কায়সার স্বতন্ত্র জোটের পক্ষে খোকা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সোনারগাঁ আসনে লাঙল প্রতিককে ছাড় দেয়া হলেও নৌকা প্রতিকের মনোনয়নের প্রত্যাশায় কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে গিয়ে তিনি আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের সমর্থন আনুষ্ঠানিক পায়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাকেই সোনারগাঁ আসনের হাল ধরতে হচ্ছে। একই সাথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও নৌকা প্রতিকের দাবীদারদেরকে লাঙলের উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে। সূত্র বলছে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমকে পরাজিত করে সোনারগাঁ আসনটি দখলে নেন আওয়ামীলীগের তরুণ প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। কিন্তু পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে আর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হয়নি। মনোনয়ন দেয়া হয় মহাজোটের প্রধান শরিকদল জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকাকে। এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়াই সহজেই সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে যান তিনি। কিন্তু বিগত ৫ বছরে লিয়াকত হোসেন খোকাকে আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মীই মেনে নিতে পারেনি। ফলে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার মনোনয়নের বিরোধীতায় ছিলেন নৌকা প্রতিকের দাবীদার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। কিন্তু নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসে আওয়ামীলীগের বাছাইপর্বে এই আসনটি এবারেও জাতীয় পার্টির জন্য ছাড় দেয়া হয়। আর এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছিলেন না আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নৌকা প্রতিকের সকল মনোনয়নপ্রত্যাশী হার মানলেও হাল ছাড়েননি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়ন পত্র জমাও দিয়েছিলেন। তিনি আশায় ছিলেন শেষ পর্যন্ত তাকেই আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন দেয়া হবে। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে তাকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ফলে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের র্বতমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাকেই মেনে নিতে হবে। জানা যায়, ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার ধানমন্ডিতে দলের সভানেত্রীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করেছে আওয়ামী লীগ। যে ১৭টি আসনে একাধিক প্রার্থীকে দলের মনোনয়ন ফরম দেয়া হয়েছিল, সেগুলোকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ওইসব আসনে একজন করে প্রার্থী থেকে বাকিদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকমান্ড। ঘোষিত এই ১৭ আসনের মধ্যে সোনারগাঁ আসনের নাম আসেনি। ফলে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী কায়সার হাসনাতকে শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতিকের হাল ছাড়তে হচ্ছে। যদিও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। তবে সেক্ষেত্রে দল থেকে চিরস্থায়ী বহিস্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে এই আসনে এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেয়ায় নৌকা প্রতিকের দাবীদার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরকে লাঙল প্রতিকের উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে। অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদেরকে লাঙল প্রতিককে মেনে নিতে হচ্ছে। একই সাথে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অপছন্দের তালিকায় থাকা লিয়াকত হোসেন খোকাকেই নৌকা ও লাঙল প্রতীকের হাল ধরতে হচ্ছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *