আজ : রবিবার: ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ১ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৬:৫০
fevro
শিরোনাম

বাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

রফতানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে রফতানি বহুমুখীকরণ নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সুদৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সেই লক্ষ্যে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই নীতি অনুমোদন দিয়েছে।

এই নীতির উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, রফতানিকারকরা ১৬.৫ শতাংশ হারে তাদের বার্ষিক রাফতানি আয়ের বিপরীতে প্রণোদনা পাবে। এই প্রণোদনা ২০২১ সাল নাগাদ কোনো পরিবর্তন হবে না। এর পাশাপাশি ৬০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হবে। যে তহবিল দিয়ে একটি সর্বাধুনিক মানের ডিজাইন সেন্টার তৈরি করা হবে। চামড়া খাতে রফতানি আয় বর্তমানে ১.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই খাতে বিগত ৫ বছরের গড় প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। চামড়া খাত বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যা মোট রফতানি আয়ের ৩.৪ শতাংশ আর জিডিপিতে এর অবদান বর্তমানে ১ শতাংশের ওপর দাঁড়িয়েছে। এই খাতে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করছে। বিগত কয়েক বছরে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রফতানি অভাবনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। চামড়াজাত পণ্যের রফতানির পরিমাণ মোট রফতানির ৩৩.৪৩ শতাংশ। আর পাদুকা রফতানি হচ্ছে মোট রফতানির ৪২.৬২ শতাংশ। জাতীয় লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ২০২১ সাল নাগাদ রফতানি আয় হবে ৬০ বিলিয়ন ডলার।

চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত নীতিতে রফতানি নির্ভর প্রবৃদ্ধির বর্তমান অবস্থা, তৈরি পোশাক শিল্পের সফলতা, রফতানি বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান, প্রবৃদ্ধি, রফতানির লক্ষ্যমাত্রা, কাঠামোগত পরিবর্তন, চামড়াজাত পণ্যের সম্ভাবনা, মূল সমস্যা, সমস্যার কারণ, সমস্যার প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই সঙ্গে কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, পরিবেশক বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো ও হাজারিবাগের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দূষণ চামড়া শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। যে কারণে হাজারী বাগ থেকে প্রায় ১৫০টি চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা অর্থাৎ ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চামড়াসহ চামড়াজাত পণ্য খাতে রফতানি বর্তমানে ১.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালের মধ্যে ২৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উন্নীত হবে। আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও ভিয়েতনামের চামড়া খাত থেকে রফতানি হয় অনেক বেশি। ভারত থেকে হয় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর ভিয়েতনাম থেকে হয় ১৪.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ একই ধরনের পণ্যের বাজারে ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা ও জাপান অতি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বাজারে আমাদের সকল প্রতিযোগী উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য শিল্প বিকশিত। একই সঙ্গে বৈচিত্রপূর্ণ হওয়ার অপার সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের গতানুগতি বাজারগুলো হচ্ছে-জাপান, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, স্পেন, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। তবে পশ্চিমা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে রফতানিকারকদের নতুন ক্ষেত্র ও বিকাশমান বাজার খুঁজতে হচ্ছে। বিকাশমান বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে- তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের বিকশিত হওয়ার অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, শিল্পটি একটি সংকটপূর্ণ সময়ে রয়েছে বলে নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এক দিকে হাজারিবাগ ট্যানারী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্বের কারণে শিল্পটি পরিবেশগত ভাবমূর্তি সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে শিল্পটি শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা, ব্যবসায় উচ্চ ব্যয়, জ্বালানির অভাব, কারখানার জন্য সহজে জমি পাওয়াসহ আরো অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি আয় অর্জনকারী খাত হওয়া সত্ত্বেও, এই খাতে বড় ধরনের ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আসছে না। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও পাদুকা চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অনিশ্চিত রাজস্ব নির্ধারণ ও অসামঞ্জস্য নীতিমালার কারণে চামড়া খাতের প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। প্রতিযোগীতা সক্ষমতায় বেশ কয়েকটি উপাদান সবচেয়ে বেশি জটিল করে তুলেছে। যার প্রভাব প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপরেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক লেনদেন প্রক্রিয়ায় উচ্চ ব্যয়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে পণ্য চালানে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে।

এ ছাড়াও রয়েছে দক্ষতার তীব্র স্বল্পতা ও অদক্ষ শ্রমিক। সমস্যার মধ্যে আরো রয়েছে দেশি ও বৈদেশিক বিনিয়োগের স্বল্পতা। আর স্বল্পতার জন্য বেশ কিছু কারণও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বড় ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য বেশ কিছু ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও দুর্বল প্রণোদনা। তবে এই নীতি তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সপ্তম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা অনুসারে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। যা রফতানির উচ্চতর বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করবে।

জানা গেছে, নীতিতে ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রণোদনা ছাড়া চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা খাতের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৫ সালে রফতানি ১১৬১.০ মার্কিন মিলিয়ন ডলার, ২০১৬ সালে রফতানি ১৩১১.৮ মার্কিন মিলিয়ন ডলার, ২০১৭ সালে ১৫৬৩.২ মার্কিন মিলিয়ন ডলার, ২০১৮ সালে ১৮৫৫.০৭ মার্কিন মিলিয়ন ডলার, ২০১৯ সালে ২১৯৬.৫ মার্কিন মিলিয়ন ডলার, ২০২০ সালে ২৫৯৩.৮ মার্কিন মিলিয়ন ডলার ও ২০২১ সালে ৩০৫৭.২ মার্কিন মিলিয়ন ডলার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনশীলতা ২০১৫ সালে যা ছিল ১১.৪ শতাংশ, ২০২১ সালে এসে তা দাঁড়াবে ১২.৪ শতাংশে।

লাগামহীন খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে, যা এখন লাগামহীন। নানা উদ্যোগেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। খেলাপি ঋণের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দিচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করছেন। এছাড়া ঋণ বিতরণে অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে। যাচাই-বাছাই না করেই দেয়া হচ্ছে ঋণ। বিশেষ সুবিধায় পুনর্গঠন করা ঋণ আবার খেলাপি হচ্ছে। ফলে খেলাপি ঋণ এখন লাগামহীন। এ ঋণের বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন না হলে আগামীতে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হবে দেশের ব্যাংকিং খাতকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বেশ কয়েকটি কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা। বিশেষ সুবিধায় পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়ায় অনেক ব্যবসায়ী সেই অপেক্ষায় নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছেন না। এছাড়া এখন ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুব একটা ভালো না। রফতানি কমে গেছে। এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। তাই খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

এ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন ব্যাংক কর্মকর্তাদের ঋণ আদায় এবং ভালো গ্রাহককে ঋণ প্রদানের আগ্রহ কম। এ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। তাদের ঋণ বিতরণ ও আদায়ে এক ধরনের উদাসীনতা রয়েছে। তাদের যেন কোনো জবাবদিহিতা নেই। তাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপকদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।

ড. সালেহউদ্দিন আরো বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে সরকারের সমন্বিত ও কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে ঋণ খেলাপিদের জামানত বাজেয়াপ্ত করতে হবে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ নয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৭৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। (জুন-সেপ্টেম্বর-১৭) তিন মাসে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ছয় হাজার ১৫৯ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় খাতের সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে এক লাখ ৩১ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ ঋণের ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। জুন শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ৩৪ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

এছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ৪০টি বেসরকারি ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ ঋণের পাঁচ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জুন শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ৩১ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা।

বিদেশি নয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দুই হাজার ২৯৮ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত দুটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পাঁচ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ব্যাংকগুলোতে ঋণ দেয়ার সময় মূল্যায়ন সঠিকভাবে হয় না। কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর কাছে ঋণ চলে যায়। তারা ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করেন না। ফলে খেলাপির পরিমাণ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ঋণ শ্রেণিকরণের (খেলাপি) তিনটি পর্যায় রয়েছে। তা হলো- নিম্নমান, সন্দেহজনক এবং মন্দ বা ক্ষতি। এ তিনটি পর্যায় বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলোকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হয়। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ নিম্নমানের ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ প্রভিশন, ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে হলে সন্দেহজনক ঋণ, যার বিপরীতে ৫০ শতাংশ প্রভিশন এবং নয় মাসের বেশি হলে তাকে মন্দ বা ক্ষতি মানে বিবেচিত হয়, এর বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়।

মন্দাভাব কাটছে না প্রবাসী আয়ে

প্রবাসী আয়ে মন্দাভাব কাটছেই না। ওমান ও কাতার ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ থেকেই প্রবাসী আয় কমছে। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিদের আয় কমে গেছে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোয় তা দেশের হিসাবে যুক্ত হচ্ছে না। ফলে বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ কমছেই।

প্রবাসী আয় সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরে বাহরাইন থেকে এসেছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, কুয়েত থেকে ৯ কোটি ডলার, ওমান থেকে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, কাতার থেকে ৫ কোটি ডলার, সৌদি আরব থেকে ২১ কোটি ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। লিবিয়া ও ইরান থেকে আগে কিছু আয় আসলেও বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গেছে। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওমান ও কাতার ছাড়া সব দেশ থেকেই আয় কমেছে। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। আয় কমলেও প্রবাসে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশের মানুষের সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে। জানা গেছে, প্রবাসী আয়ের জন্য বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। কেননা মোট প্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে।এভাবে প্রবাসী আয় কমে যাওয়া অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেই এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। তাদের মতে এখনো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস এই প্রবাসী আয়। এই আয় মোট ঋণ ও বিদেশি বিনিয়োগের চেয়েও বেশি। তা ছাড়া, বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলের বিশালসংখ্যক পরিবার এই প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকারদের পরামর্শসহ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ও গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্যান্য বছরের মতো এবারো রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক অবৈধভাবে দেশে অর্থ প্রেরণকারী কিছু মোবাইল অ্যাকাউন্ট ও এজেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও এসব পদক্ষেপ কোনো কাজেই আসছে না।

সূত্র মতে, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রাপ্তি কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে বাংলাদেশে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেলের দাম হ্রাস, ইউরো এবং পাউন্ডের বিনিময় মূল্য পতন এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর কারণে কমে যাচ্ছে রেমিট্যান্স। গত অর্থবছরেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে। সূত্র মতে, প্রবাসী আয়ে গত অর্থবছরজুড়ে মন্দাভাব থাকায় প্রথম থেকেই এ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। আর প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে নানান উদ্যোগও নিয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু উদ্যোগ কাজে আসছে না। প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ।

এদিকে, প্রবাসী আয় কমার কারণ জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি প্রতিনিধিদল চলতি বছরের মার্চে গিয়েছিল সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব। তিন দেশে গিয়েই দলটি দেখেছে, বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘বিকাশ’-এর নামে রেমিট্যান্সের অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে। শুধু মোবাইল নম্বর দিয়েই টাকা জমা দেয়া যাচ্ছে। ৫-১০ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশের বিকাশ হিসাবে ওই টাকা জমা হয়ে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘রকেট’-এর নামেও এ সেবা দেয়া হচ্ছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ডিজিটাল হুন্ডি। প্রতিনিধিদল দুটির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. আখতারুজ্জামান ও মহাব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান। এর প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল হুন্ডি প্রতিরোধে বেশ কিছু এজেন্ট ও হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকায় মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ২ হাজার ৮৮৭টি এজেন্টের কার্যক্রম সেপ্টেম্বরে বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এক হাজার ৮৬৩টি গ্রাহক হিসাব বন্ধ করা হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিকাশের অভিযুক্ত এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকেও (সিআইডি) আলাদাভাবে চিঠি দেয়া হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমীক্ষায়ও দেখা গেছে, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং ও হুন্ডির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে বিনিময় হারের পার্থক্য, দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুবিধা ও কম খরচ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মানবকণ্ঠকে বলেন, হুন্ডির কারণেই মূলত রেমিট্যান্স কমছে। আর ব্যাংকের সঙ্গে খোলা বাজারে ডলারের দামের পার্থক্য অনেক বেশি হওয়ায় হুন্ডির দিকে ঝুঁকছেন প্রবাসীরা। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে বিদেশে আছেন এবং অল্প পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এ জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংকে। এ জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ভুয়া এজেন্ট সেজে যাতে কেউ এ কাজে সহযোগিতা করতে না পারে সে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিদের আয়ও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে প্রবাসীরা দেশে ১১৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের মাস সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ এসেছে মাত্র ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আর অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার ও আগস্টে ১৪১ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। মূলত ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুসহ বাড়তি কেনাকাটার কারণে আগস্ট মাসে বেশি রেমিট্যান্স আসে। তবে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম চার মাসের (জুলাই থেকে অক্টোবর) হিসাব ধরলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় মাত্র ৭ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাই-অক্টোবর চার মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ৪৫৫ কোটি ডলার।

