আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৫৫
fevro
শিরোনাম

হাকালুকি হাওরে আসতে শুরু করেছে শীতের অতিথি পাখি

দীর্ঘ ৯ মাস বন্যার পর এবার শীতও বিলম্বিত। শীতের আগমন বিলম্বে হলেও এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে আসতে শুরু করেছে শীতের অতিথি পাখি। সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের পাদদেশ লাদাক থেকে এরা আসে। দেশের বৃহত্তম এই অতিথি পাখির সমাগমস্থলে। অতিথি পাখির কলকাকলিতে পাল্টে যাচ্ছে ছোট বড় ২৩৮টি বিল ও ১০টি নদী নিয়ে গঠিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হাকালুকি হাওরের চেহারা। এ দিকে হাওরে অতিথি পাখি আসার সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়ে উঠেছে হাওর পাড়ের সংঘবদ্ধ অতিথি পাখি শিকারিচক্র। তারা হাওরে পেতেছে বিষটোপের ফাঁদ। এসব ফাঁদে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাঁস মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

হাওর পাড়ের বাসিন্দারা জানান, ইতোমধ্যে বড় বড় দলে হাওরের চকিয়া, হাওরখাল পিংলা, জল্লা, কালাপানি, বাইয়াগজুয়া, মালাম, নাগুয়া লরিবাই, কৈয়ারকোনা ও ফুটবিলে বিভিন্ন জাত ও রঙের অতিথি পাখির দেখা পাওয়া যায়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বাতাসে শীতের ছোঁয়া লাগতেই শুরু হয়ে গেছে অতিথি পাখির আনাগোনা। প্রতিদিন এর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছর ৫০-৬০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে এই হাওরে। এর মধ্যে অনেক বিলুপ্ত প্রজাতির পাখিরও দেখা মেলে।

এক সময় এই হাওড় অতিথি পাখিদের নিরাপদ অভয়াশ্রম ছিল। কিন্তু গত ৩ বছর থেকে হাওড়টি অতিথি পাখির আর অভয়াশ্রম নেই বললেই চলে। মূলত পরিবেশ অধিদফতরের সিডব্লিউবিএম প্রকল্প চলাকালে হাওড়টি অতিথি পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত হয়। এরপর সিবিএ ইসিএ প্রকল্প চালু হলে পাখিদের অভয়াশ্রমগুলোতে মনিটরিং করা হতো। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে চলতি বছর অতিথি পাখির জন্য অরক্ষিত স্থান হয়ে পড়েছে হাকালুকি হাওড়। তবে স্থানীয় প্রশাসন হাওড়ে আসা অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিতকরণে অনেকটা উদাসীন। প্রতি বছর শীতে আসা এসব অতিথি পাখি নিধনে একদল সংঘবদ্ধ দল বিষটোপ নিয়ে প্রস্তুত থাকে। এবারো চক্রটি তাদের অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌ. মো. গোলাম রাব্বী জানান, হাকালুকি হাওরে এখনো বন্যার পানি রয়েছে। তারপরও চলতি মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন শুরু হয়েছে। শিকারী চক্রকে রোধ করাই এবার হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও হাওর উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।

থাইল্যান্ডের ২২তম জাতীয় উদ্যান

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এক বা একাধিক জাতীয় উদ্যান রয়েছে। থাইল্যান্ডে জাতীয় উদ্যানের সংখ্যা বিশেরও অধিক। কেননা থাইল্যান্ডের ২২তম জাতীয় উদ্যান হচ্ছে ‘খাওসক জাতীয় উদ্যান’। থাইল্যান্ডের ২২তম জাতীয় উদ্যান খাওসক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে। উদ্যানটি ৭৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। এ উদ্যানে রয়েছে রেইনফরেস্ট, জলপ্রপাত, চুনাপাথরের পাহাড় আর হ্রদ।

জাতীয় উদ্যান হিসেবে নতুন হলেও এলাকাটি কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে টিকে আছে এখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এখানে রয়েছে হাজার রকমের গাছ-গাছড়া আর পশু-পাখি।

শতফুট দৈর্ঘ্যরে সিংহশয্যা বুদ্ধ মূর্তি

ভ্রমণ প্রিয় মানুষ আমি। বয়স কুড়িতে পৌঁছার আগেই একাকী দেশের উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয়েছে আমার। সে সময় দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানো সত্যি কষ্টসাধ্য ছিল। ইচ্ছে করলে যেখানে সেখানে যাওয়া যেত না। তথাপিও যানবাহন এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে আমি দূর-দূরান্তে ছুটে গিয়েছি। কক্সবাজারও গিয়েছি; বয়স তখন সর্বোচ্চ কুড়ি। সে সময় রামুর নাম শুনলেও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। বার বার কক্সবাজার গেলেও রামু যাওয়া হয়নি; কারণ বহু। সম্প্রতি গিয়েছি, শুধুমাত্র ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তি দর্শনের উদ্দেশে।

কক্সবাজারের সন্নিকটে রামু উপজেলা। দূরত্ব খুব বেশি হলে ১৫ কিলোমিটার। সিএনজিযোগে গেলে তো কথাই নেই, মাত্র মিনিট ত্রিশের মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব। তাই করেছি। পুরো পরিবারসহ গিয়েছি। কক্সবাজার থেকে সিএনজিযোগে গিয়েছি রামুর উত্তর মিঠাছড়িতে। ভীষণ অভিভূত হয়েছি সেখানে পৌঁছতেই। টিলার ওপরে ‘বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র’ স্থাপিত হয়েছে। যার পাশেই ১০০ ফুট সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তি। দেখার মতোই বটে। পাশেই সবুজের সমাহার। বলা যায়, বন-পাহাড়-সমতলের মিলনমেলা যেন। নয়নাভিরাম রামু আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে মুহূর্তেই। চোখের সামনে ভেসে এসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্য।

প্রিয় পাঠক, দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে রামু অন্যতম। এখানে রয়েছে প্রায় ৩৫টি বৌদ্ধ মন্দির। যার অধিকাংশই কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তেমনি একটি বৌদ্ধ মন্দির হচ্ছে এটি। তবে রামুর পরিচিতি মূলত এ বৌদ্ধ মূর্তিকে ঘিরে। এখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। মাত্র দশ টাকার টিকিটের বিনিময়ে মন্দির ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। ভেতরে হরেকরকম পুরাকীর্তিতে ঠাঁসা। বাইরে নীরব, নিস্তব্ধতার মধ্যেও রয়েছে চাপা কোলাহল। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নেই, নেই ধান্দাবাজদের উপস্থিতিও। ফলে দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন না।

কথিত আছে, ১৪৬ খ্রিস্টাব্দে নাকি ওই বৌদ্ধ মন্দিরটি স্থাপিত হয়। পর্যায়ক্রমে সংস্কার হয়ে এটি হালের নয়নাভিরাম রূপ ফিরে পায়। আকর্ষণীয় স্পটের কারণে পরিণত হয় পর্যটকদের মিলনমেলায়। এখানকার মূল আকর্ষণই হচ্ছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সিংহশয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তিটি। ব্রোঞ্জের তৈরি, সোনা রঙে মোড়ানো। তার ওপর সবুজের সমাহার মূর্তির জৌলুস বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটাই। জানা যায়, এত দীর্ঘ বৌদ্ধ মূর্তি দক্ষিণ এশিয়াতে আর নাকি দ্বিতীয়টি নেই। বিষয়টা ভাবতে বেশ লেগেছে। আপনার কাছেও লাগবে হলফ করে বলতে পারি।

বিলুপ্তপ্রায় গাছ দেখবেন যে বাগানে

যুক্তরাজ্যের কেও অঞ্চলের বিখ্যাত বাগান হচ্ছে ‘কেও রয়্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেন’। বাগানটি অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যে অপরূপ সৌন্দর্যে রূপ নেয়। ঐতিহাসিক বাগানটি শুধু বিলাসের জন্যই নয়, এটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ডিজাইন
কেও রয়্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেনটির ডিজাইন করেছেন বিখ্যাত কয়েকজন প্রকৌশলী। তারা হলেন- কেন্ট, ব্রিজম্যান, চেম্বার, ব্রাউন এবং নেসফিল্ড। এই পাঁচ জন মিলে এ বাগানের ডিজাইন করেছিলেন।

বৈশিষ্ট্য
এ বাগানে বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় গাছের দেখা পাওয়া যায়। কাঁচঘরের ভেতরেও রয়েছে অনেক প্রজাতির উদ্ভিদ। তাই তো ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটেও স্থান করে নিয়েছে বাগানটি।

আরও পড়ুন- থাইল্যান্ডের থিম পার্ক নং নুছ গার্ডেন
মৌচাক
এ বাগানে রয়েছে মৌচাক, যেখানে মৌমাছির বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত জীবন যাপনকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি ১৭ মিটার লম্বা। বৃটিশ প্রকৌশলীগণ এটি বিস্তীর্ণ তৃণভূমির ভেতরে তৈরি করেছেন।

আকর্ষণ
এ বাগানের একটি আকর্ষণ হচ্ছে ‘ট্রি-টপ ওয়াক-ওয়ে’। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ মিটার উঁচুতে এই ওয়াক-ওয়ে। এটি ডিজান করেছিলেন প্রকৌশলী মার্ক্স বারফিল্ড। এর ওপর দিয়ে হেঁটে অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অনুভূতি পাওয়া যায়।

সময়সূচি
প্রতিদিন সকাল ১০টায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় বাগানটি। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর এবং শুক্রবার থেকে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর প্রবেশ করা যায় না।

আরও পড়ুন- দেখে আসুন শরতের রং বদল

টিকিট সংগ্রহ
বাগানে প্রবেশ করতে অবশ্যই টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। কেউ টিকিট না কেটে ঢোকার চেষ্টা করবেন না। কেননা অনলাইনেও এর টিকিট বুক করতে পারবেন।

দুই মাস খোলা থাকে যে বাগান

নেদারল্যান্ডের লিসে শহরে অবস্থিত কেওকেনহফ বাগানটি। বাগানটি বছরে মাত্র দুই মাস দর্শকের জন্য উন্মুক্ত থাকে। একটি দিনে শুধু টিউলিপ প্রদর্শনী হয়ে থাকে। সুতরাং ঘুরতে গেলে আগেভাগে খোঁজ নিয়েই যেতে হবে।

কেওকেনহফ কী
কেওকেনহফ একটি ফুলের বাগান। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাগানগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। একে ‘কিচেন গার্ডেন’ বা ‘গার্ডেন অব ইউরোপ’ও বলা হয়ে থাকে।
নেদারল্যান্ডের লিসে শহরে অবস্থিত কেওকেনহফ বাগানটি। বাগানটি বছরে মাত্র দুই মাস দর্শকের জন্য উন্মুক্ত থাকে। একটি দিনে শুধু টিউলিপ প্রদর্শনী হয়ে থাকে। সুতরাং ঘুরতে গেলে আগেভাগে খোঁজ নিয়েই যেতে হবে।

কেওকেনহফ কী
কেওকেনহফ একটি ফুলের বাগান। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাগানগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। একে ‘কিচেন গার্ডেন’ বা ‘গার্ডেন অব ইউরোপ’ও বলা হয়ে থাকে।
উদ্দেশ্য
বাগান সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিলো নেদারল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুলচাষীরা আসবেন। তাদের উৎপাদিত হাইব্রিড প্রদর্শন করবেন। এককথায়- ডাচ রফতানি শিল্পকে সহায়তা করবেন।

ফুলগাছ
বাগানে প্রতিবছর ৩২ হেক্টর জমিতে প্রায় ৭ মিলিয়ন ফুলগাছ রোপণ করা হয়। এর প্রধান আকর্ষণ টিউলিপ ফুল।
পর্যটক
২০১৭ সালে এ বাগান পরিদর্শনে ১.৪ মিলিয়ন পর্যটক এসেছিলেন। যাদের মধ্যে ২০% ছিলেন ডাচ, ৪০% ছিলেন জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামের, ১০% যুক্তরাষ্ট্র এবং ৮% চীন থেকে।

উন্মুক্ত
বাগানটি প্রতিবছর ২২ মার্চ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। টিউলিপ প্রদর্শনী হয় ২১ এপ্রিল।

ঈদের ছুটিতে সোনারগাঁওয়ে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়

পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে প্রাচীন বাংলার রাজধানী  সোনারগাঁওয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের  উপচে  পড়া ভীড়। ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা থেকে এবার বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে  বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁও জাদুঘর), বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটিতে।

ঈদের ছুটিতে বিনোদনের খোঁজে সোনারগাঁও জাদুঘর,বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটিসহ  সোনারগাঁওয়ের প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে ছিল  সোনারগাঁও জাদুঘর প্রাঙ্গন। আগত দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে জাদুঘর কতৃপক্ষকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। দর্শনাথীদের নিরাপত্তার জন্য জাদুঘর কর্তৃপক্ষ  রেখেছিল বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা । তাছাড়া  দর্শনাথীদের আনন্দ বিনোদনের জন্য জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আয়োজন  করে দুদিন ব্যাপী ঈদ উৎসব। দর্শনার্থীরা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে  উপভোগ করেছেন এসব আনন্দ বিনোদন।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা দর্শনাথীদের চাপে জাদুঘরের আশপাশের সড়ক গুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এদিকে  বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটিতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সারাদেশ থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে তাজমহলে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।তবুও এখানে আসা দর্শনাথীদের আনন্দের কোন কমতি ছিলনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবার পরিজন নিয়ে নির্মল প্রকৃতির সাথে কিছু সময় আনন্দে কাটিয়ে  খুশি আগত দর্শনার্থীরা।

সোনারগাঁও জাদুঘর,বাংলার তাজমহল ও পানাম সিটি ছাড়াও সোনারগাঁওয়ের গিয়াস উদ্দিন আযম শাহের মাজার, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, কাইক্কারটেক ব্রীজ এবং মেঘনা নদীর বৈদ্যের বাজার ঘাটে বিপুল সংখ্যাক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

ঐ দূরের পাহাড় চূড়ার নাম সিপ্পি আর সুং

ব্যর্থতার ভার বয়ে বেড়ানো একেক জনের নিকট একেক মাত্রার বেদনাদায়ক। তবে কিছু মানুষের কাছে তা একটু অন্যরকম। জীবন এগিয়ে যাবে শুধুই ধারাবাহিক সাফল্যে; ব্যর্থতা থাকবে না- চলার পথ এমন সরলরৈখিক হওয়া অনুচিত। আবার ব্যর্থতার স্বাদ নেয়ার জন্য আয়োজন করে অপেক্ষা করাটাও ঠিক নয়। চলার পথে সে যদি আসে তাকে মেনে নেয়া এবং পরবর্তীতে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই চেষ্টা করা- এটাই জীবন। ব্যর্থতা বেদনা বা কষ্টের কারণ হয়ে থাকে। জীবনে এমন দুচারটা না পাওয়ার বেদনা থাকা বেমানান কিছু নয়। ২০১৬ সাল, আমার ভ্রমণ বা অভিযাত্রা জীবনের একগুচ্ছ ব্যর্থতার বছর। এমনটা এর আগে কখনও হয়নি। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত ব্যর্থতার সম্মুখীন আমি কখনও হইনি।

মে মাসে সিপ্পি আর সুং নামক এক পর্বত চূড়ায় আরোহণ করতে গিয়ে অতি বর্ষা আর তথ্য ঘাটতি ও বিভ্রাটের কারণে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল। সে নিয়ে একটি লেখাও রয়েছে। এই ঘটনার দেড়-দুই মাস পরে অর্থাৎ, রোজার ঈদের দুই কি তিন দিন পরে ফিরে আসতে হয়েছিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে। ছয়-সাত দিনের লম্বা ভ্রমণ পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প এলাকা পরিদর্শন এবং আরও অনেক কিছু। সহযাত্রীর সাথে মতের অমিল হওয়ায় ভাটিয়ারী বাসস্ট্যান্ড থেকে অপ্রীতিকরভাবে ফিরে এসেছিলাম সোজা ঢাকা। সব শেষে আগস্ট মাসে দেখতে গেলাম উপকূলীয় দ্বীপ নতুন চর। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মাঝপথ থেকে না ফিরে উপায় ছিল না, যাকে বলে একেবারে জানে বেঁচে ফেরা। এই অল্পদিন আগে রাইজিংবিডিতে শেষ হওয়া ১২ পর্বের এক ধারাবাহিকে তার বর্ণনা ছিল। এর আগে জানুয়ারিতে সুন্দরবনের দুবলার চরে অস্থায়ী জেলেপল্লীতে যেতে না পারার ব্যর্থতার কথা বাদই দিলাম। মাত্র কয়েক মাসে এত ব্যর্থতা খুব বেশি হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কারণ পরে জায়গাগুলোতে সফল ও সুন্দরভাবে গিয়েছিলাম। এ বছরের জানুয়ারিতে সুজিতের কল্যাণে এবং উৎসাহে প্রায় সব জায়গাতেই যাওয়া হয়েছিল।জানুয়ারির ১৫ তারিখ রাতে ঢাকা থেকে চড়ে বসলাম বান্দরবানের বাসে। এই চেনা পথে কতবার যে গেলাম ঠিক নেই। তবুও যেন নতুন কোথাও যাচ্ছি পুরনো গন্তব্য; নতুন করে দেখার জন্য। সুতরাং চেনা পথ, জানা গন্তব্য হলেই কি প্রতিবার বৈচিত্র্য থাকবে না- তা নয়। যথারীতি ভোরে পৌঁছলাম বান্দরবান। দেড়-দুই কিলোমিটারের মত হেঁটেই গেলাম রোয়াংছড়ির বাসস্ট্যান্ডে। কুয়াশা কাটেনি, ঘন কুয়াশার পড়ত থমকে আছে সমস্ত পথের ওপর। বাসস্ট্যান্ডে বাস নেই, সাড়ে আটটায় ছেড়ে যাবে দিনের প্রথম বাস। তার আগেই কীভাবে রওনা দেয়া যায় সেই চিন্তা করতে করতে ঘরির কাঁটা আটটা ছুঁইছুঁই।  এতক্ষণের প্রচেষ্টায় না পেলাম কোনো মোটর সাইকেল, না পেলাম কোনো ট্রাক বা অন্য বাহণ। আগেভাগে রোয়াংছড়ি পৌঁছার চিন্তা মাথায় থেকে ঝেড়ে ফেলে সাড়ে আটটার বাসের জন্যই হাল ছেড়ে অপেক্ষা করতে হলো। সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। দোকানের পরিবেশ এতটাই অপরিচ্ছন্ন আর নোংরা যে পরোটা আর তরকারি গলা দিয়ে ঠিক নামাতে পারলাম না। এদিকে ক্ষুধায় ভাঁজ হয়ে যাচ্ছি। আমাদের দেশে এই এক চরম সমস্যা যা প্রায় সর্বত্রই বিরাজমান। খাবারের দোকানের পরিবেশ কখনই মানসম্পন্ন নয়। এদেশে ঘুরতে আসা বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টিতে নেতিবাচক যত বিষয় উঠে আসে তার মধ্যে এক নম্বরে এটি থাকে। অসচেতনতাই এখানে প্রধান।

বাস ছাড়ল, প্রথম ধাক্কাতেই তিরতির করে উঠে গেল অনেকটা উঁচুতে। কিছুদূর যেতেই চেকপোস্ট। দুইজন ভেতরে উঠে চেক করতে লাগল সন্দেহভাজনদের ব্যাগ অথবা পোটলা। অনেককেই অসহায় মনে হলো। যেন তারা নিজভূমে পরবাসী। পাহাড়ের পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান কবে হবে? আদৌ হবে কি না সে এক জটিল প্রশ্ন। এক এক করে চেক করার পর বাস ছেড়ে দেয়া হলো।রোয়াংছড়ির সকালটা এক অপূর্ব দৃশ্য দেখার মধ্য দিয়ে শুরু হবে ভাবতে পারিনি। মন্দির এলাকার দোকান ও বাড়ি থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং শ্রমনগণ ঢং ঢং ঘণ্টা বাজিয়ে আহার সংগ্রহ করছে। নীরবে সুশৃঙ্খলভাবে এক জনের পেছনে আরেক জন। প্রত্যেকের হাতে একই ধরনের ধাতব পাত্র। লাইনের সম্মুখে দুই কিশোর শ্রমণের কাঁধে বাঁশের লাঠিতে ঝুলছে কাসর ঘণ্টা। খানিক পরপর কাঠের দণ্ড দিয়ে একটা করে হালকা আঘাত আর তাতেই তৈরি হচ্ছে গম্ভীর এক শব্দের অনুরণন। বম পাড়ার ছেলে আনাই, গতবার গিয়ে পরিচয়। সে সদরের পথে রওনা করেছে। আমরা কাছাকাছি চলে এসেছি শোনার পর ফোনে তার কথায় মনে হলো দৌড় শুরু করে দিয়েছে। বলেছিলাম চেনা পথ ঠিকই যেতে পারব। কিন্তু না। সে আমাদের নিতে এগিয়ে আসবেই। আমরা সদরে পৌঁছার প্রায় পনের মিনিট পরে আনাই এসে উপস্থিত। যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই, কোমর পর্যন্ত ভেজা, ঝিরির মাঝ দিয়ে দৌড়ে দৌড়ে এসেছে। এক সাথে নাস্তা খাব বলে দোকানে বসে আছি। তার ওসব রুটি-পরোটায় চলবে না, ভাত খেতে হবে। বৌদ্ধ মন্দিরের কাছাকাছি অর্থাৎ বাজারের পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকায় তার বন্ধুর দোকান। থালা ভরা ভাত সাথে এক বাটি শূকরের মাংসের ঝোল নিয়ে সে বসে গেল। কিছু কিছু দোকানে খাবার জায়গাটা পর্দা বা কোনো কিছুর দেয়াল দিয়ে আলাদা করা। পেছনের এই অংশে ভাত তরকারির পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত পানীয় পানের সুব্যবস্থা থাকে। আনাইয়ের সামনে মাংসের বাটির পাশে পানীয়ের গ্লাস। দুই-তিন গ্রাস ভাতের পর গ্লাসে একটু করে পরম তৃপ্তির চুমুক! এতক্ষণে বুঝতে পারলাম আমাদের এগিয়ে নিতে আসাটা যত না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে অধিক ওই এক গ্লাস পানীয়। তাদের পাড়ায় পান করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়, বর্তমানে যা নিষিদ্ধ প্রায়। লক্ষ্য করেছি বমদের প্রায় সব বসতি বা পাড়াতেই এই পানীয় নিষিদ্ধ। এখন হাঁটা শুরু করতে হবে খাল ধরে উজানে। খালের পানি কেটে এগিয়ে যাচ্ছি, সাথে পানীয় সেবন পরবর্তী আনাইয়ের রেডিও চলমান- এই বিবিসি তো, এই বেতার বাংলাদেশ।

ভেবেছিলাম অনেক পর্যটক থাকবে কিন্তু আমরা ছাড়া অন্য কারও দেখা পেলাম না। জানুয়ারি মাস বলে কথা, মৌসুমি পরিব্রাজক আর পর্বতারোহীদের হুমড়ি খাওয়া ভিড় থাকার কথা। কারণ সমস্ত বান্দরবান খেয়ে শেষ করার পর আমরা তো কেবল এই ট্রেইলটুকুই বাদ রেখেছি। যদিও এখানেও মাঝে বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটে গেছে। হিমশীতল পানিতে পা যেন অবশ হয়ে এলো। এদিকে আনাইয়ের অতি কথনে কানের বারোটা আগেই বেজে গেছে। ঝিরিপথ ফুরালো, বেশ কিছুক্ষণ উঠতে হবে। গতবার এই পথে পুড়িয়ে দেয়া যত জুম ক্ষেত দেখেছিলাম সেগুলোতে এখন সবুজ পাতার সমারহ। সমস্ত পাহাড়ের পেছন থেকে ঐ দূরে যে চূড়াটা মাথা বের করে দিয়েছে তার নাম সিপ্পি আর সুং। উচ্চতার বিচারে এর অবস্থান প্রথম দশের মাঝে না থাকলেও বাংলার নব পর্বোতারোহীগণের প্রায় সকলেই একবার না একবার আরোহণ করে ফেলেছেন। তার অন্যতম কারণ বছর দেড়েক বান্দরবানের অন্যান্য ট্রেইল বন্ধ থাকা। আর একটা কারণ হলো তুলনামূলক স্বল্প পরিশ্রমে, খরচ বাঁচিয়ে এবং পিকনিক মুডে স্বপ্নপূরণ করা যায়। যে স্বপ্ন হুজুগে বাঙালিকে চালিত করছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেস্টে জীবনে অন্তত একবার হলেও দেশের পতাকাটা মেলে ধরতে।অতীতে স্কুল, কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়ে পতাকা উড়তে দেখতাম। এখন পতাকা অনেক জায়গাতেই  উড়তে দেখা যায়। পাহাড়-সমুদ্র, খাল-বিল অথবা টিলা- সর্বত্রই পতাকা ওড়ে। পৌঁছা মাত্রই পতাকা হাতে একটা ছবি এবং দ্রুত ফেসবুকে আপলোড। ভালো চর্চা বটে! এই সুযোগে অন্তত আমাদের জং ধরা দেশপ্রেমের উন্মেষ এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুশীলন দুটোই হচ্ছে। তাছাড়া, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এদেশ থেকে সত্তুর-আশি গণ্ডা এভারেস্ট সামিট না হলে ইজ্জত ফুটো হওয়ার জোগাড় হবে বৈকি! হিমালয়ের পাদদেশে উষ্ণ ওমে ঘুমিয়ে থাকা বাঙালিকে জাগিয়েছে- এবার বুঝবে ঠেলা! যানজট থেকে শুরু করে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা সনদ জালিয়াতির মতো কারবার হিমালয়েও শুরু হলো বলে!

সামনেই দোকান, পণ্য শুধু বুনো কলা আর বিস্কুট। চা রয়েছে। এই প্রত্যন্ত পাহাড়ে কৌটার দুধের চা- ভাবতেই অবাক লাগে! দোকানিকে সরিয়ে দিয়ে আনাই নিজেই তার অদক্ষ হাতে কড়া লিকারে এক পেয়ালা চা পাঁচ মিনিটেই প্রস্তুত করে ফেলল। চায়ের কাপে চুমুকের শব্দ ভেদ করে ভটভট শব্দে চারপাশ কাঁপিয়ে পার হয়ে গেল একটি চান্দের গাড়ি। বমপাড়া পেরিয়ে পরবর্তী পাড়ার আগে উঁচু পাহাড়টা পর্যন্ত যায়। জুমের ফসল পরিবহণে এ পর্যন্ত পাহাড় কেটে চওড়া রাস্তা বানানো হয়েছে। আর ঠিক একই পথ দিয়ে আমাদেরকেও যেতে হবে।

পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় চরম বিড়ম্বনা

লালমনিরহাট ঃ
লালমনিরহাট জেলায় এ বারে পবিত্র ইদুল আযাহা নামাজ রোদ্রু-উজ্জ্বল আবহাওয়ার মধ্যে হওয়ায় সকলের মনে আনন্দ উচ্ছাস ভরে যায়। ইদের দিন বিকেল থেকেই তরুন-তরুনী, কিশোর-কিশোরীরাসহ অনেকেই পরিবার নিয়ে ভির করতে থাকে লালমনিরহাটে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ, শালবন, তিনবিঘা করিডোর, বোতলের তৈরী বাড়ি, বুড়িমারী স্থল বন্দর জিরো পয়েন্ট, চা বাগান, কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়ী, বিমান ঘাটি ও আনন্দলোক মিলিটারী ফার্মে। তবে ওই সব দর্শনীয় এলাকায় কোথায়ও পানীয় জল ও টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় আনন্দের জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষজনের মধ্যে শিশু ও মহিলারা চরম বিরম্বনার পড়েন।
সড়ে জমিনে দেখা গেছে, ইদের দিন থেকে শুরু করে ৩ দিন ধরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলা ও জেলার বাইরে থেকে হাজার হাজার মানুষকে রিক্সা, ভ্যান, মটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, বাস যোগে লালমনিরহাটের এসব স্থান গুলোতে বেড়াতে আসতে দেখা গেছে। তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ঘুরে দেখার মতো সুইচ গেট ,ভিআইপি রেষ্ট হাউস অবসর, তিস্তা নদীর মনোরোম দৃশ্য, শালবনে বিভিন্ন জাতে গাছসহ অনেক রকম পাখি। ওই স্থানে দুর দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের টয়লেট, বসার আসন বা কোন খাবারের দোকান না থাকলেও উপচে পড়া ভির লক্ষ্য করা গেছে। ইদের পর ৩য় দিন সোমবার দর্শনার্থীদের মধ্যে থেকে কুড়িগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা সাদেকুল ইসলাম ও মহুবর রহমানকে কেমন ঘুরলেন এ কথা জিজ্ঞেস করতেই দুঃখ করে তারা বলেন, একটু আনন্দের জন্য পরিবারের সকলকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। দেশের গৌরব বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজ ও শালবনে বছরে ইদে ঘুরতে আসা অনেক কিছুর অভাবে দূর্ভোগে পড়তে হয়। লালমনিরহাট জেলায় বিনোদনের জায়গা বলতে হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ, শালবন, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল ( তিন বিঘা করিডোর ), বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট (চেক পোষ্ট) , কালীগঞ্জ উপজেলায় কবি বাড়ী ও বোতলের বাড়ি, লালমনিরহাট সদর উপজেলায় বিমান ঘাটি ও আনন্দলোক মিলিটারী ফার্ম থাকলেও এসব এলাকার মধ্যে তিস্তা ব্যারাজ, আনন্দলোক মিলিটারী ফার্ম ছাড়া অন্য জায়গায় নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া কোথায়ও পানীয় জলÑটয়লেট ব্যবস্থা নেই। তবুও মানুষ ইদের একটু আনন্দের জন্য পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াতে আসা।
হাতীবান্ধা তিস্তা ব্যারাজ ও শালবনে ঘুরতে আসা নুরনবী, আয়েন, মোবারক হোসেন জানান, ঘুরতে আসা সারা অনেকেই বছরে ব্যস্ততায় দম ফেলানোর সময় পায় না। তাই ইদের ছুটিতে শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরাও ভিড় করেছে উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে ইদ আনন্দ উপভোগ করতে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখেছেন। ইদের দিন থেকে শুরু করে ১০-১২ দিন পর্যন্ত এ অঞ্চলের বিনোদন কেন্দ্র গুলো হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠবে। লোকজনের সমাগমে আনন্দের জোয়ার বইছে। তিস্তা ব্যারাজ, বুড়িমারী স্থালবন্দর, তিনবিঘা করিডোর, শালবন, আনন্দলোক মিলিটারী ফার্মসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র গুলোও সেজেছে নবরূপে। সব বয়সী মানুষের ভিড় জমলেও সিংহভাগ দখল করে রাখে শিশুরা। মা-বাবার হাত ধরে, কেউবা ভাই-বোন, আতীয় স্বজনের হাত ধরে ঘুরছে। শুধু শিশুরাই নয়, শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরাও কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যাচ্ছেন আনন্দের রাজ্যে। লালমনিরহাটে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ, দেখার অন্যতম স্থান। ইদের দিন থেকে তিস্তা নদী অববাহিকার তিস্তা ব্যারাজে পা ফেলার স্থান নেই। দুর দুরান্ত এলাকা থেকে গাড়ীতে করে দেখতে আসছে মানুষজন। অপর দিকে তিনবিঘা করিডোর, বুড়িমারী স্থালবন্দর, শালবন ও আনন্দলোক মিলিটারী ফার্মে মানুষের ভিড়ে মুখোরিত। বিভিন্ন শহরের শিশু ও তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল এবং বাইরে থেকে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা শিশুদের কারণে ভিড় আরো বেড়েছে। তিস্তার পানি আর সবুজ মিলে সে এক অপরূপ দৃশ্য। জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় রয়েছে তিনবিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা। এসব স্থানেও দর্শনার্থীরা ভীর করছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে ছোট-বড় বাস, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে হাজার হাজার মানুষ আসছেন এসব এলাকায়। সঙ্গে এনেছেন পরিবার-বন্ধু-স্বজন বা শুভাকাঙ্খীদের। অনেকে আবার এখানে এসে মেতে উঠেছেন পিকনিকে।
রংপুর থেকে বেড়াতে আসা রোজিনা আক্তার জানান, ইদ উপলক্ষে হাতীবান্ধা আত্বীয়র বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছি। খুব ভাল লাগছে।
এদিকে ইদে পর্যটন কেন্দ্র গুলোর কোথাও যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্তক অবস্থায় রয়েছেন।

ঈদে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘেœ গন্তব্যে পৌছবে: সেতুমন্ত্রী

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নির্বিঘেœ ঘরে ফিরতে পারবে। গেলো ঈদে মহাসড়কে তেমন কোন যানজট ছিল না। এবারো মানুষের ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে যে কোন মূল্যে মহাসড়ক সচল রাখা হবে। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কারনে বিভিন্ন পয়েন্টে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হলেও মহাসড়কগুলো ভালো অবস্থায় রয়েছে। তবে রাতের বেলায় যানবাহনে চাঁদাবাজির কারণে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই এসব নিয়ন্ত্রন করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, এবারের ঈদে যানজটমুক্ত থাকবে এবং মানুষকে ভোগান্তিতে পোহাতে হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোল প্লাজায় যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে এ মন্তব্য করেন। এর আগে সেতুমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং টোলপ্লাজা নিয়ন্ত্রণকারীদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন। এসময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভেসে ভেসে ভ্রমণ আনন্দ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
পানিতে ভাসমান বর্তুলাকার ক্যাপসুল হোটেল বানিয়েছে জাপান। এটা পানিতে দিব্যি ভাসতে থাকে। ইন্টারনেটে এটাকে দেখে অবাক হয়েছেন সবাই।
ভাসমান ক্যাপসুল হোটেলের নাম ‘মিজুকামি হোটেল’। নেদারল্যান্ডস নিয়ে নাগাসাকিতে বানানো থিম পার্ক হুইস টেন বোস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই হোটেল বানানো হয়েছে। ক্যাপসুল বলে যে এটাকে ছোট করবেন তা কিন্তু নয়। এতে আছে বিছানা, টয়লেট আর গোসলের ব্যবস্থা। অন্যান্য হোটেলের মতোই কিন্তু এতে কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। ৩৬-৩৮ বর্গমিটারের মধ্যে ৪ জন মানুষ থাকতে পারবেন।
হুইস টেন বোসের প্রেসিডেন্ট হিদেও সোয়াদা জানান, সম্প্র্রতি এই কোম্পানি কাছের একটি দ্বীপ কিনেছে। হোটেল পানিতে ভাসতে ভাসতে ধীরে ধীরে ওই দ্বীপের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম মাতোমি নিউজ জানায়, ক্যাপসুলে উঠলে ভাসতে ভাসতে উত্তর কোরিয়া চলে যাবেন বলে মনে হবে। তবে ভয় পাবেন না। এক রাত থাকতে ৩০০ ডলার গুনতে হবে। তবে এই হোটেল যাত্রায় টাইটানিক দেখতে মানা করা হয়েছে।