আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৩০
fevro
শিরোনাম

রূপগঞ্জে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী পালিত

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঐতিহাসিক জশনে জুলুস শোভা যাত্রা বের হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রূপগঞ্জ থানা সংলগ্ন ঈদগা মাঠ থেকে জশনে জুলুস শোভা যাত্রা শুরু হয়ে পিতলগঞ্জ চেয়ারম্যান বাড়ী বাজার এলাকায় শেষ হয়। জনাব ফারুকুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ এ মিলাদুন্নবী (সাঃ) শোভা যাত্রায় নেতৃত্ব দেন পীরে তরিকত রহনুমায়ের শরীয়ত, চেয়ারম্যান ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ এর সভাপতি হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল আবেদী।এসময় উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান, পীরজাদা আলহাজ্ব জাহের শাহ মোজাদ্দেদী আল আবেদী, হিযবুর রসুল রূপগঞ্জ থানা সভাপতি আলহাজ্ব মুফতি মোঃ রমজান আলী আরেফি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোসলেম হোসেন মুসা, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল হোসেন, ইসলামি ফ্রন্ট রূপগঞ্জ থানা সভাপতি মোঃ গোলাম কিবরিয়া ভূইয়া, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত রূপগঞ্জ থানা সভাপতি মোঃ মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মোঃ আবু সাইদ, আলহাজ্ব সাইদুর রহমান, সাংবাদিক সাকের আহম্মেদ, সুলতান মহিউদ্দিন, হাফেজ মোঃ মমিনুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, বিল্লাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, আঃ কাদিও প্রমুখ। পরে মিলাদ ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে এ জুলুসের সমাপ্ত হয়।

তুর পাহাড়: আল্লাহর সঙ্গে মুসা আ.-এর কথা বলার স্থান

প্রাচীনকাল থেকেই মিসর সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে স্বীকৃত। যুগে যুগে দর্শনার্থীদের বিচরণভূমি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে পর্যটন খাত মিসরের অর্থনীতি সচল রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মিসরের যেসব স্থান পর্যটকদের আকর্ষণ করে এর অন্যতম হলো- তুরে সাইনা বা তুর পাহাড়। কায়রো থেকে তুরে সাইনা যাওয়ার দু’টি পথ। এর একটি সোজা অন্যটি বেশ ঘুরে। সোজা রাস্তার দূরত্ব কায়রো থেকে ৪৩০ কিলোমিটার। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে রাস্তাটি বন্ধ। অন্য রাস্তাটি হলো- কায়রো থেকে শারমুশ শাইখ হয়ে তুরে সাইনা যাওয়া। এ পথের দূরত্ব ৭৪০ কিলোমিটার।

কোরআনে কারিমে হজরত মুসা (আ.) সম্পর্কে অনেক আলোচনা রয়েছে। প্রচুর উপমা ও বিভিন্ন আঙ্গিকে তার ঘটনা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে মানুষ এসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

যেমন কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং নিজ স্ত্রীকে নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল, তখন সে তুর পাহাড়ের দিকে এক আগুন দেখতে পেল। সে নিজ পরিবারবর্গকে বলল, তোমরা অপেক্ষা কর। আমি এক আগুন দেখেছি, হয়ত আমি সেখান থেকে তোমাদের কাছে আনতে পারব কোনো সংবাদ অথবা আগুনের একটা জ্বলন্ত কাঠ, যাতে তোমরা উত্তাপ গ্রহণ করতে পার। সুতরাং সে যখন আগুনের কাছে পৌঁছল, তখন ডান উপত্যকার কিনারায় অবস্থিত বরকতপূর্ণ ভূমির একটি বৃক্ষ থেকে ডাকা হলো- হে মুসা! আমিই আল্লাহ, জগৎসমূহের প্রতিপালক।’ -সূরা কাসাস: ২৯-৩০
তুর পাহাড়: আল্লাহর সঙ্গে মুসা আ.-এর কথা বলার স্থান (ছবি: সংগৃহীত)
তুর পাহাড়ে হজরত মুসা (আ.) আসমানি কিতাব তাওরাত লাভ করেছিলেন। আল্লাহতায়ালা সূরা আরাফে তা উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি মুসার জন্য ত্রিশ রাতের মেয়াদ স্থির করেছিলাম (এ রাতসমূহে তুর পাহাড়ে এসে ইতিকাফ করবে)। তারপর আরও দশ রাত বৃদ্ধি করে তা পূর্ণ করি। এভাবে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত মেয়াদ চল্লিশ দিন হয়ে গেল এবং মুসা তার

জিহাদ ও সন্ত্রাসের ব্যবধান

প্রথমত, মৌলিক বিবেচনা মতে,
কোনো মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানের পরিচালিত আক্রমণ জিহাদ হতে পরে না। দ্বিতীয়ত, কোনো অমুসলিম ব্যক্তি বা শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করতে হলে
সেক্ষেত্রে ইসলামী জিহাদের শর্ত হচ্ছে, তা পরিচালিত হতে হবে বৈধ রাষ্ট্রীয়
কর্তৃপক্ষের অধীনে

মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক বন্ধনের বাইরে একাকী বসবাস করে কোনো মানুষ পরিপূর্ণ সুস্থ থাকতে পারে না, তার মানবিক গুণাবলির যথাযথ বহিঃপ্রকাশ ঘটে না। এ অবস্থায় কোনো ব্যক্তি হয়তো নিজে সামাজিক বহুবিধ কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হন অথবা সমাজকে বঞ্চিত করে থাকেন। অবশ্য এটি অনস্বীকার্য যে, ওই সমাজটি যখন জঙ্গিবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ হবে, তখনই উক্তরূপ প্রত্যাশা ও কল্যাণ ফলপ্রসূ হবে। যে কারণে সত্য, সঠিক ও সর্বশেষ ঐশী ধর্ম ইসলামে একদিকে সমাজবদ্ধ ও দলবদ্ধভাবে সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে, অন্যদিকে সমাজকে সুস্থ, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সহযোগিতাপূর্ণ, অস্থিরতামুক্ত, জঙ্গিবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ এরশাদ করেনÑ ১. ‘তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)। ২. ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পর বিবাদ করবে না; করলে তোমরা সাহস হারাবে (কাপুরুষ হয়ে যাবে) এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে।’ (সূরা আনফাল : ৪৬)। ৩. ‘তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করেছে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৫)।
প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘জামাতবদ্ধ বা সমাজবদ্ধদের ওপর মহান আল্লাহর সাহায্য থাকে।’ এছাড়া তিনি বলেন, ‘যে দল ত্যাগ করল বা সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সে দোজখে নিক্ষিপ্ত হবে।’
ওইসব আয়াত ও হাদিসে ঐক্যবদ্ধ, সমাজবদ্ধ বা দলবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, উৎসাহ ও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অপরদিকে প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘মুসলমান ওই ব্যক্তি, যার মুখ ও হাত (এর সন্ত্রাস বা অনিষ্ট) থেকে অপরাপর মুসলমানরা নিরাপদে থাকে।’ (বোখারি ও মুসলিম)। আরেকটি হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার (ভাইয়ের) ওপর জুলুম করবে না, তাকে অপদস্থ করবে না এবং হেয় করবে না। একজন মানুষের মন্দ বা সন্ত্রাসী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় করে। প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অপর প্রত্যেক মুসলমানের জানমাল ও ইজ্জত-আবরু হারাম।’ (মুসলিম : খ-৭, পৃ. ৯৯; ইফা)।
উপরোক্ত হাদিস এবং অনুরূপ আরও অসংখ্য হাদিসে ও কোরআনের বাণীতে, মুসলমানদের সমাজের মুসলিম-অমুসলিম প্রতিবেশীদের, নারী-শিশুদের, দুর্বল-অসহায়দের, এমনকি সৃষ্টি জীবজন্তু-প্রাণীদেরও ক্ষতি না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামী জিহাদ ও বর্তমানকার জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসীদের ইসলামের নামে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিচালিত বিভিন্নমুখী আক্রমণ যাতে অযোদ্ধা, নিরপরাধ ব্যক্তি, সাধারণ জনগণ, এমনকি নারী-শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, তা আদৌ ইসলাম বা ইসলামী জিহাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তার কারণ প্রথমত, মৌলিক বিবেচনা মতে, কোনো মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানের পরিচালিত আক্রমণ জিহাদ হতে পরে না। দ্বিতীয়ত, কোনো অমুসলিম ব্যক্তি বা শক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করতে হলে সেক্ষেত্রে ইসলামী জিহাদের শর্ত হচ্ছে, তা পরিচালিত হতে হবে বৈধ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে, ‘যা রাষ্ট্র বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শসাপেক্ষে, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিশ্চিত হয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে, জারীকৃত নির্দেশের মাধ্যমে হয়ে থাকবে। তা-ই হবে ইসলামী জিহাদ।’ কোনো ব্যক্তি বা দলবিশেষের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যত মহৎই হোক না কেন, জিহাদের নামে জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সুযোগ ইসলামী শরিয়ত কখনও দেয়নি।
প্রিয় পাঠক! ইসলামী পরিভাষায় জিহাদ কোনো ব্যক্তিগত বা সামাজিক ইবাদত নয়। এটি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় যৌথ ইবাদত, যা রাষ্ট্র কর্তৃক আদিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তি বা সমাজ পালন করতে বাধ্য নয়; পালন করতে পারেও না। আর কেউ তেমনটি করতে গেলে তা জিহাদ হবে না, ইবাদতও হবে না; বরং তা হবে ফেতনা বা সন্ত্রাস। যেমন ইহুদিবাদের চক্রান্তের শিকার খারেজি সম্প্রদায় হিজরি প্রথম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে জিহাদের নামে, আল্লাহর বিধান ও কোরআন প্রতিষ্ঠার নামে মুসলিম খলিফাদের বিরুদ্ধে, সাধারণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করেছিল। অথচ তখন প্রিয় নবীর অনেক সাহাবি বেঁচে ছিলেন। তারা খারেজিদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং খারেজিদের ধ্যানধারণা মতে কোরআনে উল্লিখিত ফেতনা-সন্ত্রাস দূরীকরণার্থে তাদের পরিচালিত জিহাদই যে প্রকৃত অর্থে জিহাদ নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকা-, তা বোঝানোর প্রয়াস চালিয়েছিলেন তৎকালীন সাহাবিরা। যার অনেক প্রমাণ বোখারি ও মুসলিমসহ ইত্যাদি গ্রন্থে এবং সাহাবাদের জীবনী-ইতিহাসে রয়েছে।
উদাহরণত, তাবেঈ নাফে (রহ.) বলেন, খারেজি নেতা ইবনুল আরজাক আবদুুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) কাছে এসে বলল, হে আবু আবদুর রহমান, কী কারণে আপনি এক বছর হজ করেন আরেক বছর ওমরা করেন এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ পরিত্যাগ করেন? অথচ আপনি জানেন, আল্লাহ জিহাদের জন্য কী পরিমাণ উৎসাহ ও প্রেরণা দিয়েছেন? তখন তিনি জবাব দিলেন, ‘ভাতিজা! ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের ওপরÑ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানের রোজা, জাকাত দান ও বায়তুল্লাহর হজ।’ লোকটি বলল, হে আবু আবদুর রহমান! আল্লাহ তাঁর কিতাবে কী উল্লেখ করেছেন তা কি আপনি শুনছেন না? … এবং তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকবে, যতক্ষণ ফেতনা দূরীভূত না হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত না হয়। (সূরা আল বারাকা : ১৯৩)। তখন ইবনে ওমর বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগে তা করেছিলাম। ইসলাম দুর্বল ও মুসলমানের সংখ্যা কম ছিল, এতে মুসলিম ব্যক্তি তার ধর্ম পালনে ফেতনার সম্মুখীন হতেন। কাফেররা তাকে হত্যা করত বা তার ওপর অত্যাচার করত। যখন ইসলাম বিস্তৃত হয়ে গেল বা বিজয়ী হয়ে গেল, তখন তো আর ফেতনা থাকল না।’
খারেজি নেতার উদ্দেশ্য ছিল, তার কোরআন বোঝা ও ব্যাখ্যা মতে বিশিষ্ট সাহাবি কেন জিহাদ এড়িয়ে চলেছেন তার জবাব নেয়া এবং তাদের পরিচালিত জিহাদের সমর্থন আদায় করা। বিজ্ঞ সাহাবি তার জবাবে বুঝিয়ে দিলেনÑ ১. মুসলমানে মুসলমানে জিহাদ ঠিক নয়। ২. জিহাদের উদ্দেশ্যে যে ফেতনা দূর করা অর্থাৎ ইসলামের মৌলিক পঞ্চস্তম্ভ পালনে বাধা দূর করা, তা এর আগে প্রিয় নবীর জীবদ্দশায় আমরা করেছি। সেই ফেতনা এখন আর নেই। কেননা এখন আমরা স্বাধীনভাবে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালন করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি না। ৩. ওই পঞ্চস্তম্ভের বাইরে ধর্মীয় বিষয়গুলো তথা জিহাদ, দাওয়াত, সৎকাজে আদেশ, অসৎকাজে নিষেধ, পুরো দ্বীন প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি ইবাদতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তবে এসব ‘আরকানে খামসার’ মতো সবার ওপর ফরজে আইন বা অত্যাবশ্যকীয় ফরজ নয়। এগুলোতে শর্ত আছে, সুবিধা-অসুবিধায় ছাড় আছে, স্থান-কাল-পাত্রের বিবেচনায় ব্যাখ্যা আছে। ৪. নিজের বুদ্ধি-বিবেক দ্বারা কোরআন বোঝা এবং সেই আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কোরআনের অপব্যাখ্যার শামিল। কোরআন বুঝতে হবে প্রিয় নবীর সুন্নতের মাপকাঠিতে এবং সাহাবাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী। কেননা কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল এবং বাস্তবে রূপায়িত হয়েছিল সাহাবিদের চোখের সামনে। ৫. শুধু আবেগের নাম ইসলাম নয়, বরং কোরআন ও সুন্নাহর মাপকাঠিতে নিয়ন্ত্রিত আবেগেরই মূল্যায়ন আছে ইসলাম ধর্মে।
লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

কুরআনের বিধান বাস্তবায়নে যে নসিহত পেশ করেছেন বিশ্বনবি

দুনিয়াতে উপদেশ বা নসিহতের সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হলো আল-কুরআন। এটা মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যুসহ পরকালীন জীবনে সব দিক উল্লেখ রয়েছে এ কালজয়ী গ্রন্থে। যে গ্রন্থ আল্লাহ তাআলা অবিকল সংরক্ষণ করেছেন মানুষের বক্ষে। সর্বোপরি সংরক্ষণ করেছে লাওহে মাহফুজে।

এ সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন ব্যবস্থার কিতাবে মানুষের জন্য রয়েছে অসংখ্য নসিহত। যার বিশ্লেষণ করেছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পবিত্র জবানে বর্ণিত হাদিসে। যা কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এবং মানুষের পরকালের নাজাতের একমাত্র ওসিলা।

প্রিয়নবি কুরআনের নসিহতকে তাঁর ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আমল যথাযথ নসিহত পেশ করেছেন। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সেব নসিহতের কিছু বর্ণনা করেছেন। যা তুলে ধরা হলো-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে (সাওয়ারিতে আরোহী) ছিলাম।

তিনি (প্রিয়নবি) বললেন, ‘ হে বালক! তোমার আমালের জন্য আমি তোমাকে কিছু (উপদেশমূলক) কথা নসিহত করছি-
>> ‌আল্লাহ তাআলার বিধি-বিধানের (কুরআনের নির্দেশের) হেফাজত করবে; তাহলে তিনি (আল্লাহ) তোমার হেফাজত করবেন।

>> আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির ব্যাপারে (কুরআনের বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে) সর্বদা খেয়াল রাখবে; তাহলে তাঁকে তুমি তোমার সামনে (সব কাজে সাহায্যকারী হিসেবে) পাবে।

>> যখন (তোমার) সাহায্যের প্রয়োজন হবে; তখন (শুধুমাত্র) আল্লাহ তাআলার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করবে।

মনে রাখবে-
>> (গোটা দুনিয়ার) সব লোক যদি তোমার উপকার করতে একত্রিত হয়; তবে আল্লাহ তাআলা তোমার তাকদিরে (ভাগ্যে)যা লিখে রেখেছেন; সে টুকু ছাড়া অন্য কেউই (দুনিয়ায়) তোমার (কম-বেশি) উপকার করতে পারবে না। এবং

>> যদি (দুনিয়ার) সব লোক একত্রিত হয়ে তোমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে; সে ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা তোমার তকদিরে (ভাগ্যে) যা নির্ধারণ করে রেখেছেন; তা ছাড়া (কম-বেশি) কোনো ক্ষতিই কেউ করতে পারবে না।
কেননা কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে আর কাগজগুলো শুকিয়ে গেছে। অর্থাৎ আল্লাহ বিধান সাব্যস্ত হয়ে গেছে। যার ব্যতিক্রম কিছুই হবে না। (তিরমিজি)

উল্লেখিত হাদিসে কুরআনে বিধানে যথাযথ বাস্তবায়ন এবং প্রিয়নবির সব উপদেশ গ্রহণ করার জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। যাতে কোনো রদ বদল হবে না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ গুরুত্বপূর্ণ নসিহতকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে কুরআনের বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মদিনায় নবীজির সর্বপ্রথম জুমার খুতবা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মুহাদ্দিসগণ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোটবড় সকল হাদিস বর্ণনার প্রতি মনোযোগী ছিলেন। সেজন্য হাদিস ও সুন্নতে নববি ভা-ারে বিক্ষিপ্তভাবে নবীজি প্রদত্ত খুতবাগুলো বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিমসহ হাদিস গ্রন্থাদিতে বহু বর্ণনার শুরুতে বর্ণনাকারী বলেন, ‘খাতাবানা’ অর্থাৎ নবীজি খুতবায় আমাদের বলেছেন অথবা ‘ক্বামা ফিনা খাতিবান’ অর্থাৎ নবীজি খুতবায় দাঁড়িয়ে বললেন। এসব বর্ণনা মূলত নবীজি প্রদত্ত খুতবাগুলোরই উদ্ধৃতি। অন্যদিকে ঐতিহাসিকগণ বিশদভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নবীজির পুরো জীবনবৃত্তান্ত সংকলন করেছেন এবং প্রাসঙ্গিক তাঁরা বিভিন্ন পর্যায়ে নবীজি প্রদত্ত খুতবাসমূহ স্ব স্ব স্থানে উদ্ধৃত করেছেন। আর বিদায় হজে প্রদত্ত নবীজির খুতবার পুরো অংশই একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

তাছাড়া সিরাত ও ইসলামী ইতিহাস বিষয়ক কোনো কোনো গ্রন্থে নবীজি প্রদত্ত আরও কিছু খুতবা পরিপূর্ণভাবে উদ্ধৃত হয়েছে। তেমনি একটি খুতবা বিবৃত হয়েছে আল্লামা তাবারি (রহ.) এর ‘তারিখুর রুসূল ওয়াল মুলূক’ গ্রন্থে। মদিনায় এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম জুমায় যে খুতবা প্রদান করেছিলেন- তা নিম্নরূপ:

‘সকল প্রশংসা আল্লাহর। তাঁর প্রশংসা করছি। তাঁর নিকটি সাহায্য চাচ্ছি। তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তাঁর নিকট হেদায়াত কামনা করছি। তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি। আমি তাঁর সঙ্গে কুফরি করি না। যে তাঁর সঙ্গে কুফরি করে সে আমার শত্রু। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হেদায়াত, সত্য দ্বীন, আলো ও উপদেশ সহকারে নবীদের পরবর্তী বিরতিতে লোকুদের মূর্খতা ও ভ্রষ্টতার সময়ে শেষ যুগে কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে প্রেরণ করেছেন। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল সে সঠিক পথ প্রাপ্ত আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো সে পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।

আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করতে ওসিয়ত করছি। এক মুসলিম অপর মুসলিমকে সবচেয়ে উত্তম যে ওসিয়ত করতে পারে তা হলো, আখেরাতের (জন্য আমলের) ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাকওয়া অবলম্বনের আদেশ দেয়া। অতএব আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের ব্যাপারে যেসব কিছুর ভয় দেখিয়েছেন, সেসব থেকে দূরে থাকো। এরচেয়ে উত্তম কোনো নসিহত হতে পারে না। এরচেয়ে ভালো কোনো উপদেশ হতে পারে না। তাকওয়া তথা নিজ প্রতিপালকের ভীতি মনে রেখে তাঁর নির্দেশমতো আমল করা আখেরাতে ইচ্ছামত নেয়ামত পাওয়ার জন্য প্রধান সহায়ক। যে প্রকাশ্য ও গোপনে তার ও আল্লাহর মধ্যকার বিষয়গুলো দুরস্ত করে নিল এবং আমলের দ্বারা আল্লাহ ছাড়া আর কারও নিয়ত করল না, এসব তার জন্য দুনিয়াতে হবে মর্যাদা এবং মৃত্যুর পর হবে মহাসম্পদ; যখন মানুষ তার ভালো কৃতকর্মের প্রয়োজন অনুভব করবে, এতদ্ব্যতীত বাকি সবের বেলায় সে কামনা করবে তার এবং ওইসব মন্দ কর্মের মাঝে যদি বহু দূরত্ব থাকতো! আল্লাহ তায়ালা নিজের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করছেন। বান্দাগণের প্রতি আল্লাহ বড় দয়াবান। আল্লাহর বাণী চিরসত্য এবং তাঁর অঙ্গীকার সর্বদা বাস্তবায়িত হয়; এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার কাছে কথা রদবদল হয় না এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নই।’ (সূরা ক্বাফ: ২৯)

বর্তমান ও ভবিষ্যত এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সর্বক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা যে তাকওয়া অবলম্বন করল সে মহা সফলতা অর্জন করল। তাকওয়া মানুষকে আল্লাহর শাস্তি ও অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচায়। তাকওয়া চেহারা আলোকিত করে, প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়। নিজেদের অংশ বুঝে নাও এবং আল্লাহর আনুগত্যে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করো না। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের তাঁর কিতাব শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাঁর পথ তোমাদের নিকট পরিষ্কার করে দিয়েছেন; যাতে করে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীর মাঝে ফরক করা যায়। তোমরা আল্লাহর জন্য শ্রম স্বীকার করো যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত। তিনি তোমাদের পছন্দ করেছেন এবং তোমাদের নাম দিয়েছেন মুসলমান। যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর ধ্বংস হয় এবং যে বাঁচার ছিল, সে যেন বেঁচে থাকে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর। আল্লাহ ছাড়া আর কারও শক্তি নেই। তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করো। মৃত্যু পরবর্তী জিন্দেগির জন্য আমল করো। কেননা যে তার ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করে নিল সে আর কোনো মানুষের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। কেননা আল্লাহ মানুষের ওপর কর্তৃত্ব রাখেন, পক্ষান্তরে মানুষ আল্লাহর ওপর কোনো কর্তৃত্ব রাখে না। আল্লাহ মানুষের সবকিছুর মালিক, পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর কিছুরই মালিক নয়। আল্লাহ মহান। মহান মর্যাদাবান আল্লাহ ছাড়া আর কারও কোনো শক্তি নেই।’

ইমাম বায়হাকি (রহ.)ও তদীয় ‘দালায়িলুন নুবুওয়াহ’ (২/৩৮৫-৩৮৬) গ্রন্থে ভিন্ন সনদে এই খুতবাটি বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে কাসির (রহ.) মন্তব্য করেন, এসব সনদ একটি অপরটির জন্য সমর্থনকারী এবং সবগুলো মিলে একটি শক্তিশালী বর্ণনায় পরিণত হয়েছে; যদিও শব্দের কিছুটা ব্যবধান রয়েছে। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/২০)

অনলাইনে শুরু হতে যাচ্ছে ৪০ হাদিস মুখস্ত প্রতিযোগিতা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

প্রথমবারের মত অনলাইনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪০ হাদিস মুখস্ত প্রতিযোগিতা।এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন বন্দরের মরহুম আল্লামা বাকী বিল্লাহ (রহ) এর বড় ছেলে মিশর আল-আজ্বহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল মুস্তফা রাহীম। তিনি বলেন, “নবীজি (দ:) ৪০ হাদিস মুখস্তকারীদের ব্যাপারে ঘোষনা করেছেন আল্লাহ পাক তাদের কিয়ামত দিবসে ফকিহ ও আলেমদের কাতার ভুক্ত করবেন।”ব্যক্তি,পারিবারিক,সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সর্বোত্তম আদর্শ হলেন প্রিয় নবী (দ:)।নবিজী (দ:) এর অনুসরনেই আছে মুক্তি। সে জন্য হাদিস চর্চা অত্যন্ত জরুরী।

তিনি জানান, আগামী ১৫ সেপ্টম্বর শুক্রবার অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিযোগিরা বিচারকদের মুখোমুখি হবেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের ৪২০ জন প্রতিযোগী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নাম নিবন্ধন করেছেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য থাকছে ল্যাপটপ, মূল্যবান কিতাব, নগদ অর্থ সহ আকর্ষনীয় পুরস্কার দেয়া হবে।

প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ফেসবুক পেজে লগইন করার অনুরোধ করা হয়েছে।

https://www.facebook.com/abdulmostofa.rahim

কাশীপুর ঈদ উল আযহার ২টি জামাত অনুষ্ঠিত

পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে প্রতিবারের ন্যায় এবারো কাশীপুর ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আযহার ২টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত ঈদুল আযহার জামাত এর নামাজের ইমামতি করেন আলহাজ¦ হাফেজ মাওঃ খোরশেদ আলম ইমাম ও খতিব বাইতুল আকসা জামে মসজিদ বাংলা বাজার। কাশীপুর ঈদগাহ কবরস্থান মহাফেজ কমিটি সভাপতি আলহাজ¦ আশ্রাফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ ফিরোজ মাহমুদ। সভাপতি আশ্রাফুল আলম বক্তব্যে বলেন ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মুসল্লিরা ঈদুল আযহার জামাত এর নামাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করেন। বৃষ্টির জন্য কাশীপুর ইউনিয়ন মসজিদ গুলিতে নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্যে নামাজ আদায় করার জন্য বলেন। আবহাওয়া খারাপ এর জন্য এলাকার মসজিদে মসজিদে জামাত আদায় করেন। আলহাজ¦ এম সাইফউল্লাহ বাদল কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আঃলীগ সভাপতির জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করেন।

কাবা শরিফে নামাজে স্বামী, ছায়া হয়ে দাঁড়ালেন স্ত্রী

এক লোক নামাজ আদায় করছেন আর তার স্ত্রী নিজের ছায়া স্বামীর শরীরের ওপর ফেলেছেন, যাতে রোদে তার কষ্ট না হয়। দৃশ্যটি সৌদি আরবের কাবা শরিফের পাশে দেখা গেল। আর এটি ধরা পড়েছে ফটোগ্রাফার রাইদ আলেহায়ানির ক্যামেরায়।

সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ায় মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) আলোচিত এই ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, কাবা শরিফের পাশে এক লোক নামাজ আদায় করছেন আর তার স্ত্রী নিজের ছায়া স্বামীর শরীরের ওপর ফেলেছেন, যাতে রোদে তার কষ্ট না হয়।

এবারের হজের মধ্যে আরাফাতের দিন ছবিটি তোলা। যদিও এরই মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে।

ফটোগ্রাফার আলেহায়ানি কখনো কল্পনাও করেননি যে তার একটি ছবি সারা বিশ্বে এ রকম জনপ্রিয় হবে। তিনি বলেন, দৃশ্যটি পবিত্র মসজিদের ওপর থেকে দেখছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করি। এরপর এটি ভাইরাল হয়ে গেছে। লাখ লাখ লাইক ও কমেন্টে ভরে যায় ফেসবুক।

সৌদি আরবের মিস্ক ফাউন্ডেশনের অধীনে আলেহায়ানি চলতি বছর হজ কাভার করেন। তিনি বলেন, ছবিতে থাকা ভদ্রলোক তার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ ছবিটি শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে গেছেন।

হজ যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে ২৪ জুলাই থেকে। হজ গমনেচ্ছুদের স্বাস্থ্যসনদ প্রদানের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। এর পাশাপাশি মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা দেওয়া হবে।
১৬ জুলাই থেকে রাজধানীর আশকোনার হাজী ক্যাম্পে কেন্দ্রীয়ভাবে শুরু হবে এ কার্যক্রম। ধর্ম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বছর ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি হজ যাত্রী বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চূড়ান্তভাবে নিবন্ধিত সব হজযাত্রীকেই স্বাস্থ্য সনদ ও টিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্য সনদটি বিমানবন্দরে প্রদর্শনের জন্য যাত্রীদের সংরক্ষণ করতে হবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদার ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ও সচিবালয় ক্লিনিকে ঢাকা জেলা ও মহানগরীর হজযাত্রীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নিতে পারবেন।

অন্য সব জেলার হজযাত্রীরা বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা শহরে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর টিকা নিয়ে স্বাস্থ্য সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।

নবীর শিক্ষা করো না ভিক্ষা

ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তি বা পরজীবী জীবনকে পছন্দ করে না, বরং শ্রমজীবী জীবনই ইসলামের কাম্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, এক আনসারি ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করলে তিনি তাকে বাজার থেকে কুড়াল খরিদ করে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। অতঃপর সে কুড়ালে নবীজি (সা.) নিজ হাতে হাতল লাগিয়ে দিয়ে বলেন, জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো এবং বলে দিলেন, ১৫ দিন পর্যন্ত যেন আমি তোমাকে না দেখি। ১৫ দিন পর সেই সাহাবি ১০টি দিরহাম নিয়ে রাসুলের দরবারে উপস্থিত হলে তিনি তার ব্যবসায়িক সাফল্যে খুশি হয়ে বললেন, ‘মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে এটি অনেক উত্তম।’ (আবু দাউদ : ১৬৪১)।

ইসলামের দৃষ্টিতে যারা সবল, উপার্জনে সক্ষম তাদের জন্য কারো কাছে হাত পাতা বা চাওয়া বৈধ নয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ধনী ও সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য সদকা হালাল নয়।’ (আবু দাউদ : ১৬৩৬)। রাসুলল্লাহ (সা.) অলস ও বেকারের জন্য দান-সদকার অনুমতি দেননি, যাতে মানুষ হালাল পন্থায় উপার্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। অনুরূপভাবে ভিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে তিনি কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করেছেন এবং এ ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করেছেন। বোখারির বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অব্যাহতভাবে মানুষের কাছে ভিক্ষা প্রার্থনা করে কেয়ামতের দিন তার মুখম-ল মাংসশূন্য হবে।’ (বোখারি ও মুসলিম)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সকালে বের হয়ে পিঠে লাকড়ি সংগ্রহ করে সদকা করা অথবা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে নিজেকে রক্ষা করা (দান করুক বা না করুক) অন্যের কাছে চাওয়ার চেয়ে অনেক উত্তম।’ (তিরমিজি : ৬৭৫)।
ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল পথের কোনো পেশাই হীন বা অপমানকর নয়; বরং ইসলাম হালাল পন্থায় উপার্জনকে অতি উচ্চমর্যাদায় মূল্যায়ন করেছে। এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘মানুষের স্বহস্তে উপার্জিত খাবারের চেয়ে উত্তম খাবার কিছুই হতে পারে না। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) স্বহস্তে উপার্জন করে আহার করতেন।’ (বোখারি : ২০৭২)। নিজের হাতের উপার্জনকে সর্বোত্তম আখ্যায়িত করে ইসলাম শ্রমের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে দিয়েছে। কোনো শ্রমকেই কেউ যেন ঘৃণার চোখে না দেখে, সেজন্য আল্লাহ তায়ালা তার নবীদের দ্বারা সমাজের দৃষ্টিতে নিম্নমানের শ্রমগুলো বাস্তবায়িত করে সমাজের ভুল ধারণা ভেঙে দিতে চেয়েছেন। বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায়, আদম (আ.) কৃষি কাজ করেছেন। ইদ্রিস (আ.) দর্জির কাজ করেছেন। নুহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। দাউদ (আ.) ছিলেন কর্মকার, মুসা (আ.) ছিলেন রাখাল। খোদ দোজাহানের সরদার আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ইহুদিদের বাড়িতে শ্রম দিয়ে এবং মক্কাবাসীর রাখালি করে শ্রমের মর্যাদাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। এমনকি মানুষের কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট যে কাজ অর্থাৎ জুতা সেলাই করা, তিনি তা নিজ হাতে করে এহেন কাজের প্রতি মানুষের অহেতুক ঘৃণাবোধ দূর করার চেষ্টা করেছেন। এতে যে শুধু শ্রমের প্রতি মানুষের ঘৃণাবোধ দূর করার প্রচেষ্টা হয়েছে তা-ই নয়, বরং এর দ্বারা শ্রমিকের প্রতি ঘৃণাবোধকে করারও অভিনব প্রয়াস নিহিত রয়েছে। নবীজির সাহাবিদের মধ্যে বেলাল, আম্মার, সালমান, খাব্বাব, সুহাইব, যায়েদ, ইকরামা প্রমুখ ছিলেন আজাদকৃত দাস ও শ্রমিক। কিন্তু তাদের সামাজিক মর্যাদা ছিল অন্য অনেক সাহাবির উপরে। খলিফা ওমর (রা.) হজরত বেলাল (রা.) কে নেতা বলে সম্বোধন করতেন।
রাসুল (সা.) ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে সাহাবাদের উৎসাহ দিতেন। কেউ ব্যবসায় মুনাফা অর্জন করেছে শুনতে পেলে অত্যন্ত খুশি হতেন। উরওয়া বারেকি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে এক দিনার দিয়ে একটি বকরি কেনার নির্দেশ দেন। আমি সেই দিনার দিয়ে দুইটি বকরি খরিদ করি। তারপর এ দুইটি বকরি থেকে একটিকে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করে দেই। অতঃপর নগদ এক দিনার এবং একটি বকরি নিয়ে রাসুলের খেদমতে পেশ করলাম। রাসুল (সা.) তা দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং উরওয়ার জন্য বরকতের দোয়া করেন।’ (তিরমিজি : ১২৫৮)।
একবার রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন কোন উপার্জন অত্যন্ত পবিত্র ও উত্তম? তিনি বললেন, নিজের হাতের কাজ এবং সততাপূর্ণ ব্যবসা-বাণিজ্য। (মুসনাদে আহমদ)। ইসলামের চার খলিফার মধ্যে হজরত আবুবকর (রা.) ব্যবসায়ী ছিলেন, ওমর (রা.) রাখাল ছিলেন, আর হজরত আলী (রা.) ছিলেন দিনমজুর। তিনি ইহুদির ক্ষেতেও মজুরির কাজ করেছেন। অধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আবু হুরায়রাও (রা.) ছিলেন একজন বেতনভুক্ত শ্রমিক।
ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক ক্ষণজন্মা ব্যক্তি গত হয়েছেন, যাদের কৃতিত্বের সাক্ষর বহন করে রচিত হয়েছে গবেষণাধর্মী বহু গ্রন্থ। আমরা তাদের নামের সঙ্গে তাদের পেশার নামও দেখতে পাই। যে পেশার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। যেমনÑ বাজ্জাজ (কাপড় ব্যবসায়ী), জাসসাস (কাঁচ প্রস্তুতকারক), খাব্বাজ (রুটি তৈরিকারী), খাইয়াত (দর্জি), হাজ্জা (জুতা সেলাইকারী), হাদ্দাদ (কর্মকার), কাত্তান (তুলা উৎপাদনকারী) ইত্যাদি পেশাভিত্তিক পরিচয়ে ইতিহাসে অনেক বরেণ্য আলেম, বিশিষ্ট জ্ঞানী, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও ফেকাহবিদ ছিলেন। তারা নিজেদের এসব পেশায় পরিচয় দিতে সামান্য লজ্জাবোধ করেননি বা হীনম্মন্যতায় আক্রান্ত হননি।
ইসলামে জীবিকা নির্বাহকে ফরজ ইবাদত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘হালাল পন্থায় জীবিকা অন্বেষণ করা দ্বিতীয় স্তরের ফরজ।’ (মিশকাত : ২৭৮১)। পবিত্র কোরআনে জীবিকা উপার্জনসংক্রান্ত বহু আয়াত রয়েছে। এবং বিশ্বনবী (সা.) হাদিসে এ ব্যাপারে জোড় তাগিদ প্রদান করেছেন। এমনকি জীবিকার অন্বেষণে দেশ ভ্রমণ ও স্বদেশ ত্যাগের প্রতিও উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘সফর করো সুস্থ থাকবে, জিহাদে বের হও, ধনী হয়ে যাবে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৮৯৪৫)। জীবিকা উপার্জনসংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসের অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রথম যুগের মুসলমানরা পৃথিবীর অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন। রিজিক অন্বেষণ করেছেন ও ধর্মপ্রচার করেছেন।