আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৩৭
fevro
শিরোনাম

ফক্স নিউজ উপস্থাপিকাকে জোর করে চুমু খেতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প

ডান্ডিবার্তা ডেক্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। সম্প্রতি আবারো তাকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন জুলিয়েট হাডি নামক এক নারী। জুলিয়েট হাডি, জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপিকা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অভিযোগ আনার পূর্বে মার্কিন সাংবাদিক বিল ও’রেইলির দিকেও যৌন অভিযোগ করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বিলের সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি করেন হাডি। স¤প্রতি ডব্লিউএবিসি নামক একটি রেডিওতে আকস্মিক ভাবেই ট্রাম্পের কথা তোলেন হাডি। হাডি বলেন, ২০০৫ সালে ট্রাম্প টাওয়ারে দুপুরের ভোজে অংশগ্রহনের পর লিফটে তাকে চুমু খেতে চেয়েছিলো ট্রাম্প। হাডি বলেন, ‘সে (ট্রাম্প) আমাকে ট্রাম্প টাওয়ারে নিয়ে গিয়েছিলো লাঞ্চের জন্য। সেখানে আমরা দুজনই ছিলাম। খাবারের পর সে আমাকে বিদায় দেওয়ার জন্য লিফটের কাছে এসেছিলো। সেখানে একজন নিরাপত্তাকর্মীও ছিলো। সে সময় সে আমাকে চুমু দিতে আসে এবং আমি তাকে আটকাই।’ হাডি আরো বলেন, ‘আমি অনেক অবাক হয়েছিলাম তবে আমি ভয় পাইনি। এরপরও সে আমাকে লাঞ্চের জন্য ডেকেছে। সে আমার শো নিয়মিত দেখতো। যদিও এরপর আর কখনো সে এমন কিছু করেনি এবং আমিও একা তার সঙ্গে দেখা করিনি।’ ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ট্রাম্প। হাডির ভাষ্য মতে, বিয়ের পরই তাকে চুমু খেতে চেয়েছিলের ট্রাম্প। এতোদিন ট্রাম্পের প্রতি কোন ক্ষোভ ছিলো না হাডির। তবে বিল ও‘রেলির সঙ্গে হাডির লড়াইয়ে ট্রাম্প বিলের পক্ষ নিয়েছিলেন। সেই থেকেই ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে রয়েছেন হাডি। যদিও এ সকল ঘটনায় এখনো ট্রাম্প কোন মতামত প্রকাশ করেননি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক অভিযুক্ত

ডান্ডিবার্তা ডেক্স
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে নাইমুর জাকারিয়া রহমান নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবককে গতকাল লন্ডনের এক আদালতে হাজির করা হয়। উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা ২০ বছরের ওই যুবক লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজেকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বলে পরিচয় দেন। তার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ রয়েছে। তার পরিকল্পণা ছিলো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ডাউনিং স্ট্রীটের নিরাপত্তা গেটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঢুকে পড়ে ছুরি, পেপার স্প্রে এবং সুইসাইড ভেস্ট ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে হত্যা করা। তবে, এ ক্ষেত্রে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন জাকারিয়া। আদালত তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। আগামী ২০ ডিসেম্বর তাকে আবারো উচ্চতর আদালতে হাজির করা হবে। লন্ডনে সন্ত্রাস-বিরোধী পুলিশ গত মাসে এই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই যুবককে গ্রেফতার করে। এই যুবকের বিরুদ্ধে আরো একটি সন্ত্রাসের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই অভিযোগ অনুযায়ী সে পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত এক তরুণকে লিবিয়ায় কট্টর ইসলামপন্থীদের হয়ে যুদ্ধ করতে যেতে সহযোগিতা করছিলো। আদালতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুবককেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার স্কাই নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, পুলিশ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরেছে। পুলিশ ধারণা করছে, তারা ডাউনিং স্ট্রিটে বিশেষ উপায়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক তৈরি এবং থেরেসা মে এর উপর হামলা চালিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো না হলেও পরবর্তীতে স্কাই নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর মে’র এক মুখপাত্র বলেন, ব্রিটেনে বিগত ১২ মাসে ৯ বার থেরেসা মে’কে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার অভিযুক্তদের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা গত ১২ মাসে ৯টি সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন। রয়টার্স

উত্তর কোরিয়াকে ‘সম্পূর্ণ’ ধ্বংস করে ফেলা হবে: আমেরিকা

যুদ্ধ লাগলে উত্তর কোরিয়াকে ‘সম্পূর্ণ’ ধ্বংস করে ফেলা হবে বলে আবারো হুমকি দিয়েছে আমেরিকা। পিয়ংইয়ংয়ের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জের ধরে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এই হুমকি দিয়েছেন। বুধবার রাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একই ধরনের হুমকির পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।

হ্যালি বলেন, উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক এমন একটি কাজ করেছেন যা বিশ্বকে যুদ্ধের আরো কাছাকাছি নিয়ে গেছে। যদি যুদ্ধ বেধে যায় তাহলে উত্তর কোরিয়া সরকারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা হবে; এতে কোনো ভুল হবে না। খবর : এএফপির।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বিশ্বের ‘সব দেশের’ প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চীনকে সবার আগে এই কাজ শুরু করতে হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা চাই চীন আরো কিছু করুক। বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বেইজিং থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ট্রাম্পের আহ্বানের জবাবে জিনপিং বলেছেন, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেইজিং বদ্ধপরিকর। সেইসঙ্গে চীন কোরিয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে চায় বলেও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উল্লেখ করেন।

এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতরা উত্তর কোরিয়াকে ধৈর্যধারণ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আমেরিকার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের শত্রুতা কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান করতে হবে।

প্রায় দুই মাসের বিরতির পর উত্তর কোরিয়া বুধবার এ যাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ওঠার পর নিক্ষেপের স্থান থেকে ৯৬০ কিলোমিটার পূর্বে জাপান সাগরে গিয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি উপরের দিকে নিক্ষেপ না করে সোজাসুজি নিক্ষেপ করলে এটি দিয়ে ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, এ পরীক্ষার মাধ্যমে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে এসেছে।

অবশেষে পদ ছাড়লেন মুগাবে

অবশেষে পদত্যাগ করলেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার জ্যাকোব মুন্ডেডার বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। বিবিসির খবরে বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে স্বেচ্ছায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুগাবে।
গত ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন মুগাবে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টকে বরখাস্তের এক সপ্তাহের মাথায় অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গত ১৫ আগস্ট মুগাবেকে গৃহবন্দী করে রাখে সেনাবাহিনী।

এরপর মুগাবের দল এবং হাজার হাজার নাগরিক তার পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। জানু-পিএফ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে গত রোববার বরখাস্ত করে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ২৬

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি গ্রাম ও দুটি শরণার্থী শিবিরে রাশিয়ার গোলা বর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত ২৬ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। দুটি পৃথক শরণার্থী শিবিরে হামলাগুলো চালানো হয়। শনিবার এক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা একথা জানিয়েছে। খবর : এএফপির।

ব্রিটেন ভিত্তিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজেরভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নয় শিশু রয়েছে। আলবু কামাল শহরে চলমান সংঘাত সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে এইসব গ্রাম ও শরণার্থী শিবিরগুলো শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে।

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র মিলিশিয়ারা দুই দিন আগে ইসলামিক স্টেটের কাছ থেকে আলবু কামাল শহরটি পুনরুদ্ধার করে। শনিবার জিহাদিরা শহরটি পুনরায় দখল করার চেষ্টা করে।
মানবাধিকার সংস্থাটির প্রধান রামি আব্দেল রহমান বলেন, শুক্রবার রাত থেকে আলবু কামালের পশ্চিমে আল-সুক্কারিয়াহ্ শরণার্থী শিবিরের কাছে বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে। এতে সাত শিশুসহ ১৫ বেসামকির লোক প্রাণ হারিয়েছেন।

আলবু কামাল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে আরেকটি শরণার্থী শিবির ও বেশ কয়েকটি গ্রামে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। এতে দুই শিশুসহ ১১ বেসামরিক লোক প্রাণ হারিয়েছে।

মালয়েশিয়ার মর্গে থাকা নারী বন্দরের রোজিনা আক্তার

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
মালয়েশিয়ার মর্গে পড়ে থাকা বাংলাদেশের নারী প্রকৃত পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম রোজিনা আক্তার। সে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একরামপুর উইলসন রোড এলাকার বাসিন্দা। রাজিয়া আক্তার নামে ভুয়া জন্ম সনদ ও পাসপোর্ট করে সে ৮ মাস আগে মালয়েশিয়াতে পাড়ি জমান।
গত ৩ অক্টোবর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালাপুরের আমপাং এলাকায় একটি এপার্টমেন্টের ৮তলা থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু ঘটে। আমপাং এলাকাতেই বাংলাদেশ হাইকমিশন ও বিভিন্ন দেশের হাই কমিশনের অফিসগুলো রয়েছে।
ঘটনার পর রোজিনা আক্তারের লাশ পুলিশ নিয়ে গিয়ে সেখানকার হাসপাতালের মর্গে রাখলেও প্রকৃত পরিচয় ও আর বাংলাদেশে থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় লাশ ফেরত পাঠানো হয়নি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পরিবার পরিচয় নিশ্চিত করে মালয়েশিয়াতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।
রাজিয়া আক্তারের পাসপোর্ট নং : বিএল ০৮৮৯৫১০। পাসপোর্ট অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ২০৬ এসএসশাহ রোড লেখা থাকলেও প্রকৃত ঠিকানা একরামপুর উইলসন সড়কের আব্দুল রবের মেয়ে। ৮ ভাই বোনের মধ্যে রোজিনা আক্তার চার নাম্বার। রোজিনার স্বামী মো. সেলিম মারা যাওয়ার পর বিগত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বন্দরে এক ছেলে তন্ময় ইসলাম, এক মেয়ে আফরিন আক্তার সহ মা বিমলা বেগম ও ছোট ভাই সবুজ মিয়াকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন রোজিনা।
রাজিয়া ওরফে রোজিনা আক্তারের মা বিমলা বেগম বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়া থেকে এক পুরুষ ফোন দিয়ে বলছে রোজিনা নাকি আত্মহত্যা করছে। লাশ পুলিশে নিয়ে গেছে। এর পর থেকেই আমরা রনি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকি। কিন্তু প্রথমে কথা হলেও পরে তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।
পাসপোর্টে ভুল ঠিকানার বিষয়ে বলেন, ‘আমরা কিছু বলতে পারবো না। দালাল টাকা নিয়ে কোন ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট করছে সেটা আমি জানি না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংসারের অভাব অনটন ও সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তা করে মালয়েশিয়াতে যায়। স্থানীয় রনি নামে এক যুবকের মাধ্যমে আট মাস আগে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ যায়। যাওযার পর থেকেই প্রতি মাসে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পাঠাতো। কি চাকরি পেয়েছে সেটাও কখনো বলেনি। শুধু বলতো মা ভালো আছি চিন্তা করো না।’
বিমলা বেগম আরো বলেন, ‘প্রতিদিনই রোজিনা নিজে ফোন দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতো। আমার শরীর অসুস্থ তাই প্রতিদিন ফোন দিয়ে খোঁজ নিতো আমি সময় মতো ওষুধ খাই কিনা। শরীর ভালো কিনা। এছাড়াও দুই সন্তান ঠিক মতো পড়ালেখা করে কিনা। সবার শরীর ভালো না কিনা। এসব কিছুই জানতে চাইতো।’
রোজিনা আক্তারের ছোট মেয়ে আফরিন আক্তার বলেন, ‘ ২ অক্টোবর দুপুর আড়াইটায় মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তখন নানী কাছে মায়ের খুঁজছিল ফোনে। কিন্তু নানী বাজারে থাকায় কোন কিছু আর বলেনি। পরে আমাদের খোঁজ খবর নিয়ে ফোন রেখে দেয়। সেই মার সঙ্গে শেষ কথা হয়।’
ছোট ভাই মো. সবুজ বলেন ‘৩ অক্টোবর বিকালে রোজিনার সঙ্গে কথা হয়। তখন সকলের খোঁজ খবর নেয়। তখন রোজিনার বড় ছেলে তন্ময় ইসলাম মায়ের কাছে মোটর সাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য বলে। রোজিনা তাকে বলে পরীক্ষা শেষ করে ভালো ফলাফল করলে কিনে দিবে। সেই শেষ কথা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সিউর ছিলাম না যে আমার বোন মারা গেছে। তাই থানায় কোন অভিযোগ কিংবা কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লাশ ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করি। কিন্তু সেখান থেকে আগামী সোমবার যোগাযোগ করতে বলেছে।

‘শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত আরসা’

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) বলছে, তারা সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক টুইট বার্তায় আরসা এ তথ্য জানিয়েছে।

গত আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তাবাহিনীর বেশ কিছু তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় আরসা। আরসার এই হামলার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী কঠোর অভিযান শুরু করে। সেনাবাহিনীর এই অভিযানের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়েছে। মিয়ানমার সরকার আরসাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

টুইটারের আরসা বলছে, ‘যদি কোনো পর্যায়ে মিয়ানমার সরকার শান্তি চায়, তাহলে আরসা তাকে স্বাগত জানাবে।’

রাখাইনে মানবিত্র ত্রাণ তৎপরতা কার্যক্রম অবাধে পৌঁছানোর জন্য গত সেপ্টেম্বরে আরসা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের এক মাসের বেধে দেয়া এই যুদ্ধবিরতি শেষ হবে সোমবার।

আরসা অভিযোগ করে বলছে, রাখাইনে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে আরসা বলছে, মিয়ানমার সরকার সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখে মানবিক ত্রাণ সহায়তায় বাধা দিয়েছে।

এছড়া রাখাইন রোহিঙ্গা শূন্য করতে গণহত্যা, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, ভীতি প্রদর্শন ও গণধর্ষণকে রাজনৈতিক কৌশল বানিয়েছে সরকার।

জাতিসংঘ বলছে, গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর অন্তত ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর রাখাইনে একই ধরনের একটি হামলার দায় স্বীকার করে আরসা। আরসার এই হামলার পর রাখাইনে কঠোর সেনা অভিযান শুরু হয়।

সূত্র : রয়টার্স।

সু চি’কে কক্সবাজার সফরের আহŸান জাতিসংঘের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
মিয়ানমারে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের’ ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গার দুর্দশায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাদের অবর্ণনীয় দুর্দশা দেখতে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি’কে কক্সবাজার সফরের আহŸান জানিয়েছেন বিশ্ব সংস্থাটির সাতজন বিশেষজ্ঞ। একইসঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত এ জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন বন্ধে বার্মিজ সরকারের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের এক বিবৃতিতে তারা এ আহŸান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড, মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, নির্যাতন ও অপব্যবহার, যৌন সহিংসতা, দুই শতাধিক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া। কিন্তু রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র কাজের জন্য পুরো রোহিঙ্গা স¤প্রদায় মূল্য দিতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে মিয়ানমারের পরিস্থিতি অনুধাবনের জন্য সু চি আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন। অথচ গত কয়েক সপ্তাহেই চার লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন। রাখাইন ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমরা সু চি’র প্রতি আহŸান জানাচ্ছি। সদিচ্ছা থাকলে পালিয়ে আসা মানুষদের কথা তার শোনা উচিত। এদিকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এইচআরডবিøউ। সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা এই পর্যবেক্ষণ হাজির করে। হত্যা-ধর্ষণ-উচ্ছেদের বিপুল আলামত পাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি ক্ষেত্র শনাক্ত করেছে এইচআরডবিøউ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে ২০১২ এবং ২০১৬ সালে উগ্র বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং রাখাইনের বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাকান্ড চালায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত- আইসিসির রোম স্ট্যাচু এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধ হলো এমন এক উদ্দেশ্যমূলক কর্মকান্ড যা বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বি¯Íৃত ও কাঠামোবদ্ধ হামলার মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়। এ ধরনের হামলা অবশ্যই রাষ্ট্রীয় অথবা সাংগঠনিক নীতির অংশ হতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনি বিচারব্যবস্থা অনুযায়ী এ হামলা হতে হবে বি¯Íৃত অথবা কাঠামোবদ্ধ। হামলার বি¯Íৃতর মানে হলো ‘অপরাধের মাত্রা কিংবা ঘটনার শিকার মানুষদের সংখ্যা’ এবং কাঠামোবদ্ধ হামলা দিয়ে বোঝায় ‘পদ্ধতিগত পরিকল্পনা’। আন্তর্জাতিক মানবতাবিষয়ক আইনে বলা আছে মানবতাবিরোধী অপরাধ যে কেবল সামরিক হামলার ক্ষেত্রে হবে তা নয়। কারণ, মানবতাবিরোধী অপরাধ সশস্ত্র সংঘাতমুলক প্রেক্ষাপটের মধ্যে কিংবা এর বাইরেও হতে পারে। তাছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মানে যে কেবল একটি এলাকার গোটা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা পরিচালনা করা, তা নয়। হিউম্যান রাউটস ওয়াচ মনে করে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর বি¯Íৃত ও কাঠামোবদ্ধ হামলা চালিয়েছে। পূর্বে স্যাটেলাইটে ধারণকৃত ছবিতে দেখা গেছে যে এলাকায় জ্বালাও পোড়াও এর আলামত পাওয়া গেছে তা রাখাইন রাজ্যের ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বি¯Íৃত। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জ্বালাও পোড়াও এর তৎপরতা নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বি¯Íৃত হয়েছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা বিশেষজ্ঞরা হচ্ছেন মিয়ানমারে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিস্থিতি-সংক্রান্ত বিশেষ দূত লি, বিচারবর্হিভূত বা নির্বিচার হত্যাকান্ড সংক্রান্ত বিশেষ দূত এগনেস ক্যালামার্ড, সংখ্যালঘু বিষয়ক বিশেষ দূত ফার্নান্ড ডে ভেরেনেস, গৃহায়ন ও জীবনযাত্রা বিষয়ক দূত লেইলানি ফারহা, অভ্যন্তরীণভাবে জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক দূত সিসিলিয়া জিমেনেজ, সমসাময়িক বর্ণবাদ বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত আহমেদ শাহিদ।

গালফ নিউজ এডিটরের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করছে গালফ নিউজের এডিটর ফ্রান্সিস ম্যাথিউ তার স্ত্রীকে হাতুড় দিয়ে আঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে বিবাহিত জীবনে সমস্যার কারণে এধরনের হত্যাকা- ঘটনা এই ব্রিটিশ বর্ষিয়াণ সাংবাদিক। গালফ নিউজের এডিটর-এ্যাট-লার্জ এই ৬০ বছর বয়স্ক ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ আনে পুলিশ গত সপ্তাহে। গত ৪ জুলাই তার স্ত্রী জেনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় জামারিয়া এলাকায় তাদের বাসভবনে। আমিরাত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে জেনের মৃত্যু ঘটেছে তার মাথায় শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত হানায়। পরে পুলিশের কাছে ম্যাথিউ তার স্ত্রীর দিকে হাতুড় ছুড়ে মারার কথা স্বীকার করে। তবে স্ত্রীকে হত্যার ইচ্ছা ছিল না বলেও জানায় ম্যাথিউ। ম্যাথিউ দম্পতি দুবাইতে ৩০ বছর ধরে বাস করছিলেন। ১৯৮৫ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র ছেলে ফ্রান্সিসের গ্র্যাজুয়েশন উপলক্ষে তারা ব্রিটেনেও গিয়েছিলেন। ম্যাথিউ পড়াশুনা করেন আরবী ও ইসলামি স্টাডিজে। ১৯৯৫ সালে তিনি যোগ দেন গালফ নিউজে।

দুই প্রেসিডেন্টের স্ত্রী সেই নারী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তাকে বিয়ে করেছেন। বিশ্বের ক্ষমতাধর সব ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ। শুধু তাই নয় শীর্ষ হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তাদের পরামর্শদাতাও তিনি। গিজেলে ইয়াজি বা মেডাম গিজেলে তার প্রতিবেশীদের কাছে এমনটাই বলে বেড়ান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাসিন্দা। তার দাবি, তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি’র গোপন স্ত্রী । ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজেরও সাবেক স্ত্রী। এমনকি নিজেকে ইভানকা ট্রা¤েপর মেন্টর হিসেবে দাবি করেন। এছাড়া ট্রাম্প-কন্যা ইভাঙ্কার পর হোয়াইট হাউজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অফিসটিও তার দখলে। এরকম দাবির শেষ নেই তার। প্রেসিডেন্ট ট্রা¤প ও ফাত্তাস আল সিসির মধ্যে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও নাকি তিনি করে দিয়েছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছে, এ সব পরিচয় দিয়ে তাদেরকে ধনী হওয়ার প্রলোভন দেখাতেন ইয়াজি। তাদের কাছে নিজের জাকজমকপূর্ণ জীবন নিয়ে গর্ব করতেন। ম্যাডাম গিজেলের বিভিন্ন রূপ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে ওয়াশিংটন পোস্ট। তার কর্মকান্ড মন্টেগোমারি কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসেরও দৃষ্টিগোচর হয়।  এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ইয়াজি বলেন, তিনি এখন কলম্বিয়ায় রয়েছেন। দ্রুতই মেরিল্যান্ডে ফিরবেন। এ সময় তিনি এসব অভিযোগ দৃঢ় ভাবে প্রত্যাখান করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে গোপন বিয়ে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সিসির মধ্যে টেলিফোনে কথা বলানোর ব্যবস্থাপনা করার কথা অস্বীকার করেন। ইয়াজি তার মেরিল্যান্ডের প্রতিবেশীদের অভিযোগও উড়িয়ে দেন। তবে হোয়াইট হাউজে তার কোন অফিস আছে কি না সে প্রশ্নের জবাব দেন নি তিনি। মেরিল্যান্ডের এক প্রতিবেশী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।