সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ইং, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৩:৪২

শিরোনাম

‘ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা        দুই ব্যবসায়ীকে যেভাবে সাত টুকরো করেছে পিন্টু        জগন্নাথ ঠাকুর বাড়ি ফিরলেন        আজাদ বিশ্বাসের উপর  পুলিশের অনেক বিশ্বাস!        যে নেতারা লাঙ্গলে ভোট দিয়েছে সামনে তারা কিসে ভোট দিবেন?        অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়াতে হবে : আইভী        আড়াইহাজার পৌর নির্বাচনে জেলা বিএনপির নেতাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন        স্বপন হত্যায় আদালতে ঘাতক পিন্টুর জবানবন্দী       

নারায়ণগঞ্জবাসী ব্যক্তি ইমেজেই প্রধাণ্য দিবে

Habibor badal | ০২ আগস্ট, ২০১৭ | ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটিদলের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকার সাধারন মানুষের কাছে। সে সাথে প্রতিটি এলাকার দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় সভায় অংশগ্রহনকরাসহ দলীয় কোন্দল নিরসন করে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে। নির্বাচনকে ঘিরে দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে তৃনমূলের দূরত্ব কমে আসায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের মাঝে ফিরে এসেছে চাঞ্চলতা। তবে নারায়নগঞ্জবাসী এবারের একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে দল নয় ব্যক্তি ইমেজকেই অগ্রাধিকার দিবে। বিগত সময়ে ক্ষমতায় থেকে যে সকল জনপ্রতিনিধি সাধারন মানুষের সুঃখ-দুঃখের পাশে দাড়িয়েছে, এলাকার উন্নয়ন করেছে, ক্ষমতার অপব্যবহারের স্বীকার হয়নি তথা যোগ্য প্রার্থীকেই নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের অভিভাবক হিসেবে পেতে চায়। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জবাসী দল নয় যোগ্য ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করবে। আর যোগ্য প্রার্থী যে দলেরই হউক না কেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন তারা।

সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনারের সূত্রেমতে ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি থাকতেই দেশের অন্যান্য জেলার মতো নারায়ণগঞ্জেও নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিটি দলের প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই স্ব স্ব দলের সমর্থন পেতে কেন্দ্রে জোড় লবিং শুরু করেছে। সে সাথে একাধিক নতুন মুখও নির্বাচনে অংশগ্রহন করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাম করেছে। প্রতিটি দলের সম্ভ্যাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারনা শুরু রকরে দিয়েছে। নিজ নিজ এলাকার সাধারন মানুষ এবং দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। তবে একাদশ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জবাসী মার্কা নয় যোগ্য প্রার্থীকেই তাদের অভিভাবক হিসেবে পেতে চান। এজন্য তারা একাদশ নির্বাচনের প্রার্থীর দিকে তীক্ষè নজর রাখছেন। দল ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে দেয়া তাদের ওয়াদা পালন করেছেন কিনা, এলাকার সাধারন মানুষের জন্য কতটুকু সময় দিয়েছে, নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য সফলতা সাধারন মানুষের কাছে কতটুকু, ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দলীয় ক্ষমতার প্রতিহিংসার স্বীকারকে প্রাধান্য দিয়েই আগামিতে অভিভাবক নির্ধারন করবেন জেলাবাসী। নারায়ণগঞ্জ-৪(ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বসবাসনত সাংবাদিক রনি কুার দাসের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমাদের আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। তবে তিনি এমপি হওয়ার পর থেকে তার নির্বাচনী এলাকার ব্যাপক হারে উন্নয়ন হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজের উন্নয়ন, সাধারন মানুষের পাশে অবস্থান, নীরিহ মানুষকে সহায়তাসহ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় ইতিমধ্যে তার নির্বাচনী এলাকার সাধারন মানুষের মণিকোঠায় ইতিমধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে তিনি শতভাগ সফল নন। আমার দৃষ্টিতে মনে করি সাংসদ শামীম ওসমান শতকরা ৮০ ভাগ সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন। ডিএনডি জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থতা এবং সাংসদ শামীম ওসমানের নাম ব্যবহার নিজ দলীয় কিছু লোকজনদের ক্ষমতার অপব্যবহারে সাধারন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি এর মধ্যে সাংসদ শামীম ওসমান ডিএনডিবাসীর দুঃখ লাঘবে কার্যকর ভূমিকা নিবেই এমনটা আমারতো ফতুল্লাবাসীর ধারনা। এদিকে সাংসদ শামীম ওসমানের নাম ব্যবহার করে তার দলের কিছু লোকজন অপকর্ম করে আসছে। ক্ষমতার প্রতিহিংসার স্বীকার আমি নিজেই। হরিহরপাড়া শিষমহল এলাকায় বসবাস ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক দিলীপ কুমার মন্ডলের। একই এলাকায় আমার বসবাস। দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রকাশ্যে জুয়ার বোর্ড, মন্দিরের নামে নতুন বাড়ী ঘর নির্মানে চাঁদা আদায়, প্লট বিক্র করা, প্রতিবাদী যুবকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। আওয়ামীলীগ নেতা দিলীপ মন্ডলের এমন অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অগ্নিকান্ড এবং ধর্ষনের চেষ্টা মামলা দিয়ে হযরানী করেছে। এমনকি দুঃখের বিষয় আমার পরিবারের প্রতিটা সদস্য আওয়ামীলীগকে ভালবাসে এবং দলের দুঃসময়েও আমরা নৌকায় সিল মারি। সাংসদ শামীম ওসমানের প্রেস সচিব পরিচয়ে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছেন দিলীপ মন্ডল। আগামি জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে ডিএনডি সমস্যার সমাধান এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করা হলে জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নেীকার বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত। আর এ আসনে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর তেমন একটা উন্নয়ন করতে পারেনি। তাই আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানকে পরাজিত করা অনেকটা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়বে।

শহরের ২নং রেলগেইট এলাকায় কথা হয় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ভোটার ব্যবসায়ী মোঃ মিঠুর সাথে। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে রাজনীতিতে সফল ছিলেন প্রয়াত সাংসদ আলহাজ্ব একেএম নাসিম ওসমান। তবে বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান ব্যাপক উনয়ন্নন করলেও একাদশ নির্বাচনে তার বিজয়টা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। কেননা বন্দরের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্চিত করার ঘটনা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া তিনি সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর মহাজোটের শরীকদলের নেতৃবৃন্দকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ রয়েছে। আর বন্দর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দও এবার দলীয় সাংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে আগামি সাংসদ নির্বাচনে সেলিম ওসমানকে কঠিন পরীক্ষায় অবর্তীন হতে হবে বলে তার মতো সদর-বন্দরের সাধারন মানুষের ধারনা বলেও তিনি দাবি করেন। আর নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য আসনের লোকজনদের সাথে কথা বলে প্রতিটি আসনের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, এবারের একাদশ নির্বাচনে দল থেকে প্রার্র্থীর ব্যক্তি ইমেকেই প্রাধান্য দিবে সাধারন ভোটাররা।

Copyright © Dundeebarta.com. ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসির উদ্দিন, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ০১৭১২৫৭৪৯৯০