আজ : মঙ্গলবার: ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ইং | ২ জমাদিউস-সানি ১৪৩৯ হিজরী | ভোর ৫:৪০
fevro
শিরোনাম

ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে না’গঞ্জ বিএনপি রাজপথ দখলে নেয়ার প্রত্যয়

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সকল কিছুকে পেছনে ফেলে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মত এবার দলের সকল কর্মসূচীতে দলের সকল নেতাদেরকে দেখা যাবে একসাথে। ঐক্যবদ্ধ হয়েই দলের সকল কর্মসূচী পালনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের নেতারা। খালেদার জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের প্রতিবাদ কর্মসূচী ও দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে একত্রে বসলেও সেখানে সকলে দলের সকল বিভাজন ভুলে এক হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে দলের গুলশান কার্যালয়ে দলের নেতারা বসে বৈঠক করেছেন। সেখানে দলের সকল কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সকলেই কথা বলেন এবং নিজেদের ছাড় দেয়ার মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, জেল খেটেছি প্রয়োজনে আবার খাটবো। এখন  আমাদের লক্ষ্য একটাই আমাদের নেত্রীর মুক্তি। বিভেদ বিভাজনের সময় এখন আর নেই। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবারো দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন তাকে উপহার দেয়াই এখন জাতীয়তাবাদের মূল লক্ষ্য। জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই রাজপথে দলের কর্মসূচীগুলো সফল করতে হবে। সবাইকে এক হতে হবে। একতাবদ্ধ হবার এখনই সময়। নেত্রীর জন্য নিজেদের সবটুকু নিয়ে কাজ করতে হবে। মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, এখন আর মনোনয়ন নিয়ে আমাদের কোন্দল বিভাজনের সময় বা সুযোগ কোনটাই নেই। নেত্রীর মুক্তিই আমাদের সকলের একমাত্র উদ্দেশ্য হোক। সকলে একসাথে মিলে হাতে হাত রেখে রাজপথে কাজ করতে হবে।  মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, সবাইকে নিয়েই আমরা এক হয়েছি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে আর কোন বিভেদ থাকবেনা। এটা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, সকল কিছু ভুলে বিএনপির সবাই এক হবো। আমাদের কোন কোন্দল থাকবেনা, আমাদের একটাই পরিচয় আমরা বিএনপির কর্মী। নেত্রীর মুক্তির মধ্যেই আমাদের সকলের অস্তিত্ব। নেত্রীকে মুক্ত করতে না পারলে আমরা সকলেই বিলীন হয়ে যাবো। সভায় জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নেতাকর্মীদের জামিনের কাজে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেননি। একই সাথে মামলায় জর্জরিত থাকায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুও উপস্থিত হতে পারেননি।

পুলিশকে ছয়টি পিকআপ ভ্যান প্রদান অনুষ্ঠানে: সেলিম ওসমান কান কথায় অপরাজনীতিকে উস্কে দেওয়া ঠিক নয়

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছেন, আমি একটা জায়গাতেই ব্যর্থ হয়েছি। বার বার আহবান জানানোর পরেও আমি নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহল, আইনজীবী সমিতি, ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের একত্রে বসাতে পারেনি। অপরদিকে সকল জনপ্রতিনিধিদেরকেও এক টেবিলে বসাতে পারিনি। আমি গত ২২ বছর যাবত বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। নারায়ণগঞ্জে আমরা ৮টি জাতীয় ভিত্তিক ও ৩৩টি জেলা ভিত্তিক সংগঠন একটি প্লাটফর্মে এসে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমাদের মাঝে কোন বিভেদ বা মতবিরোধ নেই। যদি ব্যবসায়ী মহল, আইনজীবী সমিতি এবং প্রেসক্লাব একসাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করে তাহলে একটি শহরের যেকোন সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি যদি নারায়ণগঞ্জের সকল জনপ্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে তাহলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন এবং জনগনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে একজনের সাথে অপরজনের ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে। রাজনৈতিক মাঠে সেটা যেকোন জায়গায় করা যেতে পারে। কিন্তু জনগনের কল্যাণে উন্নয়নের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে একত্রে কাজ করতে কোন বাধাঁ আছে বলে আমি মনে করি না। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা পুলিশ লাইনসে জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক এর কাছে  ৬টি পিকাপভ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রতি আহবান রেখে বলেন, আলোচনায় অনেক সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব। নিতাইগঞ্জে দীর্ঘদিনের সৃষ্ট দুর্ভোগের সমস্যা আমরা আলোচনার টেবিলে বসেই সমাধান করতে পেরেছি। নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনালকে আলোচনার মাধ্যমে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছিলো বলেই নারায়ণগঞ্জে এখন আর গার্মেন্টস গুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নেই। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে শিল্পপুলিশের খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। আলোচনার মাধ্যমে আমরা হকার সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধান করতে পারবো বলে আশা করছি। তাই আমি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ রাখবো  জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার, বিকেএমইএ, ইর্য়ান মার্চেন্ট সহ আলোচনার জন্য বেশ কয়েকটি সম্মেলন কক্ষ রয়েছে। আপনারা যখন যেখানে খুশি আলোচনার বসতে পারেন। নিজের মাঝে কোন ভুল বুঝাবুঝি থাকলে তা দরজা বন্ধ করে শেষ করে নারায়ণগঞ্জের সমস্যা গুলো সমাধান এবং উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে সহযোগীতা করুন। একটি সুন্দর ও আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগীতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি আহবান রেখে তিনি বলেন, একটা সময় নারায়ণগঞ্জ পাটের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু আদমজী, বাওয়া জুট মিল, লক্ষ্মী নারায়ণ, চিত্তরঞ্জন, আর্দশ, ঢাকেশ্বরী মিল বন্ধ করার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে নীটওয়্যার ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা নীটওয়্যারে এগিয়ে যাচ্ছি এবং পন্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছি। হোসিয়ারী থেকেই নীটওয়্যারের সৃষ্টি। আর হোসিয়ারী শিল্পের জন্ম এই নারায়ণগঞ্জেই। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেএমইএ এর সকল কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীক করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে বিকেএমইএ চাষাঢ়ায় খাজা সুপার মার্কেটের পেছনে জমি কিনে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। জমি কেনার সময় আমরা সেখানে ১৬ ফুটের রাস্তা দেখলেও এখন দেখতে পাচ্ছি আসলে রাস্তা নেই। কখনো শুনি এটা ব্যক্তি মালিকানার জায়গা, কখনো শুনি সিটি কর্পোরেশনের, আবার কখনো শুনি রাজউকের জমি। এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করি এবং জমিটির কেনার জন্য আবেদন করলে রাজউক থেকে বিকেএমইএকে টেন্ডারের মাধ্যমে জমিটি বিক্রি করার কথা বলেন।  বিকেএমইএ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১৫ কোটি টাকা ইজিএম করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা নির্মাণ কাজে ৩ কোটি টাকা ব্যয় করে ফেলেছি। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন একটি মামলা দায়ের করে সমস্ত কিছু আটকে রেখেছে। বিকেএমইএ শুধু একটি সংগঠন নয় এটি সমস্ত দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির একটি অংশ। আমরা লিখিতভাবে মেয়রের কাছে আবেদন করবো হয়তো দেশের অর্থনীতি এবং নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে বৈধ উপায়ে ওই জমিটুকু বিকেএমইএকে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন নয়তো জমিটি আপনাদের প্রয়োজন হলে বিকেএমইএ এর কাছ থেকে কিনে নিয়ে যান ক্ষতিপূরণ সহ। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেকের কাছে এটা নির্বাচনের বছর। কিন্তু আমি সেটা মনে করি না। একজন জনপ্রতিনিধিদের কোন নির্বাচনী বছর নেই। নির্বাচন হতে এখনো অনেক সময় বাকি। জনগনের জন্য এখনো অনেক কিছু করার রয়েছে। আমি বহুবার বলেছি আগামী জুন মাসের ৩০ তারিখে আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো নির্বাচন করবো কিনা। ইতোমধ্যে অনেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য বলে বেড়াচ্ছেন নৌকা চাই। আমি বলবো শুধু নৌকা চাই বললেই হবে না। আসলে মার্কা কি সেটা বড় কথা নয়। এলাকার উন্নয়নটাই মূখ্য বিষয়। বন্দরের মানুষে সেই বৃটিশ আমল থেকে নৌকা করে নদী পারাপার হচ্ছে। আমরা ফেরী সার্ভিসের ব্যবস্থা করছি। রাস্তা হয়েছে কিন্তু দপ্তরে ফাইল নড়তে চায় না। আমরা সেখানে আরেকটি সেতু নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে শীতলক্ষ্যা সেতু-৩ এর কাজ চলছে। শান্তিরচরে নীটপল্লী সহ সকল শিল্পকারখানার মাধ্যমে বৃহৎ অর্থনৈতিক জোন নির্মাণের কাজ চলছে। লাঙ্গলবন্দে মেগা প্রকল্প করা হচ্ছে, ৭টি ইউনিয়নে ৭টি স্কুল নির্মাণ সহ গ্রামীন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। সব শেষে বলবো নির্বাচন যখন হবে তখন হবে। যতটুকু সময় আছে সবাই মিলে একত্রে এলাকার উন্নয়নে অংশীদার হই। সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলে কাজ করুন। বন্দরে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বেশ কয়েকটি ভাল রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে রাস্তার মাঝ থেকে বিভিন্ন স্থাপনার কারণে উন্নয়নের সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। ওই সকল সমস্যা গুলো সমাধানে সহযোগীতা করুন। কারো নাম উল্লেখ না করে নিজেকে নিয়ে করা একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেকে বলেন আমি বিদেশে টাকা পাচার করছি। আমি বলবো, না জেনে কোন কথা বলা ঠিক না। যান আমার ব্যাংকের দরজা খুলে দিলাম, আমি বিদেশে টাকা পাচার করেছি নাকি বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা এনেছি একটু হিসেবটা দেখে আসুন। কত রেমিট্যান্স জমা হয়েছে আমার একাউন্টে। লাভের হিসেবটা আপনারাই নির্ধারণ করে দিবেন। আমার পরিবারের ছেলে বিয়েতে কত কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেটা নিয়ে কথা বলাও আপনার ঠিক নয়। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের যেমন দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি মনে করি ঠিক তেমনি সকল জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। অযথা কান কথা শুনে অপরাজনীতিকে উস্কে দেওয়া ঠিক নয়। তার থেকে ভাল হবে ভবিষ্যত উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা করা। শহরের বেশ কিছু স্থানে ফুটওভার বিজ্রের প্রয়োজন, বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশাপাশি বিকল্প রাস্তা চালু, যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, চারারগোপ এলাকায় রেলওয়ের বিশাল জমি রয়েছে সেখানে বাসস্ট্যান্ডটি স্থানান্তর করা যায় কিনা সেটি নিয়ে কাজ করা, ডাবল রেললাইন, সাংস্কৃতিক চর্চায় শিল্পকলা একাডেমী, নগরবাসীর উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল কলেজ নির্মাণ, ভবিষ্যত প্রজন্মকে উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে একটি উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ সহ বহু কাজ করা বাকি রয়েছে। প্রয়োজনে সবার সাথে আলোচনার বসে সেগুলো সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করুন। আমি বহুবার আহবান জানিয়েছি। আবারো আহবান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বলবো যদি উন্নয়নের স্বার্থে আমার কোন সহযোগীতার প্রয়োজন হয় আমাকে ডাকা হলে আমি অবশ্যই সহযোগীতা করবো। এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই আওয়ামীলীগের জন্ম ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছে। যুদ্ধে বিজয় লাভের পর আমার বাবাই প্রথম রেডিওতে ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। এই নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমার দাদা বাবা ও ভাইয়ের অপরিসীম ভালবাসা দিয়েছেন। সেই অর্থে নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য আমার অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের সব ধরনের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত আছি। আমাকে যখন ডাকা হবে আমি উপস্থিত হবো। এক্ষেত্রে অনেকের অভিযোগ আমার সাথে নাকি দেখা করা কঠিন। ডাকলে পাওয়া যায় না। আমি বলবো আমি একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ার পাশাপাশি দেশের একটি বৃহৎ ব্যবসায়ী সংগঠন পরিচালনা করছি। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমাকে হাতে একদিন সময় রেখে ডেকে আপনাদের ডাকা সাড়া দিয়ে আপনাদের সাথে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিবেন। জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল হক, পরিচালক আবু আহম্মদ সিদ্দিক, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল প্রমুখ।

শীতলক্ষ্যার দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কাঁচপুর ব্রীজ সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করেছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর। এতে সোনালী পেপার মিল, স্ক্যান সিমেন্টের অবৈধ স্থাপনা এবং ১০টি জেটিসহ সর্বমোট ২৭টি অবৈধ স্থাপনা একদিনে উচ্ছেদ করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফিটনেস না থাকায় ১০টি বাল্কহেডের মালিকপক্ষকে সর্বমোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এমভি জেনিয়া নামের একটি বাল্কহেডকে জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রোববার উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু শান্তির নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোঃ গুলজার আলী, উপপরিচালক মোঃ শহিদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক পারভেজ আহাম্মেদ, শাহআলম, কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) নেওয়াজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। উচ্ছেদ অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ’র জাহাজ অগ্রদূত, একটি এক্সাভেটর (ভেকু), একটি টাগবোট, সহ বিপুল সংখ্যক উচ্ছেদ কর্মী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল রোববার কাঁচপুর, ডেমরা ও রূপগঞ্জের টাটকী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, দখলদাররা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদেরকে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবেনা। দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। শীঘ্রই শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর যেসকল স্থানে নদী অবৈধ দখল হয়েছে সেগুলোতে অভিযান পরিচালিত হবে।

 

 

দুই জঙ্গি সাত দিনের রিমান্ডে

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর অভিযানে গ্রেফতারকৃত আনসার আল ইসলামের দুই সদস্যকে ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রোববার বিকেলে র‌্যাব তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব উজ্জামানের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। গ্রেফতারকৃতরা হলো শাহাদাত হোসেন সজীব ওরফে নাঈম (৩০) ও ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে রবিন (৩৫)।  এর আগে গত শনিবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের ৯ নং ওয়ার্ডের মাইকওয়ালা গলিতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাব তাদেরকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জঙ্গিবাদি বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। তাদের দুইজনের বিরুদ্ধেই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা রয়েছে। র‌্যাব-১১ এর ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক (সিও) লে. কর্ণেল কামরুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃতরা গত প্রায় তিন বছর যাবত এলাকায় আত্মগোপেনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সজীব ওরফে নাঈম সংগঠনটির সামরিক শাখায় এবং ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে রবিন মিডিয়া শাখার দায়িত্ব পালন করছিল। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ থেকে অফিস  করবেন আইভী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আজ সোমবার থেকে অফিস করতে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আইভীর ভাই নারায়ণগঞ্জ শহর যুবলীগের সেক্রেটারী আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল জানান, ‘শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিমানে দেশে ফিরেন। পরে সেখান থেকে রাতেই দেওভোগ এলাকাবার বাসায় ফিরেন। আগের থেকে এখন অনেক ভালো আছেন তিনি। গতকাল রোববার সারাদিন বাসায় বিশ্রাম নিয়েছেন।’ মেয়র আইভীর একান্ত সহকারী আবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়র এখন আগের চেয়ে সুস্থ্য আছেন। তিনি সোমবার থেকে কাজে যোগদানের কথা রয়েছে।’ এর আগে ১৬ জানুয়ারী হকার ইস্যুতে শহরে সংঘর্ষের ঘটনার দিন তিনি আহত হন। সেদিন সঙ্গে থাকা লোকজন মানবঢাল তৈরি করে আইভীকে রক্ষা করেন। দুইদিন পর ১৮ জানুয়ারী সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে দাফতরিক কাজ করার সময়ে তিনি অসুস্থ হলে দ্রুত ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ২৩ জানুয়ারী আইভী বাসায় ফিরে আসেন। এর দুইদিন পর তিনি চলে যান আজমির শরীফ। কিন্তু পরে দেশে এসেও তিনি সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে যেতে পারেনি। বাড়িতে বসেই গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক কাজ করেন। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান।

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন মেয়র আইভী

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। গতকার শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করেন। মেয়র আইভীর পারিবারিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরের যান। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই আহম্মদ আলী রেজা রিপন ও বড় ছেলে সীমান্ত। আইভীর পারিবারিক সূত্রমতে, গত ১৮ জানুয়ারি বিকালে অসুস্থ্য হয়ে মেয়র আইভী ঢাকার ল্যাবএইড হাসাপাতালে ভর্তি হন। সেখানে ৫দিন চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ্য হলেও চিকিৎসকরা উন্নয়ন চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরের গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ওই সময় চিকিৎকরা বলেছেন, আপাতত আইভী সুস্থ থাকলেও তার মাথার পেছনের দিকে ব্রেন স্ট্রোকজনিত রক্তÿরণের কারণে সিটি এনজিওগ্রাম পরীÿা দরকার। কিন্তু আপাতত সেই পরীÿা করা সম্ভব নয়। দিন দশেক পর এ পরীÿা করা যাবে। এরপরই রোগটির পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ফলে ২৩ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাসায় আসার পর আইভী পুরোপুরি সুস্থ্য ছিলেন না। ২৬ জানুয়ারি তিনি ভারতের আজমির শরীফ জিয়ারত করতে যান। সেখানে তিনি মেডিক্যাল চেকআপ করান। এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করেন। তারাও তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। ৩১ জানুয়ারি তিনি দেশে ফেরেন। এবং বাসায় থেকেই দাপ্তরিক নথিতে সাÿর করেছেন।

 

বহিরাগত হকারদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রতিনিধিদের তুলকালাম কান্ড

 

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
শহরের বিবি রোডে ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও হকারদের মধ্যে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষেল একমাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল শুক্রবার। গত ১৬ জানুয়ারি শহরের চাষাড়া সায়েম প্লাজার সামনে সংগঠিত ওই সংঘাতে উভয় পÿের একাধিক ব্যাক্তি অস্ত্র ব্যবহারসহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল ও গণপিটুনীতে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। এই ঘটনা সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তোলে। ঘটনা তদন্তে ২৮ দিন আগে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও ২ দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। সেই সময়ও শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদন জমা হয়নি। সংঘর্ষের একদিন পর ঘটনায় একে অপরকে দোষী করে শামীম ওসমান ও ডা. আইভী পাল্টা পাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। উভয় শিবিরে টান টান উত্তেজনার মধ্যে ১৮ জানুয়ারি নগরভবনে নিজ কক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন নাসিক মেয়র আইভী। দ্রæত তাকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। ৫দিন চিকিৎসা শেষে ২৩ জানুয়ারি ল্যাবএইড হাসপাতালে গণমাধ্যমকে আইভী বলেন, আই অ্যাম এ ফাইটার, আই অ্যাম এ লিডার। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে কোনভাবেই হকার বসতে দেয়া হবে না। হকারদের পুর্নবাসনে ৪তলা মার্কেট করে দেয়া হবে। গত ২৭ জানুয়ারি শামীম ওসমান ইসদাইর ওসমানী স্টেডিয়ামে কর্মী সমাবেশ করে প্রতিপক্ষকে কঠিন হুশিয়ারী দেন। তিনি বলেন, ‘ধৈর্য্যরে বাধ ভেঙ্গে গেছে। আপনি (আইভী) ওদের (নিয়াজুল, হেলাল, সাজনু, নিজামগং) মামলা দিয়ে ভয় দেখাতে চান। এদের নামে মামলা দেয়ার আগে আপনার (আইভী) বুকটা একটু কাপা উচিৎ ছিল। আপনাকে বাঘ-বিড়ালের তফাৎ বুঝতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শামীম ওসমান চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ৩ ফেবুয়ারি বিশাল সমাবেশের ঘোষনা দেন। কিন্তু ঘোষনার ৩দিনের মাথায় ৩০ জানুয়ারি সমাবেশটি বাতিল করা হয়।

ওদিকে অস্ত্র খোয়া ও মারধরের অভিযোগে গনপিটুনীর শিকার নিয়াজুল সদর থানায় আইভীর বেশ কয়েক জন সমর্থককে আসামী করে অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তিু পুলিশ মামলা না নিয়ে পরে নিয়াজুলের ভাইয়ের মাধ্যমে অস্ত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনায় জিডি নেন। ১০ দিন পর পুলিশ শহরের বিবি রোড সাধুপৌলের গির্জা সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত থেকে ফুলের টবের ভেতর থেকে নিয়াজুলের খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি গুলিসহ উদ্ধার করে।

অপরদিকে নাসিকের আইন কর্মকর্তা জিএমএ সাত্তার বাদী হয়ে নিয়াজুলকে প্রধান আসামী করে আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সদর থানায় অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ এই অভিযোগটিও মামলা হিসেবে গ্রহন না করে জিডি হিসেবে নিয়েছে। তবে ঘটনার ৯দিন পর ২৪ জানুয়ারি রাতে পুলিশ বাদী হয়ে ওইদিনের ঘটনায় অজ্ঞাত ৫০০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু একমাসেও ওই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

যদিও উভয় শিবিরের উত্তেজনা আপাতত থেমে গেছে। শামীম ওসমান ওয়াজ মাহফিল নিয়ে ব্য¯Í। আর আইভী ভারতের আজমির শরীফ জিয়ারত করে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। এনিয়ে নগরবাসী এখন অনেকটা দু:শ্চিন্তা মুক্ত হলেও কপাল পুড়েছে হকারদের। তাদের ‘আমও গেলো, ছালাও গেল’। সংঘাত না হলে হয়তো মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকারী ছুটির দিন শহরের প্রধান সড়কে বসতে পারতো। কিন্তু এখন আর সেটা নেই। মেয়র আইভীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন শহর-বন্দরের এমপি সেলিম ওসমানও। ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিসির সম্মেলন কক্ষে সাংসদ সেলিম ওসমান হকারদের নিয়ে আলোচনায় বসলে দেখা যায় মাত্র তিনজন ছাড়া বাকি হকাররাই বাহিরাগত। সুতরাং প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বহিরাগতদের স্বার্থে নগরবাসীর দূর্ভোগ বাড়াবেন না এটাই স্বাভাবিক। যদিও সাংসদ সেলিম ওসমান ঐ সভায় প্র¯Íাব রেখেছেন সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা পেলে শহরের হকারদের জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপাড় বন্দরের ময়মনসিংহ পট্টি এলাকায় হকারদের জন্য একটি মার্কেট নির্মাণ করার প্র¯Íাব দিয়েছেন সেলিম ওসমান। এক্ষেত্রে হকারদের মধ্য থেকে নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। তবে কোন অবস্থায় শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসতে পারবে না বলে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।

জেলা আওয়ামীলীগের প্রথম সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে কবে?

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার প্রায় দেড় মাস পর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের প্রথম সিদ্ধান্তই যথাসময়ে বাস্তবায়নে আবারো পিছু হটতে হলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারী ব্যর্থতার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ দ্বিতীয় দফায় ১৭ ফেব্রুয়ারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণে টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার দিণক্ষন চূড়ান্ত করলেও ফের সেই দিনটিতেও বঙ্গবন্ধুর মাজারে যাওয়া স্থগিত করেছে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। ফলে অনেকটাই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জেলা আওয়ামীলীগের টুঙ্গিপাড়া যাত্রা বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন জেলা কমিটির একাধিক সদস্য। তবে দায়িত্বশীল নেতাদের দাবী, কমিটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাসহ কয়েকদিন পরেই দলীয় কিছু কর্মসূচী পালন করার প্রস্তুতি নেয়ার কারনে দ্বিতীয় দফায় ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার দিনক্ষন করা হলেও সেটি স্থগিত করা হয়েছে। যা আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারীর পর পুনরায় নির্ধারন করা হবে। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে সিঙ্গাপুর অবস্থান করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। আর মানবদেহে অস্ত্রোপাচারের কারনে শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে রাজধানীর দু’টি হাতালে চিকিৎসাধান আছেন, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ¦ নজরুল ইসলা বাবু এবং কার্যকরী সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম। এছাড়াও আরও কয়েকজন সদস্য নানাবিধ কারনে ব্যস্ত রয়েছেন। তাই ১০ ফেব্রুয়ারীর পর ১৭ ফেব্রুয়ারী নির্ধারিত সম্ভাব্য দিনের টুঙ্গিপাড়ায় যাত্রা স্থগিত করেছে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।

এইলক্ষ্যে ইতমধ্যেই জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্যদের প্রস্তুতি নিতে মৌখিক ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ১৫ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের ২ নং রেলগেটস্থ কার্যালয়ে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম বৈঠকে ১০ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

যার ফলে টুঙ্গিপাড়ার সেই অজপাড়া গাঁয়ে জন্মগ্রহণ করা স্বাধীন বাংলার স্থপতি ও স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত সেই ১০ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় আর যেতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।  পরবর্তীতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী বিকেলে শহরের দলীয় কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত আহ্বায়ক ভাষা সৈনিক মফিজুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণ সভার প্রাক্কালে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন জেলা কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। যেখানে ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের সিদ্ধান্ত নেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। তবে তারপূর্বে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতেই শহরের চাষাড়ায় আব্দুল হাইয়ের বাসায় ঘরোয়া বৈঠকে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান দলটির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা। আর ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে কমিটির সদস্যদেরও জানিয়ে দেন দায়িত্বশীল নেতারা।

কিন্তু শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) যখন টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্যরা, ঠিক তার আগমুহুর্তে ফের এইদিনটিতেও টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়ে দেন শীর্ষস্থানীয় নেতারা। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জানান, ‘১০ ফেব্রুয়ারীর পর ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারন করা হলেও দলের একাধিক শীর্ষ নেতা অসুস্থ্য থাকাসহ আগামী ২০ ও ২৫ ফেব্রুয়ারী দলীয় কার্যালয়ে কর্মসূচী থাকায় আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারীর পর টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।’ তবে পরবর্তীতে আবার কবে নাগাদ যাওয়া হতে পারে, এব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সম্ভাব্য কোন দিনক্ষণ জানাতে পারেননি আব্দুল হাই। তবে সাধারণ নেতাকর্মীরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়া হবে না জেলা আওয়ামীলীগের। উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক ও ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির ঘোষণার প্রায় বছর খানেক পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চাই

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

যুবলীগের কে›ন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল পারভেজ আড়াইহাজারে নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন। গতকাল শুক্রবার তিনি উপজেলার চম্পাক নগর বাজারে বাদজুমা সমাবেশটির আয়োজন করেন। উপস্থিত ছিলেন মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার, জাহাঙ্গীর হোসেন, নাজিম মোল্লা, বাচ্চু মিয়া, নবী হোসেন, দায়েন মোল্লা, মোজ্জামেল হক,সুমন মোল্লা, আনোয়ার, মুছা মিয়া, হানিফা, রফিক, ইউছু, নবী মিয়া, শাহপরান ও পারেভজ প্রমুখ। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ইকবাল পারভেজ বলেন, আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে জয়লাভ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এ আসনটি পুনরায় উপহার দেব। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। এখানে আগামী নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব আসবে। আড়াইহাজারের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে পূর্ব এলাকার ভোটেই এমপি নির্বাচিত হবে। ইতিহাস বলে অতীতেও তাই হয়েছে। আমি প্রতি নিয়তই এলাকায় গণসংযোগ করছি। আমার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক গুন বেড়েছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই আমি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করব। আপনারা আমার সাথে আছেন এবং থাকবেন। এছাড়াও গতকাল শুক্রবার বিকেলে আড়াইহাজারের খাগকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতি মো:নবী হোসেনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগ নেতা মো: জাহাঙ্গীর হোসেন. সাদেক মেম্বার, আবদুল্লাহ, শফিকুল সরকার, এড আনোয়ারসহ স্থানীয় আওয়ামীলী ও সহযোগী সকল সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সমাবেশে জনতার উদ্দেশ্যে ইকবাল পারভেজ বলেন, তার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আগামীতেও আওয়ামীলীগের সরকারকে ক্ষমতায় আনতে আপনাদের মূলবান ভোটটি প্রয়োজন।

শহরের প্রধান সমস্যা এখন যানজট

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নগরবাসীর দু:খ হিসেবে পরিচিত ফুটপাত দখল আপাতদৃষ্টিতে উচ্ছেদ হলেও অন্যতম সমস্য যানজট নিরসন এখনো হয়নি। যানজটের কারণে নগরবাসীর কর্মঘন্টা নষ্ঠ হচ্ছে প্রতিদিন। বঙ্গবন্ধু সড়কে আপাতত হকারমুক্ত হওয়ায় এই সড়কের যানজট প্রায় ৫০ ভাগ কমে গেছে। কিন্তু এখন অবৈধ পার্কিং ৫০ভাগ যানজট সৃষ্টি করছে প্রতিদিন। বিশেষ করে বহুতল ভবন, মার্কেট, অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ড এই যানজটে ভূমিকা রাখছে। একদিকে শহরের চাষাঢ়া খাজা মার্কেটের সামনে লেগুনা ও সমবায় মার্কেটের সামনে সিএনজি, ২নং গেইট ও চুনকা সড়কে ইজিবাইক, সিএনজির অবৈধ স্ট্যান্ড অন্যদিকে বহতল ভবন ও মার্কেটের সামনে অবৈধ পার্কিং যানজটের প্রধান কারণ।

শহরে প্রায় প্রতিদিনই ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। অথচ পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। শহরের চাষাড়া থেকে জিমখানা মন্ডলপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারের বঙ্গবন্ধু সড়কের দুপাশে রয়েছে অসংখ্যক বহুতল ভবন। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকটি ভবন ছাড়া কোন ভবনে নেই পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। চাড়ারগোপ এলাকায়ও একই অবস্থা। আবার যে কয়েকটি বহুতল ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে সেগুলো মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের জন্য নয়। ওই পার্কিং স্পেসগুলো বহুতল ভবনের আবাসিক বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। সেখানেই গড়ে উঠেছে গুদাম ঘর। ফলে ক্রেতারা তাদের গাড়ি মার্কেটের সামনে সড়কের উপর পার্কিং করে রাখে কেনাকাটা করতে যান। এতে ঘন্টার ঘন্টার ঘন্টা গাড়ি সড়কের উপর পার্কিং করা থাকে। আবার কেউ হাসপাতালে রোগী দেখতে বা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে চলে যান, গাড়িটি রাস্তার উপর রেখেই।  বঙ্গবন্ধু সড়কের দুইপাশে এমনভাবে পার্ক করা গাড়ির সংখ্যা দুইশোর কম হবে না।  গাড়িগুলো দুই লেনের সড়কের একটি লেনের অধিকাংশই দখল করে থাকে। এর ফলে প্রায় সময়ই তৈরি হয় তীব্র যানজট।

নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশের ধারনা একটাই যে, হকার উচ্ছেদের পর শহরে যানজটের নেপথ্যে এখন ভূমিকা রাখছে যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং। অন্যদিকে, শহরের উকিলপাড়া এলাকায় রয়েছে বেশ কিছু হোসিয়ারি কারখানা। এ কারণে ওই কারখানাগুলোর সামনের বঙ্গবন্ধু সড়কে মালামাল লোড-আনলোডের জন্য গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। এই অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট যানজটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। সম্প্রতি বিভিন্ন গনমাধ্যমে অবৈধ পার্কিংয়ের ব্যাপারটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে, প্রশাসন থেকে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় অনেক যানবাহনকে অর্থদন্ড ও মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কমছে না অবৈধ পার্কিং নামে দূরারোগ্য এই সমস্যাটি৷ তবে জনসাধারনের অনেকেই বলেন, এই সমস্যার সমাধান কেবল হবে যদি প্রতিটি বহুতল ভবনে পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নগরীর এক নম্বর রেল গেইট বাস স্ট্যান্ড থেকে পায়ে হেটে চাষাড়া আসতে সময় লাগে বেশি হলে দশ মিনিট। অথচ অতটুকু রাস্তা বন্ধন বাসে চড়ে চাষাড়া আসতে সময় লেগে যায় প্রায় আধঘন্টারও বেশি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যানজট। বঙ্গবন্ধু সড়েকে এরকম তীব্র যানজট সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার সময়ে আর সন্ধ্যার দিকে। শুধু বঙ্গবন্ধু সড়কেই নয়, শহরের চাষাঢ়া থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোর পাশে অবস্থিত বহুতল ভবনগুলোয় কোনও ধরনের পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় গাড়িগুলো রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এসব যানবাহন থাকার কথা সড়কের পাশে অবস্থিত বহুতল ভবনগুলোর কার পার্কিংয়ে। কিন্তু এসব বহুতল ভবনগুলোর গ্রাউন্ড ফ্লোরে দোকান, রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড কিংবা বাণিজ্যক কার্যালয় থাকলেও, রাখা হয়নি পার্কিংয়ের কোন জায়গা। যার প্রভাব পড়ছে নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে। এ বিষয়ে রাস্তার উপর অবৈধভাবে পার্ক করা কোন গাড়ির চালককে জিজ্ঞেস করলে তারা উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন, পার্কিংয়ের জায়গা না পেলে গাড়ি রাখবো কোথায়? নারায়ণগঞ্জ শহরে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের বাসস্থান-শিক্ষা-চিকিৎসা এবং নিত্য সরবরাহের প্রয়োজনে রয়েছে অসংখ্য বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। প্রতিনিয়ত এই ভবনগুলোর সংখ্যা বাড়ছেও। এসব বহুতল ভবন নির্মাণে রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ) সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। ভবনের চারপাশে কি পরিমান জায়গা খালি রাখতে হবে, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা কি হবে, ভিত্তিপ্রস্তর অনুযায়ী ভবনটি কত তলা হবে, সবকিছুরই সুনির্দিষ্ট উল্লেখ রয়েছে বিধিমালায়। রাজউকের অনুমোদন অনুযায়ী, প্রতিটি বহুতল ভবনের নকশায় থাকতে হবে কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। কিন্তু এসব বহুতল ভবনের মালিকেরা রাজউককে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে পার্কিং ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মান করছে তাদের বহুতল ভবনগুলো। বিধিমালার কোন তোয়াক্কাই করছেন না তারা।

 

বহুতল ভবনে যে কার পার্কিংয়ের জায়গা রাখতে হয় এই ব্যাপারটি যেন ভবন মালিকদের খেয়ালেই থাকে না। রাস্তাই যেন কার পার্কিংয়ের উপযুক্ত জায়গা। পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা না রেখে ভবন নির্মান চলছেই। পার্কিং বিহীন এসব ভবন নগরীতে নানা দূর্ভোগের সৃষ্টি করছে। বিল্ডিং কোড অমান্য করে প্রকাশ্যে নগরজুড়ে গড়ে উঠছে একের পর এক ভবন। কিন্তু এ নিয়ে রাজউক কিংবা সিটি কর্পোরেশনের কোন মাথা ব্যাথা নেই। এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এহতেশামূল হকের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, এ দায়িত্ব রাজউকের। এখানে হস্তক্ষেপ করার কোন আইনগত অধিকার সিটি কর্পোরেশনের নেই। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে তৈরি ভবনগুলোতেও নেই কোন কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। নগরে সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে যেসব বহুতল ভবন যেমন মাধবী প্লাজা, পদ্ম সিটি প্লাজা, নগর তথ্য কেন্দ্র তাদের একটিতেও নেই কোন কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। এমনকি বর্তমানে নির্মানাধীন পৌর পাঠাগারের কোথাও রাখা হয়নি কার পার্কিংয়ের জায়গা। এ সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এহতেশামূল হক বলেন, ‘আমি তো নতুন। আমি তো আগের ব্যাপার কিছু জানি না। যারা ছিলেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।’ তাহলে কাকে জিজ্ঞেস করবো? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তখন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেনের মুঠোফোনের নাম্বার দিয়ে বলেন, ওনার (মো. আজগর) সাথে কথা বলতে। তখন তিনি বলেন, ‘তবে এগুলো ম্যাডামের (মেয়র) ইন্সট্রাকশন অনুযায়ীই হয়। আপনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে ডিটেইলস জানতে পারবেন।’ কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেনের মুঠোফোনের নাম্বারে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।’