জেলা বিএনপির নেতাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন        স্বপন হত্যায় আদালতে ঘাতক পিন্টুর জবানবন্দী       

নেতাদের কোন্দলে ক্রমশ দূর্বল হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

Badal-nj | ০৩ জুলাই, ২০১৮ | ১:১০ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের বিএনপি রাজনীতিকে জেলা ও মহানগরের সর্বশেষ কমিটি গঠনের পর থেকে অর্ন্তদ্বন্দ্ব সহ নানা কারণে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। দলের ত্যাগী নেতাদের মাইনাস করে বিতর্কিত সংষ্কার পন্থিরা কমিটিতে বিভিন্ন পদে ঠাঁই পেলে দলের মধ্যে কোন্দর বিভক্তি দেখা দেয়। শুধু তাই নয় নেতাদের কোন্দলের কারণে কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বিভাজন, যে কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে তেমন কোন ভ’মিকা পালন করতে পারছেনা। এতে ত্যাগী নেতাদের অনেকে মনক্ষুন্ন হয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে অবস্থান করেন। আর যারা এখনো দলকে ভালবেসে দলের কর্মসূচি সহ সকল কর্মকান্ড নিয়ে অটল ছিল তাদেরকে জেল-জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে। এদিকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে নতুন করে চাঙ্গা করতে নতুন করে সব জেলা ও থানা পর্যায়ে কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু দলের নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়েও বিদ্রোহ, আন্দোলন সহ বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্ব বিরোধ দৃশ্যমান হচ্ছে। এছাড়া নিজ দলের কর্মসূচি উপস্থিত হতে না পারলেও সরকার দলের ক্ষমতাসীনদের অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জেলাতে নানা সমস্যার কারণে এই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে; যেকারণে দলটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে তৈমূর আলম খন্দকারের জেলার নেতৃত্বে কেড়ে নেয়া হয়। কমিটিতে পদ পদবী পেয়েছেন বিদ্রোহী কমিটির নেতা ও সরকারি দলের আঁতাতকারী নামধারী বিএনপির নেতারা। যেখানে মহানগর বিএনপির কমিটিতেও ঠাঁই পেয়েছেন বন্দরে বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের ও সরকারি দলের সঙ্গে আঁতাতকারীরা। কিন্তু বন্দরে যারা তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে যারা রাজনীতি করেছেন কেবল তারাই এখনও আপোষহীন। হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হলেও সরকারি দলের সঙ্গে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে আঁতাতে যায়নি তৈমূর আলম খন্দকার পন্থীরা। জানা গেছে, ২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন তৈমূর আলম খন্দকার। বিএনপির ওই সম্মেলনকে বানচাল করতে কাজ করেছিল বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা। একইভাবে এর আগে শহর বিএনপির কমিটি গঠনেও বিদ্রোহ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পাল্টা নামেমাত্র কমিটি ঘোষণা করে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বন্দরে বিএনপির মূলদলের কমিটি গঠন করা হলে সেখানেও বিএনপির বিদ্রোহী করেন কিছু নেতাকর্মীরা যারা সরকারি দলের সঙ্গে প্রকাশ্যে আতাত করে বিএনপির রাজনীতি করেছিলেন। বর্তমানে ওইসব আতাতকারী দালাল শ্রেণির নেতাকর্মীরা এতটাই নিচে নেমেছেন যারা অন্য দলের নেতাদের ছবি নিয়ে মিছিল করে জাতীয় পার্টির এমপিকে সংবর্ধনা দিতে যান। দীর্ঘদিন বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি হাজী নূরউদ্দীন, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম হিরন, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন, বন্দর শহর বিএনপির সভাপতি নূর মোহাম্মদ পনেছ, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ মাজহার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেনশাহ আহমেদ তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। এ দুটি কমিটির পাল্টা কমিটি গঠন করা হয়। মূলত বিদ্রোহী কমিটি ও আতাতকারীরা ছিলেন বিএনপির সাবেক এমপি আবুল কালামের অনুসারি। মহানগর বিএনপির কমিটিতে আতাউর রহমান মুকুলকে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি, হান্নান সরকারকে দপ্তর সম্পাদক ও আজহারুল ইসলাম বুলবুলকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হান্নান সরকার, এনায়েত হোসেন, সুলতান আহমেদ, কামরুজ্জামান বাবুল, গোলাম নবী মুরাদ বিএনপির সমর্থনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে জয়ী হন। সেই তারাই গত ২৬ জুন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দলের কেন্দ্রীয় সভাপতির ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল করে সেলিম ওসমানকে সংবর্ধনা দিতে আসেন বিএনপির পদধারী নেতারা। তবে কেউ কেউ বলছেন, হামলা মামলা নির্যাতন থেকে বাঁচতেই এসব বিএনপির নেতারা সরকারি দলের সঙ্গে কাজ করছেন। এসব নেতারা মূলত আবুল কালামের অনুসারি। এদিকে নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশ যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা একটি জোট করে একত্রে ওই লিখিত নালিশ কেন্দ্রে জমা দিতে যাচ্ছেন। এতে নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারী দলের সঙ্গে অতিমাত্রায় তোষামেদ সহ গোপন আঁতাতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এদিকে বেগম খালেদা জিয়া ইস্যুতে হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা যখন অনেকটা থমকে গিয়েছিল তাদের চাঙ্গা করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলের অনেক নেতাকর্মীকে ঢাকায় দৌড়ঝাপ করতে দেখা যায়। তদবির, লবিং সহ নানা কুটকৌশলের মধ্য দিয়ে সুবিধেমত কমিটি বাগিয়ে আনার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানো হয়। এর মধ্যে জেলা ও মহানগর ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে করে ফের দলের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব বিভক্তি দেখা যায়। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একটি সিন্ডিকেট হয়েছে। তাদের কথামত হচ্ছে কমিটিগুলো। সবশেষ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে মারত্মক কূটকৌশল হয়েছে। সেখানে স্থলাষিভিক্ত করা হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় বিএনপির অঘোষিত নিয়ন্ত্রক নজরুল ইসলাম আজাদের অনুগামী এস এম সায়েমকে। আর সেক্রেটারী হয়েছেন বার বার দল পাল্টানো বহুল বিতর্কিত মাহাবুব হোসেনকে। দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে  গত জেলা ও মহানগর কমিটিতে সংস্কার পন্থী ও বিদ্রোহী নেতাদের নাম ঘোষণার পর থেকে ত্যাগী নেতারা অনেকটা ব্যাকফুটে চয়ে যান। আর কমিটির পদ পদবীধারী বিদ্রোহী নেতরা পুলিশের হামলা, মামলার ভয়ে দলীয় কর্মসূচি থেকে অনেকটা দুরে থাকেন। এতে করে জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে ত্যাগী নেতাদের অনেকে দলকে ভালবেসে দলের টানে দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে কিছুতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জেল-জুলুমের শিকার হচ্ছে। এসব নানা কারণে দলের মধ্যে অনেক সময় প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখা দিলেও অর্ন্তদ্বন্দ্বে পুরো দলটি জর্জরিত হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সংষ্কার পন্থী ও বিদ্রোহী নেতাদের কমিটিতে পদ পদবী দিলে নানা সমস্যা তো দেখা দিবেই। তাছাড়া ত্যাগী নেতাদের এক্ষেত্রে মনক্ষুন্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। এছাড়া একদল ত্যাগী নেতা দলের জন্য অটল থাকলে তাকে জেলা জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু বিএনপি নেতারা সরকার দলীদের সাথে আঁতাত করে দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। আবার দলে নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে লবিং সহ কোন্দল-বিভক্তি দেখা দিলে তা নিয়ে বিতর্কে জড়াচ্ছে। এসব নিয়ে দলের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে চেয়ে অর্ন্তদ্বন্দ্ব বেশি দেখা যাচ্ছে। যেকারণে এই দলে এতো বিভক্তি ও কোন্দল দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দলটি সব দিক দিয়ে বারবার দুর্বল হয়ে পড়ছে।

Copyright © Dundeebarta.com. ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসির উদ্দিন, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ০১৭১২৫৭৪৯৯০