অভ্যন্তরিন দ্বন্দ্বে ক্ষমতাবানরা কোনঠাসা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ইস্যুতে ঘটেছে নানা ঘটনা। ভেতর ভেতর হয়েছে সমঝোতা। কোথাও আবার লিখিত চুক্তিও হয়েছে। সমঝোতা আর চুক্তি মোতাবেক অনেকে নেতা শেষে মনোনয়ন না পেলে এমপিদের দারস্থ হয়েছেন। কেউবা ভোটে খেটেছেন মন দিয়ে। শর্ত ছিল নির্বাচনের পর বিভিন্ন সেক্টর দখল করবেন তারা। বিগত তথা ২০১৪ সালেও একই পন্থা অবলম্বন করা হলেও অনেকেই মানেনি। সে কারণেই এবার বেশ ছিল সতর্ক। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরেই শুরু হয়েছে অনেক কিছুর দৃশ্যমান পরিস্থিতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকান্ড আগামী দিনে পরিস্থিতি জটিল কিংবা চলছে লুটতরাজ। জানা গেছে, রূপগঞ্জ আসনে মনোনয়ন পান বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী। এখানে আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে কোন্দল ও গ্রুপিং। কারণ মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম যিনি কায়েতপাড়ার চেয়ারম্যান। যদিও শেষতক বসুন্ধরার চেয়ারম্যান তাদের মিলিয়ে দেন। তাদের মিলিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়। একটি ছিল গাজীর পিএস, এপিএসদের ক্ষমতা কমিয়ে নেতাদের হাতে ক্ষমতা বিলিয়ে দেওয়া। ভোটের আগে সেটা থাকলেও এখন আর থাকছে না। ফলে সেখানেও দেখা দিতে পারে বিশৃঙ্খলা। আড়াইহাজার আসনে আওয়ামীলীগ থেকে জয়ী হয়েছেন নজরুল ইসলাম বাবু। তবে তাকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজ দলীয় শক্তিশালী প্রতিপক্ষের জন্য অনেক কাঠখোড় পোহাতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কঠোর নির্দেশনার ফলে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত ইকবাল পারভেজ সহ অন্যান্যরা তার নজরুল ইসলাম বাবুর পক্ষেই কাজ করেছেন। তবে ইকবাল পারভেজ ভোটের আগে যতটা আলোচনায় ছিলেন এখন সেটায় নাই। সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্থানের চেয়ে পতনই ঘটতে পারে পারভেজের। কারণ বাবু সহজভাবে নিবে না ইকবালকে। সোনারগাঁ আসনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট থেকে লাঙল প্রতিকে নির্বাচিত হয়েছেন লিয়াকত হোসেন খোকা। কিন্তু নির্বাচনের আগ মুহূর্ত্বে লাঙল প্রতিকের চরম বিরোধীতা করেছিলেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তবে দলের কঠোর নির্দেশনায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের শেষ পর্যন্ত লাঙল প্রতিকের পক্ষেই কাজ করতে হয়। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার ভোটের ২দিন আগে সরে যান। এ নিয়েও আছে অনেক ঘটনা। খোকার পক্ষে আটঘাট বেধে মাঠে নামেন আওয়ামী লীগের উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম। সোনারগাঁয়ে গুঞ্জন আছে এখন থেকে সেখানকার অনেক ব্যবসা সংশ্লিষ্ট সেক্টর দেখভাল করবেন কালাম। আর সেই শর্তেই তিনি মাঠে নেমেছিলেন। ফলে সোনারগাঁয়ে কায়সার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, গাজী মজিবুর সহ অনেকেই বেশ বেকায়দায় পড়তে পারেন। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে আওয়ামীগের নৌকা প্রতিকে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। নিজ আসনে শামীম ওসমানের তেমন একটা প্রতিপক্ষ না থাকলেও অনেকেই মনোনয়প্রত্যাশী ছিলেন। আলীগঞ্জের শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ছিল তার বড় ধরনের জালিয়াতি। মামলার তথ্য গোপন আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে শতকরা ১ভাগ ভোটারের সাক্ষর জমা দিতে পারেনি তিনি। বাদ হয়ে যায় মনোনয়নপত্র। এরই মধ্যে ফতুল্লার কয়েকটি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় এসে যায় পলাশের নাম। বেকায়দায় পড়ে ওমরার নামে দেশ ছাড়েন পলাশ, ফিরেন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পর। তিনি মূলত বিভিন্ন সময়ে মামলার এজাহারে লিখেছেন ফতুল্লার সর্বশ্রেষ্ঠ অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা। সে কারণে ফতুল্লার গার্মেন্ট সেক্টরে কোন শ্রমিক নেতার নাম উচ্চারণ হলেই পলাশের নাম চলে আসে। সেই পলাশের কব্জায় ছিল অনেকগুলো সেক্টর যেখানে থেকে মাসে উপার্যন হতে লাখ লাখ টাকা। উঠেছিল চাঁদাবাজীর অভিযোগও। তবে নির্বাচনের আগে থেকেই নানাভাবে শামীম ওসমানের বিরোধীতা করেছিল পলাশ। সে কারণে ফতুল্লায় তার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত সেক্টরে আঘাত আসতে শুরু করেছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *