কালামের ধানের শীষ আকরামের হাতে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
এক সময়ের আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক সাংসদ বিএনপি দলটির শরীক দল নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর-বন্দর আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম চূড়ান্ত মনোনয়ন দৌড়ে ছিটকে পড়েছেন। যদিও ক্লিন ইমেজধারী ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা আকরাম অনেক আগে থেকেই এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে গ্রীন সিগন্যাল পেয়েছেন। তবে মনোনয়ন দৌড়ের নাটকীয়তায় খেলা পাল্টে যাওয়ার নানা ঘটনা দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে সকল নাটকীয়তাকে ছাপিয়ে মনোনয়ন রেসে চমক দেখিয়ে এক সময়ের জনপ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাংসদ আকরাম এখন ধানের শীর্ষ প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী আকরাম এখন নৌকার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। আর নৌকা থেকে ধানের শীষে তরী ভিড়ানো নেতা আকরাম দুটো দলের ভোট টানতে সক্ষম হবে বলেই তাকে মূলত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আকরামের মত জনপ্রিয় একজন নেতাকে আওয়ামীলীগ হারালেও বিএনপি সেই ভুলটি করবেনা বলেই মনে হচ্ছে। আর তাতে বিএনপি দলীয় মার্কা ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামছেন এই নেতা। অন্যদিকে সংস্কারপন্থীদের তাকমায় বিতর্কিত ও সমালোচিত মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম তার সাথে মনোনয়ন দৌড়ে বাদ পড়েছেন।’ এর আগে এস এম আকরাম ১৯৯৬ সালে শহর ও বন্দর আসন থেকে আওয়ামীলীগের টিকেটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নব্বইর দশকে আওয়ামীলীগের শাসনামলে যেখানে জেলা জুড়ে আকরাম ধরে রেখেছিলেন নিজের ক্লীন ইমেজ। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সরকার গঠনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েও দলীয় নির্দেশে তাকে সরে দাড়াতে হয়। এরপর নানা কারণে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে আওয়ামীলীগ থেকে সরে দাড়ান এস এম আকরাম। যোগ দেন মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যে। এদিকে ২০১৪ সালের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে এস এম আকরাম ৬৬ হাজার ১১৪ ভোট পেয়েছিলেন। অথচ ওই নির্বাচনে সেলিম ওসমান সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও পেয়েছিলেন ৮২ হাজার ৮৫৬ ভোট। তাই এই নেতা এই আসনে সকল প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। এমনকি সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ভোটারদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে এই নেতার নাম এখনো রয়েছে বলে তাদের তালিকা তার নাম রয়েছে। এতে করে তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটি তাদের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে আসন ভাগাভাগি ফের ছাড় দিয়েছে। তাতে করে এই আসনে ফের সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হচ্ছেন। যেকারণে এই আসনে এস এম আকরামের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর আগে অনেকটা বিরাগভাজন হয়ে আওয়ামীলীগ দল ত্যাগ করে নাগরিক ঐক্যে যোগদান করে এস এম আকরাম। এদিকে সম্প্রতি নাগরিক ঐক্য, বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলে ঐক্যফ্রন্টের সবগুলো দলের কমন প্রতীক ধানের শীষ দেয়া হয়। তাতে করে আর মধ্যে শরীক দলগুলোর সাথে আসন ভাগাভাগিতে গিয়েছে বিএনপি দলটি। যেকারণে নারায়ণগঞ্জে জেলার বন্দর ও সদর আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকায় এস এম আকরামকেও চিঠি দেয়া হয়। তবে পরবর্তীতে চূড়ান্ত মনোনয়নে বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ আবুল কালামকে বাদ দিয়ে নাগরিক ঐক্যের আকরামকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এদিকে ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থীদের দলে ভিড় করে কলঙ্কের তাকমা লাগানো মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম দলটির দুঃসময়ে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে দলীয় কর্মসূচিতে নিজেকে গুটিয়ে নেন। আর তাতে করে দলের নেতাকর্মীরাও বেশ বেকায়দায় পড়ে যায়। এতে করে কেন্দ্রীয় নেতা তাকে নিয়ে সমালোচনাও করেছেন। যেকারণে দলের নেতাকর্মীরা তার উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। যেকারণে ধানের শীষ প্রতীকের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম আকরামের পক্ষে বিএনপি দলটির অনেকে ঝুড়ে পড়েছেন। এছাড়াও কালামের একনিষ্ঠ অনুগামীরা এই আসনের বর্তমান সাংসদ ও জাতীয় পার্টি দলটির প্রার্থী সেলিম ওসমানের পথে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে সেলিম ওসমানের বিভিন্ন অনুষ্টানে বিএনপি দলটির এরুপ অনেক নেতাকেই দেখা যাচ্ছে। যেকারণে কালামের চূড়ান্ত মনোনয়নের পথে কঠিন সমীকরণ তৈরি হয়। এসব বিষয়কে বিবেচনা করে কেন্দ্র থেকে শেষতক সংস্কারপন্থী ও সমালোচিত নেতা কালামকে বাদ দিয়ে ক্লিনইম্যেজধারী আকরামকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সদর-বন্দর আসনকে কেন্দ্র করে নাটকীয়তার অন্ত ছিলনা। তবে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষতক এক সময়ের আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক সাংসদ আকরামের হাতে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে আকরাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নামবেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *