সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ইং, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৩:৪৩

শিরোনাম

‘ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা        দুই ব্যবসায়ীকে যেভাবে সাত টুকরো করেছে পিন্টু        জগন্নাথ ঠাকুর বাড়ি ফিরলেন        আজাদ বিশ্বাসের উপর  পুলিশের অনেক বিশ্বাস!        যে নেতারা লাঙ্গলে ভোট দিয়েছে সামনে তারা কিসে ভোট দিবেন?        অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়াতে হবে : আইভী        আড়াইহাজার পৌর নির্বাচনে জেলা বিএনপির নেতাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন        স্বপন হত্যায় আদালতে ঘাতক পিন্টুর জবানবন্দী       

পিন্টুর হত্যাকান্ড মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে

Badal-nj | ১৮ জুলাই, ২০১৮ | ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দেশে এক সময়ের আলোচিত ব্যক্তি ছিলেন এরশাদ শিকদার। কথিত আছে লোকজনকে নারকীয় কায়দায় তিনি হত্যা করতেন। সে এরশাদ শিকদারের ফাঁসি হয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে একজন সিরিয়াল কিলারের কথা শুনে লোকজন রীতিমত আঁতকে উঠতে শুরু করেছে। পিন্টু দেবনাথ নামের ওই কিলারের হাতে এখন পর্যন্ত দুইজন নৃশংসভাবে খুন হয়েছে প্রমাণ উঠে আসছে। আর দুটি হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে নির্মমভাবে।

প্রবীর ঘোষ ও স্বপন কুমার সাহা। দুইজনই ছিলেন পিন্টু দেবনাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর তালিকাতে। পিন্টু দেবনাথ প্রায় ২২ বছর ধরে কালীরবাজার এলাকাতে স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছে। থাকেন আমলাপাড়া এলাকাতে রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার ফ্লাটে। একজন স্বর্ণ শিল্পী জানান, পিন্টু আমলাপাড়া এলাকাতে রাশেদুর ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার যে ফ্লাটে থাকেন এক সময়ে ওই ফ্লাটেই থাকতেন অপু। প্রায় পনের বছর পূর্বে অপু রায় পরলোক গমন করলেও সে বাড়িতেই অপু রায়ের স্ত্রী সন্তানদের সঙ্গে থেকে যায় পিন্টু। পরে অপু রায়ের পরিবার তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তখন থেকে একাই থাকা শুরু করে পিন্টু। তবে পিন্টু থাকা সময়েই পরকীয়ার খবর রটে যায়। ঘটনা ব্যাপক জানাজানি হলে শীলা রানীকে শহরের টানবাজারে ফ্লাট ভাড়া করে দেয় পিন্টু। এতে বাধ সাধে অপু কর্মকারের ছোট ছেলে রনি। কিছুদিন পরে রনিও মারা যায়। তখন পিতা পুত্রের মৃত্যুর বিষয়টি প্রচার চালায় “ক্যান্সার” বলে। আর নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে তাতে জোরালো সমর্থন দেয় সুন্দরী পরকীয়া প্রেমিকা দুই সন্তানের জননী শীলা রানী। যিনি এখনো পর্দার আড়ালেই রয়েছে।

স্বপন হত্যা

স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে। মামলার এজাহারে বাদী নিহতের বড় ভাইঅজিত কুমার সাহা জানান, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরো কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। তখন তদন্তে বেরিয়ে আসে যে কাশীপুর উত্তর গোয়ালবন্দ এলাকার সেলিনা আক্তার নামের এক নারীকে স্বপন কুমার সাহা গোপনে বিয়ে কেরেছেন। ওই সময়ে আবার স্বপনকে না পেয়ে ওই বছরের ১১ নভেম্বর সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে একটি জিডি করেন। পরে স্বপনের বন্ধু কালীরবাজার এলাকার পিন্টু দেবনাথকেও জিজ্ঞেস করি। কিন্তু পিন্টু বার বার বলে আসছিলেন স্বপন ভারত চলে গেছে। গত ৯ জুলাই প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে। পরে ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগি বাপন ভৌমিক বাবু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। সে তখন পিন্টু দেবনাথের এক বান্ধবী রত্মা রাণী চক্রবর্তীর সন্ধান দেন। তার মোবাইল নাম্বার পর্যালোচনা করে জানা গেছে স্বপনের মোবাইলটি রত্মা ব্যবহার করছে। ১৫ জুলাই রোববার রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করে। মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্লাট বাসা ক্রয় করে। ওই ফ্লাট বাসা পিন্টুকে না দিয়ে বরং উল্টো হুমকি দিচ্ছিল স্বপন। তখন স্বপন ফ্লাটটি নিজের নামেই করে নেয়। এসব কারণেই ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু। পরে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর স্বপনকে বাসায় ডেকে নেয় পিন্টু। পরে তার ফ্লাটে সে রাতে চাপাতি দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ খন্ড খন্ড করে ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়। রত্মার দেওয়া তথ্য মতে রোববার রাতেই গ্রেফতার করা হয় মামুনকে।

প্রবীর হত্যা

জবানবন্দীতে পিন্টু বলেন, ঈদ উপলক্ষে শান্ত পরিবেশ থাকা প্রবীর চন্দ্র ঘোষকে ১৮ জুন রাতে বিয়ার পানের পার্টির কথা বলে তার বাসা থেকে বের করি। পরে আমার ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে বসাই। সেখানে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে থাকি একত্রে। ওই সময়ে আগে নেওয়া স্প্রাইট পান করে প্রবীর। খেয়েছিল বিস্কুটও। খাওয়ার সময়েই আমি তাকে পিছন থেকে আগে থেকে কেনা চাপাতি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি। তখন প্রবীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় প্রবীর আমাকে কয়েকদফা লাথি মারতে থাকলে ওরে আবারো লাঠি ও দা দিয়ে আঘাত করতে থাকি। এ সময় প্রবীর রক্তাক্ত অবস্থায় টিভি রুমের খাটে লুটে পড়ে। শরীর ঢেকে দেওয়া হয় বালিশ ও চাদর দিয়ে। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দেহ’কে ৭ টুকরো করা হয়। মাথা, দুই হাত, দুই পা, বডি, পেট ও পাজর ৭টি খন্ড করে বাজার থেকে ক্রয়কৃত ৭টি নতুন আকিজ সিমেন্টের ব্যাগের মধ্যে ৪টিতে টুকরো টুকরো লাশ ভরি। আরেক ব্যাগে বালিশ, খাটের চাদর, ব্যবহার করা জামা ও দা প্যাকেট করি। পরে ঘরের বাথরুমে রক্তাক্ত ও নিজে গোসল করি। পরিবেশ শান্ত অবস্থায় আনুমানিক সাড়ে ১২টায় বাসা নিচে পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকটিতে ৩ ব্যাগে থাকা ৫ টুকরো ঢুকাতে শুরু করি। আরেকটি ব্যাগ বাড়ির উত্তর পাশে ময়লাস্তূপে সাথে ড্রেনে মাথায় ফেলে দেই। কাজ শেষ করে বাসায় হাত পরিস্কার করে ফের প্রবীর চন্দ্র ঘোষের বাড়িতে রাত দেড়টার দিকে ছুটে যাই। রাতেই শীতলক্ষ্যা নদীতে এসে ফেলে দেই চাপাতি, বিছানার চাদর আর বালিশ। ২১ দিন পর ৯ জুলাই সোমবার রাতে পুলিশ লাশের ৬ টুকরোর মধ্যে ৫ টুকরো উদ্ধার করলেও পাওয়া যায়নি দুই পায়ে গোড়ালির নিচের অংশ। সোমবার রাতে শহরের আমলাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম ওরফে ঠান্ডু মিয়ার চারতলা ভবনের নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকি থেকে তিনটি বাজারে ব্যাগে থাকা লাশের ৭ টুকরো উদ্ধার করা হয়।

Copyright © Dundeebarta.com. ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসির উদ্দিন, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ০১৭১২৫৭৪৯৯০