২০১৬ সালে একই সময়ে এই আয় ছিল ৪২৫ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে প্রবাসীরা এক হাজার ২৭৬ কোটি ডলার পাঠান। এই আয় আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ১৪ শতাংশ কম এবং পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার, সেটিও তার আগের বছরের তুলনায় আড়াই শতাংশ কম ছিল। তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। এ সময় ৭ লাখ ৫১ হাজার ৪১০ জন উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করতে গেছেন। এই সংখ্যা গত অর্থবছরের মোট জনশক্তি রফতানির ৮৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি গেছে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। এত মানুষ গেলেও বিপরীতে কত মানুষ একই সময়ে ফিরে এসেছেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য উপাত্ত নেই উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক আরো বলছে, নতুন যারা গেছেন, তাদের প্রতি চারজনের একজন নারী। তারা অত্যন্ত কম বেতনে যাচ্ছেন। এটিও প্রবাসী আয় কমার আরেকটি কারণ।

দক্ষ জনবলে রেমিট্যান্স বাড়বে ১০ গুণ

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল বিদেশে পাঠাতে পারলে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) আহরণ বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম। শনিবার মতিঝিলে ঢাকা চেম্বারের অডিটোরিয়ামে ‘ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে দেশীয় ব্যবস্থাপকদের দক্ষতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বথা বলেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের জনশক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবলে রূপান্তরিত করতে পারলে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ সম্ভব হবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কাজ করছে, যারা প্রতি বছর প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল বিদেশে প্রেরণ করা সম্ভব হলে বর্তমানের প্রায় ১০ গুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ বছর ৭ লাখ ৮৯ হাজার লোক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে ১০ লাখ লোক প্রেরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সেনিমারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এনএসডিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খোরশেদ আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান, এমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (টেকনিক্যাল অ্যান্ড মাদরাসা ডিভিশন) অশোক কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে দেশে ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যা গত ৬ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স আহরণ।

সাত কার্যদিবসে বেড়েছে সূচক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ সোমবার মূল্য সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ দুই বাজারেই লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। আর টাকার অংকে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার ডিএসইতে ৬৬৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের তুলনায় ১৮৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা কম। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৮৫২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

দিন শেষে আজ ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৬০৩৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৩২৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২১৪৫ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮১টির, কমেছে ১০৪টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪টি কোম্পানির শেয়ার দর। যা টাকায় লেনদেন হয়েছে ৬৬৭ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৬০০৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৩২২ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২১৩৮ পয়েন্টে। ওইদিন লেনদেন হয় ৮৫২ কোটি ৮৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। সে হিসেবে আজ ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ১৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭ হাজার টাকা।

অপরদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সেঞ্জে (সিএসই) ৩৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৭৪০ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ৬১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি কোম্পানির শেয়ার।

আজ লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফরচুন সুজ লিমিটেড, ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, বিবিএস ক্যাবলস্ লিমিটেড, সি এন্ড এ টেক্সটাইলস লিমিটেড, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এবি ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড এবং আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড।

বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে তাই আগেভাগেই সংশোধন

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আইন কার্যকর না হওয়ায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটের সংশোধনও তাই এবার আগেভাগে করবেন বলে জানান তিনি।
নতুন আইনের আওতায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার ধরে চলতি অর্থবছরের বাজেটটি তৈরি করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই আইন কার্যকরের সময় দুই বছর পিছিয়ে যায়।

অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ে গত শনিবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়া পিছিয়ে গেলেও বাজেটের আকারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সে জন্য এবারের সংশোধিত বাজেট অন্যবারের তুলনায় আগেই দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বাজেট ও ভ্যাট প্রসঙ্গে বলেন, যেহেতু নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন পিছিয়ে গেছে, তাই বাজেটের কিছু পরিসংখ্যান (ফিগার) বদলাতে হবে।

নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় ভ্যাট থেকে বাড়তি ২০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের চিন্তা ছিল সরকারের।

রাজস্ব আহরণের উৎসে কিছু পরিবর্তন আসবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বিষয়ে আমি খুশি হব, খুশি হয়েই আছি মনে মনে। সেটা হচ্ছে আয়কর এবং করপোরেট কর থেকে এবার ভালো আদায় হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিবার হুবহু পাস হয় না। যথেষ্ট পরিবর্তন হয়। এবার নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন যেহেতু পিছিয়ে গেল, তাই পরিবর্তনটাকে বড় মনে হলো।

এই পিছিয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় হলো কি না জানতে চাইলে মুহিত বলেন, ‘প্রতিশ্রুতির কিছু নেই। আমরা সবাইকে বলেছি। সারা দুনিয়াকে বলেছি যে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর করব। আগে অবশ্য কার্যকরের কথা বলেছিলাম ২০১৬ সালের জুলাই থেকে। পারিনি নিজস্ব বাস্তবতায়।’

আইএমএফ কোনো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো জানায়নি, নিশ্চয়ই জানাবে। বিশ্বব্যাংক সংক্ষিপ্ত মন্তব্য (সামারি কমেন্ট) করেছে। বাজেটের পরে বিশ্বব্যাংক প্রতিবারই বিশ্লেষণ করে জানায় যে এ বিষয়ে আশা পূরণ হয়েছে, এই বিষয়ে হয়নি ইত্যাদি।’

নতুন বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে উৎসে কর বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হলেও তা এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কমিয়ে আগের মতো শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে দাম কমে যাওয়ায় রপ্তানিকারকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সঞ্চয়পত্রের সুদ হার

সাংসদেরা সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর সরকারি পরিকল্পনার বিপক্ষে সংসদে যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সে বিষয়ে কী করবেন—জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক হবে। তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যাতে পেনশনভোগী এবং মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

অর্থমন্ত্রী অবশ্য এ-ও বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সাধারণত ব্যাংকের সুদের চেয়ে বেশি রাখা হয়। তবে এত বেশি রাখা উচিত নয়। ব্যাংকের সুদের হার যেখানে ৭ শতাংশ, সেখানে সঞ্চয়পত্রে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ব্যাপারে অর্থসচিবের কিছু চিন্তা আছে।

অর্থসচিব তখন বলেন, ‘যাঁদের উদ্দেশে সঞ্চয়পত্র, তাঁরাই যাতে এর সুবিধাটা পান, সেটা নিশ্চিত করা হবে। ১৭ হাজার আউটলেট থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। তদারক করা কঠিন।’

সঞ্চয়পত্র কেনার পরিমাণ ও সুদের হার নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায় কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ভালো প্রস্তাব।’

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা প্রসঙ্গ

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে দেশের অর্থনীতির নানা দিকসহ পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলছিলেন। সচিবদের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান দেশটা অনেক ভালো ছিল একসময়। ১৯৬২ সালে কোরিয়ার একটি দল এসেছিল পাকিস্তানে। এসেছিল দেশটি কীভাবে এত ভালো করছে, তা দেখতে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তান একটা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, দেশটি খারাপ হওয়ার আরেক কারণ হচ্ছে সেনাশাসন।

অর্থসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন তখন বলেন, ‘তারা প্রথমে গুলি করে, তারপর আবার তদন্ত করে।’

শ্রীলঙ্কার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশটিকে শেষ করে দিয়েছে রাজাপক্ষে (বর্তমান রাষ্ট্রপতি মাইথ্রিপালা সিরিসেনার আগের রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপক্ষে)। এত ছোট অর্থনীতির দেশ, অথচ এর ঋণের পরিমাণ (ডেট) বাংলাদেশের চেয়েও বেশি।

ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়

বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যা সমগ্র অর্থনীতিকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, এজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, যাতে অর্থনীতি ঝুঁকিতে না পড়ে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি বরাবর একটি প্রস্তাব উত্থাপন করলে তার বিরোধিতা করেন ছয়জন সংসদ সদস্য। তাদের আপত্তির জবাবে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ বিভাগ খাতে ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের প্রয়োজনীয় সাকুল্য অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনধিক ৫৩ হাজার ৮৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মঞ্জুরির প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

মুহিত বলেন, অর্থনীতির ৮০ শতাংশ ব্যবসায়ীই বেসরকারি খাতে পরিচালিত হয় এবং তারা ভালো করছে। গত ৮ বছরে ব্যাংকিং খাত ও মানি মার্কেটে ন্যায়নিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মানি মার্কেট ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কারে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার সুফল আপনারা অতিসত্ত্বর দেখতে পাবেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৮টি ব্যাংক তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের লালবাতি জ্বললে আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকার ব্যবসা করলে ভালো করে না, এ জন্যই সরকারকে ব্যবসা করার কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

কোন খাতে কত বরাদ্দ

অর্থবিভাগের ব্যয় ২ লাখ ৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে কম হচ্ছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে। এ খাতে ব্যয় ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অনুমোদিত ব্যয় পর্যায়ক্রমে হচ্ছে প্রতিরক্ষায় ২৫ হাজার ৭৪০ কোটি ৭৫ লাখ ৮ হাজার টাকা এবং স্থানীয় সরকার বিভাগে ২৪ হাজার ৬৭৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। অন্য খাতের ব্যয়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ খাতে ৩১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খাতে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ১ হাজার ৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৪৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা, সরকারি কম-কমিসন খাতে ৭৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগ মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয় খাতে ১৯৬ কোটি ৫ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে ২ হাজার ২০৬ কোটি ৩ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে ২ হাজার ৫৪০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ খাতে ১০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি পরিকল্পনা বিভাগে ১ হাজার ৩৩২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে ১০০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৫১৮ কোটি ৭ লাখ টাকা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ১৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ৩০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ ১ হাজার ৪২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ধরা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ১৮ হাজার ২৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২২ হাজার ২৩ কোটি ২৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ২৩ হাজার ১৪৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় খাতে ১১ হাজার ৩৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা খাতে ১৬ হাজার ২০৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ৯৭৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ৪ হাজার ৮৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৫৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় খাতে ২৬২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় খাতে ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ১৪৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪১৭ কোটি ৭৭ হাজার টাকা।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬৫৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে ১ হাজার ৮৮৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ৮২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে ৮৯৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে ২ হাজার ২২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ৬০৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ৯২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ১২০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় খাতে ১ হাজার ৮৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ৯২৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ১৪ হাজার ৪০২ কোটি ৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮ হাজার ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

এছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ১৯ হাজার ৬৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার ১৩৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ৬৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৫২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ১৫০ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ ১৮ হাজার ৮৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা, সুপ্রিমকোর্ট ১৬৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ৯৮৬ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ৬৮৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন খাতে ১০১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও সেতু বিভাগে ৮ হাজার ৪২৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে ৫ হাজার ২৭০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সুরক্ষা সেবা খাত ২ হাজার ৮৮২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ খাতে বরাদ্দ ৪ হাজার ৪৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

জমে উঠেনি পানোরমা প্লাজার ঈদ বাজার

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

এখনো তেমনভাবে জমে উঠেনি ঈদের বাজার। শহরের প্রতিটি শপিং মহলই প্রায় ফাঁকা। নেই ক্রেতদের কোন ভিড়। নেই ব্যবসায়ীদের মুখে উচ্ছাসের ঝলক। শপিং মহলের হতাশাগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা পার করছে অলস সময়। অপরদিকে প্রতিনিয়ত লাগামহীনভাবে ভ্যাট, ট্যাক্স, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির কারণে ব্যাবসায়ীরা পড়েছে বিপাকে। ব্যবসায়ীদের মতে বর্তমান ব্যবসায় পরিবেশে বিগত ২০বছরের তুলনায় সবচেয়ে হুমকিস্বরুপ যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

শহরের পানোরমা প্লাজায় সরেজমিনে গিয়ে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে ওয়েস্টান, রেমন্ড ফ্যাসন কিংবা ওয়ানম্যানের মতো জনপ্রিয় টেইলার্স প্রতিষ্ঠানগুলো শবে বরাত বা প্রথম রোজা থেকেই জামা কাপড় তৈরির অর্ডার বন্ধ করে দেয়। কিন্তু সেখানে দেখা গেছে সকল স্টাফ বসে বসে ঝিমুচ্ছে। পানোরমা প্লাজার ১৫টি কসমেটিকস, ৩টি টেইলার্স, ২টি ক্রোকারিজের দোকান, ১টয়েসের, ১টি জুতোর দোকান সহ প্রায় সকল দোকানই কাস্টমার শূণ্য, মালিক শ্রমিকদের চোখে হাহাকার, সারা পানোরমা প্লাজায় নিরব দুর্ভিক্ষ। ব্যবসায়ীদের মতে গতে বছরের তুলনায় এবার ঈদের মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩ ভাগের ১ ভাগও ব্যবসা হয়নি। দৈনিক বেচাকেনায় দোকানের ইফতারের খরচও উঠে আসছে না। তবে প্রত্যেক ব্যবসায়ীদেরই আশা হয়তো বা ১০ রোজার মধ্যেই শপিং মহলে কাস্টমার ভিড়তে শুরু করবে।

এ প্রসঙ্গে পানোরমা প্লাজা দোকান মালিক সভাপতি মো. আবু নাঈম জানান, ‘সাধারণত রোজার শুরুতে বেচাকেনা কমই হয়ে থাকে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে এবার বেচাকেনা নেই বললেই চলে। তার উপর হকার ও বিশেষ করে জিয়া হলের নামে মাত্র তাঁত ও কারুশিল্পের অস্থায়ী মেলাটি আমাদের ব্যাবসায়ে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ওই মেলায় কারুশিল্পের ‘ক’ নেই। কারুশিল্পের নাম করে ঐ মেলায় কসমেটিকস থেকে শুরু করে জেন্টস্, লেডিস, কিডস্ সহ সকল ধরনের পোশাক সরঞ্জাম বিক্রি করে থাকে। প্রতিনিয়ত ভ্যাট ট্যাক্স বাড়তে বাড়তে আগের তুলনায় ৩ গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে রাতে মিলিয়ে ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকার থাকায় কাস্টমার দোকানে এসেও ফিরে যায়। সব মিলিয়ে বর্তমান ব্যাবসায় পরিবেশ ব্যাবসায়ীদের জন্য হুমকি স্বরুপ।’ ওয়ালটার্স সুজ মালিক মো. সুমন জানায়, ব্যবসার অবস্থা এতই করুণ  যা কল্পনারও বাইরে। গত সপ্তাহ জুড়ে এমন দিনও গিয়েছে যে কোন সময় এক জোড়া জুতাও বিক্রয় হয়নি। এ ভাবে ব্যবসা চললে স্টাফের বেতন দিব কি, দোকান ভাড়া দিব কি, বিদ্যুৎ বিল দেব কি আর আমিই খাব কি? ওয়ান ম্যান টেইলারের্সও মালিক মো. আলম রানা জানান, সাধারণত প্রথম রোজার ২-১ দিন অগেই আমরা অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিলেও এবার ঈদ মৌসুমে আমাদের স্টক অর্ডারতো দূরের কথা রেগুলোর অর্ডারই পাচ্ছি না। বিসমিল্লাহ ক্রোকারিজের মালিক মো. স্বপন মিয়া জানান, আপনাকে বলতে পারি এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ধংস ছারা গতি নেই।

অনিশ্চয়তার মুখে নীট শিল্প

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ভ্যাটের একক হার ১৫ শতাংশ এবং অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জামাদী আমদানীর উপর ৫ শতাংশ শুল্ক হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নীট শিল্পের উন্নয়নকে অনিশ্চয়তার মুখে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকায় এফবিসিসিআই এর সভাকক্ষে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর ব্যবসায়ীক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মত বিনিময় সভা এবং বিকেল ৫টায় এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ সহ বেশ কয়েকটি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নীট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান এ মন্তব্য করেছেন।

উক্ত মত বিনিময় সভা এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর নব নির্বাচিত সভাপতি  শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। মত বিনিময় সভায় বিকেএমইএ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান জাতীয় বাজেটে নীট শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন।  যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই এর সভাপতি তার বক্তব্যে বিকেএমইএ এর সভাপতি কর্তৃক মত বিনিময় সভায় উত্থাপিত নি¤েœাক্ত বিষয়গুলি তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সময়ে শিল্প ক্ষেত্রে গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার পাশাপাশি উৎপাদন মূল্যের উপর বড় ধরনের প্রভাব রাখবে। উল্লেখ্য যে, গত ১ মার্চ ২০১৭ এবং ১ জুন ২০১৭ এর মধ্যে দুই দফায় গ্যাসের মূল্য ক্যাপটিপ পাওয়ার উৎপাদকদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং শিল্প কারখানা গুলোর জন্য ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা নীট শিল্প উদ্যোক্তাদের উদ্বিগ্ন করেছে। তাই মূল্য বৃদ্ধির এই হারকে পুনঃবিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, মূল্য সংযোজন কর এর একক হার ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব তৈরি নীট শিল্প উদ্যোক্তাদের গভীর ভাবে আশাহত করেছে। বাংলাদেশের নীটশিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয় আমদানীকৃত তুলা থেকে সুতা উৎপাদনের মাধ্যমে এবং সামগ্রিক ভাবে দেশীয় মূল্য সংযোজনের হার ৮০-৮৫ শতাংশ। মূল্য সংযোজন করের এই উচ্চ হার নীট শিল্পের উৎপাদন খরচকে অনেকগুন বৃদ্ধি করবে। আমরা মনে করি নীট শিল্পের সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এমতাবস্থায় ভ্যাট এর একক হার ১০ শতাংশে স্থির করার জন্য বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে সবিনয় অনুরোধ করছি। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, রপ্তানিমূখী নীটশিল্পের উপর (প্রতিষ্ঠান এবং অন্য যেকোন প্রতিষ্ঠান গৃহীত সেবার উপর) শূণ্য হারে ভ্যাট আরোপিত রয়েছে। অন্যদিকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্রয়কৃত বিভিন্ন উপকরণের উপর বিভিন্ন হারে ভ্যাট আরোপিত আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নির্ধারণের সময় অনেক রপ্তানিমূখী নীট শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায়, তাদের গ্রহনকৃত সেবার উপর ভ্যাট ধার্য করা হচ্ছে; যা অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক। একই সাথে মূসক-১৯ এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটিও রপ্তানিমূখী নীট শিল্পের প্রাপ্য ভ্যাটমুক্ত সরকারী সুবিধার সিদ্ধান্তের বিপরীত। তাই শুধুমাত্র রপ্তানিমূখী নীট শিল্পের জন্য “ভ্যাট সম্পূর্ণরূপ অব্যাহতি” শীর্ষক একটি সুষ্পষ্ট সার্কুলার জারী করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি, যেখানে মূসক-১৯ দাখিল থেকেও অব্যাহতি প্রদান করা হবে। এবারের বাজেটে উৎসে কর হার পরিবর্তনের বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই। বর্তমান উৎসে কর হার শূন্য দশমিক  ৭ শতাংশ জুন ২০১৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পুনরায় এস.আর.ও জারী করে এই বিষয়ে নির্দেশনা না আসলে অর্থ আইন ২০১৬ তে ঙৎফরহধহপব ঘড়. ঢঢঢঠও ড়ভ ১৯৮৪ এর ঝবপঃরড়হ ৫৩ইই এর সংশোধনীতে জারীকৃত উৎসে কর হার ১ শতাংশ বলবৎ হয়ে যাবে, যা নীট শিল্পখাতের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করবে বলে আমরা মনে করি। উৎসে কর হার আগামী ২ বছরের জন্য ০ দশমিক ৫ শতাংশ ধার্য করে পুনরায় এই অর্থবছরের জন্য এস.আর.ও প্রকাশের এবং চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গ্রহণ করার দাবী জানান। অপরদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর্পোরেট করের হ্রাসকৃত হার ১৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। তবে এই হ্রাসকৃত করের হার এখনো পর্যন্ত আমাদের প্রস্তাবিত হারের চেয়ে অধিক এবং এই কারণে তা দেশের নীট খাতের স¤পূর্ণ ভ্যালূ চেইনের উপর ঋণাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে আমরা পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করছি। তাই নীট শিল্প খাতের জন্য কর্পোরেট কর হার ১০ শতাংশ এর অধিক না করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আবেদন রাখছি। সেই সাথে গ্রীন ইন্ডাষ্ট্রি তৈরী করতে একজন উদ্যোক্তাকে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করতে হয়। নীট শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গ্রীন ইন্ডাষ্ট্রির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে গ্রীন ইন্ডাষ্ট্রি করার পরিকল্পনায় নিয়োজিত কারখানা বা যেসব প্রতিষ্ঠান সবুজ শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে তাদের উপর হ্রাসকৃত করপোরেট কর হার প্রস্তাবিত ১৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী ৫ বছরের জন্য সিঙ্গেল ডিজিটে করার জন্য অনুরোধ করছি। ৬। অন্যদিকে, অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত যন্ত্রাদি এবং প্রি-ফেব্রিকেটেড্ বিল্ডিং এর আনুষাঙ্গিক সকল উপকরণ/ ম্যাটেরিয়ালসের উপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল রাখাও রপ্তানিমুখী নীট শিল্পের জন্য সুখকর হবে না। তাই অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত যন্ত্রাদি এবং প্রি-ফেব্রিকেটেড্ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালসের উপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক পুরোপুরি উঠিয়ে শুল্কমুক্ত, এ.আই.টি মুক্ত ও ভ্যাটমুক্ত আমদানী সুবিধা দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, সিসিসিআই এর সভাপতি মাহবুবুল আলম, ডিসিসিআই এর সভাপতি আবুল কাসেম খান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানীকারক সমিতি’র সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দন এবং সিএমসিসিআই এর সভাপতি খলিলুর রহমান সহ অন্যান্য ব্যবয়ায়ীক নেতৃবৃন্দ।