আজ : মঙ্গলবার: ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪ এপ্রিল ২০১৮ ইং | ৭ শাবান ১৪৩৯ হিজরী | সকাল ৯:০৮
BADAL
শিরোনাম
ডিএনডি’র জলাবদ্ধতায় পঞ্চাশ বিঘা জমির ধান পানির নিচে-❋-আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কেন্দ্রীয় হুশিয়ারি...-❋-হকার ইস্যুতে আবারও অশান্ত হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ !-❋-ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের বেহাল দশা রোদে ধুলা-বৃষ্টিতে কাদায় জনভোগান্তি-❋-লন্ডনের কার্টেজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুলের সাথে আলোচনা-❋-সকল মানুষেরই প্রাণের মায়া আছে :লিপি ওসমান-❋-নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনীতে ডিসি : ফাস্টফুড আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর-❋-সাড়ে চার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস !-❋-মাঠে নামার প্রস্তুতিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি-❋-ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অযোগ্য ॥ সীমাহীন ভোগান্তিতে নারায়ণগঞ্জবাসী

আমার সুখের সংসারে আগুন লেগেছে, তার পরেও আমি কীভাবে ভালো থাকব বলুন তো? :সেলিম খান

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

 

এতদিন সবাই অপেক্ষায়  ছিলেন , কখন সালমান খানের পরিবার থেকে একটা বিবৃতি আসবে বিরল প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় তার হাজতবাস নিয়ে। আদালতের রায় ঘোষণার পরে কেঁদে আকুল হয়েছেন তার দুই বোন! কিন্তু সালমানের বাবা, বলিউডের ডাকসাইটে চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের মুখ থেকে এ প্রসঙ্গে কেউ একটাও শব্দ শোনা যায়নি।  তবে এবার মুখ খুলেছেন সেলিম খান। এবং বরাবর যা হয়, এবারেও সেটাই হয়েছে। মানে, সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে বিস্ফোরক বিবৃতি জন্ম নিয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। এর আগেও যখন যোধপুরের এক গ্যাংস্টার সালমানকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল, তখনও বলেছিলেন সেলিম- বলিউডেও অনেকেই সালমানকে খুন করতে চায় ! অবশ্য এবারে অন্যদের নিয়ে কিছু বলেননি সেলিম। বলেছেন তার পারিবারিক দুর্ভাগ্যের কথাই! সেটাও অবশ্য নিজে থেকে নয়! সাংবাদিকরা যখন সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে তাকে বিরক্ত করেছেন, তখন আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি তিনি। যদিও সাংবাদিকরা স্রেফ জিজ্ঞাসা করেছিলেন- ভালো আছেন তো?  _আপনি জানতে চাইছেন, আমি ভালো আছি কি না? আরে, আমার সুখের সংসারে আগুন লেগেছে! তার পরেও আমি কীভাবে ভালো থাকব বলুন তো? ঝাঁঝিয়ে উঠেছেন সেলিম খান!

পরে অবশ্য এটাও স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি যে আসলে তারা সবাই সালমানকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। তাই দুর্ব্যবহারের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। কিন্তু তার নিজেকে সংযত করতে না পারাই বলে দিচ্ছে, খানদান ভালো নেই!

এক ছবিতেই ৮৪ হাজার কোটি টাকা আয় স্পিলবার্গের 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

স্টিভেন অ্যালান স্পিলবার্গ। তিনি একজন মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক। ড্রিম ওয়ার্কস স্টুডিও’র সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে আধুনিক হলিউড যুগের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এ পর্যন্ত তিন তিনবার অস্কার পুরস্কার জয় করেছেন স্পিলবার্গ। তবে এবার নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছেন। তিনি পৃথিবীর প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র পরিচালক, যাঁর ছবি বিশ্বব্যাপী ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে; যা টাকার অঙ্কে প্রায় চুরাশি হাজার কোটির সমান। এর আগে কোনো পরিচালক এত বড় অঙ্কের মাইলফলক ছুঁতে পারেননি।  স্টিভেন তাঁর সর্বশেষ ছবি ‘রেডি প্লেয়ার ওয়ান’-এর মাধ্যমে নতুন এই ইতিহাস তৈরি করলেন। আয়ের দিক থেকে ৭১ বছর বয়সী এই পরিচালকের পরেই আছেন ‘দ্য লর্ড অব রিংস’ ছবির নির্মাতা পিটার জ্যাকসন ও ‘ট্রান্সফরমার’ ছবির পরিচালক মাইকেল বে। স্পিলবার্গ এখন হলিউডের বিখ্যাত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ইন্ডিয়ানা জোনস’-এর পঞ্চম কিস্তি নিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া কয়েকটি বড় প্রকল্প রয়েছে তাঁর হাতে। গত মার্চ মাসে মুক্তি পাওয়া ‘রেডি প্লেয়ার ওয়ান’ ছবির পরিচালক ও প্রযোজক দুই স্টিভেন স্পিলবার্গ। টাই শেরিডান, অলিভিয়া কোকি, বেন মেন্ডেলসন, সাইমন পেগ, টি জে মিলারসহ অনেকে এখানে অভিনয় করেছেন। অ্যাডভেঞ্চারধর্মী এই সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্রটি আরনেস্ট ক্লাইনের একই নামের একটি উপন্যাস থেকে তৈরি।

 

Source :বিডিপ্রতিদিন

অনন্ত জলিল তার কথা রাখলেন…

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

 

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের ছোট দুই ভাইয়ের দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে তার কথা রাখলেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল।তাদের সব খরচ নিতে চাওয়ার দুদিনের মাথায় তাদের থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

জানা গেছে, সাভারের হেমায়েতপুরে তাদের থাকার জন্য বাসা ঠিক করা হয়েছে। শিগগিরই স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তাদের ভর্তি করানো হবে।ঢাকার কারওয়ান বাজারে দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন চিকিৎসাধীন সোমবার মধ্যরাতে মারা যান।  রাজীবই তার ছোট দুই ভাইয়ের দেখভাল করতেন বলে গণমাধ্যমের খবর জানার পর মঙ্গলবার ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে অনন্ত জলিল লেখেন- বাবা-মা হারা এই সন্তান তার ছোট দুই ভাইকে পিতামাতার স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছিল। কিন্তু রাজীবের অকাল বিদায়ে তার দুই ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই আমার জন্মদিনে আমি চাইছি যে পরিবারহারা এ দুই সন্তানের পড়ালেখার দায়িত্ব নিতে। ঘোষণা দেয়ার দুদিনের মধ্যেই দুই ভাইয়ের জন্য সব বন্দোবস্তই ইতিমধ্যে করে ফেলেছেন বলে জানান অনন্ত জলিল।পেশাগত জীবনে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত তিনটি এতিমখানা নির্মাণ করেছেন। মিরপুর ১০-এ বাইতুল আমান হাউজিং ও সাভার মধুমতি মডেল টাউনে আছে এতিমখানাগুলো। বছরখানেক ধরেই ধর্মকর্মে মনোযোগী হয়েছেন এ অভিনেতা। ইসলামের দাওয়াত নিয়ে ঘুরছেন দেশ-বিদেশে।

 

 

শাকিব-অপুর বিচ্ছেদের নেপথ্যে..

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শাকিব খানের অমতে বাচ্চা নেওয়ায় আজ তাদের বিচ্ছেদ হতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি একথা জানান। অপু বিশ্বাস বলেন, ‘কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় আবরাম খান জয়ের। অপু বলেন, শাকিব চায়নি আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসুক। এজন্য অ্যাবরশনদ করাতে প্রথমে ব্যাংকক পরে কলকাতার একটি ক্লিনিকে শাকিব তার চাচাতো ভাই মনিরকে দিয়ে আমাকে পাঠায়। চিকিৎসক সাফ জানিয়ে দেন অ্যাবরশনদ করার স্টেজ আর নেই। তাই বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আর এই সিদ্ধান্তই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। তিনি আরও বলেন, শাকিব জানিয়ে দিল সন্তানের জন্ম হলে সে আমাকে ডিভোর্স দেবে। যখন কলকাতার ক্লিনিকে জয়ের জন্ম হচ্ছিল তখন শাকিব কলকাতায় ‘শিকারি’ ছবির শুটিং করছিল। বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও একটিবারের জন্যও সে আমাকে বা বাচ্চাকে দেখতে আসেনি।’ প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদের তৃতীয় ও শেষ শুনানি আজ। যথারীতি ডিভোসের্র সিদ্ধান্তে অটল শাকিব আজও আসবেন না শুনানিতে। সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই দেখে অপুও বিচ্ছেদ মেনে নিয়েছেন। গত বছরের ২২ নভেম্বর অপুকে বিবাহ বিচ্ছেদের চিঠি পাঠান শাকিব। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তিন মাস পর কার্যকর হবে বিবাহ বিচ্ছেদ। সেই হিসাবে ২২ ফেব্রুয়ারি শাকিবের বিবাহ বিচ্ছেদের চিঠি পাঠানোর তিন মাস পূর্ণ হয়। তবে ওই সময় শাকিব-অপুর বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়নি বলে জানান ঢাকা সিটি করপোরেশনের (অঞ্চল-৩) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন। তিনি বলেন, আমরা সিটি করপোরেশন তাদের তিন মাসে তিনবার ডাকব, সেই তৃতীয়বার বিষয়টির ফয়সালা হবে। তিনি আরও জানান, আজ ১২ মার্চ তৃতীয় ও শেষবারের জন্য তাদের ডাকা হয়েছে। এদিন যদি তারা না উপস্থিত হন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যাবে। শাকিব সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আজই কার্যকর হতে যাচ্ছে এই তারকা দম্পতির বিচ্ছেদ।

ডিজিটাল মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংসদ হোসনে আরা বাবলী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সেবা পাবে

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. হোসনে আরা বেগম বাবলী বলেছেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন ডিজিটাল যাত্রার ঘোষণা দিলেন, সেই খবরে অনেকেই হেসেছিল। এখন সেটা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। অনেকেই আছে ডিজিটাল উন্নয়ণ উপলব্ধি করেও তারা এর বিরোধ মনোভাব পোষণ করছে। ডিজিটাল সেবা কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির জন্য নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই এই সেবা পাবে। ডিজিটাল উদ্বোধনী মেলা ২০১৮ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল সোমবার দুপুরে সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপেক্সে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই ডিজিটাল মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় এবছর মোট ৭১টি স্টল রয়েছে। বাবলী আরো বলেন, ডিজিটালাইজেশনের সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। এর অপব্যবহার করে কোন সন্তান যাতে বিপথগামী না হয়, সেদিকে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মনোভাবের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের এসকল সেবা গ্রহণ করতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীমউদ্দিন হায়দার বলেন, সরকারের স্বপ্ন ছিল সরকারি সেবাগুলো জনগণের দারগোড়ায় পৌছে দেয়া। সরকার সেটা করতে সক্ষম হয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই এই ডিজিটাল মেলা। এই মেলার মাধ্যমে ঘরে বসেই মানুষ যে সকল ধরণের সেবা গ্রহণ করতে পারছে সেই বিষয়ে অবহিত করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার যে ভিশন ঘোষণা করেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছে যাবো ইনশাহ আল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা সিভিল সার্জন অফিসার ডা. মোঃ এহসানুল হক বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নমূলক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন বুনেছিল তা এখন অনেকটাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সেই দিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন উন্নত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশেরও নাম থাকবে। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেন, আমরা প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এমন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে করে বর্তমান প্রজন্ম যেভাবে গুণীজনদের স্মরণ করছে, আমাদের কাজের জন্য আগামী প্রজন্ম ঠিক একই ভাবে আমাদের কথা স্মরণ করবে। আমাদের কাজ হচ্ছে সরকার এবং জনগণের মধ্যে একটি উন্নয়ণের সেতুবন্ধন তৈরি করা। এই ডিজিটাল মেলা তারই একটি অংশ। তিনি আরো বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র একটি দেশে বর্তমানে ১৬ কোটি মানুষের যেই বসবাস এটিই আমাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। উন্নত দেশগুলোর মতো আমরাও যদি দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে পারি, তাহলে খুব শিঘ্রই আমরা এই দেশকে উন্নয়ণের শিখরে নিয়ে সারা বিশ্বে মাথা তুলে দাড়াতে পারবো। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা মেলার প্রতিটি স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।

 

 

বলিউড ও টালিউডে শোক

শ্রীদেবী মারা যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই অমিতাভ বচ্চন একটি টুইট করেছিলেন। যেখানে তিনি লেখেন, ‘জানি না কেন এত অসহায় লাগছে।’ এরপর আসে শ্রীদেবীর মৃত্যুর খবর। খারাপ কিছু একটা যে ঘটতে চলেছে, তা কি আগে থেকেই টের পেয়েছিলেন বিগবি? আশঙ্কা হয়তো করেছিলেন। শ্রীদেবীর সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন অমিতাভ।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেছেন, ‘আমার বলার কোনো ভাষা নেই। শ্রীদেবীকে যারা ভালোবাসতেন, তাদের সবার জন্য সমবেদনা। একটা কাল দিন।’

প্রীতি জিনতা টুইট করেছেন, ‘আমার অল টাইম ফেবারিট শ্রীদেবী নেই শুনে আমি শকড। শ্রীদেবীর আত্মার শান্তি কামনা করি। তার পরিবার শক্তি পাক।’

বোমান ইরানি বলেছেন, ‘ঘুম ভাঙল এই খারাপ খবরটা শুনে। আমাদের শ্রীদেবীজি আর নেই। বনি এবং শ্রীদেবীর পরিবারের প্রতি রইল সমবেদনা।’

জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ বলেছেন, ‘শ্রীদেবী। আমার একজন আইকনকে এত তাড়াতাড়ি হারালাম।’ সিদ্ধার্থ মালহোত্রার কথায়, ‘শ্রীদেবী ম্যাম নেই শুনে ভেঙে পড়েছি।’

সংগীতশিল্পী আদনান সামী বলেছেন, ‘শনিবার গভীর রাতে খবরটা পাওয়ার পর কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। অসাধারণ প্রতিভা। রেস্ট ইন পিস।’
সুস্মিতা সেন বলেন, ‘শুনলাম শ্রীদেবী ম্যাম চলে গিয়েছেন। কান্না থামাতে পারছি না।’

রবিনা ট্যান্ডন বলেছেন, ‘একটা খারাপ খবরে ঘুম ভাঙল। কেন এমন হলো! এত তাড়াতাড়ি চলে গেল শ্রী!’

ক্যাটরিনা কাইফ বলেছেন, ‘আমার প্রিয় অভিনেত্রী। কিংবদন্তি। তার এভাবে চলে যাওয়াটা। তার পরিবারের প্রতি রইল সমবেদনা।’

ঋষি কাপুর বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠেই এই খবরটা শুনলাম। বনি ও তার দুই মেয়ের জন্য রইল আমার সমবেদনা।’

অন্নু কাপুর বলেছেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম গুজব। পরে দেখলাম সত্যি। যেখানেই থাকুন, শান্তিতে থাকুন। ওনার পরিবারের প্রতি রইল সমবেদনা।’

হেমা মালিনীর কথায়, ‘খবরটা শুনে চমকে উঠলাম। এরকম যে হবে তা ভাবতেও পারিনি। দুর্দান্ত অভিনেত্রী ছিলেন।’

পরিচালক মধুর ভান্ডারকর বলেছেন, ‘বিশ্বাস হচ্ছে না যে শ্রীদেবী আর নেই। ওনার মৃত্যুতে গোটা দেশ শোকস্তব্ধ।’

বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিৎ বলেছেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না। দুর্দান্ত অভিনেত্রী ছিলেন। ভালো মানুষও।’

কলকাতার অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র যেন মানতেই রাজি নন যে শ্রীদেবী আর নেই। তিনি বলছেন, ‘দারুণ একজন অভিনেত্রী ছিলেন। আসলে ছিলেন বলতে ইচ্ছা করছে না। খুব ভালোবাসি তাকে। আমি বিশ্বাসই করব না যে, তিনি নেই। মানবই না শ্রীদেবী প্রয়াত। আমাদের কাছে উনি যেমনটি ছিলেন, তেমনই থাকবেন।’

শ্রীদেবী প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসছিল অভিনেত্রী চৈতি ঘোষালের। তিনি বললেন, ‘মনে হচ্ছে পরিবারের কাউকে হারালাম। ছোটবেলার একটা অংশ হারিয়ে গেল আজ। ছোটবেলায় শ্রীদেবীর ভিডিও ক্যাসেট কিনে এনে তার ছবি দেখতাম। তার মতো পোশাক পরে সাজার চেষ্টা করতাম।’

শ্রীদেবীর অভিনয়ের অনুরাগী পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। বলছেন, ‘একজন বড় মাপের তারকা হওয়ার পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত দক্ষ অভিনেত্রী। আর সেটাই ছিল তার হাতিয়ার। মর্মান্তিক, অপ্রত্যাশিত একটা ঘটনা ঘটে গেল। তার প্রয়াণে সিনেমা জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।’

হেরিটেজ স্কুলে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে হেরিটেজ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্খিদের উপস্থিতিতে দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। হেরিটেজ স্কুলের শহিদ বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় পরে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। হেরিটেজ স্কুলের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার স্পন্সরছিল রুপায়ণ টাউন। প্রতিযোগীতার ৯টি বিভাগের ২৯ টি পুরুস্কার প্রদান করেন তারা। মহান শহিদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হেরিটেজ স্কুলের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, বিশিষ্ট শিল্পপতি গোলাম রহমান মামুন, বেসিক ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক নাজমুল ইসলাম, মাসরেক ব্যংক এর সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ আজহারুল হক নাইম ও হেরিটেজ স্কুলের সি.ই.ও মোহাম্মদ হাসান খান। রুপায়ন টাউন, ভুইগরের উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানিয়ে মোহাম্মদ হাসান খান বলেন হেরিটেজ স্কুল এবং রুপায়ন টাউন বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান সমূহে শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেশপ্রেম তৈরীতে এক সাথে ব্যাপক কাজ করে যাবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্খিদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, হেরিটেজ স্কুল আগামী মার্চ ২০১৮ হতে বাংলাদেশের বস্তিবাসী শিশুদের জন্য শুরু করতে যাচ্ছে সান্ধ্যকালীন স্কুল। পৃথক শ্রেণীকক্ষ, অভিজ্ঞ শিক্ষক ইতিমধ্যে সান্ধ্যকালীন স্কুলের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে হেরিটেজ স্কুলের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মোহাম্মদ সেলিম মিয়া তার বক্তব্যে আরও বলেন, সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য হেরিটেজ স্কুল তার ইংলিশ মিডিয়াম এবং ইংলিশ ভার্সনের অভিভাবকদের নিয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

নারায়ণগঞ্জে ভালবাসা দিবস পালন

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সারাদেশের মত নারায়ণগঞ্জেও পালিত হয়েছে! ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালবাসা দিবস। ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিনে ভালবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালবাসাও ছিল পবিত্র। ফুলে রাঙা আর বাসন্তী মোহে মুগ্ধ। এজন্যই বোধ হয় কবিতায় বলা হয়, ‘হৃদয়ে লিখেছি তোমায়; বসন্তে তুমি আরও স্নিগ্ধ, আহা আরও উচ্ছল তুমি-ভালবাসা।” এ দিনটিতে তরুন তরুণী ও নবদম্পত্তিদের ছিল মিলন মেলা। প্রাণের উচ্ছাসে বাধাহীনভাবে তরুন তরুণীদের ভালবাসা দিবস পালন করতে দেখা গেছে। হরেক রকম ভালবাসা থাকলেও নারায়ণগঞ্জের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মূলত দেখা গেছে তরুন তরুণীদের। সব বয়সীরাও এ দিন বের হয়েছিল নানা আয়োজনে। ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সবুজ লনে খোলা আকাশের নিচে মনোরম সাজে সজ্জিত করা হয়। ভালবাসা দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছরই নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে ঘটাকরে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম ছিলনা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মনোরস সাজে সজ্জিত করে ভালবাসা দিবস পালিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে। সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প যাদুঘরে ছিল লোকে লোকারণ্য। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ অ্যাডভাঞ্চার ল্যান্ড পার্ক, নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর চৌরাঙ্গি ফ্যান্টাসী পার্ক, শহরের ৫নং ঘাটে বিআইডিব্লিউটিএর নির্মিত পার্ক, শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়, বন্দর সাবদি বিনোদন কেন্দ্র, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনার, রূপগঞ্জের জিন্দাপার্ক, রাসেল পার্ক সহ বিভিন্ন ছোট ছোট বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভালবাসা দিবসটি পালনের বিপুল সংখ্যক লোকজনের সমাগম ঘটে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুলের দোকানগুলোতে ছিল ভীর। এদিন অলিগলিতেও ছিল ভ্রাম্যমান ফুলের দোকান। একেকটা গোলাপ ফুলের দাম ২০ টাকা থেকে শুরু করে দু’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে বসন্তের আগুনরাঙা শিমুল-পলাশ ভালবাসাকে সত্যিই রাঙিয়ে দিয়ে গেছে। যুগলদের মনের উচ্ছ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়ে গেছে হাজারো গুণ। সুললিত করেছে প্রেমের বাণী বন্দনাগুলোকে। গাছ থেকে ফুল ঝরার মতো যুগলদের মনের কোণে ঝরলো কতকথা। কত গান। প্রেমের কত কবিতা। বললো সবাই, ভালবাসা ক্ষণিকের নয়। ভালবাসা চিরন্তন, বিশ্বাসে। ভালবাসি তোমায় আমি। ভালবাসা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার নয়-শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই নয়, তা প্রসারিত হয় বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন সহ সবার মাঝেও। এই ভালবাসা বয়সের ফ্রেমে বাঁধা নয়। কিংবা শুধু তরুণ মনেই এর সীমাবদ্ধতা নয়। ভালবাসা দিনে সব বয়সের, সব মানুষের মনে নতুন দোলা জাগিয়ে গেল।

সেরাকন্ঠের ফাইনালে না.গঞ্জের তিন্নি

সংগীত প্রতিভা অন্বেষণে দেশের সবচেয়ে বড় টিভি রিয়েলিটি শো ফিজআপ-চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ২০১৭ এর ফাইনালে পৌঁছেছে নারায়ণগঞ্জের মেয়ে কানিজ খাদিজা তিন্নি।

ফাইনালে যাওয়া প্রসঙ্গে তিন্নি তার ফেইজবুক পোষ্টে লিখেন, Yess…. going to Bangkok.. হ্যা,, পৌছে গেলাম সেরাকন্ঠ ২০১৭ এর ফাইনাল এ। সবাইকে আমার প্রানঢালা কৃতজ্ঞতা…

আসলে কি লিখবো বুঝতে পারছি না। তাই এত টুকুই আজকে.. সবাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭.৫০ এ চ্যানেল আই এ চোখ রাখবেন।

কানিজ খাদিজা তিন্নির জন্ম ২০০২ সালের ২৭ জুলাই। পিতা কাউসার ইমাম, পেশায় একজন ব্যবসায়ী। মা রুনা লায়লা কেয়া, গৃহিণী। সপরিবারে থাকেন নারায়ণগঞ্জের জামতলায়। গ্রামের বাড়ি রুপগঞ্জের গোয়ালপাড়ায়। ছেলেবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে সংগীতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। মূলত বাবার অনুপ্রেরনায় সংগীত জগতে তিন্নির পথচলা।

সংগীতে হাতেখড়ি নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমীর প্রয়াত সংগীত শিক্ষিকা মায়া ঘোষের নিকট। তারপর একে একে গান শিখেছেন ফজলুল হক খোকন, জিএম রহমান রনি সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রেজওয়ান আলী লাভলুদর কাছ থেকে।

তিন্নি মূলত নজরুল সংগীত শিল্পী। পড়াশুনায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। তিন্নি বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর পদক ২০১৫ এবং জাতীয় শিশু একাডেমির পদক, জাতীয় শিশু-পদক ২০১৬ ছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন।

ধনী মানুষদের দেশ লুক্সেমবার্গ

ইউরোপের ছোট্ট একটি দেশ। নাম লুক্সেমবুর্গ। পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত দেশটির আয়তন মাত্র ১ হাজার বর্গমাইল। আর দেশটিতে বাস করে ৫ লাখেরও কম মানুষ। এ দেশের মানুষের মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। ২০০৬ সালের জাতিসঙ্ঘের রিপোর্টে তাদের আয়ের এ পরিসংখ্যান দেয়া হয়।

যেখানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় মাত্র ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। যাদের বার্ষিক আয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ কেমন হতে পারে তার আন্দাজ করুন। আর তাদের পারিবারিক সম্পত্তির পরিমাণ নিশ্চয়ই আরো অনেক বেশি। তা অবশ্যই আমাদের দেশের কোটিপতিদের চেয়ে কম নয়। বাংলাদেশে যারা কোটিপতি তাদের আমরা ধনী বলে থাকি। সে অর্থে লুক্সেমবুর্গের প্রত্যেকটি মানুষই ধনী। অত্যধিক উন্নত সত্ত্বেও তাদের অথনৈতিক প্রবৃদ্ধি সে হারে কমছে না।

জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেমন এখন দুই অঙ্কের কোটায় ওঠা সম্ভব নয়, সে ক্ষেত্রে এ দেশটি ব্যতিক্রম। তাহলে সহজে যেটা অনুমেয় তারা আকাশছোঁয়া উন্নতি লাভ করবে। যে ধরনের উন্নতি আমরা কল্পনাও করতে পারি না। লুক্সেমবুর্গে মুদ্রাস্ফীতি নেই। বেকারত্ব নেই বললেই চলে। বেকার থাকলেও তারা রয়েছে রাজার হালে। সরকারি নানা সামাজিক সেবা তাদের আরাম-আয়েশকে নিশ্চিত করেছে। উপোস থাকার কথা চিন্তাই করা যায় না। দেশটির অর্থনীতির মূল ছিল স্টিল ইন্ডাস্ট্রি।

গত শতাব্দির ষাটের দশকে এর ব্যাপক প্রসার ঘটে। ক্রমান্বয়ে রসায়ন, রাবার এবং অন্য কয়েকটি শিল্পের বিকাশ স্টিল শিল্পের আয়কে ম্লান করে দেয়। বিগত শতাব্দীর শেষ দু’টি দশকে দেশটির সেবা খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তাদের দারুণ সম্পর্ক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিবেশী দুটো দেশ বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডের সাথে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক সম্পর্ক তাদের উন্নতির অন্যতম চূড়ায় নিয়ে যায়। তার ওপর দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে বাণিজ্য সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে। উন্নত জীবনমানের বিচারে তারা বিশ্বের চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। টেলিকমিউনিকেশন সুবিধা এতটা উন্নত যা চিন্তাও করা যায় না। ফিক্সড ফোনের সংখ্যা এবং জনসংখ্যা প্রায় সমান। তার ওপর সেলফোন তো রয়েছেই। বলতে গেলে সবার হাতেই রয়েছে একটি করে সেলফোন।

[এক নজরে লুক্সেমবুর্গ

পুরো নাম : গ্রান্ড ডাচি অব লুক্সেমবুর্গ
জনসংখ্যা : ৪ লাখ ৬৫ হাজার (জাতিসঙ্ঘ ২০০৫)
রাজধানী : লুক্সেমবুর্গ
আয়তন : ৯৯৯ বর্গমাইল
প্রধান ভাষা : ফ্রেন্স, জার্মান ও লুক্সেমবুর্গিস
প্রধান ধর্ম : খ্রিস্টান
গড় আয়ু : ৭৫ বছর (পুরুষ), ৮১ বছর (মহিলা)
মুদ্রা : ইউরো
প্রধান রফতানি দ্রব্য : স্টিলের তৈরি সামগ্রী, রাসায়নিক ও রাবার সামগ্রী
মাথাপিছু আয় : ৬৫ হাজার ৬৩০ মার্কিন ডলার]
দেশটির ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। লুউচিলিনবার্গ নামক একটি গির্জার অস্তিত্ব ছিল ওই অঞ্চলে। গির্জাটিকে কেন্দ্র করে এলাকাটির সম্প্রসারণ ঘটে। গির্জার নাম অনুসারে এলাকাটির নামকরণ হয়। দ্রুত সেখানে একটি শহুরে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। ভৌগোলিকভাবে এলাকাটি কৌশলগত গুরুত্বের দাবিদার। নবগঠিত এ সভ্য সমাজে রাজাকেন্দ্রিক একটি শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়। পুরুষ উত্তরাধিকার না থাকায় ১৪৩৭ সালে শাসক পরিবর্তন হয়। বুরবন্স, হাব্সবার্গ, হোহেনজোলান্সদের হাত ঘুরে এটি যায় ফ্রান্সের হাতে। ১৮১৫ সালে নেপোলিয়ানের পতন হলে লুক্সেমবুর্গকে নিয়ে প্র“শিয়া ও নেদারল্যান্ডের মধ্যে বিরোধ বাধে। পরে একটি ইউরোপীয় আপস-মীমাংসায় দেশটিকে নেদারল্যান্ডের সাথে জুড়ে দেয়া হয়। পরে এটি জার্মান কনফেডারেশনেরও অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৮৩০ থেকে ১৮৩৯ সালে বেলজিয়ামের বিপ্লবের সময় দেশটি বিরাট অংশ হারায়। লন্ডনের সাথে এক চুক্তির পর দেশটি নিরপেতার নীতি গ্রহণ করে। ১৮৯০ সাল পর্যন্ত বেলজিয়াম দেশটির ওপর কর্তৃত্ব করে। প্রথম ও দ্বিতীয় দু’টি বিশ্বযুদ্ধের শুরুতেই লুক্সেমবুর্গকে দখল করে জার্মানি। কিন্তু জার্মানরা তাদের রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের ওপর হাত দেয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশটি তারা প্রথম নিরপেতার নীতি পরিত্যাগ করে। এ সময় জার্মানির পে যুদ্ধে অংশ নেয় তারা।

দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি সংস্থা জাতিসঙ্ঘ ও ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ইউরোপীয় ইকোনমিক কমিউনিটিরও উদ্যোক্তা ছ’টি দেশের একটি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসব বড় বড় উদ্যোগ এগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়  এ ক্ষুদ্র দেশটি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ন্যাটো জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথেও শুরু থেকে বিভিন্ন জোট গঠন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সেগুলোকে কাজে লাগায়।
লুক্সেমবুর্গে রাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র প্রচলিত। রাজা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পুরুষ প্রতিনিধিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। রাজা এবং প্রধানমন্ত্রী মিলে রাষ্ট্রের নির্বাহী মতা প্রয়োগ করেন। গ্রান্ড ডিউক নামে পরিচিত রাজার সংসদ ভেঙে দেয়ার মতা রয়েছে। এক কবিশিষ্ট সংসদের ৬০টি আসন। সরকার পরিচালনায় দ্বিতীয় মতাধর হচ্ছেন রাজা নিয়োগকৃত ২১ সদস্যবিশিষ্ট কাউন্সিল অব স্টেট। দেশটি তিনটি জেলায় বিভক্ত। এগুলো আবার ১২ ক্যান্টন এবং ১১৬টি কমিউনে বিভক্ত। হেড অব স্টেট গ্রান্ড ডিউক হেনরি।
উন্নত নাগরিক সুবিধার কারণে ইউরোপীয়দের ঢল নামছে দেশটিতে। সুবিধাবঞ্চিতরা অভিবাসী হতে চায় লুক্সেমবুর্গে। মূলত দেশটিতে ফ্রেন্স ও জার্মান বংশোদ্ভূতদের বসতি। তবে বিংশ শতকে বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগাল থেকে উন্নত জীবনের আশায় অনেকে এসে বসতি স্থাপন করে। যুগোস্লাভ যুদ্ধের সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত বলকান অঞ্চল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, মন্টিনিগ্রো ও সার্বিয়া থেকেও অনেকে দেশটিতে প্রবেশ করে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে সাম্প্রতিক প্রতি বছরে গড়ে ১০ হাজার মানুষ লুক্সেমবুর্গে অভিবাসী হয়। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৭ শতাংশই অভিবাসী।
ুদ্র দেশের সেনাবাহিনীর আকারও ছোট। একজন কর্নেলের নেতৃত্বে দেশটিতে ৪৫০ জন সেনাসদস্য রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর আকার ছোট তাই বলে তাদের কার্যক্রম সীমিত তা বলার জো নেই। বাজেট দেখলেই তা টের পাওয়া যায়। দেশটির সামরিক খাতে বার্ষিক ব্যয় ১২ কোটি ডলার। জাতিসঙ্ঘ ও ন্যাটোর অধীনে লুক্সেমবুর্গের সেনাবাহিনী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে যথারীতি অংশ নেয়। যুগোস্লাভিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানসহ যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রায় প্রত্যেকটি দেশে শান্তি মিশনে তারা অংশ নিয়েছে।
ছোট দেশের ছোট জনসংখ্যা কিন্তু ভাষার বৈচিত্র্য রয়েছে বেশ। তিনটি প্রধান ভাষায় সমানতালে কথা বলে মানুষ। এগুলো হলো জার্মান, ফ্রেন্স আর লুক্সেমবুর্গিস। তিনটি ভাষা দেশটির অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। এ ছাড়াও বেশ কিছু স্থানীয় ও আঞ্চলিক ভাষা সক্রিয় রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্কুলে ইংরেজি ভাষা শিা বাধ্যতামূলক।
লুক্সেমবুর্গ একটি সেকুলার দেশ। ধর্মবিশ্বাসীদের ব্যাপারে কোনো পরিসংখ্যানের তত্ত্ব-তালাশ দেশটিতে নিষিদ্ধ। ধারণা মতে, দেশটির ৮৭ শতাংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের। বাকিদের মধ্যে খ্রিস্টানদের অন্যান্য সম্প্রদায়, ইহুদি এবং মুসলিম রয়েছে।
লুক্সেমবুর্গের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ। সরকার ইতিহাস-ঐতিহ্য আর উন্নত সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে নানা ধরনের পদপে নিয়েছে। এর মধ্যে জাদুঘরগুলো অন্যতম। এগুলো হলো ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব হিস্ট্রি অ্যান্ড আর্ট, হিস্ট্রি মিউজিয়াম অব দ্য সিটি অব লুক্সেমবুর্গ, গ্রান্ড ডিউক জ্যঁ মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট অন্যতম।

এ ছাড়া ইউরোপীয় সামরিক শক্তির স্মারক ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব মিলিটারি হিস্ট্রি। ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে লুক্সেমবুর্গ শহরটিই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। শহরটি ২০০৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান ক্যাপিটাল কালচারের খেতাব পেয়েছে। শিল্প এবং শিল্পীর দারুণ কদর রয়েছে লুক্সেমবুর্গে।
দেশটির গণমাধ্যম অভাবনীয় উন্নতিসাধন করেছে। তাদের রেডিও ও টেলিভিশন সেবা পুরো ইউরোপ ভোগ করে। দেশটি ইউরোপের সবচেয়ে বৃহৎ স্যাটেলাইট অপারেটর। সংবিধান জনগণের মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে। সংবাদপত্রেরও ব্যাপক প্রচলন রয়েছে সেখানে। টেলিভিশন ও রেডিও দেশটির বিনোদনের প্রধান মাধ্যম কিন্তু জনগণের যাবতীয় মতামতের প্রতিফলন ঘটায় সংবাদপত্র। সরকার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।