সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ইং, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৩:৫৫

শিরোনাম

‘ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা        দুই ব্যবসায়ীকে যেভাবে সাত টুকরো করেছে পিন্টু        জগন্নাথ ঠাকুর বাড়ি ফিরলেন        আজাদ বিশ্বাসের উপর  পুলিশের অনেক বিশ্বাস!        যে নেতারা লাঙ্গলে ভোট দিয়েছে সামনে তারা কিসে ভোট দিবেন?        অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়াতে হবে : আইভী        আড়াইহাজার পৌর নির্বাচনে জেলা বিএনপির নেতাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন        স্বপন হত্যায় আদালতে ঘাতক পিন্টুর জবানবন্দী       

ডিএনডিতে কোরবানী দেওয়ার জায়গা নেই

Habibor badal | ৩১ আগস্ট, ২০১৭ | ১:৩৭ অপরাহ্ণ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই কোরবানীর ঈদ। কিন্তু এখনো কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা তথা ডিএনডি বাধের ভেতরে থাকা লাখ লাখ অধিবাসীদের। কারণ কোরবানীর পশুর রাখার মত জায়গাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল সোমবার দুপুরে ডিএনডি বাধের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। সরেজমিনে ডিএনডির বাঁধের ফতুল্লা এলাকায় দেখা গেছে, বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে ফতুুল্লার রামারবাগ, সস্তাপুর, গাবতলা, কায়েমপুর, চাঁদমারী, ইসলাম বাগ, শহীদ নগর, গাবতলী, এনায়েত নগর, তল্লা, সবুজবাগ, কুতুবপুর, পাগলা, দেলপাড়া, আলীগঞ্জ, দাপা, পিলকুনি, ভূইগড়, রঘুনাথপুর, কুতুবআইল, নয়াআটি, লামাপাড়া এলাকাতে দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।  জলাবদ্ধতার পানি পচে গেছে। বিবর্ণ আকার ধারণ করা ওই পচা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে ডিএনডিবাসীর দুর্ভোগ আরেক ধাপ বেড়েছে। শিল্প-কারখানা, ডাইং, পয়নিষ্কাশনের পানি জলাবদ্ধতার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে ছোট বড় সকল বয়সের মানুষ এই পানির মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়াও কোন কোন এলাকায় চলাচলের জন্য নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।’ দাপা এলাকার সুলতান মিয়া জানান, রোজার ঈদের আগে থেকে বাড়িতে পানি উঠেছে আর ক’দিন পর কোরবানির ঈদ এখনও পানি কমছে না। তাই আত্মীয় স্বজনদেরও বলে দিয়েছি যাতে পানির মধ্যে বেড়াতে না আসে। বাড়িতে পানি রাস্তায়ও পানি কোরবানি দেওয়ার মতো একটু জায়গা নেই।’ পিলকুনি জামাই পাড়া এলাকার লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে অনেকে বাড়ি ঘরে তালা দিয়ে বাঁধের ভেতর উচু ভবন ও বাঁধের বাইরে বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়ায় আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনের বাসায় উঠেছে। ভূঁইঘর এলাকার বাসিন্দা খন্দকার মাহফুজ বলেন,‘ ডিএনপির পানি নিষ্কাশনের পাম্প গুলো ঠিক ভাবে চালু রাখে না। দিনে কয়েক ঘণ্টা চললে বাকি সময় বন্ধ রাখে। এর অধিকাংশ পাম্প পুরাতন ও দুর্বল হয়ে গেছে। এখন আরো কিছু নতুন পাম্প বসিয়ে অস্থায়ী ভাবে পানি নিষ্কাশন করলে দ্রুত সমাধন হতো। কিন্তু এখন এ বিষয়ে দেখছে না। মাসুদ আলী বলেন, ‘ডিএনডি বাঁধের ভেতর ৯টি খাল ছিল। লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করেছে। আর খাল দখল ও ভরাট করে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানা গড়ে তুলেছে। যেসব খাল গুলো এখন আছে সেগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন না রাখায় ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।’ ডিএনডি পাম্প হাউজের উপ সহকারী প্রকৌশলী রাম প্রসাদ বলেন, ‘৫১২ কিউসেক ক্ষমতার চারটি পাম্পের মধ্যে ৩টি সচল আছে আর ৫ কিউসেকের ২২টি পাম্পের মধ্যে ১০টি। এছাড়াও নতুন ৩টি পাম্প বসানো হয়েছে। তিনটির গড় ক্ষমতা ১১০ কিউসেক। তিনি আরো বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ থাকে। তারপরও পানি কমছে না। মূলত যে পাম্প গুলো দিয়ে শীতলক্ষ্যায় পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে সেগুলো ৫১ বছরের পুরানো পাম্প। যার ফলে এখন আর আগের মতো পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। তাছাড়া যেটুকু পানি কমছে তাও বৃষ্টি হলে বেড়ে সমান হয়ে যাচ্ছে। ফতুল্লা ডিএনডি বাধের ভিতরে ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ বসবাস করে। এসব মানুষের ব্যবহারের পানি ও কলকারখানার পানি নিষ্কাশন করতে প্রতিদিন পাম্পগুলো চালানো হয়। যদি এর মধ্যে বৃষ্টি হয় তাহলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যায়। আগামী ১০দিন যদি কোন বৃষ্টি না হয় তাহলে এসব পানি কমে যাবে।’ রাম প্রসাদ আরো বলেন, ‘ডিএনডি বাধের অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার যেটা বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী। নভেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে যা শেষ হতে ২ থেকে ৩ বছর লাগবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। একই সঙ্গে এ এলাকার ড্রেনগুলো দখল মুক্ত করে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যাতে পানি স্বাভাবিক ভাবে নদীর দিকে যেতে পারে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ডিএনডি বাধের ভেতর ৫৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২০ লাখ লোকের বসবাস। তখন ডিএনডির ভেতর সেচ প্রকল্প ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টর। ডিএনডি বাঁধের ভেতর কংস নদ এবং নলখালী খালের মতো ৯টি খাল ছিল। যা ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্টে সেচখাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এসব খালের ছিল আরও ৯টি শাখা খাল। এছাড়াও ছিল ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। এসব খালের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৮৬ কিলোমিটার। আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করে। কংস নদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। আর খাল দখল ও ভরাট করে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করায় নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা অল্প বৃষ্টিতে হাটু পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। যদিও অবশেষে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) অভ্যন্তরে সৃস্ট জলাবদ্ধতার কমতে শুরু করেছে। পানি নিষ্কাশনের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া এ জলাবদ্ধতা গত ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিলো এ অঞ্চলের মানুষ। গত ২ দু সাপ্তাহে ওই অঞ্চলে যতটা পানি না কমেছে, তারচেয়েও বেশি পানি কমেছে ২ দিনে। হঠাৎ পানি নিস্কাশনের এই আমূল পরিবর্তন দেখে ওই অঞ্চিলের মানুষ ধারণা করছেন, ডিএনডিতে অবস্থিত কলকারখানা ঈদ উল আযহা উপলক্ষে কাজ কমে যাওয়া পানি কমতে শুরু করেছে। অন্যদিকে গত কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি না হওয়া তীব্র রোদে পানি কিছুটা হলেও কমছে বলে দাবি করেন ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকার তরুণ খলিল গাজি।

Copyright © Dundeebarta.com. ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসির উদ্দিন, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ০১৭১২৫৭৪৯৯০