ভাগভাটোয়ারা নিয়ে ক্ষমতাসীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সুবিধাবাদি নেতারা বিভিন্ন সেক্টর দখল ও ভাগভাটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ড়ে। এতে করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ইমেজ ক্ষন্ন হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের নীরব ভূমিকার কারণে নামদারী নেতারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভূমিদস্যুতা থেকে শুরু করে, তেল সেক্টর, ডিস ব্যবসা, ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রন, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। নির্বাচনের পর নতুন করে এসকল সেক্টর নিয়ন্ত্রন নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। জানাগেছে, পঞ্চবটিতে শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ বাহিনীকে হটিয়ে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন অটোবাইক স্ট্যান্ডটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। তবে দু’দিন অতিবাহিত হতেই আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল বাহিনী জোরপূর্বক দখল নিয়ে নেয়। এতে করে পঞ্চবটিতে স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও যুবলীগের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। গতকাল বুধবার কুতুবপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মীর হোসেন মীরু বাহিনী ডিশ ব্যবসা দখলে নিতে ব্যপক তান্ডব চালিয়েছে। জানাগেছে, স্থানীয় ডিশ ব্যবসায়ী মনির হোসেন দওয়ান স্টার ক্যবল টিভি নেটওয়ার্কদ নামে বিগত ২৭ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাঁর সে ব্যবসা দখলে নিতে সন্ত্রাসী মিরুর ভাগিনা শাকিল সদ্য সমপ্ত জাতীয় নির্বাচনের পরদিন ৩১ ডিসেম্বর দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। পরবর্তীতে গত সোমবার সকালে তালা খুলে দোকানটি দখলে নিয়ে ডিশ ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা করে মিরু বাহিনী। গত ৩ জানুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি গুরুতর আহত হয়। জানা গেছে, কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির অনুসারী ফারুকের সাথে সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের অনুসারী ইসমাইল গংদের সাথে প্রায় ৫৪ শতাংশের একটি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল বেশ কয়েকদিন যাবত। দুই পক্ষই জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে। এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জের ইপিজেড ও তেল সেক্টর মতির নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এ সেক্টর দুটি হাত বদল নিয়ে যে কোন সময সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে গতকাল বুধবার মতিউর রহমান মতির বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপির শাসনামলে নির্যাতনের শিকার আওয়ামীলীগ কর্মী ইসমাইলের বড় ভাই মো: ইব্রাহিম। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে কাউন্সিলর মতির তান্ডব এবং থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারে প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি এবং দুই সহযোগী মানিক ও সেলিমের নাম বাদ দেয়ার বিষয়টিও পুলিশ সুপারকে অবগত করেন। যদিও মতি হুমকির ব্যাপারে অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এছাড়াও ফতুল্লার বিসিক নগরীর ঝুট সেক্টর নিয়ে বেশ কয়েক দিন যাতব উত্তেজনা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে, বিসিকের শুধু ঝুট সেক্টর থেকেই মাসে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। যা বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিয়ন্ত্রনে থাকলেও হাত বদলের চেষ্টা চলছে। সূত্র বলছে, গত পাঁচ বছরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক নেতারা সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। একাধিক বাড়ি-গাড়ীসহ অগণিত সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। এতে করে আওয়ামীলীগ সরকার ব্যাপক উন্নয়ণ করলেও এদের কারণে তা ভেস্তে যাচ্ছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *