শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ১১:৪০

শিরোনাম

ইজিবাইক স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজী        যেভাবে হত্যা করা হয় স্বপনকে        আজ শক্তির জানান দিবে আ’লীগ        নৃশংস দুই খুনে নীরব তারা!        সেই আলোচিত গাউছুল আজম…..        হুমায়নকে নিয়ে সাখাওয়াত, একাকিত্ব কালাম        পিন্টুর বান্ধবী রতœা গ্রেফতার হলেও শীলাকে খুঁজছে পুলিশ        অবৈধ সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়       

ক্লাইমেট ফিকশন

Badal-nj | ০১ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বর্তমানে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সায়েন্স ফিকশন দেখি অথচ পরিবর্তিত বিশ্ব ভাবছে ক্লাইমেট ফিকশন নিয়ে। কারণ ক্লাইমেট ফিকশনের মাধ্যমে ছোট গল্প, উপন্যাস ও চলচ্চিত্রে শৈল্পিকভাবে এমন গল্প বলা হয় যাতে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রাধান্য পায়। একে ইংরেজিতে সংক্ষেপে ক্লাই-ফিও বলা হয়। যেখানে ক্লাই অর্থ ক্লাইমেট আর ফি অর্থ ফিকশন। যেমন সাই-ফি বা সায়েন্স ফিকশনের ক্ষেত্রে সত্য। ক্লাইমেট ফিকশনে জলবায়ু ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ফল কী হবে তার ওপর জোর দেয়া হয়। ঔপন্যাসিক জিম লাদার তার পোলার সিটি উপন্যাসে ২০৭৫ সালে আলাস্কা শহরের কী হাল হবে তার পটভূমি তুলে ধরেন। যখন আমেরিকায় ৪৮টি প্রদেশে উষ্ণ বাতাস বয়ে যায় আর এসব প্রদেশই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ভারতীয় লেখক অমিতাভ ঘোষ বলেছেন- মানব সৃষ্ট কারণে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হলে যদি পুরো মানবজাতিকে তার ভোগান্তি ভবিষ্যতে পোহাতে হয়, তবে আমরা তা নিয়ে ক্লাইমেট ফিকশন লিখতে পারি। এক্ষেত্রে উদহারণ হতে পারে-বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে যদি বাংলাদেশের কোনো বন ধ্বংস হয়, ধ্বংস হয় মানুষের জীবন ও জীবিকা, যাতে মিশে থাকে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও প্রেম আর এর প্রভাব নিয়ে যদি কেউ গল্প বা উপন্যাস লেখে, তবে আমরা তাকে ক্লাইমেট ফিকশন বলতে পারি।

কানাডার বিখ্যাত লেখক মার্গারেট অ্যাটউড ক্লাইমেট ফিকশনকে স্পেকিউলেটিব ফিকশন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে মানুষের প্রেম, আবেগ-অনুভূতি, জীবনধারা, জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হয়, মানুষের ওপর প্রকৃতির বিপর্যয়ের পূর্বাপর অবস্থা নিয়ে এ ধরনের কল্পকাহিনী তৈরি হয়। যা মানুষকে পরিবেশের প্রতি সতর্ক হতে উদ্বুদ্ধ করে। পৃথিবীর বাইরের কোনো গ্রহে ঘুরে বেড়ানো নয়, নয় ঘড়ির কাঁটা ১৩টা বাজা বা ভয়ঙ্কর কোনো দুর্ঘটনা বর্ণনা করা গতানুগতিক কল্পনার ডানায় উড়ে। এখানে গল্পের প্লট নির্মাণ করা হয় পরিবেশ দূষণের ফলে কী হতে পারে বা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক উষ্ণতা মানব সভ্যতার জন্য কী হুমকি নিয়ে আসতে পারে। ক্রাইম ফিকশন যেমন সমাজের ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরে অপরাধ জগতের, তেমনি ক্লাইমেট ফিকশন পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার কারণে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, তার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে। বছরের পর বছর বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, খরা, বরফ গলা এবং পূর্বঘোষিত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বদ্বীপগুলো ও উপকূলীয় অঞ্চল ডুবে যাওয়া, আন্তর্জাতিক নদীর প্রবাহে বাঁধ দিয়ে ভাটি অঞ্চলে পানি প্রবাহ হ্রাস-সবকিছুই আগামীর পৃথিবীর জন্য আগাম সতর্কবাণী বহন করছে। আর এই সতর্কবার্তাকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে, এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া মানুষ ও প্রাণিজগতের ওপর পড়লে অদূর ভবিষ্যতে কী হবে- তা নিয়ে উপন্যাস বা গল্প লেখাই ক্লাইমেট ফিকশন। যেমন বিজ্ঞানের বিরূপ প্রভাব কী হবে-তা নিয়ে লেখা সায়েন্সফিকশন, তার সহোদর ক্লাইমেট ফিকশন অদূর ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ।ক্লাইমেট ফিকশন ধারণার উদ্ভব হয় ২০০৬ সালে ড্যান ব্লুমের প্রথম ক্লাইমেট ফিকশন শব্দটির অবতারণার মাধ্যমে। ২০০৭ সালের দিকে ব্লুম প্রথম ফেসবুক টুইটারে ক্লাইমেট ফিকশন নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। ২০১২ সালে তিনি একগুচ্ছ উপন্যাস প্রকাশ করেন পোলার সিটি রেড নামের। এ উপন্যাসে তিনি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে অদূর ভবিষ্যতে ২০৭৫ সালে আলাস্কার উদ্বাস্তু হওয়া মানুষ নিয়ে কল্পকাহিনী রচনা করেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও ও ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর ব্লুমের এ ক্লাইমেট ফিকশন নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করে। তারপর সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে দাঁড়ায়। এখন অ্যামাজানে সার্চ করলে অসংখ্য ক্লাইমেট ফিকশনের বই পাওয়া যাবে। তবু যে কোনো নতুন আঙ্গিকের সফলতা নির্ভর করে- সাহিত্যের ভোক্তা পাঠক তাতে কীভাবে সাড়া দেয় তার ওপর? ক্লাইমেট ফিকশন আগামীর হুমকির বিষয়টি তুলে ধরে বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে প্রাকৃতিক সম্পদ ও বনসম্পদ রক্ষায় কতটা আমাদের প্রভাবিত করবে, তাও প্রশ্ন? তাই ক্লাইমেট ফিকশন হার্টস্ট্রোক লাইনের লেখক এডওয়ার্ড এল রবিন বলেন, উনিশ শতকের আগে কাল্পনিক উপন্যাসকে রূপকথার গল্প বলা হতো। এরপর বিশ শতকে সায়েন্সফিকশনের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ডেসটোপিয়ান বা ভয়ঙ্কর আতঙ্কে বসবাস করা মানুষের জীবন নিয়ে উপন্যাস লেখা হলো। ব্যক্তি খাতের নিরাপত্তা, সম্পদ ধ্বংস হওয়া, ভিনগ্রহের মানুষের পৃথিবী আক্রমণ নতুন যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর পরিবর্তন করার স্বপ্ন দেখার পরিবর্তে এখন জলবায়ু বা পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব কী হবে-তা নিয়ে কল্পকাহিনী লেখা হচ্ছে।

এ প্রেক্ষিতে প্রশ্ন দাঁড়ায়-ক্লাইমেট ফিকশন কি আমাদের পরিবর্তিত পৃথিবীতে জীবন ধারণ করায় অভ্যস্ত করে তুলবে? না পরিবতির্ত আগামীতে জীবন কেমন হবে তা ভাবতে শেখাবে? আর এ পরিবর্তিত অবস্থায় সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে ক্লাইমেট চেঞ্জ মোকাবিলায়? এ কারণে বলতে হয়- যদি ক্লাইমেট ফিকশন লেখক তার উপন্যাস বা গল্পে প্রত্যাশা বা আশার আলো না দেখান, তবে তা পড়ে মানুষের অসহায়ত্ব বৃদ্ধিরই বেশি সম্ভাবনা আছে। যেমন ক্ল্যারা হিউম, ব্যাক টু দ্য গার্ডেন নামের উপন্যাস রচয়িতা বলেন, যারা ক্লাইমেট ফিকশন নিয়ে লেখেন, তারা এমন ধরনের গল্প বা উপন্যাস রচনা করতে চায়। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা যায় আর মানুষকে সতর্ক করতে পারেন হয়তো ভীতি সৃষ্টি করে। আর না হয়, মানুষের সামনে আপনি বাস্তবতা তুলে ধরে প্রত্যাশা ও পরিণতি ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং মানুষকে পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যাপারে সচেতন করে তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ দিতে পারেন। তাই বাংলাদেশে ক্লাইমেট ফিকশন নিয়ে লিখলেও এ দেশের নদীর মৃত্যু, পানি প্রবাহ হ্রাস, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কী ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে লিখতে হবে। স্বাধীন বাংলায় এ ব্যাপারে তেমন কোনো সাহিত্য রচিত হয়নি।

Copyright © Dundeebarta.com. ওয়েব ডিজাইন: মো: নাসির উদ্দিন, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ০১৭১২৫৭৪৯৯০