ঘুরে দাঁড়াতে চায় না’গঞ্জ বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সারা দেশসহ নারায়ণগঞ্জেও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট দাপুটের সাথে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে। কাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ নতুন সরকার প্রধান হিসাবে শপথ গ্রহণ করবেন। এ দিকে জয় পেয়ে আওয়ামীলীগ তথা মহাজোট আনন্দ উল্লাস করে দিন কাটাচ্ছে। আর বেকায় রয়েছে বিএনপি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নানা কারচুপির অভিযোগ এনে বয়কট করে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নির্বাচিত সাংসদরা শপথ গ্রহণও করেননি। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে দলটির সক্রিয়তা বাড়লেও বর্তমানে দিশেহারা অবস্থা বিরাজ করছে দলটিতে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কয়েকদিন পূর্বেও নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। দলের চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে দলটি নির্বাচনে যাবে না বললেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকালীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্যন্টের সাথে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হতে থাকে। মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতাই বিগত সময়ে ঘরোয়া রাজনীতি করলেও তারা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হতে থাকে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে মনোনয়ন পেতে অনেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। কিন্তু চূড়ান্তভাবে নারায়ণগঞ্জের ৩টি আসনে বিএনপির প্রার্থী দেয়া হয়। বাকি দুইটি আসন জোটকে ছেড়ে দেয় দলটি। এদিকে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদর-বন্দর আসনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেয়াতে বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাড়ান। পুরো নির্বাচন জুড়ে জোটের প্রার্থীকে কোন সহযোগিতাই তারা করেন না। এমন অবস্থায় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহুর্তে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে আসেন দলটির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। এমনকি বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা সরকার দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে দলটির ঘূরে দাড়ানো তো দূরে থাক দলের চেইন অব কমান্ডই ভেঙ্গে পড়ে। অন্যদিকে যেসব নেতাকর্মী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন তারা বিভিন্ন ‘গায়েবি’ মামলায় জর্জরিত হয়েছেন। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাকিরা পলাতক থেকেছেন। সংসদ নির্বাচন শেষ। নারায়ণগঞ্জের সবকটি আসনে পরাজিত হয়েছে দলটি। এদিকে নির্বাচনে নানা কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কটও করেছে বিএনপি। শপথ গ্রহণ করেনি দলের নির্বাচিত সাংসদরা। নির্বাচন শেষে কোন কার্যক্রমই নেই তাদের। নেতাকর্মীদের কোন নির্দেশনা নেই। অলস দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনার দিকে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘প্রহসনের নির্বাচন আমরা বয়কট করেছি। এখন ভবিষ্যত পরিকল্পনা যা করার কেন্দ্র করছে। আমরা কেবল নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলেই আবার মাঠে নামবে বিএনপি।’ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, ‘আমরা একটি রাজনৈতিক দলের অংশ। একটি জোটের অংশ। আমাদের কর্মসুচিগুলো কেন্দ্র থেকে নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্র কোনো কর্মসূচী গ্রহণ করলে আমরা সে কর্মসূচী সফলের জন্য কাজ করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে, মামলা দেয়া হয়েছে। এ গায়েবি মামলা থেকে অনেকে বেড়িয়ে এসেছে আবার অনেকে এখনো জেলে। অনেকে আবার যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনে আমার একটি ধাক্কা খেয়েছি যা আমাদের নেতাকর্মীরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সবাই জানে দেশে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন হলে এখন অন্য একটি প্রেক্ষাপট থাকতো। একটি দলে মূলেই রয়েছে তার তৃণমূল কর্মীরা। আমাদের কর্মীরা যার যার মতো আছেন তবে সময় হলে তারা আবার একত্রিত হবেন এবং রুখে দাঁড়াবেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।’ তবে নির্বাচন পরবর্তি রূপগঞ্জে কিছু সংহিংসতার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন খুব দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষণদের মতে বিএনপি সহসা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। যেহেতু বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামীলীগ থেকে অনেক পিছিয়ে তাদের এ সংকট কাটিয়ে উঠা অনেক সময় লাগবে। এ জন্য বিএনপির আরো ৫টি বছর দৈর্য্যধারণ করতে হতে পারে। তাছাড়া দলটির যে ৫ জন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন তারা যদি শপথ গ্রহণ না করে তবে মাঠ পর্যায়ে তারা যত চেষ্টাই করুক বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভবনা খুবই কম। রাজনৈতিক বিশ্লেষণদের মতে সংসদে গিয়ে জনগণের ভোটের প্রতি সন্মান দেখিয়ে সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের সমালোচনাসহ মাঠ পর্যায়ে দল গুছানোর চেষ্টা করলেই তারা সফলতার মুখ দেখতে পারবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *