আওয়ামীলীগ ফের উত্তর মেরুর দখলে!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দীর্ঘদিন ধরে দুটি বলয়কে ঘিরেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ পরিচালিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ওসমান পরিবারের নেতৃত্বে উত্তর বলয় এবং অন্যটি হচ্ছে চুনকা পরিবারের নেতৃত্বে দক্ষিণ বলয়। এই দুটি বলয়কে কেন্দ্র করেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতি পরিচালিত হয়ে থাকে। আওয়ামীলীগ ছাড়াও তারা তাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মাজে প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি হাতছাড়া হতে যাচ্ছিল উত্তর মেরুতে থাকা নেতাকর্মীদের। বিভিন্ন ইস্যুতে তারা অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এবারেরর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ফের উত্তর মেরুর দখলে যাচ্ছে। তারাই নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছেন পুরো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। বিপরীতে উত্তর মেরুতে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য সামনে কঠিন সময় আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত ওসমান পরিবারের উত্তর মেরু এবং চুনকা বলয়ের দক্ষিণ মেরুর বাইয়ে গিয়ে কেউ রাজনীতি করেনি। ওসমান বলয়ের উত্তর মেরুর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর একেএম শামসুজ্জোহার পরিবার এবং চুনকা বলয়ের দক্ষিণ মেরুর নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বঙ্গবন্ধুর আরেকজন ঘনিষ্ট সহচর আহমেদ আলী চুনকার পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে ওসমান বলয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান এবং চুনকা বলয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশের প্রথম নারী মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত যারাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আসছেন তারাই কোন না কোন মেরুর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আসছেন। এই দুই মেরুর বাইরে গিয়ে কেউ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। বিভিন্ন সময় এই দুই মেরুর বাইরে গিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করলেও কেউ সফল হতে পারেননি। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিকে এই দুই বলয় সবসময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে থাকেন। ফলে প্রায় সময় তাদের মাঝে দ্বন্দ্ব কলহ লেগেই থাকে। আবার কোন কোন সময় তাদের এই অন্তঃকোন্দল প্রকাশ্যেও রূপ নেয়। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারী হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় জড়িয়ে যান শামীম ওসমান বলয়ের নেতাকর্মীরা। প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর ইট পাটকেলের বৃষ্টিতে সেদিন কেঁপে উঠেছিল শহর। এই ঘটনায় কেন্দ্রের চাপের মুখে পড়ে যান শামীম ওসমান। যদিও আইভীও কিছুটা চাপে ছিলেন। ফলে উত্তর বলয়ের কর্ণধার মিলে নারায়ণগঞ্জ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন হিসেব-নিকেশে কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না চুনকার পরিবারের কর্ণধার আইভী বলয়ের সাথে। এর আগে জেলা ও মহানগর আওয়ামী যুব মহিলালীগের কমিটি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘনিষ্টজনরা শামীম ওসমানের সঙ্গ ছাড়েন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সদর-বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী উঠে। আর এই দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও আইভী সহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যমত পোষণ করে। নৌকার দাবীতে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট বন্ধু জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলও বিপক্ষে চলে যায়। অপর দুই বন্ধু আনিসুর রহমান দিপু ও খোকন সাহাও সদর-বন্দর আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে যান। পাশাপাশি শামীম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমানের সাথে বাকযুদ্ধেও জড়িয়ে যান আবু হাসনাত শহীদ বাদল। ফলে নৌকার প্রতিকের দাবীটি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠে। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে উত্তর মেরুর নেতা সেলিম ওসমানকেই সদর-বন্দর আসনে লাঙল প্রতিকের মনোনয়ন দেয়া হয়। অন্যদিকে উত্তর মেরুর আরেক নেতা শামীম ওসমানকেও ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের মনোনয়ন দেয়া হয়। একই সাথে এই নির্বাচনে উত্তর মেরুর দুই সহোদরই জয়ী হয়ে যান। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিতে উত্তর মেরুর প্রভাব কমতে থাকলেও তারা ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে দক্ষিণ বলয়ে থেকে রাজনীতি করা অনেকেই দক্ষিণ মেরুর নেতা শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *