নেতৃত্ব শূন্য ফতুল্লা বিএনপি!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলার নাম নারায়ণগঞ্জ। আর এই জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনটি যেকোন দলের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বেশী আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ন। কেননা বিগত দিনের ইতিহাস বলে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের কর্মী সমর্থক ছাড়া বিশেষ করে দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজনীতির মাঠ কখনো গরম করতে পারেনি। অথচ সেই ফতুল্লা থানা বিএনপি এখন নেতৃত্ব শূন্যের পথে। এর কারন হিসেবে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হবার কারনে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহ্ আলম আর কোন রাজনীতি করবেন না। ব্যবসায়ী মানুষ, ব্যবসা নিয়েই থাকতে চান। অবশ্য যদিও তিনি এ ব্যপারে এখনো নিজ মুখে না বল্লেও তাঁর ঘনিষ্টজনরাই এ বিষয়টি প্রচার করছেন। এদিকে আবার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসও বিএনপির রাজনীতির সাথে আর যুক্ত থাকবেন না বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা। এর কারন ব্যখ্যা করে অনেকে বলছেন, তিনি ছিলেন শাহ্ আলমের অনুসারী। তার উপর সম্পর্কে তাঁরা শালা-দুলাভাই। যার ফলে শাহ্ আলম মনোনয়ন বঞ্চিত হবার পর থেকে দলের এই সাধারণ সম্পাদকে দলের আর কোন কর্মকান্ডে দেখা যায়নি। এমনকি দলীয় প্রতিকের প্রার্থী মনির হোসাইন কাশেমীর পক্ষে একটি মুহুর্তের জন্যেও দেখা যায়নি। আবার বিএনপির এই নেতা সরকার দলীয় সাংসদ শামীম ওসমানের দালাল হিসেবে অনেক আগে থেকেই সব মহলে পরিচিত। যেকারনে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রায় সব মহলের ধারনা যেহেতু শামীম ওসমানের দল আওয়ামী লীগ আবারো দেশের শাসন ক্ষমতায় এসেছে সেহেতু সুবিধাবাদী এই নেতা বিএনপির সাথে আর থাকবেন না। বরং আওয়ামী লীগেই যোগদানের সম্ভাবনা বেশী। এদিকে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে সরকার দলীয় প্রার্থী সাংসদ শামীম ওসমানের পক্ষে নৌকায় ভোট চাওয়ার অপরাধে একই থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে দলের সকল পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়। এখন তিনি বিএনপির একঝাক নেতাকর্মী নিয়ে আগামী ২/৪ দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগে যোগদানের কথা রয়েছে। এমতাবস্থায় দেখা যাচ্ছে, সেন্টু ছাড়াও থানা বিএনপির মুল চালিকা শক্তি সভাপতি শাহ্ আলম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকেও হারাতে বসেছে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত যদি এরই প্রতিফলন ঘটে তবে পুরোপুরি নেতৃত্বশুন্য হয়ে পড়বে দলটি। তবে এর সাথে দ্বিমত পোষন করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, কারো জন্যে কিছু থেমে থাকে না। বিএনপি একটা বড় দল। অতএব কেউ চলে গেলে তাঁর স্থানে দায়ীত্ব পালনের জন্য বিএনপিতে অনেক যোগ্য নেতা আছে। তবে শাহ্ আলম ভাই বিএনপির রাজনীতি আর করবেন না, এ ধরনের কথা আমি শুনিনি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *