আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৪৭
fevro
শিরোনাম

ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে না’গঞ্জ বিএনপি রাজপথ দখলে নেয়ার প্রত্যয়

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সকল কিছুকে পেছনে ফেলে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মত এবার দলের সকল কর্মসূচীতে দলের সকল নেতাদেরকে দেখা যাবে একসাথে। ঐক্যবদ্ধ হয়েই দলের সকল কর্মসূচী পালনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের নেতারা। খালেদার জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের প্রতিবাদ কর্মসূচী ও দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে একত্রে বসলেও সেখানে সকলে দলের সকল বিভাজন ভুলে এক হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে দলের গুলশান কার্যালয়ে দলের নেতারা বসে বৈঠক করেছেন। সেখানে দলের সকল কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সকলেই কথা বলেন এবং নিজেদের ছাড় দেয়ার মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, জেল খেটেছি প্রয়োজনে আবার খাটবো। এখন  আমাদের লক্ষ্য একটাই আমাদের নেত্রীর মুক্তি। বিভেদ বিভাজনের সময় এখন আর নেই। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবারো দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন তাকে উপহার দেয়াই এখন জাতীয়তাবাদের মূল লক্ষ্য। জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই রাজপথে দলের কর্মসূচীগুলো সফল করতে হবে। সবাইকে এক হতে হবে। একতাবদ্ধ হবার এখনই সময়। নেত্রীর জন্য নিজেদের সবটুকু নিয়ে কাজ করতে হবে। মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, এখন আর মনোনয়ন নিয়ে আমাদের কোন্দল বিভাজনের সময় বা সুযোগ কোনটাই নেই। নেত্রীর মুক্তিই আমাদের সকলের একমাত্র উদ্দেশ্য হোক। সকলে একসাথে মিলে হাতে হাত রেখে রাজপথে কাজ করতে হবে।  মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, সবাইকে নিয়েই আমরা এক হয়েছি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে আর কোন বিভেদ থাকবেনা। এটা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, সকল কিছু ভুলে বিএনপির সবাই এক হবো। আমাদের কোন কোন্দল থাকবেনা, আমাদের একটাই পরিচয় আমরা বিএনপির কর্মী। নেত্রীর মুক্তির মধ্যেই আমাদের সকলের অস্তিত্ব। নেত্রীকে মুক্ত করতে না পারলে আমরা সকলেই বিলীন হয়ে যাবো। সভায় জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নেতাকর্মীদের জামিনের কাজে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেননি। একই সাথে মামলায় জর্জরিত থাকায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুও উপস্থিত হতে পারেননি।

আশার আলো দেখছে বিএনপি নেতাকর্মীরা

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেল। দুই সপ্তাহে জেলার সাতটি থানায় ১৩টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামি হয়েছেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। কারাগারে গিয়েছেন প্রায় ৮০ জন নেতাকর্মী। পুলিশি অভিযান কিছুটা শিথিল অবস্থাতে কারাগার থেকে জামিন পেতে শুরু করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। জেলায় ১৩টি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হুলুস্থল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। কেউ কারাগারে কেউ গ্রেপ্তার কেউ বাড়ি ছাড়া কেউ আত্মগোপনে-এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা। জানাগেছে, গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন মোল্লা ও আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুয়েল হোসেন সহ ৮ জন বিএনপি নেতাকর্মী। আড়াইহাজার থানার একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় আগের দিন রোববার উচ্চ আদালত থেকে এ ৮ জন নেতাকর্মী জামিন লাভ করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এসব নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান ও আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দীন রেজা। এ তিনজন গত ৫ ফেব্রুয়ারি সানারপাড় এলাকা হতে পুলিশের হাতে আটক হন। এছাড়াও জানা গেছে, সোমবার উচ্চ আদালত থেকে সোনারগাঁ থানার তিনটি মামলায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আজহারুল ইসলাম মান্নান সহ ৭৫ জন বিএনপি নেতাকর্মী ২মাসের জামিন নিয়েছেন। গত সপ্তাহে জামিন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। মামলার হওয়ার পরপরই আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। জামিন পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি এটিএম কামাল, অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাসানী সহ বেশকজন নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার উচ্চ আদালত থেকে আরো জামিন পেয়েছেন কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মোঃ ফারুক আহম্মেদ, আকরাম প্রধান, আনোয়ার হোসেন আনু, অধ্যাপক খন্দকার মনিরুল ইসলাম, মঈনুল হোসেন, মোঃ ইকবাল, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ জনি, মাসুদুর রহমান আসলাম, সাদেকুর রহমান সাদেক, মজিবর রহমান দেওয়ান, এস এম নুরুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম ভূইয়া, নুর মোহাম্মদ পনেজ, মাহবুবুর রহমান, শাহান শাহ আহম্মেদ, মনির হোসেন টিটু, আকতার হোসেন, মোঃ মোহসিন, ইকবাল হোসেন, সোহেল খান বাবু, মোঃ বিল্লাল হোসেন, সহিউদ্দিন সাউদ, কাজী বাদল, সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, কামাল হোসেন মিন্টু, কাজী মাহাবুবুর রহমান সোহাগ, ইমাম উদ্দিন তোহা, হুমায়ুন কবির, মোঃ মহিউদ্দিন শিশির, কাউসার হামিদ খান সহ ৩৪ জন নেতাকর্মী। তবে কারাগারে থাকা প্রায় ৮০ জন নেতাকর্মীদের মধ্যে জামিন পেয়েছেন মাত্র ১৫ জনের মত। এখনও কারাগারে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব সহ  অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তবে এদিকে মামলায় জামিন পাওয়ায়  আশার আলো দেখছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেই সঙ্গে সোমবার বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের কপি অনুলিপি হাতে পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী। যে কারনে বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি শিথিল হয়ে আসছে। এদিকে আপাতত জেলার কোথাও গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।

নাশকতার মামলায় বন্দরে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

বন্দর প্রতিনিধি
বন্দরে পুলিশের উপর হামলার মামলায় জামায়াত নেতা কাজী মামুন (৩৬)কে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর ফাঁড়ি পুলিশ। গত শনিবার রাতে বন্দর আমিন আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জামায়াত নেতা কাজী মামুন বন্দর থানার ২২ নং ওয়ার্ডস্থ সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকার সিরাজ মুন্সির ছেলে। জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারী ভোর ৬টায় বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি চেয়ারর্পাসন বেগম খালেদা জিয়ার দূনির্তী মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কাজী মামুনসহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউছার আশা, মদনপুর এলাকার বিএনপি নেতা মাজহারুল ভূইয়া হিরন, বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম, সোনাকান্দা এলাকার বিএনপি নেতা পনেছ, নবীগঞ্জ কবিলেরমোড় এলাকার যুবদল নেতা নাজমুল হক রানা, একই এলাকার সেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তাকুর, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহাম্মেদ, পুরান বন্দর মোল্লাবাড়ি এলাকার ছাত্রদল নেতা হুমায়ন কবির মোল্লা, দক্ষিন লক্ষনখোলা এলাকার সেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইদুর রহমান, চৌরাপাড়া এলাকার বিএনপি নেতা নেছার উদ্দিন, মালিবাগ এলাকার বিএনপি নেতা কালা মনির, সোনাকান্দা এলাকার জামায়াত নেতা কাজী মামুন, সালেহনগর এলাকার ছাত্রদল নেতা পিংকি, হরিপুর এলাকার যুবদল নেতা বালু মনির, একই এলাকার গ্যাস কাউছার ও মহানগর বিএনপি সহ-সভাপতি হাজী নূর উদ্দিনসহ অজ্ঞাত ৭০/৮০ জন বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মী মদনগঞ্জ-মদনপুর সড়কে গাছ ফেলে অরাজগতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ব্যাপারে বন্দর ফাঁড়ি উপ-পরিদর্শক অজয় কুমার পাল বাদী হয়ে বন্দর থানায় নাশকতা আইনে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় পুলিশ জামায়াত নেতা মামুনকে গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ডের চেয়ে দুপুরে দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে ।

ঘুষ দূর্নীতির অভিযোগে ইউএনও’র প্রত্যাহার  দাবীতে ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসমিন বিনতে জেবিন শেখের প্রত্যাহার দাবীতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। গতকাল রোববার সকালে ফতুল্লার সস্তাপুর, কোতালেরবাগ, কুতুবআইল ও ইসদাইরসহ ৪টি এলাকার ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, মসজিদের ইমাম ও জনসাধারন এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ইউএনও’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অসদচারণ, ফাইল আটকিয়ে ঘুষ দাবী ও দুর্নীতির একাধীক অভিযোগ এনে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও দুদকে দেয়া গণসাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্রের একটি অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাহী অফিসার তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ যোগদানের পর থেকে এলাকাবাসী চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ কোন ফাইল ছাড়েন না। জনসাধারনের ব্যবসায়ীক ও সামাজিক বিভিন্ন কাজের ও আবেদনের যেকোন ফাইল মাসের পর মাস ঘুষের জন্য আটকিয়ে রাখেন। এছাড়া অনেক ফাইল রয়েছে চাহিদা মত ঘুষের টাকা না পেয়ে এক বছর ধরে তার অফিসে ফেলে রেখেছেন। সদরের ৫৯ জন গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসের পর মাস সরকারী ভাতা না দিয়ে ঘুরাচ্ছেন। ফলে অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পরিবারবর্গ। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত নৈশপ্রহরী শ্যামল বৈদ্য নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও সরকারী চাকুরী নিয়েছেন। তথ্য গোপন রেখে স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকুরী করছে। একই সঙ্গে ইউএনও’র যোগশাযোশে সরকারী জমি একসোনা লীজ নিয়ে তা অন্যত্রে বিক্রি করে দিচ্ছে। এবিষয়ে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে একাধীক সরকারী জমি লীজ নিয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছে। ইউএনও তার এক আত্মীয়কে প্রতিদিন সরকারী গাড়ি দিয়ে ঢাকায় বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থানে নামিয়ে দিতে গাড়ি চালককে চাপ প্রয়োগ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে অবৈধ আদেশ পালন করেন সরকারী গাড়ি চালক রাজকুমার। সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশে ফতুল্লার সস্তাপুরে বিক্রি করে দেয়া দেড় শতাংশ সরকারী জমি উদ্ধার করে একটি তালিমুল কোরআন নামে একটি এমিতখানা ও মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ইউএনও’র কাছে লিজ দাবী করা হয়। ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ফতুল্লা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে দুই দফা তদন্ত করিয়ে সরকারি জমি বিক্রি করে দেয়ার প্রমান পায়। এরপর এমিতখানা ও মাদ্রাসার আবেদনকারীর কাছে লিজ দেয়ার জন্য দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন ইউএনও। এতে ওই এমিতখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানালে তাদের আবেদন প্রায় এক বছর যাবত ফাইলবন্দি করে রেখেছেন। এভাবে একাধীক লোকের ফাইলবন্ধি আছে ইউএনওর কাছে।

এলাকাবাসী কোন সমস্যা নিয়ে ইউএনও’র সাথে দেখা করলে তিনি অসৌজন্যমূলক ও রূঢ় আচরণ করে তাড়িয়ে দেন। কথায় কথায় উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়। নৈশ প্রহরী মাহবুবকে ইউএনও তার কোয়াটারে নিয়ে বাবুর্চির কাজ করায়। এতে রান্নায় কোন সমস্যা হলে মাহবুবের বেতন থেকে টাকা কেটে রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন নির্যাতনের মুখে থাকলেও চাকুরী হারানোর ভয়ে কোন প্রতিবাদ করেনা। ফতুল্লায় পশু জবাইখানা (পিলখানা) না থাকলেও একটি সন্ত্রাসী বাহিনীকে বছরের পর বছর ধরে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ইজারা দিয়ে যাচ্ছে ইউএনও। এ নিয়ে প্রায় সময় বিভিন্ন বাজারে মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথিত ইজারাদাদের বাগবিতন্ডা হয়। উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে ইউএনও’র কাছে একাধিকবার মৌখিক ভাবে জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। সম্প্রতি সদর উপজেলা পরিষদ মসজিদের ইমাম ও খতিব ফয়জুল্লাহ এলাকাবাসীর কাছে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। রহস্যজনক কারনে ইমাম ফয়জুল্লাহকে সেচ্চায় অব্যহতি নিয়ে আত্মগোপন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে ইউএনও। সেচ্ছায় অব্যাহতি পত্র ইউএনওর কাছে জমা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে দিয়ে হুমকিও দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে কয়েক দফা মুসল্লিরা বিক্ষোভও করেছে। ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখ সদর উপজেলায় যোগদানের পর উপজেলা কমপ্লেক্সের ভিতরে এলাকাবাসীর টাকা নির্মিত তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদের নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। ইউপির জনপ্রতিনিধিরাও তার প্রতি অসুন্তুষ্ট। যেকোন কাজে ইউএনও কমিশনের নামে ঘুষ দাবী করে বসেন। ফলে ইউএনও’র ঘুষ দিয়ে চাহিদা মত উন্নয়ন কাজ করতে পারেনা জনপ্রতিনিধিরা। নানা সমস্যার কারনে জনপ্রতিনিধিরা ইউএনও’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেননা। উপজেলা কার্যালয়ের কাজে ব্যবহৃত চিঠির খাম ইউএনও নিজেই ক্রয় করে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিল পাশ করিয়ে নিয়েছেন। এনিয়ে উপজেলায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমালোচনায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। নারায়ণগঞ্জ শহরতলীতে অল্পবৃস্টি হলেই হাটু পানিতে তলিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলো। এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও তাসমিন বিনতে জেবিন শেখের কাছে এলাকাবাসী একাধিকবার গিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য দাবী জানালেও তিনি কোন কথাই কানে নেননি। উল্টো পূর্বের ইউএনও আফরোজা আক্তার চৌধুরীর ৬০ লাখ টাকার দুর্নীতির কথা শুনিয়েছেন। পূর্বের ইউএনওর দুর্নীতির কারণে তিনি দুর্ভোগের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিবেন না বলে গোঁ ধরে থাকেন। কয়েক মাস এলাকাবাসী পরিবার পরিজন নিয়ে পানিবন্দি হয়ে থাকলেও ইউএনও একটি বারের জন্যও খোঁজ খবরটি পর্যন্ত  নেয়নি। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে ঘুষ বানিজ্য করেন ইউএনও। দাবীকৃত ঘুষের টাকা না পেলে নির্বাচনের প্রার্থীদের নানা ভাবে হয়রানী করেন।

এ ব্যপারে সদর ইউএনও বলেন, ‘সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের পাশে ফতুল্লার সস্তাপুরে ১ শতাংশ ৮০ পয়েন্টের একটি সরকারী জমি তৎকালীন সদর ইউএনও মো: গাউছুল আজম স্যার তার পিয়ন শ্যামল বৈদ্যকে লীজ দিয়ে যান। সেই জমিটি লীজ পুনরায় নবায়ণের জন্য শ্যামল বৈদ্য আবেদন করার পর তালিমুল কোরআন নামে একটি এমিতখানা ও মাদ্রাসার নামে জনৈক আলামিন প্রধান একই জমির লীজ প্রদানের আবেদন করেন। পরবর্তীতে জমির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এসিল্যান্ড থেকে এখনো আমি কোন প্রতিবেদন পাইনি। অথচ, দোষারোপ করা হচ্ছে আমি ঘুষের জন্য ফাইল আটকে রেখেছি।’ প্রকৃত পক্ষে এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে সরকারী জমি লীজ না দেয়ার আক্রোশেই ফতুল্লার স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে জনৈক আলমিন প্রধান জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বলে দাবী করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জেবিন বিনতে শেখ। গতকাল রবিবার দুপুরে ঘুষ, দুর্নীতির অভিযোগে সদর ইউএনও’র প্রত্যাহার দাবীতে জেলা প্রশাসকের নিকট ফতুল্লার কয়েকটি এলাকাবাসীর একটি স্মারকলিপি প্রদানের প্রেক্ষিতে তাসনীম জেবিন বিনতে শেখ এই দাবী করেন।

রূপগঞ্জে গাড়িচোর চক্র সক্রিয়

 

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

উপজেলার পূর্বাচল উপশহর থেকে হরহামেশা খোয়া যাচ্ছে দামী দামী গাড়ি। রাজধানী থেকে পূর্বাচলে ঘুরতে আসা লোকজনের গাড়ি মূহূর্তে উধাও করে দিচ্ছে চোর সিন্ডিকেট। পূর্বাচলের ১নং সেক্টরে ষ্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্ধকৃত জমিতে অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠা নীলা মার্কেট থেকে লোপাট হয়ে যাচ্ছে এসব গাড়ি। চুরির কবলে পরেছেন সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে ভিআইপিদের গাড়ি পর্যন্ত। এ কারনে ক্রমেই কমছে পূর্বাচলে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা।জানা যায়, উপজেলার ভোলানাথপুর এলাকার পূর্বাচল উপশহরের ১ নং সেক্টরে ষ্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্ধকৃত জমিতে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা গড়ে তুলেছেন তার ‘ নীলা মার্কেট’। এই  মার্কেটে অর্ধশতাধিক রেষ্টুরেন্ট ছাড়াও প্রায় ৩‘ শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। এছাড়া ব্যাক্তি উদ্যোগে আশেপাশের বিভিন্ন প্লটে গড়ে উঠেছে আরো কিছু দোকানপাট রেষ্টুরেন্ট। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তির খোজে কিংবা পরিবার প্রিয়জনদের সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাতে। কেউ কেউ তাজা আনাজ তরকারি, মাছ মাংস ফলমূল ক্রয় করতে। কেউ কেউ সভা সেমিনার অথবা বন্ধু বান্দবদের ট্রিট দিতে ভীড়  জমায় এসব দোকান পাটে। লোকজন যখন খাওয়া দাওয়া অথবা কেনাকাটায় ব্যস্ত ঠিক সেসময় কৌশলী চোর লোপাট করে দিচ্ছে তার মূল্যবান গাড়ি। চুরি যাওয়া গাড়ি তালিকায় নাম রয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ের জামাতা আদনান সাবের, ঢাকা সেনানিবাসে কমর্রত মেজর এমএ রাজ্জাক, চিকিৎসক খন্দকার তানভীর, গাজীপুরের  ব্যবসায়ী তৌহিদ বাশার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মঞ্জুর মাহবুবসহ অসংখ্য ভিআইপি আর সাধারন মানুষের। খোজ নিয়ে জানা গেছে, নীলা মার্কেটের ভিতর অবস্থিত পূর্বাচল আমানউল্লাহর হোটেলে খেতে বসে সর্বাধিক গাড়ি খুইয়েছেন গাড়ির মালিকরা। এই হোটেলসহ আশেপাশের হোটেল গুলোতে পার্কিং স্পেস না থাকায় খোয়া যাচ্ছে গাড়ি। অনেকে বলে আমার উল্লাহর হোটেলের লোকজনদের সাথে আতাত রয়েছে গাড়িচোর চক্রের। নীলার আত্মীয় বলে কেউ আমানউল্লাহকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করারও সাহস রাখেন না। নীলা মার্কেট থেকে একটু এদিক সেদিক হলেই আবার অনেকটা নিরাপদ থাকে ব্যক্তি মালিকানাহীন বাহনগুলো। আশেপাশের প্লটে গড়ে উঠা দোকান-রেষ্টুরেন্টে রয়েছে নিজস্ব ব্যবস্থপনায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাসহ প্রহরাকর্মী। নীলা মার্কেটের একটু পশ্চিমপাশে মসজিদের সামনে ‘উৎসব রেষ্টুরেন্ট’ এ গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র। তাদের রেষ্টুরেন্টে ২০টি গাড়ি পার্কিংসহ রয়েছে একাধিক প্রহরা কর্মী। এছাড়া চাপ-চাপাই, খাওয়া দাওয়া, পূর্বাচল আড্ডাসহ অনেক রেষ্টুরেন্টে গাড়ি পাহারা দেয়ার দারোয়ান আছে। জানা গেছে, নীলা মার্কেট থেকে একের পর এক গাড়ি চুরি গেলেও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ  আজ অবধি কোন গাড়ি উদ্ধার অথবা চোর চক্রকে সনাক্ত করতে পারেননি। গত মে মাসে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ হবিগঞ্জের বাহুবল এলাকা থেকে আন্তজেলা গাড়ি চোর চক্রের সদস্য হবিগঞ্জের মাদমপুর থানার পাটুলী এলাকার মিল্লাত হোসেনের ছেলে ইমন ও শায়েস্তাগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকার আজিজ মিয়া ওরফে লুহাতের ছেলে জিল্লর রহমান ওরফে দীলকে আটক করে। এ সময় তাদের হেফাজতে থাকা ডা. খন্দকার তানভীর হোসেনের ব্যবহƒত (ঢাকা মেট্রো গ-১৪-৪৭৫৫) প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করেন তারা। তাছাড়া আজ অবধি সন্ধান পাওয়া যায়নি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ের জামাতা আদনান সাবেরের নীল রংয়ের গাড়ি (ঢাকা-মেট্রো-গ-১২-৭০৯০), মেজর এমএ রাজ্জাকের সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৮৫১৫)সহ নীলা মার্কেট থেকে চুরি যাওয়া প্রায় অর্ধশতাধিক গাড়ির। এ কারনে ক্রমেই কমছে পূর্বাচলে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন জানান, আমরা যে কয়টা গাড়ি চুরির অভিযোগ পেয়েছি সবগুলো ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত কাজ চলছে। রাজধানী থেকে সক্রিয় চোর সিন্ডিকেট এসে এসব অপকর্ম করে চলে যাচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আশা করছি শিঘ্রই চোর সিন্ডিকেট আটকসহ চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তাছাড়া আমরা মার্কেট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো পুরো বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে।

হাজীগঞ্জ দুর্গকে বিনোদন উপযোগী করব: সেলিম ওসমান

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের হাজীগঞ্জ কেলøার ভেতরে যাতে করে সাধারণ মানুষ সম্পূর্ন নিরাপদ ভাবে হাটা চলা এবং নির্মল বিনোদন নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে সেখানে পর্যাপ্ত আলো এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি, বসার স্থান, উন্নত টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। যেহেতু হাজীগঞ্জ কেলøাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে রয়েছে তাই এসব কাজের জন্য অবশ্যই সিটি মেয়রের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে উলেøখ করে মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল রহমানকে অনুমোদন আনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন সিটি করপোরেশনের অনুমতি পেলে আপাতত এতটুকু উন্নয়ন তিনি করবেন। পরে যখন সিটি করপোরেশন থেকে কেলøাটির বড় পরিসরে উন্নয়নের বাজেট অনুমোদন তখন সিটি করপোরেশন উন্নয়ন করবে সেখানেও মুক্তিযোদ্ধারা সহ সকলে সহযোগীতা করবে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় হাজীগঞ্জ কেলøার বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের উদ্যোগে মিলন মেলা অনুষ্ঠানে সংÿিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন। তিনি আরো বলেন, এমন অনুষ্ঠান বছরে একবারই কেন হবে। এমন অনুষ্ঠানে ৩ মাস অথবা ৬ মাস অন্তর অন্তর আয়োজন করবেন। এই স্থানটির ইতিহাস দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে লাগিয়ে রাখবেন যাতে করে ভবিষ্যত প্রজন্ম ঈশা খাঁ কেলøার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। মিলনমেলায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী সহ ফতুলøা ইউনিয়ন এবং সিটি করপোরেশনের ৭,৮,৯ ও ১১নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

হকার ইস্যুতে শহরকে উত্তপ্ত করার অপচেষ্টা!

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে একটি মহল নতুন করে শহর উত্তপ্ত করার পায়তারা করছে। তারা বিভিন্ন ভাবে সে দিনের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিতসহ ১৬ জানুয়ারীর ঘটনায় মেয়র আইভীকে হত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে অপপ্রচার করছে। যা নিয়ে দুইপÿের মধ্যে একটি মিমাংসিত বিষয় নিয়ে আবারো শহরকে উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এদিকে ঘটনার একমাস পার হলেও তদন্ত কমিটি এখনো তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এক মাসেও তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত শেষ করতে না পারায় হকার ইস্যুকে নিয়ে একটি মহল শহর উত্তপ্ত করার পায়তাঁরা করছে। তদন্ত কমিটি এ পর্যন্ত নিরপÿ প্রত্যÿদর্শীর বক্তব্য নিয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু মিডিয়া এই ঘটনাকে নতুন করে বিভিন্ন কায়দায় প্রকাশ করার চেষ্টা করছে। যদিও সাংসদ, মেয়র ও প্রশাসনের পÿ থেকে ইতিমধ্যে বলা হয়েছে কোন অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না। তারপরও এই বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে গোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে একটি মহল। জানাগেছে, গত ১৬ জানুয়ারী হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আবারো নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে একটি মহল। ঐ দিন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে হকার ও সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্য সংঘর্ষকে ভিন্ন খাতে নিতে নতুন করে মাঠে নেমেছে সুবিধাবাদি একটি কুচক্র মহল। যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে শান্ত নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করেছে। গত ১৬ জানুয়ারী হকার ইস্যুতে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় প্রেসক্লাব সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম তদন্ত কমিটির কাছে পÿপাত মূলক সাÿ্য প্রদান করেছেন। যা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি পুরো জবানবন্দিতেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর পÿপাতিত্ব আর সাংসদ শামীম ওসমানকে দোষারোপ করে গেছেন। ‘প্রেসক্লাব বা নিজেকে যতই নিরপেÿ দাবী করুক না কেন, সেদিন সংঘর্ষের সময় মেয়র আইভীর সাথে থাকা ঠিকাদার আবু সুফিয়ান ও কাশীপুরের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের আসামী যুবদল নেতা সুমন তাদের সাথে থাকা অস্ত্র উঁচিয়ে যে গুলিবর্ষণ করেছিলেন, সেটির ভিডিও ফুটেজ সর্বত্র ভাইরাল হলেও তদন্ত কমিটির কাছে দেয়া জবানবন্দিতে তাদের সেই অস্ত্র প্রদর্শণের বিষয়টি আড়াল করে এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম নিজেই প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, তিনি কতটুকু নিরপেÿ সাÿ্য দিয়েছেন!’

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ১৬ জানুয়ারী হকার ইস্যুতে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় নেপথ্যে ছিলেন কিছু সুবিধাবাদি ব্যাক্তি যারা আইভীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। মেয়র আইভীর প্রেসক্লাব পর্যন্ত এসে বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও কয়েকজন ব্যাক্তি টেনে মেয়রকে সায়েম প্লাজার সামনে নিয়ে আসে। ঐসময় সায়েম প্লাজার সামনে নিয়াজুলের সঙ্গে আইভী সমর্থকদের তর্কবিতর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায় নিয়াজুলকে তিন দফায় হামলা চালানোর পর নিয়াজুল তার পি¯Íল বের করে উপরের দিকে গুলি ছুড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাৎÿনিক আইভী সমর্থকরা নিয়াজুলের উপর হামলা চালিয়ে সেই পি¯Íল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার কিছুদিন পর পুলিশ নিয়াজুলের পি¯Íলটি উদ্ধার করেন। এবং পুলিশ এও নিশ্চিত করেছেন ঐ পি¯Íল থেকে কোন গুলি ছুড়া হয়নি। অথচ ঘটনার পর পরই মেয়র আইভী দাবী করেছিলেন নিয়াজুল তাকে হত্যা করার জন্য পি¯Íল দিয়ে গুলি ছুড়েছেন। এদিকে, ঘটনার পর পরই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি এখনো তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। অভিযোগে রয়েছে, ঘটনার দিন প্রত্যÿদর্শীদের বক্তব্য তদন্ত কমিটি নিচ্ছে না বলে দাবী করা হচ্ছে। ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক যারা কোন পÿে না থাকলেও তাদের কোন বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে না। মূলত নিরপÿদের বক্তব্য নিলেই বেরিয়ে আসবে ঘটনার জন্য মূলত দায়ী কে বা কারা ?

খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া ও মুক্তির জন্য গণস্বাÿর উদ্বোধনকালে: তৈমূর বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে আ’লীগ সফল হবে না

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও তার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গণস্বাÿর কর্মসূচী পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে শহরের মাসদাইরে মজলুম মিলনায়তনে এ দোয়া ও গণস্বাÿর কর্মসূচী পালিত হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের তত্ত¡াবধায়নে এতে জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতাকর্মী ও আইনজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণস্বাÿর কর্মসূচীর উদ্বোধনী বক্তব্যে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, নেতাকর্মীরা এখন সবাই মামলায় জর্জরিত তাই তারা এখানে আসতে পারেনি। আমাদের আগে মামলা দিতো নাশকতা এখন দেয় পরিকল্পনা। অনেকে জামিনে রয়েছেন তারা এসেছেন। তবে সবাইকে জানানো হয়েছে, সবাই যার যার মত গণস্বাÿর সম্পন্ন করে আজ রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত থাকবেন। সেখানে আমরা স্মারকলিপি প্রদান করবো। দল এখন ঐক্যবদ্ধ। নেতাকর্মীরা এখন আরো বেশী উজ্জীবিত।বিএনপি ভাংগার ষড়যন্ত্র আওয়ামী লীগের জন্য মরন ফাদ হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে গতকাল আমাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগে আমি পঞ্চগড় জেলার দায়িত্বে ছিলাম। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না যে আমি জেলা বিএনপির সভাপতি, আমি জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়েছি। মহানগরের দায়িত্ব পেয়েছেন জয়নাল আবেদীন ফারুক। তার সাথে সমন্বয় করেই মহানগরের ও জেলার সকল কাজ সম্পন্ন করা হবে। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত শেষে সকলকে সাথে নিয়ে গণস্বাÿর কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন তৈমুর আলম খন্দকার।

গাজী-রফিকের বিরোধ চরমে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী দুই নেতা এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক ও কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে একবছর ধরেই চরম বৈরী অবস্থা বিরাজ করছে। উভয়পক্ষের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে লড়াইয়ে ঘটছে সংঘাতের ঘটনা। তবে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ওই দুই নেতার মধ্যকার বিরোধ মেটাতে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি আওয়ামীলীগের কোন শীর্ষ নেতাকেই। বরং জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদেরকে দেখা গেছে দ্বিধাবিভক্ত অবস্থাতেই ওই দুই নেতার পক্ষে অবস্থান করতে। যার পরিনতিতে রফিক গ্রুপ ও এমপি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে স্বেচ্ছা সেবকলীগ নেতা সুমন মিয়া নামে এককর্মীর মৃত্যু ঘটেছে। রূপগঞ্জে এখন আওয়ামীলীগের শত্রু আওয়ামীলীগ। গাজী গোলাম দস্তগির এমপি ও ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক নিজেদের পাল্লা ভারি করতে মাঠে নেমেছে। আর দুইজনের বিরোধকে উস্কে দিচ্ছে আওয়ামীলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বসুন্ধরা গ্রুপের পূর্বাঞ্চল পরিচালক (ল্যান্ড), রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকের হাতে নৌকা তুলে দেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক। ওই নির্বাচনে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদ আলী নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কায়েতপাড়ার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে আন্ডা রফিক। তবে গত বছরের শুরুর দিকে ক্ষমতার আধিপত্য নিয়ে এমপি গাজী ও রফিকের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারন করে। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলের ১ নম্বর সেক্টরের ভোলানাথপুরে একটি মার্কেটের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রনকে কেন্দ্র করে এমপি গাজী সমর্থক ও কায়েতপাড়ার চেয়ারম্যান রফিক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইদিন রফিকের সমর্থকরা এমপি গাজী সমর্থক মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পিটুনী দেয়। এরপর আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতেও পৃথকভাবে শোডাউন দেখান এমপি গাজী ও কায়েতপাড়ার চেয়ারম্যান রফিক সমর্থকরা। এছাড়া কিছুদিন পরপরই উভয়গ্রুপের লোকজনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকে। পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন বিক্ষোভও চলতে থাকে। এদিকে সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপিকে ঠেকাতে গিয়ে আধিপত্য বিস্তার ও একই স্থানে অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন সেতুর পশ্চিমপাশের হাবিবনগর এলাকায় আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের সাথে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংষর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামীলীগের দুইপক্ষের সাথে পুলিশের ত্রিমুখি সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ অন্তত ৬‘শ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এসময় একজন নিহত হয়। সংঘর্ষে ১৫জন গুলিবিদ্ধসহ পুলিশ সাংবাদিক এবং উভয়পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ উভয় পক্ষের ৩৯ নেতাকর্মীকে আটক করে। ওই ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ও পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশের কর্মসূচী পালন চলতে তাকে। এদিকে রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগে দুই গ্রুপের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও বিরোধ মেটাতে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদেরকে দেখা গেছে বিবদমান দুই গ্রুপের প্রধান নেতা এমপি গাজী ও রফিক চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান করতে। এর মধ্যে কায়েতপাড়া ইউপি’র চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহানসহ বেশ কিছু শীর্ষ নেতাকে। এছাড়া চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের রূপগঞ্জবাসীর সঙ্গে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বসুন্ধরা ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এ নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। আর ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনের নেপথ্য কারিগর ছিল রফিক চেয়ারম্যান যিনি বসুন্ধরা গ্রুপের একজন পরিচালক। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি খন্দকার আবুল বাশার টুকুর সভাপতিত্বে ওই মত বিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম বাবু এমপি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূঁইয়া, রংধনু গ্রুপ এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আজিজ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া সজীব, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মাসুম চৌধুরী অপু, রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেজ, দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হোসেন রানু প্রমুখ।    অপরদিকে গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান পৌরপিতা আলী আহাম্মদ চুনকার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শহরের দেওভোগ এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বসেছিল আওয়ামীলীগ নেতাদের মিলনমেলা যাতে গত ১০ ফেব্রুয়ারী রূপগঞ্জের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীককে উপস্থিত হতে দেখা গিয়েছিল। এদিকে রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা কোন ধরনের উদ্যোগ না নেয়ায় হতাশ আওয়ামীলীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের এহেন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই।

মানব সেবার মাধ্যমে আল্লাহ্কে পেতে চাই

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, ভন্ডামী করতে আমি ওয়াজ মাহফিলে আসিনাই, আমি আসি আল্লাহকে পাওয়ায় আশায়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, মানুষকে রাজিখুঁশি করতে পারলে, আল্লাহ খুঁশি হন। তাই মানব সেবার মাধ্যমে আমি আল্লাহকে পেতে চাই। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধিনগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে জেএমএস গ্লাস ফ্যাক্টরী জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে ২ দিন ব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন । আলহাজ্ব জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু, নাসিক ৪নং কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল হক হাসান, কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুক, ইফতেখার আলম খোকন, আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী, নারায়ণগঞ্জ জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন চৌধুরী, শিমরাইল কভার্ড ভ্যান (পিকআপ) মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিম মাহমুদ তপন প্রমূখ। উপস্থিত যুবকদের উদ্দেশ্যে করে শামীম ওসমান বলেন, সারাজীবন, হজ্ব করেন, যাকাত দেন, দান ছতগা করেন, আমল করেন, কিন্তু যদি বাবা-ম য়ের মনে কষ্ট দিলে তুমি জান্নাতে যেতে পারবে না। তাই বেশী বেশী করে বাবা-মায়ের সেবা করতে হবে। তোমরা মনে রাখবা, জান্নাত পাইতে হইলে বাবা-মাকে সেবা করতে হবে। কোন সন্তান যদি, ভালবাসার সাথে তার মায়ের মূখের দিকে একবার তাকান, একটি কবুলে হজ্বের সমান ছওয়াব পাওয়া যায়।