জেলা আওয়ামী লীগে ফ্যাক্টর যাঁরা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সহসাই বদলে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিসংখ্যান। আর বদলে যাওয়ার এই পালে ইদানিং সময়ে সবচেয়ে বড় হাওয়া দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘদিন বিরোধীতার পর ১ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় নেতৃবৃন্দ ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদর-বন্দর আসনের সাংসদ ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়কে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে তাদের পক্ষে নির্বাচনের মাঠে থাকবার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে জেলাজুড়ে। পাশাপাশি এরপর থেকেই জেলা আওয়ামীলীগ ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের জন্য কী সিদ্ধান্তে উপনীত হয় সেদিকে রয়েছে সচেতন মহলের সজাগ দৃষ্টি। তবে এই ইস্যুতে জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত গ্রহণ মহানগর আওয়ামীলীগের মতো সহজ হবে না বলেই মনে করছেন জেলার অধিকাংশ রাজনৈতিক পরিষদ। সূত্র বলছে, শামীম ওসমানকে দলীয় কারণে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হলেও মহাজোট প্রার্থী সেলিম ওসমানকে নানা কারণে বয়কট করতে পারে জেলা আওয়ামীলীগ। মূলত দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার দাবিতে সরব ছিলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। সে সময় মহজোট থেকে যাকে প্রার্থী করা হবে তাকেই তারা মেনে নিবেন। তবে সে সময় নানা কারণে আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতৃবৃন্দের সাথে সরাসরি বিরোধীতায় জড়িয়ে পরেন তিনি। ফলে সেসকল নেতৃবৃন্দ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে সেলিম ওসমানকে গ্রহণ করবেন নাকী বয়কট সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। এদিকে সাংসদের সমর্থকদের কেউ কেউ দাবি করেছেন লাঙল হটাও দাবির আড়ালে সেলিম ওসমান ঠেকাও মিশনেই সরব হয়েছিলো আওয়ামীলীগ। সেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন ছিলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের। যাদের কেউ কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন বলেও জানা যায়। ফলে সেসকল নেতৃবৃন্দ আর যাই হোক সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন সে বিষয়টি অনেকেরই প্রত্যাশার বাইরে। অন্যদিকে ওসমান পরিবারের সাথে চুনকা পরিবারের বিরোধীতাপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যার ফলে মেয়র আইভীর সাথে সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান কয়েকবার জেলার উন্নয়নের জন্য বসতে চান এমন ঘোষণা দেয়ার পরেও কোনো সারা দেননি মেয়র। যার ফলে বৈরিতা ছড়িয়েছে ওসমান সমর্থক ও আইভী সমর্থক উভয়ের মধ্যেই। আবার জেলা আওয়ামীলীগ কমিটিতে মেয়র আইভীর অনুরাগীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ফলে সে সকল নেতৃবৃন্দ শেষ পর্যন্ত ওসমান ভাতৃদ্বয়কে বয়কট করার চেষ্টা করবেন সেটাই স্বাভাবিক। আবার একাদশ জাতীয় তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ওসমান ভাতৃদ্বয়ের অনেক সমর্থক অভিযোগ করে আসছেন যে ফতুল্লা-সিদ্দিরগঞ্জ ও সদর-বন্দর আসনের মহাজোটের প্রার্থীর বিপরীতে যারা রয়েছেন তাদের কারও কারও সাথে জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ গোপনে বৈঠক করে আসছেন। ফলে সেসকল নেতৃবৃন্দ ওসমান ভাতৃদ্বয়ের পক্ষে যে কোনো সিদ্ধান্তে আসার পূর্বে ভেটো দিবেন বলেই মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকগণ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *