ইসমাইলকে মতির হুমকির অডিও প্রকাশ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সিদ্ধিরগঞ্জের ৬নং ওয়ার্ডে আদমজী নতুন বাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনার আগে জমির মালিক আওয়ামীলীগ কর্মী ইসমাইলকে পেটাতে পেটাতে বাড়ি থেকে ধরে আনার হুমকী দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক মতিউর রহমান মতি। এসময় ইসমাইলকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দও করেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকী দেন কাউন্সিলর মতি।জানা গেছে, আদমজী নতুন বাজার এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থক আবদুল হান্নান ও ইসমাইলদের সঙ্গে প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির অনুগামী আবদুর রাজ্জাকের ৯ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই শালিসী বৈঠকও হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন আবারো জড়ো হলে প্রথমে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে প্যানেল মেয়র মতি অকথ্য ভাষায় হান্নান ও ইসমাইলকে গালাগাল করে। তখন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে একপর্যায়ে মতিকে কুপিয়ে জখম করে। সংঘর্ষে হান্নান, ইসমাইল, মজিবর, সানু, আলমগীর, রোকেয়া, সুরভী, রাজ্জাক মিয়া, মনির হোসেন, সোহেল, ফারুক হোসেনসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মতিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। সংঘর্ষের আগে একটি জমির মালিক ইসমাইলের মুঠোফোনে কল করেন প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির সহযোগী মানিক। প্রথমে ইসমাইলকে কাউন্সিলর অফিসে আসতে বলেন মতির সহযোগী মানিক। তখন ইসমাইল মানিককে বলে সে এখন নামাজে যাবে মাগরিবের নামাজের পরে সন্ধ্যায় কাউন্সিলর অফিসে আসবেন। তখন মানিক প্যানেল মেয়র মতিকে ফোন দিলে ইসমাইল প্যানেল মেয়র মতিকে সালাম দেয়। কিন্তু মতি সালামের জবাব না দিয়েই তাকে বলে, ‘‘এক্ষুনই আসবি নাকি লোক দিয়া ধরাইয়া আনমু।’’ইসমাইল তাকে নামাজের পরে কাউন্সিলর অফিসে আসবে বলে জানালে মতি ক্ষুব্দ হয়ে তাকে বলেন, ‘‘এখনই না আসলে তাকে পেটাতে পেটাতে বাড়ি থেকে ধরে আনা হবে।’’মতি তখনই তার অনুগামীদের নির্দেশ দেন ইসমাইলকে পিটাতে পিটাতে বাড়ি থেকে ধরে আনার জন্য। তখন মতি ইসমাইলকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে তাকে জিজ্ঞেস করে ‘‘তোর জন্মদাতা কয়টা। তুই আমারে চিনস?’’ তখন ইসমাইল মতিকে বলে ভাই আপনি এভাবে গালাগালি করছেন কেন। আপনি কথা ভাল মতো বলেন। তখন মতি আরো ক্ষুব্দ হয়ে ইসমাইলকে বলে ‘‘তোকে কেন এর জবাব দিতে হবে। তুই পার পেয়ে গেছিস বলে মনে করছস। আমি তোরে দেইখ্যা দিমু। তোর জায়গা…তোর…। তুই এখন আমার অফিসে হাজির হবি। তোর বাপে তোরে অর্ডার দিসে আমি তোর বাপ তোরে পিটামু তুই এখন অফিসে আয়। তোরে আমি কি করি তুই দেখবি। এই বলে প্যানেল মেয়র মতি ফোন রেখে দেন।’’আওয়ামীলীগ কর্মী ইসমাইল জানান, তার বড় ভাই ইবরাহিমের মাথায় ১৯৯৪ সালে বিএনপির সন্ত্রাসীদের গুলি বিদ্ধ হয়েছিল। তৎকালে তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমরা আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হলেও যুবলীগ সভাপতি ও প্যানেল মেয়র মতি স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপরেও স্টীম রোলার চালাচ্ছেন। অথচ ১৯৯৮ সালে জাতীয় পার্টির ক্যাডার মতি যোগ দেয় যুবলীগে। নিরীহ মানুষের জায়গা জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে এবং অবৈধ তেলের ব্যবসার মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে তিনি কাউকেই তোয়াক্কা করছেন না। আমাদের পৈত্রিক জমিও তিনি ওয়ারিশানের নাম দিয়ে দখলের চেষ্টা করছেন। গত বৃহস্পতিবার সে দলবল নিয়ে আমাদের জমি দখল করতে আসলে আমরা তাদেরকে বাধা দেই। তখন সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মতি পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে মতির ক্যাডাররা আমাদের বসতবাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এসময় তারা আমাদের বসতবাড়িতে থাকা গৃহবধুদেরও শ্লীলতাহানি করেছে। ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিল ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলার শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মন্ডল জানান, রাজ্জাক, হানান শেখ ও ইসমাইল তারা সকলেই মতির সমর্থক। তারা আমার সমর্থক নয়। তাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় মতির সমর্থকরা আমার এক সমর্থককে মারধর করেছে ও তারা বঙ্গবন্ধু কাউন্ডেশন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার কার্যালয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ওই কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি, শেখ হাসিনার ছবি, শামীম ওসমানের ছবি পুুড়িয়ে দিয়েছে। কাউন্সিলর মতির একান্ত সহযোগী আশরাফ উদ্দিন বলেন, হান্নান শেখের সঙ্গে রাজ্জাকের জমির নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধ মিমাংসা করার জন্য কাউন্সলর মতি কয়েকবার বৈঠকও করেছে। ঘটনার দিন কাউন্সিলর মতিকে হান্নান শেখ গালিগালাজ করে। পরে মতি ঘটনাস্থলে গেলে তারা মতিকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তিনি আরও জানান, সুবিধা নিতে নিজেদের বাড়িঘর ভাংচুর ও কার্যালয়ে আগুন নিজেরাই দিয়েছে। জানা গেছে, আদমজী নতুন বাজার এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের সমর্থক আবদুল হান্নান ও ইসমাইলদের সঙ্গে প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির অনুগামী আবদুর রাজ্জাকের ৯ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই শালিসী বৈঠকও হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন আবারো জড়ো হলে প্রথমে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে প্যানেল মেয়র মতি অকথ্য ভাষায় হান্নান ও ইসমাইলকে গালাগাল করে। তখন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে একপর্যায়ে মতিকে কুপিয়ে জখম করে। সংঘর্ষে হান্নান, ইসমাইল, মজিবর, সানু, আলমগীর, রোকেয়া, সুরভী, রাজ্জাক মিয়া, মনির হোসেন, সোহেল, ফারুক হোসেনসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মতিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *