ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে মহাজোট, হ-য-ব-র-ল অবস্থা ঐক্যফ্রন্টে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নির্বাচনী হাওয়ায় নারায়ণগঞ্জে উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সক্রিয় ভাবে মাঠে নামতে শুরু করেছে। মহাজোটের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে আচারণ বিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়লেও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা প্রশাসনের বাধার মুখে নির্বাচনী মাঠে নামতে পাড়ছেন না বলে অভিযোগ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের। এদিকে, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা চূড়ান্ত হলেও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা নিয়ে হযবরল অবস্থা তৈরী হয়েছে। মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে তখন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষে পরিনত হয়েছে। দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপি তখা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যে উত্তজনা বিরাজ করছে। জানাগেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান পাঁচ সাংসদই। যার মধ্যে তিনটি আসনে ‘নৌকা’ প্রতীক ও দুটি আসনে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থী রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের একাংশ নেতারা ‘নৌকা’র প্রার্থী দাবী করলেও দুটি আসনে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থী দিলেও অত:পর নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে মহাজোটের প্রার্থীরাদের বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন। এমনকি যারা নৌকার দাবীতে সবচেয়ে বেশি তৎপর ছিলেন তারাও এখন লাঙ্গল প্রতীক তথা মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন। অপর দিকে, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। জানাগেছে, নির্বাচনী কৌশল হিসেবে প্রতিটি আসনে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের একাধিক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়া হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতারাই এখন বিএনপি শত্রুতে পরিনত হয়েছে। রূপগঞ্জ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল তৈমূর আলম খন্দকার, কাজী মনির ও দিপু ভূইয়াকে। কিন্তু গতকাল শনিবার কাজী মনিরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হলে বেপরোয়া হয়ে উঠে তৈমূর সমর্থকরা। গতকাল শনিবার তৈমূরকে মনোনয়ন না দেয়ায় বিএনপির কেন্দ্রেীয় কার্যালয়ের ভাংচূড় চালায় তার সমর্থকরা। দলীয় কার্যালয়ে ভাংচূড় করা অনেকটা সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। কেননা দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হলেও তৈমূরের এমন কান্ডে নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ। গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৈমূর সমর্থকের ভাংচূড়ের ঘটনা বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার হওয়ার পর কাজী মনিরের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আড়াইহাজার আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষনার পর আতাউর রহমান আঙ্গুরের সমর্থকরা অনেকটা ক্ষুব্ধ। তারা দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার অহীহা প্রকাশ করেছেন। সোনারগাঁ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান একক প্রার্থী হওয়ার তার মনোনয়ন নিশ্চিত এটা অনেক আগে থেকেই স্পষ্ট। কেননা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পরেই তিনি উপজেলার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার মান্নানের ড্যামী হওয়ার ইচ্ছে না থাকায় বিএনপির অপর প্রার্থী আবু জাফর রিটানিং অফিসারের কাজে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়নি। এ আসনে বিএনপির হেভীওয়েট নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম দলীয় মনোনয়ন ফরমটি না পাওয়ায় তার সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে অনীহা প্রকাশ করেছেন। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন শাহ আলম নিশ্চিত হলেও শেষ পর্যন্ত দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ধানের শীর্ষ প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করবেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তবে মনির হোসাইন কাসেমীর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে শাহ আলমের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শাহ আলমকে মনোনয়ন দেয়া না হলে তিনি আর রাজনীতিই করবেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্টজনরা। মনির হোসেন কাশেমীকে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দেয়ায় নেতাকর্মীদের হতাশা নেমে এসেছে। একজন অখ্যাত ব্যক্তিকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়ার খবরে নারায়ণগঞ্জ ছিল ‘টক অব দ্যা টাউন’। এদিকে, এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন। সদর-বন্দর আসনে আবুল কালাম বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীয় থাকলেও অত:পর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এম.এম আকরাম। এতে করে ক্ষিপ্ত হয়েছেন আবুল কালামের সমর্থকরাসহ মহানগর বিএনপির নেতারা। তারা বলছেন, দলের ক্রান্তি সময়ে আবুল কালাম মাঠে ছিল আর দলীয় প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করতে অন্য কেউ এটা আমরা মানতে পারছি না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *