পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটবেই: রাব্বি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, রাজা যায়, রাজা আসে ইতিহাসে বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধানদের আমরা দেখেছি। তারা মানুষের পক্ষে অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে স্বৈরশাসনের প্রতিষ্ঠা করেছেন। যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে টু শব্দ যাতে মানুষ করতে পারে না। তাদের স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য তারা ভয়ের একটি সংস্কৃতির রাজনীতি জিইয়ে রাখতে চায়। এটি আমাদের দেশের এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়েছে। আজকে জানুয়ারী মাসের ৮ তারিখ। ৬৯ এর এই দিনে এই শীতলক্ষ্যা নদীর টার্মিনালে আইয়ুব খান এসেছিলেন। তাকে সংবর্ধনার জন্য আমাদের নারায়ণগঞ্জের দুই পাশে নারী-শিশুসহ তারা বিভিন্ন পোশাকে সজ্জিত হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। সেসময় আইয়ুব খানের যে উন্নয়ন করেছেন সে মাস চলছিল। ওই দিন তাকে বিপুল সংখ্যক জনগণকে সংবর্ধনা দিয়েছিল। তাকে দেখতে গিয়ে টার্মিনালের একটি অংশ ভেঙ্গে গিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের নির্মমতা হচ্ছে এর ঠিক ১০ দিন পরে জানুয়ারীর ২০ তারিখে আসাদের মৃত্যুতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে গণঅভুত্থানের মধ্যে দিয়ে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ তাকে সংবর্ধনা জানাতে গিয়ে ঢল নেমেছিল, দুই সপ্তাহ পরে তাকেই আবার গণঅভুত্থানের পরে বিদায় করে দিয়েছে। আমাদের ইতিহাস এমনি ইতিহাস, মানুষের ইতিহাস এমনি ইতিহাস। সুতরাং বিজয়ের উচ্ছসিত হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করে মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী এটি কখনো হয় না। মানুষের ভেতরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ কোন না কোনভাবে ঘটবেই। বহি;প্রকাশের জন্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং হবেই। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের নগরের ৫নং ঘাট এলাকায় ৭০ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজনে ধারাবাহিক মোমশিখা প্রজ্জ¦ালন কর্মসূচীতে তিনি এসকল কথা বলেন। রফিউর রাব্বি বলেন, ৬ বছর অতিবাহিত হলেও ত্বকী হত্যার বিচার সংঘটিত হয়নি। অথচ হত্যাকান্ডের এক বছর যেতে না যেতেই তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও উন্মোচন করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, কারা, কোথায়, কেন, কী কারণে ত্বকী হত্যা করেছেন। আমরা এতে আশ্বস্থ হলাম, তদন্ত সংস্থা তারা একটি অপরাধের রহস্য উন্মোচন করেছে, অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে। কিন্তু অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকার কারণে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা যায়নি। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠ পোষকতায় তারা এই বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ত্বকী হত্যার বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দু’বারের তার মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু বিচার করেননি। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনি সংবিধান ছুয়ে শপথ করেছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপনি সচেষ্ট হবেন। আমরা দেখতে চাই, আপনি আপনার শপথ কতটা বাস্তবায়ন করেন। নাকি পুরনোই পথেই আপনি বিচরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি জানেন কারা ত্বকীকে হত্যা করেছে। কিন্তু গত দুই বছরেও হত্যার বিচার হয়নি। আমরা চাই, আপনি অচিরেই ত্বকী হত্যার বিচারের নির্দেশ দিবেন। যে বাস্তবতা তৈরী হয়েছে সেখানে কোন সংস্থাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সমস্ত নির্দেশ আপনার আদেশ-নির্দেশের উপর চলেছে। আমরা জানি এ অবস্থার অবসান ঘটবে। বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হবে। ত্বকীসহ চঞ্চল, আশিক, ভুলু, মিঠুসহ সকল হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছি। অপরাধী যেই হোক, তাকে অপরাধী হিসেবে বিচারের আওতায় আনবেন। আমরা আশা করি, ঘাতকদের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে জনগণের স্বার্থ বাস্তবায়ন করার জন্য আপনি নিয়োজিত থাকবেন এই দাবি জানাচ্ছি এবং ইতিহাসের যে অমোচনীয় যে লিখন সেটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে নাই এবং করবেও না। সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক, নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায় প্রমুখ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ন্যাপ জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আওলাদ হোসেন, সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সমমনা’র সভাপতি দুলাল সাহা, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজনসহ প্রমুখ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *