আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৭
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মদনপুরে দিন ব্যাপী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

আসছে ঈদে যানজট এড়াতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মদনপুরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে মহাসড়কের পাশে উদ্ধার হওয়া জায়গায় ২০ ফুট রাস্তা প্রসস্থ করণ করা হবে। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই সড়ক প্রসস্থ করণের কাজ শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ সওজ কর্তৃপক্ষ। এসময় উচ্ছেদ অভিযান কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আমানউল্লাহ, হাইওয়ের পুলিশের ডিআইজি আতিকউল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আলীউল হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শাহরিয়ার আলম ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী মতিয়ার রহমানসহ পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আমানউল্লাহ উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আসছে ঈদে যানজট এড়াতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এ জাতীয় মহাসড়কটি মদনপুরের আরো ২০ ফুট বাড়ানো হবে। উচ্ছেদের পরপরই সড়ক প্রসস্থ করণের কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী রমজানের পূর্বেই সড়কটি প্রসস্থ করণের কাজ সমাপ্ত হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশে দখলকারিরা এসব দোকানপাট গড়ে তুলে জনচলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করছিল। তাই অবৈধ ভাবে সরকারি জমি দখল করে গড়ে তুলা সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর মোড় দু’পাশে সরকারি জমি দখল করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ চক্র বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে তুলে ভাড়া বাণিজ্য করে আসছিল। এসব দোকানপাট থেকে দৈনিক ভাড়া ২‘শ থেকে ৩’শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। তাছাড়া ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহন করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আতœহত্যা যে কারণে

 

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আতœহত্যার নেপথ্যে এক বখাটে যুবক ও তিন বিএনপি নেতার প্রহসন মূলক বিচার। স্ত্রীর প্রতি কূ-দৃষ্টিকারী এক বখাটে যুবককে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটানোর অপরাতে বিএনপি নেতা আক্কাস, মনির ও সেলিম মাহমুদ রেজাউল করিমকে মারধর ও ৮ হাজার টাকা জরিমানা করার পর দিনই রেজাউল তার স্ত্রীকে হত্যা করে নিজেও বিষ পানে আতœহত্যা করার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা গেছে, প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করে রেজাউল করিম ও মীম আক্তার। এই প্রেমিক দম্পত্তি নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড শিমরাইল এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। রেজাউল পিক-আপ ভ্যান গাড়ি চালিয়ে সংসারের খরচ চালাতো। প্রেম করে পালিয়ে এসে বিয়ে করার বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় এক বখাটে যুবক রেজাউলের স্ত্রী মীম আক্তারের প্রতি কূ-দৃষ্টি দেয়। বিষয়টি টের পেয়ে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ দেখা দেয় রেজাউলের। এতে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সৃষ্টি হয় বিরোধ। এ অবস্থায় কয়েকদিন আগে ওই যুবক রেজাউলের ভাড়া বাসায় গিয়ে স্ত্রী মীমের সাথে কথা বলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে যুবকের মাথা ফাটিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় এলাকার বিএনপি নেতা আক্কাস, মনির ও সেলিম মাহমুদ মিলে বখাটে যুবকের পক্ষ নিয়ে গত ৬ এপ্রিল গ্রাম্য বিচার সালিশ বসে। বিচারে স্ত্রীর প্রতি কূ-দৃষ্টির বিষয়টি পাশ কাটিয়ে মাথা ফাটানোর অপরাধে রেজাউলকে মারধর ও ৮ হাজার টাকা জরিমানা করে বিচারকরা। এই প্রহসনমূলক বিচার আর ওই যুবকের সাথে পরকীয়া সন্দেহে রেজাউল গত ৮ এপ্রিল রোববার দিবাগত রাতে স্ত্রী মীমের সাথে ঝগড়া করে। এক পর্যায় স্ত্রী মীমকে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করার পর নিজেও আতœহত্যা করার জন্য বিষপান করে। বিষপানে গুরুতর অসুস্ত রেজাউলকে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে পুলিশ আটক করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গত সোমবার বিকেলে রেজাউল করিম মারা যায়। স্বামী-স্ত্রীর এই অকাল মৃত্যুকে প্রহসন মূলক বিচার আর ওই বখাটে যুবককেই দায়ি করছে স্থানীয়রা। তাই সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর আসল কারণকে প্রাধান্য দিয়ে হত্যা বা আতœহত্যার প্ররচনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

উন্নয়নের মডেল মহাসড়ক এখন ডাষ্টবিনে পরিনত

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলমোড়ে আহসানউল্ল্যাহ সুপার মার্কেটের সামনে মহাসড়কজুড়ে ময়লা অ আবর্জনা ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনের পর দিন ময়লা আবর্জনা ও মার্কেটের গরু খাসি জবাই করা ময়লা ফেলে রাখায় দুর্গন্ধে হাঁটাচলা কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। শুধু শিমরাইলমোড়ের এই স্থানটিই নয় মোড়ের অনেক স্থানে এভাবে ময়লা আবর্জনার স্তুপ পড়ে আছে। এসব স্থান দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে। পথচারীরা জানায়, আমরা এই  দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনা দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সিটি কর্পোরেশন এ ব্যাপারে কেন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা তা কারো বোধগম্য নয়। শিমরাইলমোড়ের উত্তর পাশেও এই রকম পঁচা ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখা হলেও সে ময়লার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। পথচারীরা আক্ষেপ করে বলেন নাসিকের উন্নয়নের জোয়ারের এই হচ্ছে নমুনা। শিমরাইল- নারায়ণগঞ্জ সড়কের আটি এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের সার্ভিসরোডের বিশাল জায়গা জুড়ে বছরের পর বছর ময়লা আবর্জনা ফেলে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ কোটি কোটি টাকা খরচ করে শিমরাইলমোড়ের বিদ্যুৎ অফিস থেকে আদমজী ইপিজেড পর্যন্ত সার্ভিস রোডটি রিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়। সে রাস্তাটির অস্তিত্ব নেই ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে এবং অবৈধ দখলদারদের দখলে ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলমোড়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কোটি কোটি টাকা খরচ করে মহাসড়ককে ৮ লেন করা হয়েছে। কিন্তু দুইটি লেন ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি জনসাধারণ চলাচল করতে গিয়ে রীতিমতো প্রতিদিনই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। মার্কেট মালিকদের অবহেলার কারণে প্রতিদিনই মহাসড়কে ময়লার স্তুপ ফেলে রাখে মার্কেটের দোকানীরা। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাইনবোর্ডে এসে শিমরাইল- আদমজীর সার্ভিস রোডটি উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কাজ হয়নি। ওই সড়কের দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসফিয়া আদমজী সড়কের ময়লা আবর্জনা ও অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে সওজের সার্ভিস রোডটি উদ্ধারের জন্য বলা হলেও অধ্যাবধি তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। অবিলম্বে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে যানবাহন ও জনসাধারন চলাচলের পথ সুগম করার দাবি জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জবাসী।

 

জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীর ভাই রিমান্ডে

প্রখ্যাত লেখক, সিলেটের শাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর হাসানের ভাই এনামূল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সিলেটের মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক হরিদাস কুমারের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সিলেট মহানগর হাকিম আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মানবকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হামলাকারী ফয়জুরের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া গত রোববার ফয়জুরের বাবা আতিকুর রহমান, মামা ফজলুর রহমানের ৫ দিনের এবং মা মিনারা বেগমের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর ওরফে ফয়জুল। আহত অবস্থায় ড. জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে শাবি কর্তৃপক্ষ।

একরাম হত্যায় ৩৯ জনের ফাঁসি

ফেনীর চাঞ্চল্যকর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক হত্যা মামলায় জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মো: আদেল ও ফুলগাজি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরীসহ ৩৯ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া এ মামলায় বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার ও যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিষ্টার সহ ১৬ আসামিকে বেকুসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

ফেনী জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল হক মঙ্গলবার বিকেল তিনটা পনের মিনিটে জনার্কীণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

প্রায় চার বছর আগে ২০১৪ সালে ২০ মে ফেনী শহরের বিলাসী হল এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে একরামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তার মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। জাতীয় ও আন্তজাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হয় । বিচারক মো. আমিনুল হক বহু প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেন। রায়ে আসামিদের সাজার অংশটি কেবল তিনি পড়িয়ে শুনান।

এ মামলার প্রধান আসামি জেলা তাঁতী দলের সভাপতি মিনার চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল , যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার, ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলুসহ পয়ত্রিশ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি একুশ আসামি এখনো পলাতক।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আদেল ও জেলা কৃষক দল নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন নির্লিপ্ত। বিচারক রায় পড়া শেষ দণ্ডিতদের কেউ কেউ কাঁদতে শুরু করেন।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত একরামের স্ত্রী তাসমীন আক্তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আমরা চাই, এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক।

একরামের ভাই মামলার বাদী জসিম উদ্দিন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি মুঠো ফোনে বলেন, আসামিদের সাজা দ্রুত কার্যকর হোক- এটাই তাদের চাওয়া।

সাজাপ্রাপ্তরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত থাকলেও তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তবে মিনারের আইনজীবীরা বলেন ন্যায় বিচার পেয়েছি। সাধারণ মানুষ এই রায় ‘মানুষের আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব’ দূর করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

সকার পক্ষ হয়ে এ মামলা লড়েন পিপি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ে আমরা আনন্দিত। আমরা খুশি হয়েছি। ৩৫ জন আসামির মধ্যে সবার মৃত্যদণ্ড হলে আরো বেশি খুশি হতাম। যে ১৬ জনের ফাঁসির রায় হয়নি, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা দেখে প্রয়োজনে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনীর বিলাসী সিনেমা হলের সামনে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি একরামুল হককে প্রকাশ্যে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ২৮ অগাস্ট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। হত্যার প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ এর ১৫ মার্চ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করে আদালত। এ বছরের ২৮ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

এ মামলায় বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৪৪ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ১৫ জন। আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন মিনার চৌধুরীসহ ৩৬ জন। আর জামিনে বেরিয়ে পলাতক রয়েছেন নয়জন। এছাড়া মামলার শুরু থেকে ১০ আসামি পলাতক এবং সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামে এক আসামি র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গের মেফেয়ার এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. আবু সুফিয়ান স্বপন (৪৩) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত স্বপন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে হাজী আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গের মেফেয়ার এলাকায় বাসা থেকে বের হয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে মার্কেটে যাচ্ছিলেন। এসময় কৃষ্ণাঙ্গ কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হয়ে গাড়িতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই আবুল হোসেন জানান, আবু সুফিয়ান স্বপন ১৪ বছর পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। প্রথমে তিনি বেলকম শহরে থাকনে। পরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গে ও সুয়েটু শহরে ব্যবসা চালু করেন। কয়েকদিন আগে আমাদেরকে ফোন করে বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে দেশে আসবো, তাই তাকে ঢাকা থেকে রিসিভ করে আনতে হবে। তার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয় নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ভিমপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান (২৬)। এরপর ১৫ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সুয়েটুর থেপিসং শহরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কুমিল্লা জেলার বরুডা থানার আড্ডা গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩০)।