বিএনপি নেতাদের ভিড় আদালতে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। এছাড়াও তিনটি আসনে জামানাতও হারাতে হয়েছে। এ পরাজয়ের পরও জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশান্তির দেখা মিলেছে নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই। বিভিন্ন মামলা হামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপনে জীবন যাপন করলেও বর্তমানে নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরেছে। ইতোমধ্যে দুই দফায় ২৩জনের বেশি নেতাকর্মী নি¤œ আদালত থেকেই জামিন পেয়েছেন। তবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশী আতংক তাড়া করে বেড়ায় বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের। একের পর এক মামলা ও নানা ধরনের চাপের কারণে ভোটের দিন তো দূরের কথা তফসিল ঘোষণার পর থেকেই কার্যত ছিলেন বাড়ির বাইরে। মামলার কারণে ভোটের আগে প্রতিনিয়ত এসব নেতাদের বাড়িতে তল্লাশী ও অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত যৌথ বাহিনী। ফলে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও পরিবারের লোকজনরাও ক্রমশ ভীত হয়ে উঠতে শুরু করে। ভোটের পর থেকে সে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এখন ফের ফিরছে নেতাকর্মীরা। কিন্তু তার পরেও বিরাজ করছে অজানা ভয়। জানা গেছে, ২০১৮ সালের শুরু থেকেই একের পর এক রাজনৈতিক, নাশকতা, বিশৃঙ্খলা সহ বিভিন্ন মামলায় আসামী হওয়ার অর্ধশতাধিকের রেকর্ড ভেঙেছেন বিএনপির অনেক নেতাই। তাছাড়া যেসব নেতাকর্মী অসুস্থ বয়স্ক বাসা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত হয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে কম করে হলেও একাধিক মামলা রয়েছে। এসময় মামলায় গ্রেফতার আতংকে ঘর ছেড়ে অন্যত্র রাত্রি যাপন শুরু করেন তারা। এছাড়াও নির্বাচন চলাকালীন সময়ে একাধিক মামলায় আসামী হয়ে গ্রেফতারও হন কয়েকজন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তারপর আর কোন নেতাকর্মী কেউ দেখা যায়নি নির্বাচনী কর্মকান্ডে। চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহে শহরের নয়াপাড়া এলাকায় মহাজোটের মনোনীত জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের ক্যাম্পে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ সহ চুরির অভিযোগের মামলায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল সহ দুইদিনে ২৩জনের বেশি নেতাকর্মী নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। ফলে নেতাকর্মীদের চোখে মুখে স্বস্তির হাসি দেখা যায়। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন মামলা হামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে দীর্ঘ কয়েক মাস বাড়ি বাইরে আত্মগোপনে ছিলেন তাঁরা। যার জন্য মোবাইল ব্যবহার সহ সকল ধরনের যোগাযোগ ছিল বন্ধ। ফলে পরিবারের সদস্যদের কোন খোঁজ খবর নেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু বছরের শুরু থেকে বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়া ও পুলিশের গ্রেফতার অভিযান না থাকায় এখন বাসায় ফিরছেন। স্বজনদের সঙ্গে খাবার খেতে পারছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, একতরফা নির্বাচন হয়েছে। কারণ বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এতো মামলা হয়েছে যার জন্য গ্রেফতার আতঙ্কা ও হয়রানী এড়াতে কেউ নিজ এলাকায় থাকতে পারেনি। যা সরকার দলীয়রা সফল হয়েছে। বিএনপি নেতারা জানান, এ মুহূর্তে দলীয় কোন কর্মসূচি বা ঘোষণা নেই। রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে মাঠে নামতে হবে না। আর মাঠে না নামলে এ মূহূর্তে পুলিশের কোন হয়রানীও থাকবে না। এছাড়াও এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে যেসকল মামলা হয়েছে সেসব মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিলে গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনাও কম। সব মিলিয়ে বর্তমানে সময়ে স্বস্তিতেই কাটবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *