রাজনীতির মাঠে নেই বিএনপির নেতারা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর আত্মগোপনে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বেশীরভাগ সিনিয়র নেতা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিজেদের আপাতত গুটিয়ে রেখেছেন তারা। নেতাদের অনুপস্থিতিতে ভয়াবহ এই দূর্যোগ সামলে উঠার জন্য সঠিক দিক নির্দেশনা পাচ্ছে না মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকরা। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূলে দেখা দিয়েছে হতাশা। এই হতাশা কাটিয়ে উঠে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে সকল সিনিয়র নেতাকে ব্যাক্তিগত দ্বন্দ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা। সূত্রে প্রকাশ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পরে খুবই করুণ অবস্থা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অবস্থা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এমন বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হয়নি দলটি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অবস্থাতো আরো নাজুক, এখানে দলের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই নির্বাচনে প্রকাশ্যে সরকারী দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। আর মনোনয়ন না পাওয়ায় মাঠেই নামেননি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অনেক শীর্ষ নেতা। নির্বাচনের সেই আত্মগোঁপন থেকে এখনও বের হননি তারা। তাছাড়া নির্বাচনের পূর্বে দায়ের হওয়া বিভিন্ন নাশকতার মামলায় আসামী হওয়ায় আপাতত সবকিছু এড়িয়ে চলছেন তারা। রূপগঞ্জ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামানের জন্য এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে দেখা গেছে নির্বাচনের মাঠে। তাছাড়া জেলা বিএনপি’র কোন উল্লেখযোগ নেতাকে দেখা যায়নি কাজী মনিরের পাশে। আড়াইহাজার আসনে বিএনপি’র প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের সাথে দেখা যায়নি আড়াইহাজারের সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরকে, এমনকি আড়াইহাজার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন কিংবা জেলা বিএনপি’র কোন নেতা মাঠে নামেননি ধানের শীষের পক্ষে। সোনারগাঁ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে নির্বাচনের মাঠে ছিলেন না সাবেক এমপি রেজাউল করিম কিংবা জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি খন্দকার আবু জাফর। নির্বাচনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত তারা দৃশ্যপটের বাইরেই রয়েছেন। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাশেমীর নির্বাচনী গনসংযোগে একদিনও জেলা বিএনপি নেতাদের দেখা যায়নি। এ আসনের সাবেক সাংসদ মো: গিয়াসউদ্দিন এবং জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি মো: শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু ২০ দলীয় জোটকে বিএনপি এই আসন ছাড় দেয়ায় তারা মনোনয়ন বঞ্চিত হন। আর এর পর থেকেই আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাদের। সদর-বন্দর আসনে ধানের শীষের এসএম আকরামের পক্ষে প্রচারনায় প্রথম দিকে দুয়েকদিন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালসহ নেতাকর্মীদের দেখা গেলেও পরবর্তীতে আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে দলের সিনিয়র নেতাদের অনুপস্থিতিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই নাজুক অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীরা। পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশার জন্য জেলা ও মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। আর তাই সকল দ্বন্দ সংঘাত ভুলে নেতাদের এক কাতারে আসার আহবান জানিয়েছেন কর্মী সমর্থকরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *