সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ইং, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৩:৩২

শিরোনাম

‘ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা        দুই ব্যবসায়ীকে যেভাবে সাত টুকরো করেছে পিন্টু        জগন্নাথ ঠাকুর বাড়ি ফিরলেন        আজাদ বিশ্বাসের উপর  পুলিশের অনেক বিশ্বাস!        যে নেতারা লাঙ্গলে ভোট দিয়েছে সামনে তারা কিসে ভোট দিবেন?        অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়াতে হবে : আইভী        আড়াইহাজার পৌর নির্বাচনে জেলা বিএনপির নেতাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন        স্বপন হত্যায় আদালতে ঘাতক পিন্টুর জবানবন্দী       

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ-জাপা’র টানাপোড়েন

Badal-nj | ০৪ জুলাই, ২০১৮ | ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগের জোট মহাজোট গড়া নিয়ে যখন কেন্দ্রীয় ভাবে আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়া চলছে তখন নারায়ণগঞ্জে একটি আসনও ছাড় দেয়া না দেয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে দল দু’টির স্থানীয় এমপিসহ নেতৃবৃন্দের সাথে টানাপোড়েন। তবে দলীয় স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের দুই দলের প্রভাবশালী সাংসদ ভ্রাতৃদ্বয় (সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান) মহাজোট চাইলেও জাতীয় পার্টিকে আসন ছাড়ের শংকায় মহাজোটে অনীহা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টি বের হয়ে আওয়ামীলীগের বিরোধী হয়ে নির্বাচন করলেও নারায়ণগঞ্জে সবসময়ই জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগ ছিল একই সূত্রে গাঁথা। যার ফলে সদর-বন্দর ও সোনারগাঁ আসনটি দু’টি জাতীয় পার্টি কে ছাড় দিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। এমনকি সদর-বন্দর আসনের এমপি নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর তাঁর শূণ্য আসনের উপ-নির্বাচনেও প্রার্থী দেয়নি আওয়ামীলীগ। শুধু তাই নয়, সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রীয় কাগজে কলমে বর্তমানে আওয়ামীলীগ ক্ষমতাসীন দল ও জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে বিবেচিত হলেও নারায়ণগঞ্জে দু’টি দলের নেতাকর্মীরাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে পরষ্পরের সাথে সৌহার্দ্য পূর্ণ আচরন করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছিল। আওয়ামীলীগের এমপির অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আবার জাতীয় পার্টির এমপির অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা স্বত:স্ফূর্ত ভাবে অংশ গ্রহণ করতো। দেখে যেন কোন বোঝারই উপায় ছিল না যে, নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, নাকি বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। যার নেপথ্যে ছিলেন একই পরিবারে থাকা দু’টি দলের সাংসদ ভ্রাতৃদ্বয়। যার মধ্যে একজন হচ্ছেন, সদর-বন্দর আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান এবং ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের আওয়ামীলীগের এমপি শামীম ওসমান। কিন্তু আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন দু’টি দলে চরম ফাটল ধরতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়ায় কেন্দ্রীয় ভাবে আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টি যেখানে ফের জোটবদ্ধ ভাবে নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে সেখানে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে কোন আসন ছাড় না দেয়ার লক্ষ্যে এখন তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। গত বছর কাঁচপুরে আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর উপস্থিতিতে আগামীতে সোনারগাঁসহ নারায়ণগঞ্জে কোন আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দেয়ার সর্বপ্রথম দাবী তুলেছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। এরপর গত বছরের ৩০ জুলাই শহরের ২নং রেলগেটস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল আলম চৌধুরী নওফেলের কাছেও আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দিতে জোড়ালো দাবী জানান জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের একটাই দাবী, মহাজোট গঠন হলেও জাতীয় পার্টিকে যেন অন্য জেলায় আসন ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দিতে হবে।  অথচ, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে গত বছর ১২ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ শোক র‌্যালীটি সফল করার লক্ষ্যে গত ৭ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে করা প্রস্তুতি মূলক সভায় সাংসদ শামীম ওসমান বলে দিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন, থাকবেন। নারায়ণগঞ্জে আ’লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, কেউ বুঝে সেই বিভেদে পা দিচ্ছেন কেউ না বুঝে। তবে আমরা নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে আগে দেখি শেখ হাসিনা কি নির্দেশ দেন। তিনি যদি বলেন সংসদে ৩৮০ টি আসনই হবে নৌকার, তবে সেটাই, যদি বলেন মহাজোট কিংবা মহা-মহাজোট, তাহলে আমাদের সেই পথেই চলতে হবে। তার কথার বাইরে আমরা এক চুলও নড়বো না।’ এরপর গত ৯ জুন ফতুল্লার নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল (নম) পার্কে ফতুল্লা থানা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে শামীম ওসমান বলেছেন, ‘খারাপ লাগে যখন দেখি নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু লোক আছে যারা আওয়ামীলীগের লাইসেন্স দেয়। যাদের নিজেদেরই লাইসেন্সের খবর নাই। আরে বাপরে বাপ, কি আওয়াজ শুরু হইছে। নৌকা ছাড়া হবে না, নৌকা ছাড়া হবে না। না কি !’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ কি চাচ্ছে বিএনপিকে সুযোগ করে দিতে মহাজোটকে ভেঙ্গে দিতে চায়। মহাজোটে বিভক্তি আসুক, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতায় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি সুযোগ পাক। আমার মনে হয়ে অনেকে এ এজেন্ডা নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। এ এজেন্ডা নিয়ে তারাই মাঠে নেমেছে যাদের জন্য জামায়াতে ইসলামের মুখপাত্র বাশের কেল্লায় একের পর এক লেখে।’ আর সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘ আমি কারো বিরুদ্ধে বা গিবত করে কিছু বলবো না। আমার শুধু একমাত্র প্রশ্ন, নারায়ণগঞ্জে যারা সরকারী দলের লোক দাবী করছে উনারা একটা বোকার হদ্দ। একটা দল নিয়েই কিন্তু আজকে একটা সরকার না। আমরা যদি সহযোগীতা না করতাম তাহলে সরকারটা কি হতো? প্রশ্ন রেখে গেলাম।’ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা এতো উত্তেজিত হবেন না নির্বাচন এখনো অনেক সময় বাকি আছে। লাঙ্গলের ভার আরো হবে। পাপ মোচন করতে হলে সনাতন ধর্মের মানুষকে লাঙ্গলবন্দে গিয়ে ¯œান করতে হয়। তাই এই লাঙ্গলবন্দের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদর-বন্দর এবং সোনারগাঁ ব্রহ্মপুত্র নদের এপার এবং ওপার দুটি আসনেই লাঙ্গল মার্কা দিয়েছেন। ইনশাল্লাহ আগামীতেও লাঙ্গল মার্কাই দিবেন।’

Copyright © Dundeebarta.com. ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসির উদ্দিন, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ০১৭১২৫৭৪৯৯০