শামীম ওসমানের বিজয়ে নেতাকর্মীদের অবদান

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে তৃতীয়বারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন একেএম শামীম ওসমান। এর আগে ১৯৯৬ সালেও তিনি এই আসনের সাংসদ ছিলেন শামীম ওসমান। শামীম ওসমানের টানা দ্বিতীয় বার এমপি নির্বাচিত হবার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে তাঁর সহধর্মিনী লিপি ওসমান ও ছেলে অয়ন ওসমানের পাশাপাশি এ আসনের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। একদিকে লিপি ওসমান স্বামীর পক্ষে বিভিন্ন উঠান বৈঠক করে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে বেড়িয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে তেমন একটা সরব না থাকলেও ছেলে অয়ন ওসমানের ভূমিকাও ছিল উল্লেখ যোগ্য। পুনরায় এমপি নির্বাচিত হবার পেছনে পরিবার ও আপনজনদের অবদান তো রয়েছেই। এই বিজয়ে আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অবদান বেশি থাকলেও নির্বাচনের পর এ বিজয়ের পিছনে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিজেদের অবদানকে সাংসদ শামীম ওসমানের সামনে বড় করে তুলে ধরছেন। তাদের দাবী তারা, নির্বাচনী প্রচারণায় রাত-দিন এক করে খেটেছেন শামীম ওসমানের জন্য। এই তালিকায় রয়েছেন, বিএনপির সাবেক এমপি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু ভূইয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা এহসানুল হাসান নিপু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও নাসিক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রফেসর শিরিন বেগম, মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইসরাত জাহান স্মৃতি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম রাফেল, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে হেভিওয়েট নেতা হিসেবে শামীম ওসমানই মনোনয়ন পাবে এমনটাই আলোচনা ছিল। শেষ মুহুর্তে দেখা যায়, শামীম ওসমানই এই আসনে মনোনয়ন পান। মনোনয়ন পাবার আগে থেকেই বিভিন্ন কর্মীসভার মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে নেন। মনোনয়ন পাবার পর থেকে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একটানা উঠান বৈঠক, পথসভা, গণসংযোগ চালান তিনি। পুরো প্রচারণার সময় জুড়ে প্রায় সাড়ে চারশ’রও উপরে উঠান বৈঠক করেন তিনি। মনোনয়ন পাবার পূর্বের কর্মীসভা থেকে শুরু করে মনোনয়ন পাবার পর বিভিন্ন প্রচারণার প্রতিটি আয়োজনে সক্রিয় ছিলেন উল্লেখিত নেতারা। শামীম ওসমানের বিজয়ে এইসব নেতাকর্মীদের ভূমিকা অন্যতম। তবে সাধারণ মানুষ মনে করে, শামীম ওসমানের কর্মীবান্ধব ভূমিকার জন্য এ আসনের দায়িত্বশীল নেতাদের চাইতে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অবদান ছিল বেশি। প্রসঙ্গত, একেএম শামীম ওসমান সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *