আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৮
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি…

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজেদের মধ্যে কোন ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি ও সংঘাতে না জড়াতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে শীর্ষ নেতা ও এমপিদের কাছে বার্তা এসেছে। দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকদিন আগে সারা দেশে এ বার্তায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের মাঝে তুলে ধরারও তাগিদ দেন। সেই সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাজ করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে কোন ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৬ জানুয়ারী শহরে হকার বসানো নিয়ে এমপি শামীম ওসমানের লোকজনদের সাথে থাকা হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাটি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ওয়াকিবহাল। এছাড়া দলের শীর্ষ নেতারাও এ নিয়ে কথা বলেন। বিষয়টি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য বেশ বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র বিষয়টি নিয়ে বেশ বিব্রত হন। আগামীতে নির্বাচন তথা ভোটের আগে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে হয় দলকে সে নির্দেশনায় এও বলা হয়েছে, যারা এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা যেন কোন প্রতিদ্বন্দ্বির সঙ্গে কোন ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে বরং দলের স্বার্থে কাজ করে। আর কারো বিরুদ্ধে দলের চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ কিংবা নিজেরা নিজেরা বিরোধে জড়ালে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক), রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগও এখানে বিভিন্ন প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এমপি গাজীর এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বি শাহজাহান ও রফিকুল। প্রায়শই দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে সম্প্রতি সুমন নামের একজন নিহতও হয়। এর আগেও প্রচুর সংঘাত ঘটেছে। আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেনের নাম আছে। তবে বাবুর সঙ্গে সরাসরি প্রতিপক্ষ পারভেজ। ইতোমধ্যে তাদের ভেতরে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোনারগাঁ আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। আগামী নির্বাচনে এখানে মহাজোট থাকবে নাকি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করবে সেটাও নিশ্চিত হয়নি। তবে এখানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার নৌকা প্রতীকের জন্য এগিয়ে আছেন। ইতোমধ্যে এ দুইজন বাকযুদ্ধে জাড়াচ্ছেন। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এ আসনে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম থাকলেও রয়েছে নানা অভিযোগ।  সদর-বন্দর আসনে বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি ও মহাজোটের। আগামীতে নির্বাচনে মহাজোট থাকবে কী না সেটা এখনো নিশ্চিত না হলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে চলছে জোরালো লবিং। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে প্রচারণা করেছেন। তবে তাদের তরুণ প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বেশ কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন এলাকাতে যাচ্ছেন। প্রচারণার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকান্ডও পরিচালনা করছেন। প্রচারণায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান। এ আসনে এখনো বড় ধরনের কোন সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

‘খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথাও ভাবুন’ এই শ্লোগানে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও শুরু হয়েছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ। এ উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । গতকাল সোমবার সকালে জেলা সিভিল সার্জনের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সিভিল সার্জন ডা: এহসানুল হক’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধাণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আব্বাস উদ্দিন আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মো: বেলাল হোসেন, মেডিকেল অফিসার আমিনুল হক, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুকান্ত দাস প্রমুখ। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘খাদ্য খেলেই হবে না, এই খাদ্য পুষ্টিকর কিনা তা জানতে হবে। বেশী বেশী করে শাকসবজি ফলমূল ও ছোট মাছ খেতে হবে। এই খাবার প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সমৃদ্ধ। ফাস্টফুড আমাদের শরীরের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না। অতিরিক্ত ভাজার কারনে এই খাবারে কোন পুষ্টি থাকে না। এই ফাস্টফুড খাবার আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই আমাদের দেহের পুষ্টি উপাদান তৈরি করতে বেশি বেশি করে শাকসবজি ফলমূল ও ছোট মাছ খেতে হবে।’ আলোচনা সভার আগে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে একটি র‌্যালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে সার্কিট হাউজে গিয়ে শেষ হয়।

 

 

মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে দেশব্যাপী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। আর এসব কর্মসূচিকে সামনে রেখে আবারো রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পুলিশের হামলা মামলায় নাজেহাল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। সূত্রে প্রকাশ, গত ৮ ফেব্রুয়ারী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে দলীয় আন্দোলনে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানকে তেমন মাঠে নামতে দেখা যায়নি। আর নাশকতার মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করে এখন সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে জাগ্রত রাখলেও বেশীরভাগ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরাই মামলা এড়াতে রয়েছেন আন্দোলন বিমুখ। আর মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল নেত্রীর মুক্তির দাবীতে আন্দোলনে তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে না পারলেও চলতি মাসের মধ্যে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মী সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েও উভয়েই চিকিৎস্বার্থে এখন বিদেশে করছেন অবস্থান। কে কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন, তা অনেকটাই অনিশ্চিত বলে জানান একাধিক শীর্ষ নেতা। তাই রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। কিন্তু দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে আহুত পাঁচ দিনের কর্মসূচিকে ঘিরে আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠছে নেতাকর্মীরা এবং এই কর্মসূচি সফল করা এখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তারা। কর্মসূচি পালন বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, কর্মসূচি অবশ্যই পালন করা হবে। রাজপথের কর্মসূচি রাজপথেই পালিত হবে। আর যেহেতু আমি এখন কারা মুক্ত তাই কর্মসূচিতে অবশ্যই উপস্থি থাকবো। তবে নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এ বিষয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সব সময়ই পালন করা হয়, এবারো করা হবে। নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে কর্মসূচির সময় জানানো হবে।

 

 

মাঠে নেই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের সম্ভাব্য আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রচারণায় তৃণমূল পর্যায়ে ছড়াচ্ছে না। বরং মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শুধুমাত্র বিবৃতি আর বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সমাবেশ করে প্রার্থীতা ঘোষণা দিচ্ছেন। কিন্তু তাদেরকে ওইসব নির্বাচনী এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে না। আর এতে করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও রয়েছে দোটানাতে। আর সাধারণ মানুষও চিন্তা করতে পারছে না কারা হচ্ছেন প্রকৃত প্রার্থী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা উঠান বৈঠক সহ নানা ধরনের কর্মসূচীতে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেটা কমে আসছে। বেশ কয়েকজন প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সে কারণেই মাঠে নামেনি। রূপগঞ্জ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক), রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে এমপি গাজী ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্থানে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করেছেন। তবে নির্বাচন নিয়ে বেশী কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেনের নাম আছে। সেখানেও সবাই ব্যক্তিকেন্দ্রীক প্রচারণা চালাচ্ছে। সোনারগাঁ আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। আগামী নির্বাচনে এখানে মহাজোট থাকবে নাকি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করবে সেটাও নিশ্চিত হয়নি। তবে এখানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার নৌকা প্রতীকের জন্য এগিয়ে আছেন। ইতোমধ্যে এ দুইজন বাকযুদ্ধে জাড়াচ্ছেন। এ আসনে সবশেষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। তবে ঘোষণা অবধি শেষ। মাঠে তেমন কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এ আসনে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম থাকলেও নির্বাচন নিয়ে তাকে কোন ধরনের প্রচারণাতে দেখা যাচ্ছে না। বরং গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কারণে তাকে দেখা গেছে রাস্তায় নামতে মিছিল সমাবেশ করতে। অপরদিকে ফতুল্লার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যে কর্মীসভা ও কেন্দ্র ভিত্তিক সভা শেষ করেছেন। এছাড়া কামাল মৃধা নিজের প্রচারণা করলেও তাকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর-বন্দর আসনে বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি ও মহাজোটের। আগামীতে নির্বাচনে মহাজোট থাকবে কী না সেটা এখনো নিশ্চিত না হলেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে চলছে জোরালো লবিং। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে চান এমন অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান দীপু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত।

 

এমপির নির্দেশ অমান্য ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই মাঝিদের নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ

 

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারে টোল ফ্রি করা হলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছেনা যাত্রীদের। প্রতিদিনই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই ট্রলারে শীতলক্ষ্যা পাড়ি দিতে হচ্ছে যাত্রীদের। ছোট আকারের ট্রলারে যেখানে ১৫-২০ জন যাত্রী নেয়ার কথা সেখানে ৩৫-৪০ যাত্রী বোঝাই করে নেয়া হচ্ছে। এতে করে বর্তমানে বৈশাখী ঝড়ের মৌসুমে আতঙ্কের মধ্যেই শীতলক্ষা পারাপার হচ্ছে যাত্রীরা।  জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। বন্দরের ওই এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড পড়েছে। ৯টি ওয়ার্ড ও পাঁচটি ইউনিয়নে ওইসব মানুষের বসবাস। ওইসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শীতলক্ষ্যা পার হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে পারাপার হতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও খেয়াঘাটে নানা রকম হয়রানির ফলে ওই জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিয়ত সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এদিকে গণমাধ্যমে গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে সংবাদ প্রকাশের পর এমপি সেলিম ওসমান সরেজমিনে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট পরিদর্শন করে নানা অনিয়মের চিত্র দেখতে পান। পরে বন্দরে কদমরসুল কলেজে একটি অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, ১ মার্চ থেকে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে যাত্রীদের যাতায়তে কোন টোল দিতে হবে না। ঘাটকে টোল ফ্রি করার ঘোষণা দেন তিনি। সেলিম ওসমানের ঘোষণার পরে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের মতো নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট টোল ফ্রি হলেও ট্রলারগুলো চলছে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে সমুদ্র শৈবাল নামের এক কলেজ ছাত্র একটি ছবি আপলোড করে তার স্ট্যাটাসে লিখেন  “নবীগঞ্জ মরণঘাট, যেখানে লোক নেবার কথা ১৫-২০ জন সেখানে নেওয়া হয় ৩৫-৪০ জন….নিয়ম যেখানে অনিয়ম….প্রশাসনের দৃষ্টি না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় নৌ দুর্ঘটনা….।  এদিকে সরেজমিনে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট পরিদর্শন করে ওই কলেজ ছাত্রের স্ট্যাটাসের সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা গেছে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে শীতলক্ষ্যার উভয় তীরেই রয়েছে বেশ কিছু ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। ট্রলারগুলোর একেকটির আকার একেক রকমের। তবে সবগুলোতেই যাত্রী ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করেই পারাপার করছে। যাত্রীদের অনেকেই এ বিষয়ে আপত্তি জানালেও সেসবে কোন ধরনের কর্ণপাতই করছে না ট্রলার চালকরা। কারণ ট্রলার যারা নিয়ন্ত্রন করছেন তারা বন্দরের দু’টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনের জোরালো নজরদারী না থাকায় নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে যাত্রীরা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই শীতলক্ষ্যা পাড়ি দিচ্ছে। শীতকালে এ বিষয়টি তেমন একটা যাত্রীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা না দিলেও বর্তমানে চলছে বৈশাখী ঝড়ের মৌসুম তার উপর প্রচন্ড বৃষ্টিপাত। এখন শীতলক্ষ্যায় পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই সময়ে যদি ট্রলারগুলো দ্বিগুন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে তাহলে যেকোন সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সুদৃষ্টি দিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ সদর-বন্দর আসনের এমপি সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া ও বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃন্দ এবং নাসিকের জনপ্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

রমজানে হকারদের ফুটপাতে বসার দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিলে কঠোর হুশিয়ারি

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

এপ্রিল মাসের মধ্যে হকারদের সমস্যা সমাধান না হলে মে দিবসে সমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তি আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা দেওয়া হবে বলে হুসিয়ারী দিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় চাষাড়া শহিদ মিনারে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বক সমাবেশে এই হুশিয়ারী উচ্চারন করেন নেতৃবৃন্দ। এসময় বক্তরা বলেন, নিরীহ হকারদের উপর পুলিশী হয়রানী ও হামলা বন্ধ করে আগামী রমজান উপলক্ষে জনগণের স¦াচ্ছ্যন্দে পথচলাচলের ব্যবস্থা রেখে হকারদের ফুটপাতে বসতে দিতে হবে। কারন হকারদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে আমরা কারো অপেক্ষায় বসে থাকবোনা, আমাদের অধিকার আদায়ে যেকোন ত্যাগ স্বিকার করতে আমরা পিছপা হবোনা। তারা আরো বলেন, আমরা দীর্ঘ ৪-৫ মাস যাবৎ ধৈর্য্যের সাথে অধিকার আদায়ে আন্দোলন করছি। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন সহ নাসিক মেয়র আইভির কাছে বার বার ধরনা দিলেও এখনো তারা আমাদের দাবী মেনে নেয়নি। অপরদিকে হকারদের মালামাল নাসিক কর্মকতারা নিয়ে গিয়ে তাদের আত্মিয় স্বজনদের কাছে টেন্ডারে বিক্রি করে দিলেন। কোন আইনে নাসিক কতৃপক্ষ এ কাজটি করলেন এ পশ্নের জবাব একদিন দিতে হবে। বক্তারা হকারদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহবান জানান। নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আসাদের সভাপতিত্বে ও মোঃ ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কমরেড হাফিজুল ইসলাম , কেন্দ্রিয় হর্কাস ইউনিয়নের যুগ্ন সম্পাদক হযরত আলী , মহানগর হকার্সলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম মুন্সি , শ্রমিক নেতা মিলন কান্তি দাস, নিলুফা বেগম , মোঃ শরিফ প্রমূখ।

না’গঞ্জ আওয়ামীলীগ এখন বিএনপিতে নয়, নিজ শরীক দলের সাথে বিরোধ স্পষ্ট

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে বিএনপিকে ছেড়ে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি দলের নেতারা পরস্পরের বিরোধীতা করে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়ায় রাজনৈতিক প্রাঙ্গন উত্তপ্ত আকার ধারণ করছে। ইতোমধ্যে নৌকা লাঙলের এই বাকযুদ্ধ টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামীলীগ ও জাপার নেতাদের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্য দিয়ে মহাজোটের ভাঙন অনেকটা নিশ্চিত হতে চলেছে। এদিকে মামলা, ধরপাকড়, জেলা-হাজতের মধ্য দিয়ে জর্জরিত বিএনপি আগে থেকেই অনেকটা কোনঠাসা পরিস্থিতিতে নিশ্চুপ অবস্থানে রয়েছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মাইনাসের ফর্মূলা অনুসারে বিএনপিকে ছেড়ে ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামীলীগ ও জাপা নেতারা পরস্পরের বিরোধীতা শুরু করে সমালোচনা করছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বচন ঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হলে রাজনীতিক নেতাদের হতে আর সময় নেই বললেই চলে। বিশেষ করে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের এখনই উপযুক্ত সময় নির্বাচনী মাঠ গরম করে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন ছিনিয়ে নেয়া। যদিও নিজ দলের ভেতরে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকার অনেক ঘটনাও অতীতে দেখা গেছে। আর এই নির্বাচনেও প্রত্যেক দলের একই আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরোধীতা করলে নিজ দল অনেকটা বিতর্কের সম্মুখিন হবেন। এছাড়া দলকে বিতর্কিত অবস্থান ফেলার কারণে নিজ দলের নেতারাও দল থেকে ছিটকে পড়বেন। তাই মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান শক্ত করে অন্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিয়োগের জন্য নৌকার মনোনয়নের দাবি করে আসছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। আর এই সময়ে যখন বিএনপির চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া জেলে রয়েছেন আর তার দলের নেতাকর্মীরা মামলা, জেলা-হাজতের মধ্য দিয়ে কোনঠাসা অবস্থান রয়েছে। তাই বিএনপিকে ছেড়ে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যখন মনোনয়ন নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন তখনই আওয়ামীলীগ ও জাপা নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার বিকেলে শহরের ২ নং রেল গেইট সংলগ্ন আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় জেলার আওয়ামীলীগের নেতারা একে একে মুখ খুলতে শুরু করলে মহাজোটের শিবিরে ক্রমশ ফাটল দৃশ্যমান হতে থাকে। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই। তিনি বলেন, ‘ছাড় দিবেন অন্য জেলায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫টি আসনে নৌকা দিতে হবে। লাঙ্গলের প্রার্থী হওয়ায় এসব আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা অবহেলিত। তাদের দুঃখ কষ্ট শোনার কেউ নেই। তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা প্রার্থী দিতে হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলও নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দাবি করে বলেন, ‘কোন গার্মেন্টে বসে আর কাউকে লাঙলের প্রার্থী দেওয়া যাবে না। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী দিতে হবে।’ এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দলের মধ্যে বেটে ইঁদুর যাতে ঢুকতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা মুখে বলি নৌকা কিন্তু কাজে দেখাই লাঙল। মনে রাখতে হবে, বাইট্টা ইন্দুর কিন্তু ঘরের বান কাটে। তাদের থেকে সাবধান। তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিস্কার করতে হবে। আমরা এই আসনে অনেক বছর ধরে নৌকায় ভোট দিতে পারিনা। তবে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছি। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পারছিনা। আমরা নারায়ণগঞ্জে-৫ টি আসনে নৌকা চাই। আর এই ৫ টি আসনে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে নৌকার বিজয় শেখ হাসিনাকে উপহার দিবো। যতদিন অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাসী থাকবে ততদিন তার বিরুদ্ধে কথা বলবোই। তাই সবাইকে সন্ত্রাস, মাদক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন সন্ত্রাস ও বেটে ইঁদুরের বিরুদ্ধে কথা বলবোই। কিছু কিছু লোকের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই এখন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তির খুবই প্রয়োজন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নৌকার মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষ হয়ে ঝাপিয়ে পড়বো। পরের দিন ১৮ এপ্রিল তাঁদের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সেলিম ওসমান বলেন, উনারা দু’জন (আব্দুল হাই ও বাদল) উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা জানেন না। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ছিলেন মরহুম শামসুজ্জোহার শিষ্য। আর আমি মরহুম শামসুজ্জোহার ছেলে এবং খান সাহেব ওসমান আলীর নাতি। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি কি সেটা উনারা (আব্দুল হাই ও বাদল) জানেনই না। উনারা শুধু মাইক হাতে পেলে অন্যের গীবত গাইতে শুরু করেন। আমার বড় ভাই আব্দুল হাই যদি উন্নয়ন করতে জানতেন তাহলে জেলা পরিষদের প্রশাসকের থাকাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের জন্য বিশাল অংকের সরকারী টাকা বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে এফডিআর করে রাখতেন না। জনগনের সেই টাকা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে ব্যয় করতেন। সেটা না করে ব্যাংকে টাকা এফডিআর করে রেখে তিনি নারায়ণগঞ্জের জনগনকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেছেন। আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে মার্কা নৌকা না লাঙ্গল সেটা বড় কথা নয়। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটাই বড় কথা। আব্দুল হাই ভাইয়ের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আমি বলবো ‘এই দোষ না সেই দোষ চিৎ হয়ে শুলেও দোষ’। অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল এর করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে সেলিম ওসমান শহীদ বাদলকে ¯েœহের বাদল উল্লেখ করে বলেন, আমার দাদা খান সাহেব ওসমান আলী প্রায়শই একটি কথা বলতেন। আমার দাদার সেই কথাটিই বলছি ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি’। ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমার উপনির্বাচনের সময় বাদল অনেক পরিশ্রম করেছিল। তিনিও দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে থেকে তাঁর কাছ থেকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে পারেনি। তিনি দলে বিভেদ সৃষ্টি করার রাজনীতি শিখেছেন। আমি মনে করি বাদলকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে হলে আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কলেজের তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া দরকার। যে প্রতিষ্ঠানটিতে উনি দীর্ঘ সময় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উনি সরকারী তোলারাম কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে আমার ছোট ভাই শামীম ওসমানের থেকেও ভিপি বাদলের যাতায়াত বেশি ছিল। উইজডমে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম করা যাবে না সংবিধানে এমন কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির কোন দলীয় কার্যালয় নাই। তাই উইজডম অ্যাটায়ার্স সবার জন্য উন্মুক্ত। আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়েও শহরে কোথাও জমি দখল করে জাতীয় পার্টির কার্যালয় বানাই নাই। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জন্মস্থান। আমার পৈত্রিক নিবাস বাইতুল আমানে আওয়ামীলীগের জন্ম। আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের রক্তে প্রবাহিত।  যে কারনে আমি নিজেও বলেছি নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনেই নৌকার প্রার্থী চাই। তারপরেও আমি তাদের দলীয় কোন্দল থামতে দেখি নাই। নিজেরা একে অপরের গীবত নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি তাঁর কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই মার্কাটা বড় কথা নাকি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন হওয়াটা বড় কথা? দীর্ঘ দিন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে শহরে রেলওয়ের জমি দখল করে আওয়ামীলীগ অফিস বানিয়ে পরসমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্তি করার কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। ¯েœহের বাদলের কাছে অনুরোধ রইলো আপনি নারায়ণগঞ্জ কলেজে সভাপতি থাকালীন কলেজের ফান্ডের অবস্থা এবং বর্তামনে কলেজ ফান্ডের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানুন। তাহলে অন্তত উন্নয়ন কাকে বলে বুঝতে পারবেন। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ বুঝবে রূপগঞ্জ আর মতলবীরা কখনোই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের কথা ভাবতে পারেন না। নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি করতে হলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে। তাই পরিশেষে বলবো নির্বাচনে মার্কা নৌকা বা লাঙ্গল না ভেবে উন্নয়ন নিয়ে ভাবুন। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষন। সময় হলে উনিই সিদ্ধান্ত দিবেন। নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও আসলেও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদলের কোন প্রতিক্রিয়া এখনো দেখা যায়নি।  সেলিম ওসমানের প্রতিক্রিয়ার পাল্টা জবাবে ১৯ এপ্রিল আবদুল হাই বলেছেন, ‘আমি শামসুজ্জোহা সাহেবের শিষ্য ছিলাম এটা সত্য। তিনি আমাদের আদর করতেন।’এফডিআর প্রসঙ্গে আবদুল হাই বলেন, ‘আমি যখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তখন ২০১৪ সালে জেলার ৫জন এমপিকে আমন্ত্রন করেছিলাম। তখন জেলা পরিষদের এক সভায় সকল এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা পরিষদে ১২০ কোটি টাকা এফডিআর করে ব্যাংকে রাখা ছিল। মূলত এ টাকা দিয়ে জেলা পরিষদের ৩৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী সহ প্রতিষ্ঠানটির খরচ বহন করা হতো। সরকার থেকে এসব খরচ দেওয়া হতো না। এ টাকা এখন দেড়শ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আমরা এফডিআর করেছিলাম ঠিকই কিন্তু সেটা ভাঙানোর ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আমরা তখন বিষয়টি এমপিদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু এমপিরা আমাদের কাছ থেকে তাদের স্ব স্ব এলাকার উন্নয়নের জন্য টাকাগুলো চেয়েছিল। তখন বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফকে লিখিত চিঠি দিয়েছিলাম। তিনি সে চিঠির আবেদন প্রত্যাখান করেছিল। এখানে আমার কোন হাত নাই। কিন্তু এমপিরা তখন ক্ষুব্ধ ছিল। আর সে কারণেই হয়তো সে ক্ষোভ মেটানো হচ্ছে।’ আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে হাই বলেন, ‘আমি ৫টি আসনের পক্ষে আছি থাকবো। অচিরেই আমি দলের নীতি নির্ধারক ও সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করে ৫টি আসনে কেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া হবে না সেটাও জানতে চাইবো।’ এদিকে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭ টি থানাতে মোট ১৩ টি মামলায় কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। এতে মামলা, জেলা-হাজত ও ধারপাকড়ের মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে আছে। এতে করে অনেক নেতা জেলে আবার অনেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। তবে জামিনে বাইরে থাকলেও কোনঠাসা অবস্থান অনেকটা নিশ্চুপ রয়েছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বচন নিয়ে তাদেরকে এই মুহূর্তে তেমন কোন শোরগোল করতে দেখা যাচ্ছেনা। আর দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কিংবা তারেক জিয়া ছাড়া তারা নির্বাচনের কথা ভাবতেই পারেনা। আর যেহেতু তারেক জিয়া বিদেশে এবং খালেদা জিয়া জেলে রয়েছে তাই তার মুক্তি ব্যতীত নির্বাচনের কথা ভাবাই যায়না। তবে দলের নির্দেশনা আসলে অবশ্যই নির্বচনের জন্য প্রস্তুত হব। রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটা বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এখানে বিগত দিনগুলোতে আওয়ামীলীগের বিরোধী হিসেবে বিএনপিকে সব সময় দেখা যেত আর জাতীয় পার্টিকে বিগত কয়েক বছরে অনেকটা নিরব দেখা গেছে। কিন্তু হঠাৎ করে দৃশ্যপঠ পাল্টে যায়। মনোনয়ন ইস্যুতে মহাজোটের দুটি দলের নেতারা একজন আরেকজনকে মাইনাস ফর্মূলায় বাদ দিয়ে এগিয়ে থাকতে চায়। সেকারণেই নিরব থাকা বিএনপিকে বাদ দিয়ে মহাজোটের এই দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে বিরোধীতা শুরু করেছে। আর এসব বিরোধীতার কারণে মহাজোটের মধ্যে ফাটল দৃশ্যমান হচ্ছে যা একটা পর্যায়ে ভাঙনে পরিণত হবে। তবে যেভাবে এই ফাটল ক্রমণ তীব্র গতিতে এগোচ্ছে তা আচিরেই ভাঙনে পরিণত হবে। আর এসব দ্বন্দ্বে কারণে বিভক্ত হওয়া মহাজোটের সুযোগ নিতে চাইলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা।

 

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন দু:শ্চিন্তায় বিভোর

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু ভবিষ্যৎ দু:শ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে প্রায় এক যুগ যাবত ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করলেও বিএনপির মাঝে বইছে দু:শ্চিন্তার আমেজ। গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে দুর্নীতির মামলায় দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় নির্বাচনের আগে তিনি কারামুক্ত হবেন কিনা, আবার কারামুক্ত হলেও নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ না পেলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে কিনা, নানান দু:শ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে এখন বিশেষকরে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কারন, সরকার পতনের আন্দোলন সংগ্রাম আর দলীয় কর্মসূচী পালনে রাজপথে নেমে অগনিত মামলার আসামী হয়ে বছরের পর বছর যাবত শুধু আদালত থেকে কারাগারে নেতাকর্মীদের অসংখ্যবার যেতে হয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতার স্বাদ কি, তা যেন অনেকটা ভুলতেই বসেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু তারপরেও রাজনীতিতে যেহেতু শেষ কথা বলতে কিছুই নেই, সেহেতু সেই ধ্যানধারনা থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি অংশ গ্রহণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে বলে প্রত্যাশায় রয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে নির্বাচনী বছরে নতুন করে মামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেও হাল ছাড়েনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার পাশাপাশি নেত্রীকে নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশ গ্রহণের লক্ষ্যে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদসহ একাধিক নেতা দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে নিজেদের ফায়দা লুফে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই রাজনীতির মাঠে ভবিষ্যতে টিকে থাকতে পারবেন কিনা, এনিয়ে দু:শ্চিন্তায় আছেন বলে জানান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

আলোচনায় ভিপি বাদল

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

জাতীয় পার্টির বিরোধীতা করে রাজনৈতিক ইস্যুতেই বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন এক সময়কার তুখোড় ছাত্র নেতা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল। কিন্তু বক্তব্য প্রদানকালে মুখ ফসকে যে তাঁর বন্ধু এমপি শামীম ওসমানের বড় ভাই জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধেই কিছু বলে ফেলবেন, সেটা কখনো ভাবতেই পারেননি তিনি। তাই তো জাতীয় পার্টির বিষেদ্বাগার করার পাশাপাশি বন্ধুর বড় ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সভা নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে এখন উল্টো নিজেই সমালোচিত হয়ে গেছেন ভিপি বাদল। যেই পরিবারের সাথে যুগের পর যুগ ধরে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন বাদল, এখন সেই পরিবারেরই এখন বিরোধী সদস্য বনে গেছেন তিনি বলে দাবী করেছেন ওসমান অনুসারীরা। আর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দদের মতে, সেলিম ওসমানের দেয়া উদ্ধৃতি “আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি” অনুযায়ী ভিপি বাদল ছিলেন ‘লুটতরাজ’! অর্থাৎ জীবদ্দশায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের  এমপি থাকাকালীন সময়ে তাঁর উছিলায় নারায়ণগঞ্জ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজের ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছিলেন এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল। কিন্তু বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০১৪ সালে নাসিম ওসমান পুনরায় এমপি নির্বাচিত হলেও একই বছরের ৩০ এপ্রিল মারা যাওয়ার পর বেকায়দায় পড়ে যান বাদল। নারায়ণগঞ্জ কলেজের সভাপতি হওয়ার সুবাদে অনেক অর্থকড়ি কামানোর সুযোগ হলেও পরবর্তীতে বাদলের পরিবর্তে উক্ত কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হন সেলিম ওসমান। আর ভিপি বাদল প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যান। এই কারনেই গত ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবসের আলোচনা সভায় দলীয় কার্যালয়ে বক্তব্য প্রদানকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল সেলিম ওসমানকে ইঙ্গিত করে (গার্মেন্টসে বসে আসন ভাগাভাগির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে, নারায়ণগঞ্জে লাঙ্গলকে কোন আসন ছাড় দেয়া হবে না, সকল আসনেই নৌকার প্রার্থী দেয়া হবে) মন্তব্য করার পরদিন থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন সেলিম ওসমান স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের কাছে বাদলের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাঁর দাদা মরহুম খান সাহেব ওসমান আলীর উদ্ধৃত্তি দিয়ে বলেছেন, ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি’। যেখানে সেলিম ওসমান বাদলের কঠোর সমালোচনা করে তাঁকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে হলে আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কলেজের তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। যেই কলেজে বাদল দীর্ঘ সময় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।  সেলিম ওসমান বলেন, স্নেহের বাদলের কাছে অনুরোধ রইলো আপনি নারায়ণগঞ্জ কলেজে সভাপতি থাকালীন কলেজের ফান্ডের অবস্থা এবং বর্তমান কলেজ ফান্ডের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানুন। তাহলে অন্তত উন্নয়ন কাকে বলে বুঝতে পারবেন। অর্থাৎ, ভিপি বাদল নারায়ণগঞ্জ কলেজের সভাপতি থাকালীন সময়ে যে লুটপাট চালিয়েছেন, সেটিই উদ্ধৃতিতে প্রকাশ করে দিয়েছেন সেলিম ওসমান বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ নেতা।

 

আইভীকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সত্যের পথে থাকলে জয় নিশ্চিত

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান বলেছেন, ‘সাংবাদিকেরা আজকে সাহস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আইভী প্রথম মহিলা মেয়র এবং একজন প্রতিবাদী কণ্ঠ। মেয়র আইভীকে বলব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে সকল অশুভ শক্তিতে মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে আজকে একটি পর্যায়ে নিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ আজকে অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়শীল দেশ হয়েছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বে যে একশ জন মহিলা আছে তার মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নাম অর্জন করেছেন। আইভীকে বলব সত্যের পথে তুমি চল। সত্যের জয় হবে এবং প্রতিবাদ তোমাকে স্বীকৃতি দিবে যেভাবে বার বার দিচ্ছে।  গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় এম্পেয়ার কনভেনশন হলে  নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন (এনইউজে) আয়োজিত প্রয়াত ৪ সাংবাদিক নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ শামসুল হুদা, মুজিবর রহমান বাদল, বংশী সাহা এবং আজীবন সদস্য আজিজুল হক স্মৃতি সম্মাননা পদক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের সম্পর্কে তিনি বলেন,  যারা মিথ্যা কথা বলে, ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে দেয় তাদের সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। সারাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে উন্নয়নের ধারা বইয়ে বাংলাদেশের মানচিত্রে উন্নত জেলা হিসেবে জায়গা করে নিবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে চাই। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবীণ সাংবাদিক নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক ট্রেজারার বিমান ভট্রাচার্যকে অধ্যক্ষ শামসুল হুদা স্মৃতি পদক, একুশে টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি বিমল রায়কে সাংবাদিক বংশী সাহা স্মৃতি পদক, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ প্রতিনিধি কবি হালিম আজাদকে মুজিবর রহমান বাদল স্মৃতি পদক, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও চ্যানেল আই এর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রুমন রেজাকে আজিজুল হক স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম ও সেক্রেটারী আফজাল হোসেন পন্টির সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন আড়াইহাজার আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, বাংলাদেশ ফেডারেশন সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজের) সভাপতি মন্জুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক সহ সাংবাদিক সহ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।